Announcement

Collapse
No announcement yet.

নারীরা যেভাবে জিহাদ করবেন! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • নারীরা যেভাবে জিহাদ করবেন! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ



    যেহেতু আমি দীর্ঘ একটা সময় দাজ্জালি জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত ছিলাম, তাই আমার অন্তর ও দেমাগ তখনও পশ্চিমা শিক্ষার ধ্বংসাত্মক প্রভাব দ্বারা পরিপূর্ণভাবে প্রভাবিত ছিল। এ কারণে আমি তাঁকে মাঝে মাঝেই বিরক্ত করতাম যে, আমাকে কোনো কাজ দিন। আমার দ্বারা কোনো কাজ করান, আমি অবসর বসে থাকতে পারি না ইত্যাদি। তিনি বলতেন- খানা রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘরের প্রতি খেয়াল রাখা, আমার প্রতি খেয়াল রাখা, মেহমানদের সেবা করা এ সবই তোমার কাজ, এর চেয়ে বেশি কি কাজ তুমি চাও?

    কিন্তু আমি যে অজ্ঞতার যুগে বড় চাকরি করাকেই নিজের জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে রেখেছিলাম, তাই আমার কাছে এসমস্ত ঘরের কাজ এবং দায়িত্বকে কিছুই মনে হত না। আমি তখনো এমন কোনো কাজ চাচ্ছিলাম যার মাধ্যমে আমার সফলতা ও অগ্রগামিতা বুঝা যাবে। তখন আমার মনে হবে আমিও দ্বীনের কাজে ও জিহাদি অঙ্গনে অনেক বড় অবদান রাখছি এবং আমার ডিগ্রি বৃথা যায়নি।

    সর্বশেষ একদিন তিনি সান্ত্বনা দেয়ার জন্য আমাকে বললেন, “কাজ চাও? তুমি কাজ করবে? কে তোমাকে নিষেধ করেছে! তুমি কি আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করে নিয়েছ? পুরা কুরআন মুখস্থ করে নিয়েছ? বুঝে নিয়েছ এবং আমলে পরিণত করে নিয়েছ? সব মাসনুন দোয়া মুখস্ত হয়ে গেছে? যদি না করে থাক তাহলে কি এগুলো কাজ নয়? তুমি তোমার দ্বীনের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতার সুযোগ ও অবসরকে কাজে না লাগিয়ে দুনিয়াবি কাজে সময় নষ্ট করতে চাইছো?”

    এই কথাগুলোর মাধ্যমে এক বৈঠকেই তিনি আমার চিন্তা-চেতনাকে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, “শোন বিবি! কাজ করার মতো কাজ সেটা নয়, যা দেখে গোটা দুনিয়ার মানুষ মনে করে যে, তুমি একটা কিছু করছ। বরং করার মতো কাজ তো সেটাই, যার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পরিপূর্ণ জীবন-বিধান দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তাছাড়া এ অনুভূতি অন্তর থেকে স্বার্থপরতা এবং অহংকারকেও বের করে দেয়। স্বাভাবিকভাবে মানুষ চিন্তা করে থাকে যে, আমি সে কাজই করব, যা আমার জ্ঞান বলবে। অথচ আমি কি? এবং আমার জ্ঞানের মাপকাঠি কি? আমার জ্ঞান যা বলবে তাই কি সঠিক? আমি যা আজকে ভালো মনে করছি, আগামীকালও কি এটাকেই ভালো মনে করবো?”

    তিনি আরও বললেন, “বিষয়টা হলো- আমার রব তো আমাকে স্বাধীন ছেড়ে দেননি। আমার মর্যাদা এবং সম্মান আমার নিজের মতো করে পছন্দ করে নেওয়ার ইখতিয়ার আমার রব আমাকে দেননি। আমার মর্যাদা কোন পথে তা আমার রব ঠিক করে দিয়েছেন। তাই তাঁর দিকে অগ্রগামী হবার চেষ্টা কর, সেদিকে অগ্রসর হও এবং এ পথে নিজের যোগ্যতা অর্জন কর। অগ্রগামী হবার যত ইচ্ছা ও আশা রয়েছে, তা এই পথেই পূরণ করার চেষ্টা কর। আর এই পথে অগ্রগামী হবার কোনো শেষ নেই। যদি ফরয ইবাদতগুলো আদায় করে থাক, তাহলে তাতে ইহসান এর স্তরে পৌঁছার চেষ্টা করতে থাক। এরপর নফল ইবাদতের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে থাক। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার দেয়া জীবন ব্যবস্থা অনন্য, কিন্তু আমাদের জিন্দেগির গাড়ি কোন দিকে রওয়ানা দিয়েছে? কার উদ্দেশ্যে? কোথায় গিয়ে থামবে? এব্যাপারে চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে।”

    আলহামদুলিল্লাহ, তিনি আখিরাতের চোখে সফলতা-ব্যর্থতা, উপকারী-অপকারী এবং এধরনের পরিভাষার অর্থগুলো আমার কাছে পরিষ্কার করে তুলে ধরলেন। আমি দুনিয়ার চোখে যেগুলোকে সফলতা ও ব্যর্থতা বলে মনে করতাম, আখিরাতের চোখে সেগুলোর অসারতা আমার সামনে তুলে ধরলেন। এভাবেই তিনি আমার অন্তরের পরিশুদ্ধির চেষ্টার মাধ্যমে, আমাকে পথ প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন নিরন্তর। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। আমীন।

    তাছাড়া তাঁর দীক্ষা আমার নিকট এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি মহিলাগণ তাদের সীমানায় থেকে নিজেদের দায়িত্বগুলোকে উত্তমভাবে পুরা করতে থাকে এবং নিয়তকে সহীহ করে নেয়- তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে ইনশাআল্লাহ জিহাদ ও রিবাতেরর (পাহারার কাজ) সাওয়াব পাওয়া যাবে।

    এমনিতেই তিনি যখন একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, “তুমি এখানে (জিহাদের ময়দানে) কেমন আছ?” তখন আমি বললাম, “আমি তো শুধু একজন হিজরতকারী।” তিনি মুচকি হেঁসে বললেন, “শুধু হিজরতকারী নও, বরং তুমি আমি আমরা সকলে রিবাতে রয়েছি।” আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, “আপনি তো রিবাতের কাজে (জিহাদের পথে সীমানা পাহারা দেওয়ার আমল) লেগে আছেন। কিন্তু আমি তো মহিলা মানুষ, আমি তো ঘরেই অবস্থান করছি।”

    তখন তিনি আমাকে বুঝালেন- “মুরাবিত এমন স্থানের পাহারাদারদেরকে বলে যেখানে তারা শত্রুদের আশঙ্কা করে এবং শত্রুরাও তাদেরকে ভয় করে। আর যে জায়গায় আমরা রয়েছি তা ফ্রন্ট লাইনের (প্রথম স্তরের) অবস্থানে রয়েছে। এখানে দুশমন আমাদের থেকে সতর্ক থাকে এবং আমরাও তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকি। সুতরাং আমরা সকলে রিবাতে রয়েছি।” এটা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। আমার মধ্যে একটা সংশয় ছিল যে, জিহাদে আমার অংশ কি?

    যাই হোক, একথাগুলো শুনে আমার বক্র চিন্তা-চেতনার কিছুটা সংশোধন হয়েছিল। তারপর তিনি আমার মতো অযোগ্য মানুষ থেকে টুটা ফাটা কিছু কাজও নিয়েছেন। এতে করে কাজ করতে যেয়ে আরও নতুন কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম। অনেক নতুন বিষয়ও শিখেছি। আরো কিছু বিষয় সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে নিজের সহযোগিতামূলক কাজ দ্বারাও আমার অর্জন বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

    আমার এই নসীহত মূলত ময়দানের জিহাদে আগ্রহী নারীদের জন্য। কারণ, তারা হিজরতের পূর্বে চিন্তা করে এবং বলে থাকে যে, আমরা মুজাহিদদের এই এই খেদমত করতে চাই। আল্লাহ তাআলা যদি আমাদেরকে হিজরতের তাওফীক দেন, তাহলে আমরা মুজাহিদদের জন্য খানা রান্না করব, তাঁদের কাপড় ধুয়ে দিব এবং তাঁদের সেবা করব। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে হিজরতের তাওফীক দিয়ে দেন, তখন দেখা যায় ঐসকল মুজাহিদের খেদমত কখনো কখনো তাঁদের নিজেদেরই করতে হয়। অথচ মুজাহিদ এবং তাঁর পরিবারের লোকদের খেদমত করা অনেক ফযীলতপূর্ণ বিষয়। আর এসকল খেদমতের মাধ্যমেও মহিলাগণ নিজেদেরকে জিহাদের কাজে অংশগ্রহণ করাতে পারেন।
Working...
X