Announcement

Collapse
No announcement yet.

আব্দুর রহমানও শহীদ হয়ে গেছে! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আব্দুর রহমানও শহীদ হয়ে গেছে! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ



    ঐসময়ে তাঁর ছোট ভাই আব্দুর রহমান (যার বয়স ছিল মাত্র সতেরো বছর এবং সে হাফেযও ছিল) আহত মুজাহিদদের খেদমতের উদ্দেশে চলে আসল। সে এমন চমৎকার আখলাকের অধিকারী ছিল যে, অল্পদিনেই সব মুজাহিদের প্রিয়ভাজন হয়ে গেলো। কিছুদিন পর সে আঙ্গুরা আড্ডা নামক রণাঙ্গনে চলে গেলো।

    সময়টা ছিল আগস্ট মাস। তিনি ঘরে ছিলেন না। হঠাৎ করেই আমার মনে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আমি আমার স্বামী ও সকল মুজাহিদের জন্য দোয়া করলাম। মন কিছুটা প্রশান্ত হলে পরে ঘুমিয়ে পড়লাম। ফজরের পরপরই তিনি ঘরে আসলেন এবং দ্রুত বলতে লাগলেন- ‘রণাঙ্গনে রাতে ড্রোন হামলা হয়েছে। অনেক সাথি শহীদ হয়েছেন। আমি সেখানে যাচ্ছি। এদিকে আব্দুর রহমানের খবরটাও পেলাম না, সে তো ওখানেই ছিল।”

    একথা বলে বের হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পরেই আবার ফিরে এলেন এবং বারান্দায়ই সেজদায় পড়ে গেলেন। সেজদা থেকে যখন মাথা উঠালেন তখন তাঁর চোখে পানি ছিল, মুখে হাসিও ছিল। বললেন– “আব্দুর রহমানের খবর পেয়েছি, সেও শহীদ হয়ে গেছে।” একথা বলে রওয়ানা হয়ে গেলেন, এই যাওয়ায় সম্ভবত পরের দিন ফিরে এসেছিলেন।

    ঐ ড্রোন হামলায় বারো জন মুজাহিদ শহীদ হয়েছিলেন। তিনি রণাঙ্গনে পৌঁছতে পৌঁছতে দশজনের জানাযা পড়া হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ছোট ভাই ও অপর এক মুজাহিদের জানাযা বাকি ছিল। ঐ মুজাহিদের লাশ প্রায় অক্ষত ছিল, কিন্তু আব্দুর রহমানের লাশের নামে একটি পুটলি বাঁধা ছিল। তিনি তাঁর ভাইয়ের বিক্ষিপ্ত লাশের টুকরা দেখার জন্য পুটলি খুলতে চাইলেন। কিন্তু পুটলিতে হাত দেওয়া মাত্রই তা থেকে রক্ত বের হতে লাগল। তখন সাথিরাও তাঁকে খুলতে নিষেধ করলেন।

    আল্লাহ তাআলা আপন দয়ায় তাঁর মন প্রশান্ত রাখলেন। তিনি ক্যাম্পে অবস্থানরত সাথিদেরকে ঐ দিন জিহাদ ও শাহাদাতের ফযীলতের উপর দরসও দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার ওয়াদা সত্য। আল্লাহ তাআলা শহীদের পরিবারের উপর সাকীনা নাযিলের যে ওয়াদা করেছেন, তা আমি এই শাহাদাতের সময় তাঁর ও তাঁর পিতা-মাতার ক্ষেত্রে স্ব-চক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।


  • #2
    আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শাহাদাতের পথে চলে প্রকৃত শাহাদাত লাভে ধন্য করুন,আমীন।

    Comment


    • #3
      শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র এর দরর্সে শরিয়াহ এর সকল পর্বের বাংলা অনুবাদ করে,ফোরামে দিলে খুব উপকৃত হতাম।

      Comment


      • #4
        আল বাকারা, আয়াতঃ ১৫৪

        وَلَا تَقُوۡلُوۡا لِمَنۡ یُّقۡتَلُ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ اَمۡوَاتٌ ؕ بَلۡ اَحۡیَآءٌ وَّلٰکِنۡ لَّا تَشۡعُرُوۡنَ

        অর্থঃ
        অর্থঃ আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।

        ---------------------

        শানে নুজুলঃ বদর যুদ্ধের ছয়জন মোহাজির এবং আটজন আনসার সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। লোকেরা তখন তাদের নাম নিয়ে বলতে লাগল যে, অমুক অমুক মারা গিয়েছে, তাঁরা পার্থিব নিয়ামত হতে বঞ্চিত হয়েছে ইত্যাদি। তখন অত্র আয়াত নাযিল হয়। (বায়ানুল কোরআন)

        ---------------------

        Comment

        Working...
        X