
সম্ভবত জুলাই মাসের শেষের দিকের এক রাতে আমি ড্রোন হামলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। সকাল হওয়া মাত্রই তিনি আমাকে এ কথা বলে বের হয়ে গেলেন যে, আমি খোঁজ খবর নিয়ে আসি। কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে এসে বললেন “তুমি তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হও। শায়খ আবু খাব্বাব মিসরীর ঘরে ড্রোন হামলা হয়েছে। (তিনি ছিলেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। তাঁর গোটা জীবন তিনি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন। বয়সও ষাটের বেশি ছিল।) তিনি ও তাঁর নয় বছরের ছেলেসহ তাঁর জামাতা এবং অল্প বয়সি নাতনি এই হামলায় শহীদ হন। এছাড়া আরবের এক ভাইও এই হামলায় শহীদ হয়েছেন- যিনি একজন আলেম ও মুজাহিদদের সন্তানদের শিক্ষক ছিলেন। এই হামলায় তাঁর স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।
আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি শায়খের স্ত্রীর অপারেশন হয়ে গেছে। তখন তিনি বেহুশ অবস্থায় ছিলেন। সেখানকার মহিলা ডাক্তার আমাকে বললেন অপারেশনের আগে বেহুশ অবস্থায়ও তিনি মুখে حسبنا الله و نعم الوكيل পড়ছিলেন। তিনি অনেক ধৈর্যশীল, দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী মহিলা ছিলেন। আমি হাসপাতালে তাঁর কাছে তিন দিন ছিলাম। তিনি বারবার তাঁর স্বামী, সন্তান ও ঘরের অন্যদের কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন, কিন্তু আমরা তাঁকে কিছুই বলিনি। তাঁর বাম হাতের কয়েক জায়গায় ফ্রেকচার হয়ে গিয়েছিল। কনুইয়ের নিচে বড় একটা অংশের মাংস উড়ে গিয়ে হাড্ডি দেখা যাচ্ছিলো। শরীরের অনেক জায়গায় মিসাইলের টুকরা প্রবেশ করেছিল। একারণে বুক থেকে পেট পর্যন্ত কয়েক জায়গায় অপারেশন করতে হয়েছে।
পরের দিন যখন নার্স ড্রেসিং করতে আসলো, তখন আমি আপার (শায়খের স্ত্রী) ডান হাত ধরে রাখলাম। আরেকজন নার্স তাঁর মাথা ধরে রাখলো আর বাতাস করতে থাকলো। ড্রেসিংকারী নার্স যখন তাঁর যখমে জীবাণুনাশক ঔষধ দিলো, তখন ক্ষতস্থান থেকে ফেনা বের হচ্ছিল আর আপারও অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তাঁর কষ্টের পরিমাণ আমি বুঝতে পেরেছি এই জন্য যে, তিনি আমার হাত এত শক্ত করে ধরেছিলেন যে, আমার ভীষণ কষ্ট হতে লাগলো। ওষুধের প্রভাবে তাঁর পুরো শরীর ঘেমে গিয়েছিল। এতদসত্ত্বেও তাঁর মুখ দিয়ে উফ শব্দ পর্যন্ত বের হলো না। এসময়েও তাঁর মুখে “লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ” ও “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল” এর যিকির জারী ছিল।
পরের দিন আপা আমাদের ড্রোন হামলার রাতের ঘটনা শুনালেন। আপার ভাষ্য মতে- “রাতে যখন ড্রোন হামলা হলো তখন আমরা বাড়ির উঠানে ঘুমন্ত ছিলাম। পুরুষরা উঠানের একদিকে ছিল, আর মহিলারা ছিল অন্য দিকে। আমার যখন চোখ খুলল তখন দেখি আমার দিকে একটি আগুনের শিখা আসছে। আমি তাড়াতাড়ি আমার নাতনিকে দূরে সরিয়ে দিলাম যাতে সে আহত না হয়। এরপর আমি আহত অবস্থায় ঘরে ছুটে গেলাম। আমার তখন একটাই চিন্তা; এখনই লোকজন এসে পড়বে। লোকজনের আনাগোনায় বাইতুল মালের আমানত উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই খুব শীঘ্রই আমাকে আমানতের হেফাযত করতে হবে।” سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم
Comment