Announcement

Collapse
No announcement yet.

একজন মুজাহিদার আমানত রক্ষার বিস্ময়কর কাহিনী || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • একজন মুজাহিদার আমানত রক্ষার বিস্ময়কর কাহিনী || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ




    সম্ভবত জুলাই মাসের শেষের দিকের এক রাতে আমি ড্রোন হামলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। সকাল হওয়া মাত্রই তিনি আমাকে এ কথা বলে বের হয়ে গেলেন যে, আমি খোঁজ খবর নিয়ে আসি। কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে এসে বললেন “তুমি তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হও। শায়খ আবু খাব্বাব মিসরীর ঘরে ড্রোন হামলা হয়েছে। (তিনি ছিলেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। তাঁর গোটা জীবন তিনি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন। বয়সও ষাটের বেশি ছিল।) তিনি ও তাঁর নয় বছরের ছেলেসহ তাঁর জামাতা এবং অল্প বয়সি নাতনি এই হামলায় শহীদ হন। এছাড়া আরবের এক ভাইও এই হামলায় শহীদ হয়েছেন- যিনি একজন আলেম ও মুজাহিদদের সন্তানদের শিক্ষক ছিলেন। এই হামলায় তাঁর স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।

    আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি শায়খের স্ত্রীর অপারেশন হয়ে গেছে। তখন তিনি বেহুশ অবস্থায় ছিলেন। সেখানকার মহিলা ডাক্তার আমাকে বললেন অপারেশনের আগে বেহুশ অবস্থায়ও তিনি মুখে حسبنا الله و نعم الوكيل পড়ছিলেন। তিনি অনেক ধৈর্যশীল, দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী মহিলা ছিলেন। আমি হাসপাতালে তাঁর কাছে তিন দিন ছিলাম। তিনি বারবার তাঁর স্বামী, সন্তান ও ঘরের অন্যদের কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন, কিন্তু আমরা তাঁকে কিছুই বলিনি। তাঁর বাম হাতের কয়েক জায়গায় ফ্রেকচার হয়ে গিয়েছিল। কনুইয়ের নিচে বড় একটা অংশের মাংস উড়ে গিয়ে হাড্ডি দেখা যাচ্ছিলো। শরীরের অনেক জায়গায় মিসাইলের টুকরা প্রবেশ করেছিল। একারণে বুক থেকে পেট পর্যন্ত কয়েক জায়গায় অপারেশন করতে হয়েছে।

    পরের দিন যখন নার্স ড্রেসিং করতে আসলো, তখন আমি আপার (শায়খের স্ত্রী) ডান হাত ধরে রাখলাম। আরেকজন নার্স তাঁর মাথা ধরে রাখলো আর বাতাস করতে থাকলো। ড্রেসিংকারী নার্স যখন তাঁর যখমে জীবাণুনাশক ঔষধ দিলো, তখন ক্ষতস্থান থেকে ফেনা বের হচ্ছিল আর আপারও অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তাঁর কষ্টের পরিমাণ আমি বুঝতে পেরেছি এই জন্য যে, তিনি আমার হাত এত শক্ত করে ধরেছিলেন যে, আমার ভীষণ কষ্ট হতে লাগলো। ওষুধের প্রভাবে তাঁর পুরো শরীর ঘেমে গিয়েছিল। এতদসত্ত্বেও তাঁর মুখ দিয়ে উফ শব্দ পর্যন্ত বের হলো না। এসময়েও তাঁর মুখে “লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ” ও “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল” এর যিকির জারী ছিল।

    পরের দিন আপা আমাদের ড্রোন হামলার রাতের ঘটনা শুনালেন। আপার ভাষ্য মতে- “রাতে যখন ড্রোন হামলা হলো তখন আমরা বাড়ির উঠানে ঘুমন্ত ছিলাম। পুরুষরা উঠানের একদিকে ছিল, আর মহিলারা ছিল অন্য দিকে। আমার যখন চোখ খুলল তখন দেখি আমার দিকে একটি আগুনের শিখা আসছে। আমি তাড়াতাড়ি আমার নাতনিকে দূরে সরিয়ে দিলাম যাতে সে আহত না হয়। এরপর আমি আহত অবস্থায় ঘরে ছুটে গেলাম। আমার তখন একটাই চিন্তা; এখনই লোকজন এসে পড়বে। লোকজনের আনাগোনায় বাইতুল মালের আমানত উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই খুব শীঘ্রই আমাকে আমানতের হেফাযত করতে হবে।” سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم


  • #2

    লোকজনের আনাগোনায় বাইতুল মালের আমানত উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই খুব শীঘ্রই আমাকে আমানতের হেফাযত করতে হবে।” سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم


    এটাতো হুবহু রাসূলের আদর্শের নমুনা
    রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার জন্য ঘর ঘেড়াও করেছে, আর এ অবস্থায় ও হত্যাকারীদের আমানত তাদের হাতে পৌঁছাতে আলী রা. কে তার বিছানায় রেখে যান।

    Comment


    • #3
      আমার যখন চোখ খুলল তখন দেখি আমার দিকে একটি আগুনের শিখা আসছে। আমি তাড়াতাড়ি আমার নাতনিকে দূরে সরিয়ে দিলাম যাতে সে আহত না হয়। এরপর আমি আহত অবস্থায় ঘরে ছুটে গেলাম। আমার তখন একটাই চিন্তা; এখনই লোকজন এসে পড়বে। লোকজনের আনাগোনায় বাইতুল মালের আমানত উধাও হয়ে যেতে পারে। তাই খুব শীঘ্রই আমাকে আমানতের হেফাযত করতে হবে।”

      এই ঘটনাটি একজন মুজাহিদের পরিবারের ঈমান, দায়িত্ববোধ ও আমানতদারির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিজের আহত হওয়ার কষ্টকে উপেক্ষা করে প্রথমে নাতনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারপর ব্যক্তিগত চিন্তার পরিবর্তে উম্মাহর আমানত রক্ষার কথা ভাবা—এমন চরিত্রই প্রকৃত ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তাআলা তাদের এই ত্যাগ ও ধৈর্য কবুল করুন এবং সকল মজলুম মুসলিমকে হেফাজত করুন।

      Comment

      Working...
      X