এই আলোচনার শুরু হয়েছিল শাতিমের শাস্তি নিয়ে। আমরা বলেছিলাম, মানুষের মুখের কথার কারণে কারও ক্ষতি হয় না, এমন ধারণা বাতুলতা ছাড়া কিছু নয়। আজকাল শোনা যায় online bullying এর শিকার হয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। প্রমাণ স্বরূপ লিংক দিয়ে কলেবর বৃদ্ধি করব না। এতে বুঝা যায় যে, কথা দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি হয় না- উদারবাদীদের এই দাবিটি ভুয়া।
যখন কথা দ্বারা ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণ হয়ে গেল, তখন পরম বাক-স্বাধীনতার যৌক্তিকতা থাকে না। আর যখন সীমারেখা আরোপের আলোচনা আসে, তখন ইসলামী সীমারেখা অনুসরণের চেয়ে অন্যকিছুকে উত্তম প্রমাণ করা যায় না।
ধর্ষণের সাজা নিয়ে টকশো
প্রশ্ন হল, কথার দ্বারা যে ক্ষতি হয়, সেটা শাস্তিযোগ্য কিনা? অনেক অপরাধ এমন আছে, যেখানে ভুক্তভোগীর জান-মালের ক্ষতি হয় না। আজকাল যেহেতু ধর্ষণ নিয়ে কথা হচ্ছে, সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবও হুযুরদের টকশো-তে এনে শরীয়াহ আইনের হুকুম জানতে চাচ্ছে; ধর্ষণের উদাহরণ-ই দেয়া যাক- ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতার কোন শারীরিক ক্ষতি হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে যদি হয়েও থাকে, সেক্ষেত্রে বিচারক ধর্ষকের উপর ধর্ষিতার চিকিৎসা ব্যয় বহনের বোঝা চাপাতে পারে এবং কিছু এক্সট্রা জরিমানা করতে পারে। ১৪ বছর বা আমৃত্যু জেল কিংবা মৃত্যুদণ্ডের কোন যৌক্তিকতা নেই।
যেহেতু আমরা সবাই মনে করি যে, শাস্তি যুক্তি দ্বারা সাব্যস্ত করা যায়। খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবও সম্ভবত তেমন মনে করেন; আর তাই তো শরীয়াহ আইনের প্রতিটি হুকুমের যৌক্তিক ভিত্তি থাকা চাই। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এই নীতি তো মানব রচিত আইনের উপরেও প্রয়োগ করা উচিত। চোরের সাজা কেন ৩/৫ বছর? কেন ৩০/৫০ বছর নয়? এসব প্রশ্নেরও যৌক্তিক ভিত্তি থাকা চাই।
এই প্রশ্নরে জবাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দিয়েছেন যেখানে একজন ব্যক্তি যিনা করার অনুমতি চেয়ে আরজ করল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জবাব দিয়েছেন আপনারা জানেন, তুমি কি এটা পছন্দ করবে যে এই কাজ কেউ তোমার মায়ের সাথে করুক?
তো জান-মালের ক্ষতি হয় নি ঠিক, কিন্তু মানুষের অন্তরের আঘাত ধর্তব্য। ইসলামে এটা ধর্তব্য। আপনি কারও ব্যাপারে সত্য গীবত করলে সেটা গীবত, মিথ্যা গীবত করলে সেটা অপবাদ। আপনি দাবি করলেন যে, আমি তার সামনেও তার ব্যাপারে এই কথা বলতে পারব। ভাল, তখন সামনে বললে, সেটা অপমান।
সম্মানের মর্যাদা হনন
প্রথম পর্ব - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...0%A6%A6/204583
ইতিপূর্বে (প্রথম পর্ব) আমি দাবি করেছিলাম, উদারবাদ ব্যক্তি মানুষ ও মানব সত্ত্বা কোনটির-ই সম্মান ও মর্যাদাকে স্বীকার করে না। আধুনিকতা আমাদের সম্মানকে আমাদের অধিকৃত বিষয় থেকে পৃথক করেছে; আত্মমর্যাদার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মানুষকে করেছে পশুর সমতুল্য, আর পশুর কোন সম্মান ও লজ্জার প্রয়োজন নেই; এই পশু এখন যা খুশি করতে পারে। পশুমৈথুন,[1] পায়ুকাম, আযাচার ইত্যাদিকে অমর্যাদাকর যেমন মনে করা হয় না; তেমনি মৃত ও জীবিত ব্যক্তিকেও অপমান-অপদস্থ করা থেকে রেহাই দেয়া হয় না। তাই আজ আমরা বাংলাদেশে লাশের সাথে অপকর্ম হতে দেখি,[2] কবরে জুতা পেটা করতে দেখি,[3] মুসলমানের শিআর/প্রতীক দাড়ি টেনে ধরে থাপড়াতে দেখি,[4] আলেমদের অসম্মান হতে দেখি,[5] আরও ভয়াবহ হল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেয়ার ঘটনাও দেখি।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন উদাহরণ টেনে এটা প্রমাণ করার চেষ্টাও করেছিলাম যে, সম্মান মানুষের নিকট সুদূর অতীত থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর সংরক্ষণ করার জন্য সে জীবনও দিয়ে থাকে। কিন্তু আধুনিক আইন মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার কথা স্বীকার করলেও সম্মানের নিরাপত্তা দেয় না। অথচ ইসলামের সৌন্দর্য দেখুন-
হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও হযরত কায়েস ইবনে সাদ রা. একদিন বসা ছিলেন। তারা তখন কাদিসিয়ায় থাকেন। পাশ দিয়ে একটি লাশ নেয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা দুজনই দাঁড়ালেন। উপস্থিত লোকেরা তাদেরকে জানাল, ‘এ এক অমুসলিমের লাশ।’ তাঁরা তখন শোনালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়েও একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি যখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লাশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, أليست نفسا অর্থাৎ ‘সে মানুষ ছিল তো?’ -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩১২[6]
কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর স্মরণ হওয়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আবার, ফিকহে হানাফী ও ফিকহে শাফেয়ীতে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, দাঁড়ানো মুস্তাহাব নয়। উল্লিখিত ঘটনাটি দাঁড়ানোর হুকুম রহিত হয়ে যাওয়ার পূর্বের।[7]
জাহেলের পক্ষে এর চেয়ে বেশি দলিল দেয়া সম্ভব না হলেও এই বিষয়টি ইনশাআল্লাহ সাব্যস্ত হল যে, ইসলাম মানুষের জান-মালের পাশাপাশি সম্মানকেও সংরক্ষণ করে। সংক্ষেপে আমার দাবি সারমর্ম নিম্নরূপ-
ফিকহী মাযহাব ও মৌলিক ইখতিলাফ
১. প্রাকৃতিক আইন তত্ত্ব
দাবি:
২. আইনগত ইতিবাচকতা Legal Positivism
দাবি:আইন হল মানব কর্তৃপক্ষ দ্বারা তৈরি কিছু নিয়ম। তাই নৈতিকভাবে অন্যায় কাজ শুধু মানব কর্তৃপক্ষ অবৈধ বললে অবৈধ, আবার বৈধ বললে বৈধ হতে পারে। বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা আমেরিকার কুখ্যাত Jim Crow laws এর অন্যতম উদাহরণ। মোট কথা, এখানে এক দল মানুষকে সরাসরি উপাস্য বানানো হলেও অন্যদল হয়ে যায় শাসিত।
আইনগত ইতিবাচকতা আইনকে নৈতিকতা থেকে আলাদা করে দেয়। ফলে কেউ ইজ্জতের নৈতিক মূল্য প্রমাণ করতে সক্ষম হলেও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। তবে সম্মানের সুরক্ষা নিয়ে যদি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়, তাহলে অন্য কথা।
যেহেতু আইনের চোখে নৈতিক-অনৈতিক বলে কিছুই থাকে না, অথচ নৈতিকতা-ই মানুষকে মানুষ বানায়, সেহেতু এই দর্শনে মানুষকেও মানুষ মনে করা হয় না। আইনের চোখে সে অপরাধী, নাগরিক কিংবা শরণার্থী হিসাবে বিবেচিত হয়। এমতাবস্থায় সম্মানের সুরক্ষা নিয়ে যদি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়, তাহলেও সে সম্মান পাবে কারণ সে নাগরিক, মানুষ হওয়ার কারনে নয়।
৩. আইনগত বাস্তববাদ
দাবিঃ কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। বিচারকদের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং অর্থনীতি আদালতের রায়কে প্রভাবিত করে। [তাই এই দর্শনে আইন প্রণেতার মত বিচারকও ত্বাগুত।]
সুতরাং বিচারক আপনার ইজ্জতের সুরক্ষা দিবে কিনা এটা অনিশ্চিত। সামাজিক ফলাফল এই দর্শনে সম্মানের সংরক্ষণের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য যা কিছু করণীয় সবই Utilitarian Sacrifice। অতীতে এই দর্শনে কৃষ্ণাঙ্গরা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে ভূখণ্ডের প্রকৃত অধিবাসীরা যুলুমের শিকার হয়েছে।
৪. Critical Legal Studies (CLS)
CLS আইনকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে চিত্রায়িত করে, তারা মনে করে আইন তৈরি করা হয় বৈষম্য ও অসমতাকে স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে।
শুনতে ভাল শুনালেও এদের অনেক তাত্ত্বিক আসলে উত্তর আধুনিকতাবাদী post modernist. পোস্টমডার্নবাদীরা বিশ্বাস করে যে চূড়ান্ত "সত্য" বা "বাস্তবতা" নেই। এই সমস্যা নিয়ে অধমের পবিত্রতার নাজাসাত সিরিজের শেষ পর্বে কিছু আলোচনা আছে। তারা যদি ইজ্জতের সংরক্ষণ নিয়ে সচেতন হয়েও থাকে তবুও তারা একারনে ইজ্জতের সংরক্ষণ করবে না যে, এটা সত্য কিংবা ইজ্জত বাস্তব কিছু। সম্মানের ধারণা এই দর্শনে বোকার কল্পরাজ্যের একটা চরিত্র।
৫. নারীবাদী আইনশাস্ত্র
আসলে এই প্রসঙ্গে.... তাদের ধারণা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে পর্যন্ত পুরুষ জাতি বিশেষ টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার মাধ্যমে একমত হয়েছে যে, সকল আইন নারীদের দমিয়ে রাখতে তৈরি করতে হবে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পরস্পরের অপরিচিত দুজন পুরুষও যদি একত্রিত হয়, তারা নারীদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র আটতে ব্যস্ত থাকে। আর আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথমবারের মত নারীরা কোন মোক্ষলাভের কারনে এই প্রাগৈতিহাসিক ষড়যন্ত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, যা অতীতের কোন নারীর পক্ষে সম্ভব হয় নি। মানে, মধ্যযুগের নারীরা বোকা ছিল। অন্যকথায় পুরুষতন্ত্র আসলেই যৌক্তিক। বোকাদের হাতে কে সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিবে?
এই দর্শনেই ফ্রান্সের মুসলিমদের উপর হিজাব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।
৬. আইন ও অর্থনীতি
এই দর্শনে আইন তেমন হওয়া উচিত যেমন হলে অর্থনৈতিক মুনাফা আসবে। তাই সম্মান এখানে পণ্য। টাকা আসলেই হল, এতে ক্যামেরার সামনে কাপড় খুলে হাস্যকর ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গি কিংবা শব্দ করতে হলেও অসুবিধা নেই। সম্ভবত gen z বুঝতে পারবে আমি চীনে নিষিদ্ধ কোন সোসাল প্লাটফর্মের কথা বলছি। যারা বুঝতে পারেন নি, তারা বাংলা টিকটক কিংবা ইমো দেখলেই বুঝবেন।
কিছু শালীন উদাহরণের দিকে গেলে, ইসলামে দেহের অঙ্গ বিক্রি হারাম। কিন্তু এই দর্শনে হালাল।
৭. মার্ক্সবাদী আইনশাস্ত্র
তাদের মতে, মানব ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। শাসক শ্রেণি শোষণের উদ্দেশ্যে আইন তৈরি করে। তাই প্রকৃত মর্যাদা তখন-ই লাভ হবে, যখন শ্রেণি বলে কিছু থাকবে না।
প্রথমত, অর্থনৈতিক শ্রেণি-ই সমাজে একমাত্র শ্রেণিবিন্যাস নয়। আসলে সম্পদের দ্বারা সমাজকে যাচাই করার শুরুও হয়েছে বস্তুবাদী শিকড় থেকে। দ্বিতীয়ত, ভিন্নমতাবলম্বী বা "শ্রেণি শত্রুদের" ইজ্জত বলে কিছু থাকে না। যার নজির স্টালিনের সোভিয়েতে গুলাগ কিংবা মাওবাদী চীনের শ্রেণি শত্রুদের দেখলে স্পষ্ট হয়।
সর্বোপরি, প্রিয় ভাইয়েরা, শাতিমকে আঘাত করা মানে মানব রচিত আইনের ভিত্তি গত দর্শনের গোড়ায় আঘাত করা। শাতিমকে মেরে কেউ পশু হয় না, বরং সে মানুষ হয়। কারণ সে ইজ্জতের হিফাজত করে, পশুর তো কোন ইজ্জত নেই। আফসোস, এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, প্রকৃত মানুষদের আজ ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এই জাতিকে এর মাশুল দিতে হবে। আফসোস, আল্লাহ-র আযাব থেকে হয়তো আমিও রেহাই পাব না। নিশ্চয়ই, আল্লাহর পাকড়াও বড় কঠিন...। যুক্তিশাস্ত্র, ফালসাফা কিছুই আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমাদের বাঁচাতে পারবে না।
[1] https://www.conservapedia.com/Bestiality
[2] https://thedailycampus.com/law-courts/223983
[3] https://thedailycampus.com/crime-and-discipline/42949/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A 7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BF-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A 6%B2
[4] https://www.jagonews24.com/country/news/1031287
[5]...
[6] https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=48874
[7] https://www.alkawsar.com/bn/article/1246/
[8] https://archive.org/details/Gibotwww...ge/n7/mode/1up
-==-
যখন কথা দ্বারা ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণ হয়ে গেল, তখন পরম বাক-স্বাধীনতার যৌক্তিকতা থাকে না। আর যখন সীমারেখা আরোপের আলোচনা আসে, তখন ইসলামী সীমারেখা অনুসরণের চেয়ে অন্যকিছুকে উত্তম প্রমাণ করা যায় না।
ধর্ষণের সাজা নিয়ে টকশো
প্রশ্ন হল, কথার দ্বারা যে ক্ষতি হয়, সেটা শাস্তিযোগ্য কিনা? অনেক অপরাধ এমন আছে, যেখানে ভুক্তভোগীর জান-মালের ক্ষতি হয় না। আজকাল যেহেতু ধর্ষণ নিয়ে কথা হচ্ছে, সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবও হুযুরদের টকশো-তে এনে শরীয়াহ আইনের হুকুম জানতে চাচ্ছে; ধর্ষণের উদাহরণ-ই দেয়া যাক- ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতার কোন শারীরিক ক্ষতি হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে যদি হয়েও থাকে, সেক্ষেত্রে বিচারক ধর্ষকের উপর ধর্ষিতার চিকিৎসা ব্যয় বহনের বোঝা চাপাতে পারে এবং কিছু এক্সট্রা জরিমানা করতে পারে। ১৪ বছর বা আমৃত্যু জেল কিংবা মৃত্যুদণ্ডের কোন যৌক্তিকতা নেই।
যেহেতু আমরা সবাই মনে করি যে, শাস্তি যুক্তি দ্বারা সাব্যস্ত করা যায়। খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবও সম্ভবত তেমন মনে করেন; আর তাই তো শরীয়াহ আইনের প্রতিটি হুকুমের যৌক্তিক ভিত্তি থাকা চাই। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এই নীতি তো মানব রচিত আইনের উপরেও প্রয়োগ করা উচিত। চোরের সাজা কেন ৩/৫ বছর? কেন ৩০/৫০ বছর নয়? এসব প্রশ্নেরও যৌক্তিক ভিত্তি থাকা চাই।
ধর্ষণের প্রশ্নে আবার ফিরে আসা যাক, ১৪ বছর বা আমৃত্যু জেল কিংবা মৃত্যুদণ্ডের কেন যৌক্তিক? যদি ধর্ষিতার সতীচ্ছেদা নষ্টের অভিযোগ আনেন, সেটা আজকাল সার্জারি করে ঠিক করা যায়। ধর্ষক সার্জারির খরচ বহন করলেই হয়। কেন আমরা সকল ধর্ষককে বেকসুর খালাস করে দিচ্ছি না? কোন যুক্তিতে? কোন এক প্রাগৈতিহাসিক বর্বর যুগে আমরা প্রবেশ করলাম যে, নির্দয়ভাবে আসামিকে বন্দি রাখা হচ্ছে বছরের পর বছর!
তো জান-মালের ক্ষতি হয় নি ঠিক, কিন্তু মানুষের অন্তরের আঘাত ধর্তব্য। ইসলামে এটা ধর্তব্য। আপনি কারও ব্যাপারে সত্য গীবত করলে সেটা গীবত, মিথ্যা গীবত করলে সেটা অপবাদ। আপনি দাবি করলেন যে, আমি তার সামনেও তার ব্যাপারে এই কথা বলতে পারব। ভাল, তখন সামনে বললে, সেটা অপমান।
মোট কথা, আইন শাস্ত্রে শুধু জান-মালের হিফাজত করলেই ষোল কলা পূর্ণ হয়েছে মনে করা ভুল দর্শন। মনের উপর আঘাত, এটাও বিচারক বিবেচনায় আনতে পারে। নতুবা ধর্ষণের কোন সাজাকে যৌক্তিক বলা মুশকিল। এখন প্রশ্ন এটা হতে পারে, কোন কোন মানসিক আঘাতকে আমরা শাস্তিযোগ্য করব, আর কোনগুলো করব না। কিন্তু যখন এই বিষয়টা প্রমাণ হয়ে গেল যে, মানসিক আঘাত কোন কোন ক্ষেত্রে শাস্তি যোগ্য; তখন শাতিম মুখ চালিয়েছে বলে আমি হাত চালালে আমি কেন মৌলবাদী হব?
সম্মানের মর্যাদা হনন
প্রথম পর্ব - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...0%A6%A6/204583
ইতিপূর্বে (প্রথম পর্ব) আমি দাবি করেছিলাম, উদারবাদ ব্যক্তি মানুষ ও মানব সত্ত্বা কোনটির-ই সম্মান ও মর্যাদাকে স্বীকার করে না। আধুনিকতা আমাদের সম্মানকে আমাদের অধিকৃত বিষয় থেকে পৃথক করেছে; আত্মমর্যাদার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মানুষকে করেছে পশুর সমতুল্য, আর পশুর কোন সম্মান ও লজ্জার প্রয়োজন নেই; এই পশু এখন যা খুশি করতে পারে। পশুমৈথুন,[1] পায়ুকাম, আযাচার ইত্যাদিকে অমর্যাদাকর যেমন মনে করা হয় না; তেমনি মৃত ও জীবিত ব্যক্তিকেও অপমান-অপদস্থ করা থেকে রেহাই দেয়া হয় না। তাই আজ আমরা বাংলাদেশে লাশের সাথে অপকর্ম হতে দেখি,[2] কবরে জুতা পেটা করতে দেখি,[3] মুসলমানের শিআর/প্রতীক দাড়ি টেনে ধরে থাপড়াতে দেখি,[4] আলেমদের অসম্মান হতে দেখি,[5] আরও ভয়াবহ হল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেয়ার ঘটনাও দেখি।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন উদাহরণ টেনে এটা প্রমাণ করার চেষ্টাও করেছিলাম যে, সম্মান মানুষের নিকট সুদূর অতীত থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর সংরক্ষণ করার জন্য সে জীবনও দিয়ে থাকে। কিন্তু আধুনিক আইন মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার কথা স্বীকার করলেও সম্মানের নিরাপত্তা দেয় না। অথচ ইসলামের সৌন্দর্য দেখুন-
হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও হযরত কায়েস ইবনে সাদ রা. একদিন বসা ছিলেন। তারা তখন কাদিসিয়ায় থাকেন। পাশ দিয়ে একটি লাশ নেয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা দুজনই দাঁড়ালেন। উপস্থিত লোকেরা তাদেরকে জানাল, ‘এ এক অমুসলিমের লাশ।’ তাঁরা তখন শোনালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়েও একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি যখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লাশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, أليست نفسا অর্থাৎ ‘সে মানুষ ছিল তো?’ -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩১২[6]
কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর স্মরণ হওয়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আবার, ফিকহে হানাফী ও ফিকহে শাফেয়ীতে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, দাঁড়ানো মুস্তাহাব নয়। উল্লিখিত ঘটনাটি দাঁড়ানোর হুকুম রহিত হয়ে যাওয়ার পূর্বের।[7]
কিন্তু এতে মানুষ হিসাবে সম্মান পাওয়ার অধিকার অপ্রমাণিত হয় না। জনৈক ব্যক্তি দুপায়ে জুতা দিয়ে কবরস্থানের মাঝে হাঁটছে তখন তিনি [সাঃ] তাকে বললেন, ‘হে দুই পায়ে জুতা পরিহিত ব্যক্তি! তোমার জন্য আফসোস! তুমি পায়ের জুতা দুটি খুলে ফেল’ (আবূ দাঊদ, হা/৩২৩০; নাসাঈ, হা/২০৪৮)
ইসলামি রাষ্ট্রে জিযিয়া দেয়ার মাধ্যমে যিম্মি তার জান-মালের নিরাপত্তাই পায় না, সম্মানের নিরাপত্তাও পায়। মাওলানা সাইয়েদ আব্দুল হাই লাখনৌবি [রাহঃ] তার গীবত বিষয়ক রিসালায় [পৃ ১৩] যিম্মির গীবত হারাম বলে উল্লেখ করেছেন।[8] যিনা-র শাস্তির ক্ষেত্রেও দেখুন চার জন সাক্ষী দরকার হয়। সম্মানের হেফাজতের জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- উদারবাদের পূর্বে সম্মান সব সমাজে ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল
- আধুনিকতা সম্মানকে তুচ্ছ ব্যাপারে পরিণত করেছে
- ইসলাম মানুষের ইজ্জতকে সংরক্ষণ করে
- তাই, শরীয়াহ আইন অন্যান্য Legal philosophy থেকে সেরা
ফিকহী মাযহাব ও মৌলিক ইখতিলাফ
১. প্রাকৃতিক আইন তত্ত্ব
দাবি:
- আইন মানব প্রকৃতির অন্তর্নিহিত [ফিতরাত] সর্বজনীন নৈতিক নীতি থেকে উদ্ভূত এবং যুক্তির (!!!) মাধ্যমে আবিষ্কারযোগ্য।
- নৈতিকভাবে অন্যায় কাজ আইন অনুযায়ী অবৈধ হবে।
- সর্বজনীন: সংস্কৃতি বা সময় নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
২. আইনগত ইতিবাচকতা Legal Positivism
দাবি:আইন হল মানব কর্তৃপক্ষ দ্বারা তৈরি কিছু নিয়ম। তাই নৈতিকভাবে অন্যায় কাজ শুধু মানব কর্তৃপক্ষ অবৈধ বললে অবৈধ, আবার বৈধ বললে বৈধ হতে পারে। বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা আমেরিকার কুখ্যাত Jim Crow laws এর অন্যতম উদাহরণ। মোট কথা, এখানে এক দল মানুষকে সরাসরি উপাস্য বানানো হলেও অন্যদল হয়ে যায় শাসিত।
আইনগত ইতিবাচকতা আইনকে নৈতিকতা থেকে আলাদা করে দেয়। ফলে কেউ ইজ্জতের নৈতিক মূল্য প্রমাণ করতে সক্ষম হলেও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। তবে সম্মানের সুরক্ষা নিয়ে যদি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়, তাহলে অন্য কথা।
যেহেতু আইনের চোখে নৈতিক-অনৈতিক বলে কিছুই থাকে না, অথচ নৈতিকতা-ই মানুষকে মানুষ বানায়, সেহেতু এই দর্শনে মানুষকেও মানুষ মনে করা হয় না। আইনের চোখে সে অপরাধী, নাগরিক কিংবা শরণার্থী হিসাবে বিবেচিত হয়। এমতাবস্থায় সম্মানের সুরক্ষা নিয়ে যদি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়, তাহলেও সে সম্মান পাবে কারণ সে নাগরিক, মানুষ হওয়ার কারনে নয়।
৩. আইনগত বাস্তববাদ
দাবিঃ কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। বিচারকদের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং অর্থনীতি আদালতের রায়কে প্রভাবিত করে। [তাই এই দর্শনে আইন প্রণেতার মত বিচারকও ত্বাগুত।]
সুতরাং বিচারক আপনার ইজ্জতের সুরক্ষা দিবে কিনা এটা অনিশ্চিত। সামাজিক ফলাফল এই দর্শনে সম্মানের সংরক্ষণের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য যা কিছু করণীয় সবই Utilitarian Sacrifice। অতীতে এই দর্শনে কৃষ্ণাঙ্গরা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে ভূখণ্ডের প্রকৃত অধিবাসীরা যুলুমের শিকার হয়েছে।
৪. Critical Legal Studies (CLS)
CLS আইনকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে চিত্রায়িত করে, তারা মনে করে আইন তৈরি করা হয় বৈষম্য ও অসমতাকে স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে।
শুনতে ভাল শুনালেও এদের অনেক তাত্ত্বিক আসলে উত্তর আধুনিকতাবাদী post modernist. পোস্টমডার্নবাদীরা বিশ্বাস করে যে চূড়ান্ত "সত্য" বা "বাস্তবতা" নেই। এই সমস্যা নিয়ে অধমের পবিত্রতার নাজাসাত সিরিজের শেষ পর্বে কিছু আলোচনা আছে। তারা যদি ইজ্জতের সংরক্ষণ নিয়ে সচেতন হয়েও থাকে তবুও তারা একারনে ইজ্জতের সংরক্ষণ করবে না যে, এটা সত্য কিংবা ইজ্জত বাস্তব কিছু। সম্মানের ধারণা এই দর্শনে বোকার কল্পরাজ্যের একটা চরিত্র।
৫. নারীবাদী আইনশাস্ত্র
আসলে এই প্রসঙ্গে.... তাদের ধারণা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে পর্যন্ত পুরুষ জাতি বিশেষ টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার মাধ্যমে একমত হয়েছে যে, সকল আইন নারীদের দমিয়ে রাখতে তৈরি করতে হবে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পরস্পরের অপরিচিত দুজন পুরুষও যদি একত্রিত হয়, তারা নারীদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র আটতে ব্যস্ত থাকে। আর আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথমবারের মত নারীরা কোন মোক্ষলাভের কারনে এই প্রাগৈতিহাসিক ষড়যন্ত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, যা অতীতের কোন নারীর পক্ষে সম্ভব হয় নি। মানে, মধ্যযুগের নারীরা বোকা ছিল। অন্যকথায় পুরুষতন্ত্র আসলেই যৌক্তিক। বোকাদের হাতে কে সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিবে?
এই দর্শনেই ফ্রান্সের মুসলিমদের উপর হিজাব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।
৬. আইন ও অর্থনীতি
এই দর্শনে আইন তেমন হওয়া উচিত যেমন হলে অর্থনৈতিক মুনাফা আসবে। তাই সম্মান এখানে পণ্য। টাকা আসলেই হল, এতে ক্যামেরার সামনে কাপড় খুলে হাস্যকর ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গি কিংবা শব্দ করতে হলেও অসুবিধা নেই। সম্ভবত gen z বুঝতে পারবে আমি চীনে নিষিদ্ধ কোন সোসাল প্লাটফর্মের কথা বলছি। যারা বুঝতে পারেন নি, তারা বাংলা টিকটক কিংবা ইমো দেখলেই বুঝবেন।
কিছু শালীন উদাহরণের দিকে গেলে, ইসলামে দেহের অঙ্গ বিক্রি হারাম। কিন্তু এই দর্শনে হালাল।
৭. মার্ক্সবাদী আইনশাস্ত্র
তাদের মতে, মানব ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। শাসক শ্রেণি শোষণের উদ্দেশ্যে আইন তৈরি করে। তাই প্রকৃত মর্যাদা তখন-ই লাভ হবে, যখন শ্রেণি বলে কিছু থাকবে না।
প্রথমত, অর্থনৈতিক শ্রেণি-ই সমাজে একমাত্র শ্রেণিবিন্যাস নয়। আসলে সম্পদের দ্বারা সমাজকে যাচাই করার শুরুও হয়েছে বস্তুবাদী শিকড় থেকে। দ্বিতীয়ত, ভিন্নমতাবলম্বী বা "শ্রেণি শত্রুদের" ইজ্জত বলে কিছু থাকে না। যার নজির স্টালিনের সোভিয়েতে গুলাগ কিংবা মাওবাদী চীনের শ্রেণি শত্রুদের দেখলে স্পষ্ট হয়।
সর্বোপরি, প্রিয় ভাইয়েরা, শাতিমকে আঘাত করা মানে মানব রচিত আইনের ভিত্তি গত দর্শনের গোড়ায় আঘাত করা। শাতিমকে মেরে কেউ পশু হয় না, বরং সে মানুষ হয়। কারণ সে ইজ্জতের হিফাজত করে, পশুর তো কোন ইজ্জত নেই। আফসোস, এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, প্রকৃত মানুষদের আজ ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এই জাতিকে এর মাশুল দিতে হবে। আফসোস, আল্লাহ-র আযাব থেকে হয়তো আমিও রেহাই পাব না। নিশ্চয়ই, আল্লাহর পাকড়াও বড় কঠিন...। যুক্তিশাস্ত্র, ফালসাফা কিছুই আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমাদের বাঁচাতে পারবে না।
[1] https://www.conservapedia.com/Bestiality
[2] https://thedailycampus.com/law-courts/223983
[3] https://thedailycampus.com/crime-and-discipline/42949/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A 7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BF-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A 6%B2
[4] https://www.jagonews24.com/country/news/1031287
[5]...
[6] https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=48874
[7] https://www.alkawsar.com/bn/article/1246/
[8] https://archive.org/details/Gibotwww...ge/n7/mode/1up
-==-