Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ৩০ ➤ বাগীদের বিধান (দ্বিতীয় অংশ):

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ৩০ ➤ বাগীদের বিধান (দ্বিতীয় অংশ):

    বাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধনীতি:
    মুসলিম শাসক যখন বিদ্রোহীদের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে পারবে, প্রথমে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করবে এবং তাদের কোনো সংশয় থাকলে তা নিরসন করবে। তবে তা মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয় তাদেরকে বুঝানো ও সংশয় নিরসন করা ছাড়া আক্রমন করলে গুনাহ হবে না
    এতে কাজ না হলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিবে এক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের পক্ষ আগ বেড়ে আক্রমন করা আবশ্যক নয় বরং তারা বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন করা যাবে
    যুদ্ধের ময়দান থেকে কোনো এক বা একাধিক বিদ্রোহী পালিয়ে যেতে চাইলে, যদি তাদের এখনো শক্তি বাকি থাকে যে, তারা পুনরায় বিন্যস্ত হয়ে বিদ্রোহ করার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে তাদের পিছনে দাওয়া করে হত্যা কিংবা বন্দি করা হবে তদ্রূপ আহতদের ব্যাপারে একই বিধান প্রযোজ্য হবে
    আর যদি তাদের শক্তি একেবারে নির্মূল হয়ে যায়, তাহলে তাদের পিছনে দাওয়া করা এবং আহতদেরকে হত্যা করা জায়েয নয়।
    -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৫৩ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৪ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৪, ২৬৫ (দারুল ফিকর)

    বাগী বন্দীদের বিধান:
    যদি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে বিদ্রোহ অব্যাহত থাকে কিংবা বিদ্রোহের আশঙ্কা বাকি থাকে, তাহলে তাদের বন্দীদেরকে হত্যা করা কিংবা শক্তি নির্মূল হওয়া পর্যন্ত বন্দি করে রাখা—উভয়টির সুযোগ আছে।
    তবে কোনো বন্দী তাওবা করে বিদ্রোহ থেকে ফিরে আসলে, তাকে হত্যা করা জায়েয হবে না। বরং তাকে ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক।
    পক্ষান্তরে যদি তাদের পক্ষ থেকে বিদ্রোহের কোনো আশঙ্কা না থাকে, কিন্তু বন্দী তার পূর্বের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়, তাহলে তাকে বন্দি অবস্থায় রেখে দেওয়া হবে; যতক্ষণ না সে পূর্বের কৃতকর্মের জন্য তাওবা করে। -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৫৪ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৮ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৫ (দারুল ফিকর)

    বাগীদের সম্পদ গনিমতে আসলে করণীয়:
    বাগীরা যেহেতু মুসলমান, তাই তাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ গনীমত হবে না তবে তাদের শক্তি নির্মূল হওয়ার আগ পর্যন্ত তা আটকে রাখা হবে; তাদের কাছে ফেরত দেওয়া যাবে না এবং প্রয়োজনে তাদের অস্ত্র ব্যবহার করার সুযোগ আছে
    যখন তাদের শক্তি একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে কিংবা তাওবা করে বিদ্রোহ থেকে নিবৃত হবে, তখন তা ফেরত দেওয়া হবে -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৫৪ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৭, ৯৮ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৬ (দারুল ফিকর)
    বিদ্রোহীদের সাথে কার্যনীতির ব্যাপারে সায়্যিদুনা আলী বিন আবু তালিব রাদি. এর কার্যনীতি হচ্ছে মূল দলীল
    আলী রাদি. এর কার্যনীতি নিম্নোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
    عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، «أَنَّ عَلِيًّا أَمَرَ مُنَادِيَهُ فَنَادَى يَوْمَ الْبَصْرَةِ: أَلاَ لاَ يُتْبَعُ مُدْبِرٌ، وَلاَ يُذْفَفُ عَلَى جَرِيحٍ، وَلاَ يُقْتَلُ أَسِيرٌ، وَمَنْ أَغْلَقَ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ، وَمَنْ أَلْقَى السِّلاَحَ فَهُوَ آمِنٌ، وَلاَ يَؤْخُذُ مِنْ مَتَاعِهِمْ شَيءٌ.» -رواه ابن أبي شيبة (33952) وعبد الرزاق (18590) والبيهقي (16827) وأبو يوسف في الخراج (ص: 234)
    “মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রাদি. ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন। সে বসরার (যুদ্ধের) দিন ঘোষণা করল, ‘শুনে রাখো! পলায়নকারী ব্যক্তির ধাওয়া করা হবে না; আহত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে না; বন্দীকে হত্যা করা হবে না যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, সে নিরাপদ যে ব্যক্তি অস্ত্র ফেলে দেবে, সে নিরাপদ আর তাদের সম্পদ-সামগ্রী থেকে কোনো কিছুই (গনীমত হিসেবে) গ্রহণ করা হবে না।” –মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ: ৩৩৯৫২; সুনানে বায়হাকী: ১৬৮২৭
    অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,
    عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَتَادَةَ، قَالَ: «كُنْتُ فِي الْخَيْلِ يَوْمَ النَّهْرَوَانِ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَلَمَّا أَنْ فَرَغَ مِنْهُمْ وَقَتَلَهُمْ لَمْ يَقْطَعْ رَأْسًا، وَلَمْ يَكْشِفْ عَوْرَةً.» –رواه البيهقي (16838)
    “আব্দুল্লাহ বিন কাতাদাহ রহ. বলেন, (খারেজিদের বিরুদ্ধে) নাহরাওয়ানের যুদ্ধের দিনে আমি আলী বিন আবু তালিব রাদি. এর সাথে অশ্বরোহীদের মধ্যে ছিলাম। যখন তিনি বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ থেকে ফারেগ হলেন এবং হত্যা করলেন, তিনি কারো শিরচ্ছেদ করতে এবং কোনো মহিলাকে দাসী বানাতে দেননি।” –মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ: ১৬৮৩৮

    আগের পর্ব:
    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৯ ➤ বাগীদের বিধান (প্রথম অংশ):

    - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%82%E0%A6%B6
Working...
X