মহান আল্লাহর দয়ায় অমর গ্রন্থ “দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ তথা বিশ্বব্যাপী ইসলামী প্রতিরোধ আহবান” এর বাংলা অনুবাদ পর্ব আকারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করার খেয়াল করেছি। এ ক্ষেত্রে আমরা আবুল আববাস আল-কলামূনীর তাহকীককৃত নুসখা থেকে অনুবাদ করব, যা ২০১৮ মি./১৪৩৮ হি. সনে ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
নিরীক্ষকের কথা
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক রসূলদের ইমামের ওপর ও তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর। অতঃপর:
মুজাহিদীন এবং তাঁদের নেতাদের মাঝে শাইখ আবু মুসআব আস-সুরী রআহুল্লাহ-এর নাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সমাদৃত হয়েছে এবং সেই সাথে সমাদৃত হয়েছে জিহাদি ধারার পক্ষে তাঁর লেখা বই, প্রবন্ধ এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ডের মধ্য দিয়ে তার গবেষণা ও তত্ত্বাদি, যা জিহাদিদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য একটি রেফারেন্স বা উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। এবং যে প্রজন্মকে উদ্দেস্য করে শাইখ আবু মুসআব তাঁর দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, তারাই এখন জিহাদের ময়দানে দিনাতিপাত ও পদচারণ করছে।
তবে আমরা গভীরভাবে পাঠ ও পর্যালোচনার পর কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ পেয়েছি, যে অধ্যায়গুলোতে শাইখ তৎকালীন অগ্রাধিকারের কারণে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেননি; যেমন—হাদীসের সূত্র উল্লেখ করা, মূল পাঠ ঠিক করা এবং রেফারেন্স ও তথ্যের সূচিপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের মহান শাইখের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় অর্জনকারী আসন্ন প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই সংক্ষিপ্ত ও নগণ্য সম্পাদনার কাজটি সম্পন্ন করেছি, যা নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:
১। আমি বইটিকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করেছি:
৩। আমি অনেক বিরামচিহ্ন, পৃষ্ঠার বিন্যাস, অনুচ্ছেদের বিভাজন এবং ফন্টের ধরন, রঙ ও আকার ঠিক করেছি।
৪। আমি অনেক বানান ও ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করেছি এবং কিছু দুর্বল বাক্যকে এমনভাবে পরিমার্জন করেছি যাতে মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটে। বানান ভুলগুলো অতিরিক্ত হওয়ার কারণে সেগুলো এখনো আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
৫। এই তাহকীকে আমরা যে সংস্করণের উপর নির্ভর করেছি (অর্থাৎ ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের প্রথম সংস্করণ) তাতে কিছু ভুল পাওয়ায় আয়াতসমূহের তাখরীজ নতুনভাবে করেছি, সেগুলোকে উসমানী মুসহাফের রসম অনুযায়ী সংখ্যায়ন ও অঙ্কন করেছি এবং রঙিন সংস্করণে লাল রঙে চিহ্নিত করেছি।
৬। আমি হাদীসের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেছি এবং বই থেকে এর তাখরীজ মুছে দিয়েছি, কারণ তাখরীজে ভুল বেশি ছিল এবং সেগুলোর ওপর হুকুম দেওয়াতেও সমস্যা ছিল। এর কারণ হলো, শাইখের কাছে পর্যাপ্ত সূত্র-উপাত্ত ছিল না; কারণ তিনি ছিলেন নির্বাসিত অবস্থায়। তিনি তাঁর লেখার বিভিন্ন স্থানে এ কথার উল্লেখ করেছেন। আর আমি হাদীসের হুকুমসহ তাখরীজগুলো ফুটনোটে সংযোজন করেছি। আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
৮। কিছু বিষয়ের সমন্বয় সাধন করেছি, যেমন— আমাদেরনাবী ﷺ-এর উপর “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম”, অন্য কোনো নাবীর প্রতি ‘আলাইহিস সালাম’ বলা এবং সাহাবীদের জন্য 'রাদিয়াল্লাহু আনহু' বলা — এই বাক্যগুলোকে রঙিন সংস্করণে বিশেষ রঙে চিহ্নিত করেছি।
৯। কিতাবের সূচীপত্র নতুনভাবে প্রস্তুত করেছি, শিরোনামসমূহ সুবিন্যস্ত ও সুসজ্জিত করেছি এবং পৃষ্ঠা নম্বর দিয়েছি।
সমাপনী:
একটি সংস্করণ বর্তমানে সমন্বয়ের পর্যায়ে রয়েছে, যা শীঘ্রই মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা ইলেকট্রনিক সংস্করণ প্রকাশে তাড়াহুড়ো করেছি, কারণ সময় সংকীর্ণ এবং ঘটনাপ্রবাহ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, আর ইলেকট্রনিক সংস্করণের মাধ্যমে প্রচার ও প্রসার বেশি এবং দ্রুত হয়ে থাকে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ তাহকীককৃত কিতাবের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের কাজও চলছে, এবং সেইসাথে পূর্বে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত সংস্করণেরও দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হবে। এইভাবে শাইখ আবু মুসআব (দা'ওয়াতুল মুকাওয়ামাহ) -এর কিতাবটি তাহকীক ও সংক্ষেপন—দুই দিক থেকেই ভালো সেবা পাবে— আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়।
আমি আল্লাহ আল-আলী আল-কদীরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর সম্মানিত সত্তার জন্য খালেস করে কবুল করেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার প্রতি এবং আমার পিতা-মাতার প্রতি এবং যাদের আমার উপর হক রয়েছে তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাগুতদের ও জালিমদের কারাগারে বন্দী আমার ভাইদের মুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনিই এর অভিভাবক এবং এর উপর ক্ষমতাবান।
যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের ও শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যা কিছু সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
নিরীক্ষকের কথা
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক রসূলদের ইমামের ওপর ও তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর। অতঃপর:
মুজাহিদীন এবং তাঁদের নেতাদের মাঝে শাইখ আবু মুসআব আস-সুরী রআহুল্লাহ-এর নাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সমাদৃত হয়েছে এবং সেই সাথে সমাদৃত হয়েছে জিহাদি ধারার পক্ষে তাঁর লেখা বই, প্রবন্ধ এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ডের মধ্য দিয়ে তার গবেষণা ও তত্ত্বাদি, যা জিহাদিদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য একটি রেফারেন্স বা উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। এবং যে প্রজন্মকে উদ্দেস্য করে শাইখ আবু মুসআব তাঁর দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, তারাই এখন জিহাদের ময়দানে দিনাতিপাত ও পদচারণ করছে।
তবে আমরা গভীরভাবে পাঠ ও পর্যালোচনার পর কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ পেয়েছি, যে অধ্যায়গুলোতে শাইখ তৎকালীন অগ্রাধিকারের কারণে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেননি; যেমন—হাদীসের সূত্র উল্লেখ করা, মূল পাঠ ঠিক করা এবং রেফারেন্স ও তথ্যের সূচিপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের মহান শাইখের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় অর্জনকারী আসন্ন প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই সংক্ষিপ্ত ও নগণ্য সম্পাদনার কাজটি সম্পন্ন করেছি, যা নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:
১। আমি বইটিকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করেছি:
ক- ভূমিকা, সেই সাথে প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়।
খ- তৃতীয় অধ্যায়।
গ- চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়।
ঘ- অষ্টম ও নবম অধ্যায়।
ঙ- সমাপ্তি পর্ব, সমসাময়িক বিষয়াবলি এবং ওসিয়ত বা উপদেশ।
২। বইয়ের প্রচ্ছদটিতে আমি কিছু পরিবর্তন এনেছি, তবে প্রচ্ছদের লোগো এবং প্রতীকী তাৎপর্যের ব্যাপারে শাইখ যা চেয়েছিলেন, তা খেয়াল রাখা হয়েছে।খ- তৃতীয় অধ্যায়।
গ- চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়।
ঘ- অষ্টম ও নবম অধ্যায়।
ঙ- সমাপ্তি পর্ব, সমসাময়িক বিষয়াবলি এবং ওসিয়ত বা উপদেশ।
৩। আমি অনেক বিরামচিহ্ন, পৃষ্ঠার বিন্যাস, অনুচ্ছেদের বিভাজন এবং ফন্টের ধরন, রঙ ও আকার ঠিক করেছি।
৪। আমি অনেক বানান ও ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করেছি এবং কিছু দুর্বল বাক্যকে এমনভাবে পরিমার্জন করেছি যাতে মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটে। বানান ভুলগুলো অতিরিক্ত হওয়ার কারণে সেগুলো এখনো আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
৫। এই তাহকীকে আমরা যে সংস্করণের উপর নির্ভর করেছি (অর্থাৎ ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের প্রথম সংস্করণ) তাতে কিছু ভুল পাওয়ায় আয়াতসমূহের তাখরীজ নতুনভাবে করেছি, সেগুলোকে উসমানী মুসহাফের রসম অনুযায়ী সংখ্যায়ন ও অঙ্কন করেছি এবং রঙিন সংস্করণে লাল রঙে চিহ্নিত করেছি।
৬। আমি হাদীসের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেছি এবং বই থেকে এর তাখরীজ মুছে দিয়েছি, কারণ তাখরীজে ভুল বেশি ছিল এবং সেগুলোর ওপর হুকুম দেওয়াতেও সমস্যা ছিল। এর কারণ হলো, শাইখের কাছে পর্যাপ্ত সূত্র-উপাত্ত ছিল না; কারণ তিনি ছিলেন নির্বাসিত অবস্থায়। তিনি তাঁর লেখার বিভিন্ন স্থানে এ কথার উল্লেখ করেছেন। আর আমি হাদীসের হুকুমসহ তাখরীজগুলো ফুটনোটে সংযোজন করেছি। আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
- সহীহ বুখারী ও মুসলিম অথবা তাদের যেকোনো একটিতে থাকলে— মুহামমাদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর ক্রমানুসারে শুধু হাদীস নম্বর উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
- সুনান ও অন্যান্য গ্রন্থে থাকলে— সেটিকে মূল উৎসে সম্পৃক্ত করেছি এবং শাইখ আলবানী ও শাইখ শু'আইব আরনাঊত উভয়ের বা যেকোনো একজনের হুকুম উল্লেখ করেছি, যদি পাওয়া যায়।
- শাইখ আলবানী ও শাইখ শু'আইব আরনাঊতের রায় না থাকলে আমি শাইখ মুকবিল, আহমাদ শাকির বা অন্যান্য মুহাদ্দিসদের সহজলভ্য রায়গুলো উল্লেখ করেছি।
- যেক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণের কোনো হুকুম পাইনি, সেখানে পূর্ববর্তী আলিমদের উক্তি নকল করেছি যদি থাকে অথবা এর প্রকাশ্য ত্রুটি উল্লেখ করেছি।
- মাওযূ (জাল) হাদীসের নিচে একটি রেখা টানা হয়েছে এবং তা প্রমাণসহ সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছি।
- অধিক পঠিত বা বারবার আসা হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে আমি কখনো সকল স্থানে সূত্র উল্লেখ করেছি, আবার কখনো হাদীস ও প্রেক্ষিত বিবেচনায় একবার সূত্র উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
৮। কিছু বিষয়ের সমন্বয় সাধন করেছি, যেমন— আমাদেরনাবী ﷺ-এর উপর “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম”, অন্য কোনো নাবীর প্রতি ‘আলাইহিস সালাম’ বলা এবং সাহাবীদের জন্য 'রাদিয়াল্লাহু আনহু' বলা — এই বাক্যগুলোকে রঙিন সংস্করণে বিশেষ রঙে চিহ্নিত করেছি।
৯। কিতাবের সূচীপত্র নতুনভাবে প্রস্তুত করেছি, শিরোনামসমূহ সুবিন্যস্ত ও সুসজ্জিত করেছি এবং পৃষ্ঠা নম্বর দিয়েছি।
সমাপনী:
একটি সংস্করণ বর্তমানে সমন্বয়ের পর্যায়ে রয়েছে, যা শীঘ্রই মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা ইলেকট্রনিক সংস্করণ প্রকাশে তাড়াহুড়ো করেছি, কারণ সময় সংকীর্ণ এবং ঘটনাপ্রবাহ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, আর ইলেকট্রনিক সংস্করণের মাধ্যমে প্রচার ও প্রসার বেশি এবং দ্রুত হয়ে থাকে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ তাহকীককৃত কিতাবের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের কাজও চলছে, এবং সেইসাথে পূর্বে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত সংস্করণেরও দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হবে। এইভাবে শাইখ আবু মুসআব (দা'ওয়াতুল মুকাওয়ামাহ) -এর কিতাবটি তাহকীক ও সংক্ষেপন—দুই দিক থেকেই ভালো সেবা পাবে— আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়।
আমি আল্লাহ আল-আলী আল-কদীরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর সম্মানিত সত্তার জন্য খালেস করে কবুল করেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার প্রতি এবং আমার পিতা-মাতার প্রতি এবং যাদের আমার উপর হক রয়েছে তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাগুতদের ও জালিমদের কারাগারে বন্দী আমার ভাইদের মুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনিই এর অভিভাবক এবং এর উপর ক্ষমতাবান।
যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের ও শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যা কিছু সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আবুল আব্বাস আল-কলামূনী
Comment