পূর্ণ প্রস্তুতি ও শক্তি সংগ্রহ
জিহাদে কামিয়াবীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এই যে, যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি ও শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে কারীমে নির্দেশনা দিয়ে ইরশাদ হয়েছে:
আলোচ্য আয়াতে জিহাদ শুরুর পূর্বে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং যুদ্ধের উপকরণ সংগ্রহের কথা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়েছে, যেন এর মাধ্যমে দুশমনদের মনে ইসলামী লশকরের ব্যাপারে ভীতির সঞ্চার হয় এবং তারা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে হামলা করার সাহস হারিয়ে ফেলে। এখানে ‘পূর্ণ প্রস্তুতির’ মাঝে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী হতে বুঝা যায় যে, তিনি বাহ্যিক প্রস্তুতির তুলনায় চারিত্রিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে অনেক বেশী গুরুত্ব দিতেন।
আল্লাহর দিকে মনোযোগের গুরুত্ব
পূর্ণ প্রস্তুতির পর জিহাদে সফলতার তৃতীয় শর্ত এই যে, যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের বাহিনীর মুখোমুখি হবার মুহূর্তে নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের উপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হতে হবে। তাঁর দরবারে সবিনয়ে সাহায্যের দোয়া করতে হবে। এই বিষয়ে বদর যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে, যুদ্ধের পূর্বের রাতে তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে সাহায্য সহযোগিতার জন্য অনবরত দোয়া করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী হতে এই পথ নির্দেশও পাওয়া যায় যে, যুদ্ধের পূর্বে সকল মুজাহিদকেই আল্লাহর দরবারে করুণভাবে সাহায্যের আবেদন জানাতে হবে। বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মাঝে যুদ্ধের পূর্বে দোয়ার প্রচলন করেন, ক্রমান্বয়ে খোলাফায়ে রাশেদার যুগে যা মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। একবার রোমান সৈন্যগণ মুসলমানদের হাতে কঠিনভাবে পরাজিত হবার পর তাদের সিপাহসালার সম্রাটের দরবারে হাজির হলে সম্রাট তার নিকট পরাজয়ের কারণ জানতে চান, উত্তরে সিপাহসালার বলেন; “তারা দিনের আলোয় যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শন করে আর রাতের অন্ধকারে আল্লাহর দরবারে অশ্রু দান বইয়ে দেয়।”
জিহাদে কামিয়াবীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এই যে, যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি ও শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে কারীমে নির্দেশনা দিয়ে ইরশাদ হয়েছে:
وَأَعِدُّواْ لَهُم مَّا ٱسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ ٱلْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَءَاخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ ٱللَّهُ يَعْلَمُهُمْۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَىْءٍ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
"আর তাদের মুকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর, তা দ্বারা তোমরা ভয় দেখাবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদেরকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। আর তোমরা যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ দেয়া হবে, আর তোমাদেরকে যুলম করা হবে না।" সূরা আল-আনফাল, আয়াতঃ ৬০আলোচ্য আয়াতে জিহাদ শুরুর পূর্বে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং যুদ্ধের উপকরণ সংগ্রহের কথা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়েছে, যেন এর মাধ্যমে দুশমনদের মনে ইসলামী লশকরের ব্যাপারে ভীতির সঞ্চার হয় এবং তারা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে হামলা করার সাহস হারিয়ে ফেলে। এখানে ‘পূর্ণ প্রস্তুতির’ মাঝে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি চারিত্রিক ও মানসিক প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী হতে বুঝা যায় যে, তিনি বাহ্যিক প্রস্তুতির তুলনায় চারিত্রিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে অনেক বেশী গুরুত্ব দিতেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিকার যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার পূর্বে বছরের পর বছর সাহাবায়ে কেরামকে এমন অতুলনীয় চারিত্রিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে তারা একেকজন সংকল্প, ধৈর্য, সাহসিকতা ও বীরত্বের ময়দানে অমোচনীয় ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হন।
আল্লাহর দিকে মনোযোগের গুরুত্ব
পূর্ণ প্রস্তুতির পর জিহাদে সফলতার তৃতীয় শর্ত এই যে, যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের বাহিনীর মুখোমুখি হবার মুহূর্তে নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের উপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হতে হবে। তাঁর দরবারে সবিনয়ে সাহায্যের দোয়া করতে হবে। এই বিষয়ে বদর যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে, যুদ্ধের পূর্বের রাতে তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে সাহায্য সহযোগিতার জন্য অনবরত দোয়া করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী হতে এই পথ নির্দেশও পাওয়া যায় যে, যুদ্ধের পূর্বে সকল মুজাহিদকেই আল্লাহর দরবারে করুণভাবে সাহায্যের আবেদন জানাতে হবে। বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মাঝে যুদ্ধের পূর্বে দোয়ার প্রচলন করেন, ক্রমান্বয়ে খোলাফায়ে রাশেদার যুগে যা মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। একবার রোমান সৈন্যগণ মুসলমানদের হাতে কঠিনভাবে পরাজিত হবার পর তাদের সিপাহসালার সম্রাটের দরবারে হাজির হলে সম্রাট তার নিকট পরাজয়ের কারণ জানতে চান, উত্তরে সিপাহসালার বলেন; “তারা দিনের আলোয় যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শন করে আর রাতের অন্ধকারে আল্লাহর দরবারে অশ্রু দান বইয়ে দেয়।”
Comment