অধ্যায় ৪ ছোট জিহাদ বড় জিহাদ
প্রবন্ধের মূল জার্মান শিরোনাম ছিল, La grande e la piccola guerra.
ইভোলা প্রচলিত ২ প্রকারের যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন: বড় যুদ্ধ (জিহাদ) এবং ছোট যুদ্ধ, যদিও ফিকহী ধারণায় এমন সংজ্ঞা নেই। ছোট যুদ্ধ হল বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই, যা বাস্তব এবং রক্তাক্ত। বড় যুদ্ধ হল আভ্যন্তরীণ শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই, যা আমাদের নিজেদের মধ্যে অবস্থিত। এটি একটি আভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, যা আমাদের নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক আইনের অধীনে আনতে কাজ করে। আমাদের প্রাকৃতিক মানুষের মধ্যে অবস্থিত শত্রুকে পরাজিত করার জন্য, যা কামনা, আংশিকতা, আবেগ, প্রবৃত্তি, দুর্বলতা এবং আভ্যন্তরীণ কাপুরুষতা হিসাবে আমাদের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে; তা দমন করার যুদ্ধ।
ইভোলার ভাষায়,
আধ্যাত্মিক মুক্তি
বড় যুদ্ধের লক্ষ্য হল আধ্যাত্মিক মুক্তি, যা আমাদেরকে জীবন এবং মৃত্যুর উভয়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। বড় জিহাদকে বা নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দার্শনিকরা asceticism বলে, এর মাধ্যমে ব্যক্তি আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করে।
ইভোলা লিখেছেন, "After the distinction between the two types of war there is their synthesis. It is a feature of heroic traditions that they prescribe the ‘lesser war’, that is to say the real, bloody war, as an instrument in the realisation of the ‘greater’ or ‘holy war’; so much so that, finally, both become one and the same thing."
লক্ষ্য করুন, আমাদের দেশের যুদ্ধ বিরোধী বক্তাদের ন্যায় ইভোলা এই হাদীসকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন নি। বরং তিনি লিখেছেন, as an instrument in the realisation of the ‘greater’ or ‘holy war’;
ইভোলা আরও লিখেছেন, in Islam, ‘holy war’ – jihad – and ‘the path of God’ are interchangeable terms. The one who fights is on the ‘path of God.
বিষয়টা বেশ মজার এজন্য যে, একজন মুশরিক হয়েও ইভোলা এই বিষয়গুলো ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারলেও আমাদের অনেক মুসলিম ভাই এখনও ফী সাবিলিল্লাহ দ্বারা ঘর থেকে হালকা অবস্থায় বের হওয়ার যে ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করেছে, তা অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
ছোট জিহাদ নিয়ে ফিকহী বিশ্লেষণ এখানে করলাম না। ইভোলা-র মূল উদ্দেশ্য ছিল এটা বুঝানো যে, সত্যিকারের যোদ্ধারা যুদ্ধের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সাধনাও করে। একারনে আমরা দেখি আফগান নেতা জালালুদ্দিন হাক্কানি রাহ: নিজেও নকশবন্দি তরিকার ছিলেন। বিভিন্ন তরিকা নিয়ে আপনার অভিযোগ আপত্তি থাকতে পারে, যা আমারও আছে। কিন্তু কেউ যদি শিরক-বিদআত মুক্ত থেকে, শরীয়ত বিরোধী নয় এমন কাজ তরিকার নামে করে, তাতে আমরা আপত্তি করতে পারি কি? আর এতে আধ্যাত্মিকতা লাভ হয় এতেও সন্দেহ নেই। একারনে তাবলীগের ভাইদের আদব-আখলাক বা রূহানিয়াত গড়ে অধিকাংশ সালাফী ভাইদের তুলনায় অগ্রগামী হয়ে থাকে। তবে ফিকহী দিক থেকে জিহাদকে বড়-ছোট ভাগে বিভক্ত করা ভুল। আপনি যদি শব্দের ব্যবহারিক শ্রেণী করেন, (যেমনঃ বাংলায় ব্যবহারিকভাবে শব্দ ৪ প্রকার- যৌগিক, রূঢ়ি, যোগরূঢ়, পরিশব্দ।) সেক্ষেত্রে এটা ভুল নয় যে, জিহাদ শব্দের ব্যবহার তাসাউফ ও শারঈ উভয় ময়দানে আছে। কিন্তু ফিকহী দিক থেকে জিহাদ শুধু দিফায়ী ও ইকদামী-ই হতে পারে। এরপরও সন্দেহ থাকলে নিচের লিংক গুলো থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ-
- https://www.youtube.com/watch?v=dd0Y4q50CPs
- https://archive.org/details/NofserJihadiKiAsolJihad
- https://archive.org/details/Tahkik-NofserJihad
- https://gazwah.net/?p=21415
VPN ব্যবহার করে নিচের লিংকও দেখে আসতে পারেন-
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...0%A6%A6/212305
অত:পর ইভোলা ২য় হাদিস উল্লেখ করেন যে, শহীদের রক্ত আল্লাহর কাছে জ্ঞানীর কালি ও আবিদের ইবাদাত থেকে বেশি প্রিয়। এই জাতীয় কোন হাদীস অধমের জানা নেই। একটি জাল হাদিসে বলা হয়েছে যে, শহিদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কালি পবিত্র। হাদিসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে মাসিক আল কাউসারের বিশ্লেষণ দেখা যেতে পারে।
এই হাদিসের আলোচনায় ইভোলা মূলত কয়েকটি শিক্ষা উল্লেখ করেছেন-
১। প্রকৃত আধ্যাত্মিক উন্নতি যুদ্ধের দ্বারা অর্জন করা যায়। শুধু বই পড়ে কিংবা শুধু ইবাদাত করে এসব সহজে অর্জন করা যায় না।
২। কাপুরুষতা, ভীরুতা, অন্ধ ক্ষোভ ইত্যাদিকে জয় করার মাধ্যমে যোদ্ধা জ্ঞানীর পুথিগত বিদ্যা ও উপাসকের তপস্যার থেকে বেশি বাস্তবসম্মত মর্যাদা অর্জন করে। যোদ্ধা তার নফসের উপর সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ করে।
৩। যোদ্ধা কোন এক অদৃশ্য ঐশ্বরিক শক্তি দ্বারা দিকনির্দেশনা প্রাপ্ত হয়।
যদিও ইভোলা জাল হাদিসের ভুল শব্দ চয়ন করে এই মর্মে উপনীত হয়েছেন, একটু গভীর চিন্তা করলে উপলব্ধ হয় যে, সে ভুল বলে নি।
তাফসীরে তাবারী-তে বলা হয়েছে, সূরা মুহাম্মাদ আয়াত ৪-৫ এর হিজায ও কুফা-র তিলাওয়াত এটা যে,(وَالَّذِينَ قَاتَلُوا )যারা যুদ্ধ করেছে আল্লাহ কখনো তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না।
ইমাম তাবারী লিখেছেন,
.
ইমাম বাগাওয়ী রাহ: লিখেছেন,
কুরতুবী লিখেছেন,
قراءة العامة " قاتلوا " وهي اختيار أبي عبيد .
তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
পরের আয়াতে আল বায়ান ফাউন্ডেশনের অনুবাদে আছে,
ফী যিলাযিল কুরআনে বলা আছে,
এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য বাংলাদেশের রত্ন শাইখুল হাদীস মুফতি আবু ইমরান (হাফি
-এর বয়ান শুনতে পারেন। উপরের ব্যাখ্যাগুলো তার আলোচনা থেকেই জানতে পেরেছি। বিস্তারিত ১ ঘণ্টার পর থেকে শুনুন-
মাওলানা আসেম উমর রহিঃ 'দরসে তাযকিয়াহ:উজব এবং খোদপসন্দি' নামক প্রবন্ধে বলেন,
কথাটিকে এভাবেও বলা যায়, বাহ্যিক শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা থেকে নফসের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়।
আবার আল্লাহ বলেন, " তোমরা কি তাদের ভয় করো? অথচ ভয় করার বেশি হকদার হলো আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তোমাদের হাতে আল্লাহ ওদেরকে শাস্তি দেবেন, ওদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, ওদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন এবং বিশ্বাসীদের হৃদয় প্রশান্ত করবেন। এবং তাদের অন্তর থেকে রাগ দূর করবেন।" সূরা আত-তাওবা (৯:১৩-১৫)
আর যেহেতু আল্লাহ যোদ্ধার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দিবেন, সেহেতু সে তার নফসকে রাজত্ব করবে এটাই যুক্তির দাবি। সবশেষে, ৩য় পয়েন্টে ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রাহ:-এর মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা বইয়ের উপসংহার এবং তাওহীদ আল আ'মালি বইয়ের প্রথম কিছু পৃষ্ঠা পড়লেই দলিল প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমি সেখান থেকে একটি দলিল উল্লেখ করছি,
ইভলো অত:পর লিখছেন যে,
মাঝ পথে যেহেতু মেটাফিজিক্যাল প্রিমাইসের কথা এলো, তাই একটু ব্যাখ্যা করা যাক:
মেটাফিজিক্যাল প্রিমাইস (Metaphysical Premise) মানে হলো এমন কিছু মৌলিক বিশ্বাস বা ধারণা, যা দুনিয়ার বাস্তবতার প্রকৃতি এবং অস্তিত্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে।
ইসলাম কোন ঘটনাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করে?
১. দ্বৈত অস্তিত্ব (Dualism of Existence)
এখানে বাস্তবতাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: পার্থিব জীবন (Worldly Life) এবং পরকাল (Next World)।
মূল ধারণা: এই দুনিয়াটি স্থায়ী নয়, বরং এটি একটি সাময়িক স্টেশন। আসল এবং চিরস্থায়ী বাস্তবতা হলো পরকাল। তাই এখানে যা কিছু হারানো হয়, তা পরকালের তুলনায় নগণ্য।
২. বাস্তবতার নশ্বরতা বা মায়া (Transience of Material Reality)
কুরআনে বলা হয়েছে, দুনিয়ার জীবন কেবল একটি খেলা এবং আমোদ-প্রমোদ।
মূল ধারণা: আমাদের চারপাশে আমরা যা দেখি (টাকা, ক্ষমতা, শরীর, জীবন), তা প্রকৃত সত্য নয়। এটি একটি মায়া বা ইলিউশন (Illusion)। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে জীবনটি একটি 'খেলা', তখন মৃত্যু তার কাছে ভয়ের কিছু থাকে না, কারণ সে মনে করে সে কেবল একটি সাময়িক খেলা থেকে বেরিয়ে আসল বাস্তবতায় প্রবেশ করছে।
৩. ডিভাইন টেলিলজি বা ঐশ্বরিক উদ্দেশ্য (Divine Teleology)
এখানে জীবনকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে, যাকে বলা হয়েছে "Way of Allah" (আল্লাহর পথ)।
মূল ধারণা: মানুষের অস্তিত্ব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে একটি উচ্চতর উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা আছে। জীবনের সার্থকতা জাগতিক সুখের মধ্যে নয়, বরং সেই সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করার মধ্যে।
৪. নৈতিক ধারাবাহিকতা এবং পুরস্কার (Moral Continuity & Reward)
কুরআনে বলা হয়েছে, লড়াইয়ে জয়ী হওয়া বা নিহত হওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই "বিরাট পুরস্কার" দেওয়া হবে।
মূল ধারণা: এই পৃথিবীর কাজের ফলাফল কেবল এই পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে করা ত্যাগের প্রতিদান পরকালে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, মৃত্যু মানে অস্তিত্বের শেষ নয়, বরং পুরস্কার পাওয়ার একটি মাধ্যম।
আরও সহজভাবে বললে, এখানে ইভোলা ৩টি মূল মেটাফিজিক্যাল স্তম্ভ উল্লেখ করেছেন:
১. মূল্যবোধের পরিবর্তন (Shift of Value): সাধারণত মানুষ মনে করে জীবন বাঁচানো বা সম্পদ অর্জন করা সবচেয়ে মূল্যবান। কিন্তু কুরআন বলে— "মৃত্যু এখানে পরাজয় নয়, বরং পুরস্কার পাওয়ার একটি দরজা।" অর্থাৎ, জীবনের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া হয়েছে।
২. বাস্তবতার স্তর (Levels of Reality): এখানে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে আমরা এখন যে স্তরে আছি (পার্থিব জগত), তা আসল বাস্তবতা নয়। আসল বাস্তবতা হলো পরকাল। যখন আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনি একটি স্বপ্নের ভেতরে আছেন, তখন আপনি স্বপ্ন ভাঙতে (মৃত্যু বরণ করতে) ভয় পান না, বরং জেগে ওঠার জন্য উদগ্রীব থাকেন।
৩. কার্যকরণ সম্পর্ক (Cause and Effect): সাধারণ দুনিয়ায় যুদ্ধের ফলাফল হলো জয় বা পরাজয়। কিন্তু এখানে মেটাফিজিক্যাল নিয়মটি ভিন্ন—এখানে ফলাফলটি দুনিয়ায় নয়, বরং পরকালে নির্ধারিত হয়। তাই দুনিয়ার জয়-পরাজয় এখানে অর্থহীন হয়ে পড়ে।
তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টির সুফল নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করলাম না। মুজাহিদের জন্য তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ নজির দেখানো জরুরি, নতুবা জেল জীবনে টিকে থাকা যায় না।
অধ্যায় ৫ ও ৬
অধ্যায় ৫ 'যুদ্ধের অধিবিদ্যা' শিরোনামে হিন্দু ধর্মে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার আগে ইভোলা লিখেছেন, For too long we have permitted an artificial antithesis between East and West: artificial because, as Mussolini has already pointed out, it opposes to the East the modern and materialistic West, which, in fact, has little in common with the older, truer and greater Western civilisation. The modern West is just as opposed to the ancient West as it is to the East.
ইভোলা ভগবদ্গীতার অর্জুন ও কৃষ্ণের সংলাপকে বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে যুদ্ধকে একটি আধ্যাত্মিক পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে যে, একজন যোদ্ধা ব্যক্তিগত আবেগ অতিক্রম করে ঐশ্বরিক শক্তির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা
দ্বৈত যুদ্ধ
- বাহ্যিক যুদ্ধ: শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘর্ষ
- অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ: আবেগ, লালসা এবং মায়ার বিরুদ্ধে আত্মিক সংগ্রাম
নিষ্কাম কর্ম (শুদ্ধ কর্ম)
যোদ্ধাকে অবশ্যই জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি নিয়ে চিন্তা না করে কর্তব্য পালন করতে হবে। সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা পবিত্রতার চিহ্ন।
আধ্যাত্মিক ভিত্তি
দেহ ও আত্মার পার্থক্য
- দেহ নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী – এর ধ্বংস কোনো পাপ নয়
- আত্মা চিরন্তন ও অবিনাশী – এটি শরীরের মৃত্যুতে বিনষ্ট হয় না
ঐশ্বরিক শক্তির যন্ত্র
যোদ্ধা যখন সব ব্যক্তিগত ইচ্ছা ত্যাগ করে, তখন সে ঈশ্বরের শক্তির নিরাসক্ত হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
"পবিত্র যুদ্ধ" এর বৈশিষ্ট্য
✓ অনিবার্যতা: সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয়
✓ সত্যিকারের নিরপেক্ষতা: ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ মুছে ফেলা
✓ সার্বজনীনতা: যোদ্ধার আত্ম-স্বার্থ ছাড়িয়ে যাওয়া
✓ সাম্রাজ্যস্থাপন: একটি উচ্চতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা
এই সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াত আগের অধ্যায়ে দেয়া আছে। তাই পুনরাবৃত্তি করলাম না।
ইভোলা দাবি করেছেন যে, পবিত্র যুদ্ধের ধারণা সকল মহান সভ্যতায় উপস্থিত; আধুনিক শান্তিবাদ ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি হল একটি সাম্প্রতিক উদ্ভাবন।
তবে হিন্দুধর্ম নিয়ে ইভোলা সামান্যই জানতো। যেহেতু মহাকাব্যগুলো বাদে আর কোন বই জার্মান ভাষায় পাওয়া যাবার কথা না।
উপাসনালয় ধ্বংস
যেমনঃ হিন্দুধর্ম অনুযায়ী অন্য ধর্মের উপাসনালয় মন্দিরে রূপান্তর করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন,
“To any man who knows anything about Indian history, that very statement proves that the whole thing was a fraud, because the temple of Jagannath is an old Buddhistic temple. We took this and others over and re-Hinduised them. We shall have to do many things like that yet.” Complete-Works / Volume 3 / Lectures from Colombo to Almora / THE SAGES OF INDIA http://www.swamivivekanandaquotes.or...-buddhism.html
এখানে খোদ হিন্দু ইতিহাসবেত্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বৌদ্ধ ও জৈন মন্দির ধ্বংসের তালিকা তৈরি করতে চাই না। হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের মন্দির ভাঙত। হিন্দু মারাঠারা টিপু সুলতানের রাজ্যে ঢুকে মন্দির লুট করত।
“The plunder of temples was carried out by kings irrespective of their religion. Temples were repositories of wealth. An ideological fig leaf was taken from religion to justify the desecration. Temples were plundered by the Marathas in Tipu’s Sultante. The Shirangapatanam temple was destroyed by the Maratha armies and was repaired by Tipu Sultan. Attacking the temple was also a way of Humiliting the other kings… Temples were also looted by ing Harsha of kashmir in the 11th century. A mention of this is found in Kalhan’s book Rajtarangini, which syas that he appointed a special officer to uproot the golden idols from the temples. This offiver was designated as devotpatan naya’s (officer who uproots the Gods). Parmar Kings (Shubharvarnman a.d 1193-1210) destroyed Jain temples in Cambay and Dabhoi in addition to plundering temples in his own kingdom.” Communal Politics: Fact versus Myth, p.52, By Ram Puniyani
এটা তারা করত ২টি কারণে: যিম্মিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সুলতান ক্ষতিপূরণ দিত, এজাতীয় কাজ সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি করত এবং সম্ভবত অ-হিন্দু রাজার ভূমিতে বসবাস করায় সেসব মন্দির লুট করা তারা ন্যায়সঙ্গত মনে করত। পদ্ম পুরাণে VII.14.1–10 বলা আছে যে, ম্লেচ্ছ দেশে বিষ্ণু পূজা নিষেধ । অন্যত্র বলা আছে, শ্রাদ্ধ করাও নিষেধ। (Sankha Samhita 15.4; Vishnu Smriti 84.1–4)
নারী-শিশু হত্যা
অন্যদিকে যজুর্বেদে (17:38-39) শত্রু পরিবারের নারী শিশু হত্যার ইচ্ছাপ্রকাশ করা হয়েছে- May the commander of the army, who, with surpassing vigour pierces in the battles the families of the enemies...https://archive.org/details/yajurved.../n191/mode/1up
অথর্ববেদে (১১.২.২১) অ-হিন্দু শিশুদের হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, O strong god (ugra), slay the offspring of the blasphemers! https://sacred-texts.com/hin/sbe42/av182.htm
দেবতাদের অহেতুক হত্যাযজ্ঞ
কৃষ্ণ এক ধোপার কাছে কাপড় চেয়েছিল। ধোপা কাপড় না দিয়ে কটূ কথা শুনিয়ে দিলে সে তাকে হত্যা করে। ইভোলার উদ্ধৃতি দেয়া শ্রীমদ ভগম্ভতম ১০.৪১.৩৭ থেকে- As the washerman thus spoke brazenly, the son of Devaki became angry, and then merely with His fingertips He separated the man’s head from his body. https://vedabase.io/en/library/sb/10/41/
এক শূদ্র কিছু আমল-ইবাদাত করত বলে রাম তাকে হত্যা করেছিল। রামায়ণ উত্তর কান্ড ৭, অধ্যায় ৭৫-৭৬
O Rama, I wish to attain the Celestial Region. Know that I am a Shudra and my name is Shambuka.” As he was yet speaking, Raghava, drawing his brilliant and stainless sword from its scabbard, cut off his head. The Shudra being slain, all the Gods and their leaders with Agni’s followers, cried out, ”Well done! Well done!” https://www.wisdomlib.org/hinduism/b...doc424850.html
বীরত্বের প্রশ্ন
কৃষ্ণ সহ অন্যান্য দেবতারা ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এক ষাড় দানবের শিং এর গুতা খেয়ে ভাসুদেব হরি, শংকর ও ব্রহ্মা ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
ইভোলা যোদ্ধার যে চিত্র বইয়ের শুরু থেকে আলোচনা করে আসছিলেন, তার অনেক কিছুই এখানে মিলছে না। আবার ইন্দ্র নামুচিকে হত্যা করেছিল শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে। শিব ও বিষ্ণু গণেশকে হত্যার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল। (Shiva Purana Rudra Samhita 2, Kumarakhanda IV, ch 16, verses 7-8)
সাহাবীদের যুগে দুই পক্ষের যোদ্ধারা দ্বন্দ্ব যুদ্ধ বা ডুয়েলের আয়োজন করত; এমন এক ডুয়েল চলছিল বালি ও হনুমানের। কিন্তু রাম পিছন থেকে তীর মেরে বালি-র দফা রফা করে দেয়। (বাল্মিকি রামায়ণ, কিষ্কিন্ধ কান্ড অধ্যায় ১৬)
নারীর মোহ
অন্যদিকে বিষ্ণু নারীর রূপ নিয়ে শত্রুদের মোহগ্রস্ত করেছিল। (অগ্নি পুরাণ ৩.১১-১৫)
- https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.279469/page/n40/mode/1up
আরও অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু এতে রচনা দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে। এই বিষয়গুলো ভ্রূ কুঞ্চিত করতে-ই পারে। এটাই স্বাভাবিক ।
যাইহোক, কেউ যদি এমন অভিযোগ মুজাহিদদের ব্যাপারে আনতে চান, কমান্ডার শামিল বাসায়েভ রচিত 'একজন মুজাহিদের বই' পড়ার পরামর্শ থাকবে।
অধ্যায় ৬ এর শিরোনাম সেনাবাহিনীর ন্যায় দৃষ্টিভঙ্গি।
নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও 'পবিত্র যুদ্ধ'
লেখকের মতে, প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোতে (যেমন: ওরফিজম বা রোমান সংস্কৃতি) কোন আধ্যাত্মিক বাস্তবতাকে বোঝাতে প্রায়ই যুদ্ধের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা যদি ইসলামের দিকে তাকাই, মাক্কী জীবনে মুজাহিদদের নৈতিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সাহাবীদের পরবর্তীতে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত শব্দগুলো রূহানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়া শুরু হয়। এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য একটা কারণ এটাও হতে পারে যে, দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক সূফী সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন। মানে, তাযকিয়া-কে নফসের জিহাদ, চিল্লা বা গাশতের আমলকে আল্লাহর রাস্তা বা ফী সাবীলিল্লাহ, নফসকে দমনের চেষ্টাকে মুজাহাদা, দুনিয়ার জীবনকে গুরবা-র ন্যায় যাপনের পরামর্শ, শয়তানের ব্যাপারে সদা জাগ্রত ব্যক্তিকে মুরাবিত ইত্যাদি বলা। এই সাদৃশ্য ইঙ্গিত দেয় যে, সালাফদের সাথে জিহাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায়, তারা প্রাত্যহিক জীবনে জিহাদের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতেন। আজকের দিনেও চরমোনাই 'মুজাহিদ কমিটি' বানিয়েছে। একটু অতীতে গেলে সূফী শাহ জালাল রাহ:-এর উদাহরণ টানা যায়, যিনি আধ্যাত্মিকতার সাথে জিহাদকে একীভূত করেছিলেন। আবার বিপরীত ঘটনাও বিরল নয়। যেমনঃ তালিবুল ইলম থেকে তালিবান শব্দের উদ্ভব হওয়া।
তবে আমাদের আলোচনা ভাষা গবেষণা নয়, বরং জিহাদ কিভাবে মানুষকে সাধারণ সামাজিক প্রথা, মধ্যবিত্ত মানসিকতা এবং অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত করে এক ধরণের দৃঢ় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা 'পুরুষোচিত' (manliness) সাহসিকতার দিকে নিয়ে যায় তা ঘিরে আবর্তিত হবে।
জীবনকে একটি সামরিক বা মিলিটারি মিশন হিসেবে দেখা
ওসমান হাদী বলেছিলেন, "আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ । মুমিনের জীবন মানেই লড়াই, সংগ্রাম" । আপনি যদি কোন হুযুরকে প্রশ্ন করেন, "হুযুর, ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে উত্তম খেলা কোনটি?" তিনি বলবেন যে, দৌড়, সাতাড়, তীর নিক্ষেপ, শুটিং ইত্যাদি। বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর দেয়ার ব্যাপারে আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত,
সৈনিকের মানসিকতা: নিজেকে এই পৃথিবীতে একজন সৈনিক হিসেবে কল্পনা করতে হবে, যে একটি বিশেষ মিশনে নিয়োজিত।
দৃঢ়তা ও আনুগত্য: জীবনের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপ করা হয় প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা, দ্বিধাহীনভাবে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং জীবনের চেয়েও শক্তিশালী আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে।
দরসুল হাদিসের এই পর্বটি ভিপিএন দিয়ে পড়তে পারেন-
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...E0%A6%B8/13429
মানসিক প্রভাব ও ফলাফল
জীবনকে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে ব্যক্তির মধ্যে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো আসে:
প্রবন্ধের মূল জার্মান শিরোনাম ছিল, La grande e la piccola guerra.
ইভোলা প্রচলিত ২ প্রকারের যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন: বড় যুদ্ধ (জিহাদ) এবং ছোট যুদ্ধ, যদিও ফিকহী ধারণায় এমন সংজ্ঞা নেই। ছোট যুদ্ধ হল বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই, যা বাস্তব এবং রক্তাক্ত। বড় যুদ্ধ হল আভ্যন্তরীণ শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই, যা আমাদের নিজেদের মধ্যে অবস্থিত। এটি একটি আভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, যা আমাদের নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক আইনের অধীনে আনতে কাজ করে। আমাদের প্রাকৃতিক মানুষের মধ্যে অবস্থিত শত্রুকে পরাজিত করার জন্য, যা কামনা, আংশিকতা, আবেগ, প্রবৃত্তি, দুর্বলতা এবং আভ্যন্তরীণ কাপুরুষতা হিসাবে আমাদের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে; তা দমন করার যুদ্ধ।
ইভোলার ভাষায়,
Appearing in the forms of craving, partiality, passion, instinctuality, weakness and inward cowardice, the enemy within the natural man must be vanquished"
আধ্যাত্মিক মুক্তি
বড় যুদ্ধের লক্ষ্য হল আধ্যাত্মিক মুক্তি, যা আমাদেরকে জীবন এবং মৃত্যুর উভয়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। বড় জিহাদকে বা নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দার্শনিকরা asceticism বলে, এর মাধ্যমে ব্যক্তি আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করে।
ইভোলা লিখেছেন, "After the distinction between the two types of war there is their synthesis. It is a feature of heroic traditions that they prescribe the ‘lesser war’, that is to say the real, bloody war, as an instrument in the realisation of the ‘greater’ or ‘holy war’; so much so that, finally, both become one and the same thing."
"দুই ধরনের যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের পরে তাদের সংশ্লেষণ রয়েছে। বীর যোদ্ধাদের ঐতিহ্যের একটি বৈশিষ্ট্য হল যে তারা 'ক্ষুদ্রতর যুদ্ধ', অর্থাৎ প্রকৃত, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে 'মহত্তর' বা 'পবিত্র যুদ্ধ'র বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে; এমনকি যে, শেষ পর্যন্ত, উভয়ই এক এবং একই জিনিস হয়ে ওঠে।"
ইভোলা আরও লিখেছেন, in Islam, ‘holy war’ – jihad – and ‘the path of God’ are interchangeable terms. The one who fights is on the ‘path of God.
অর্থাত, ইসলামে, জিহাদ এবং "ঈশ্বরের পথ" (ফী সাবিলিল্লাহ) একই অর্থ বহন করে। যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে, সে ঈশ্বরের পথে থাকে।
ছোট জিহাদ নিয়ে ফিকহী বিশ্লেষণ এখানে করলাম না। ইভোলা-র মূল উদ্দেশ্য ছিল এটা বুঝানো যে, সত্যিকারের যোদ্ধারা যুদ্ধের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সাধনাও করে। একারনে আমরা দেখি আফগান নেতা জালালুদ্দিন হাক্কানি রাহ: নিজেও নকশবন্দি তরিকার ছিলেন। বিভিন্ন তরিকা নিয়ে আপনার অভিযোগ আপত্তি থাকতে পারে, যা আমারও আছে। কিন্তু কেউ যদি শিরক-বিদআত মুক্ত থেকে, শরীয়ত বিরোধী নয় এমন কাজ তরিকার নামে করে, তাতে আমরা আপত্তি করতে পারি কি? আর এতে আধ্যাত্মিকতা লাভ হয় এতেও সন্দেহ নেই। একারনে তাবলীগের ভাইদের আদব-আখলাক বা রূহানিয়াত গড়ে অধিকাংশ সালাফী ভাইদের তুলনায় অগ্রগামী হয়ে থাকে। তবে ফিকহী দিক থেকে জিহাদকে বড়-ছোট ভাগে বিভক্ত করা ভুল। আপনি যদি শব্দের ব্যবহারিক শ্রেণী করেন, (যেমনঃ বাংলায় ব্যবহারিকভাবে শব্দ ৪ প্রকার- যৌগিক, রূঢ়ি, যোগরূঢ়, পরিশব্দ।) সেক্ষেত্রে এটা ভুল নয় যে, জিহাদ শব্দের ব্যবহার তাসাউফ ও শারঈ উভয় ময়দানে আছে। কিন্তু ফিকহী দিক থেকে জিহাদ শুধু দিফায়ী ও ইকদামী-ই হতে পারে। এরপরও সন্দেহ থাকলে নিচের লিংক গুলো থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ-
- https://www.youtube.com/watch?v=dd0Y4q50CPs
- https://archive.org/details/NofserJihadiKiAsolJihad
- https://archive.org/details/Tahkik-NofserJihad
- https://gazwah.net/?p=21415
VPN ব্যবহার করে নিচের লিংকও দেখে আসতে পারেন-
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...0%A6%A6/212305
অত:পর ইভোলা ২য় হাদিস উল্লেখ করেন যে, শহীদের রক্ত আল্লাহর কাছে জ্ঞানীর কালি ও আবিদের ইবাদাত থেকে বেশি প্রিয়। এই জাতীয় কোন হাদীস অধমের জানা নেই। একটি জাল হাদিসে বলা হয়েছে যে, শহিদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কালি পবিত্র। হাদিসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে মাসিক আল কাউসারের বিশ্লেষণ দেখা যেতে পারে।
এই হাদিসের আলোচনায় ইভোলা মূলত কয়েকটি শিক্ষা উল্লেখ করেছেন-
১। প্রকৃত আধ্যাত্মিক উন্নতি যুদ্ধের দ্বারা অর্জন করা যায়। শুধু বই পড়ে কিংবা শুধু ইবাদাত করে এসব সহজে অর্জন করা যায় না।
২। কাপুরুষতা, ভীরুতা, অন্ধ ক্ষোভ ইত্যাদিকে জয় করার মাধ্যমে যোদ্ধা জ্ঞানীর পুথিগত বিদ্যা ও উপাসকের তপস্যার থেকে বেশি বাস্তবসম্মত মর্যাদা অর্জন করে। যোদ্ধা তার নফসের উপর সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ করে।
৩। যোদ্ধা কোন এক অদৃশ্য ঐশ্বরিক শক্তি দ্বারা দিকনির্দেশনা প্রাপ্ত হয়।
যদিও ইভোলা জাল হাদিসের ভুল শব্দ চয়ন করে এই মর্মে উপনীত হয়েছেন, একটু গভীর চিন্তা করলে উপলব্ধ হয় যে, সে ভুল বলে নি।
তাফসীরে তাবারী-তে বলা হয়েছে, সূরা মুহাম্মাদ আয়াত ৪-৫ এর হিজায ও কুফা-র তিলাওয়াত এটা যে,(وَالَّذِينَ قَاتَلُوا )যারা যুদ্ধ করেছে আল্লাহ কখনো তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না।
ইমাম তাবারী লিখেছেন,
وأولى القراءات بالصواب قراءة من قرأه ( وَالَّذِينَ قَاتَلُوا ) لاتفاق الحجة من القرّاء, وإن كان لجميعها وجوه مفهومة.
وإذ كان ذلك أولى القراءات عندنا بالصواب, فتأويل الكلام: والذين قاتلوا منكم أيها المؤمنون أعداء الله من الكفار في دين الله, وفي نصرة ما بعث به رسوله محمدا صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم من الهدى, فجاهدوهم في ذلك ( فَلَنْ يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ ) فلن يجعل الله أعمالهم التي عملوها في الدنيا ضلالا عليهم كما أضلّ أعمال الكافرين
وإذ كان ذلك أولى القراءات عندنا بالصواب, فتأويل الكلام: والذين قاتلوا منكم أيها المؤمنون أعداء الله من الكفار في دين الله, وفي نصرة ما بعث به رسوله محمدا صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم من الهدى, فجاهدوهم في ذلك ( فَلَنْ يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ ) فلن يجعل الله أعمالهم التي عملوها في الدنيا ضلالا عليهم كما أضلّ أعمال الكافرين
ইমাম বাগাওয়ী রাহ: লিখেছেন,
وقرأ الآخرون : " قاتلوا " بالألف من المقاتلة ، وهم المجاهدون
قراءة العامة " قاتلوا " وهي اختيار أبي عبيد .
তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
a variant reading has qātalū ‘those who fight’
পরের আয়াতে আল বায়ান ফাউন্ডেশনের অনুবাদে আছে,
অচিরেই তিনি তাদেরকে হিদায়াত দিবেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিবেন।
ফী যিলাযিল কুরআনে বলা আছে,
তিনি তাদের মনকে সংশোধন করে দিবেন। (খণ্ড ১৯, পৃ ৭১)
এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য বাংলাদেশের রত্ন শাইখুল হাদীস মুফতি আবু ইমরান (হাফি
-এর বয়ান শুনতে পারেন। উপরের ব্যাখ্যাগুলো তার আলোচনা থেকেই জানতে পেরেছি। বিস্তারিত ১ ঘণ্টার পর থেকে শুনুন- মাওলানা আসেম উমর রহিঃ 'দরসে তাযকিয়াহ:উজব এবং খোদপসন্দি' নামক প্রবন্ধে বলেন,
মুজাহিদ জিহাদের ময়দানে তার বাহ্যিক শত্রুর ব্যাপারে সর্বদা চৌকান্না থাকে, কোথায় গুপ্তঘাঁটি আছে, এবং কোথায় আশঙ্কা আছে সে জানে, এই নফসও এমন জিনিস, যার ব্যাপারে সর্বদা চৌকান্না থাকতে হবে।"
কথাটিকে এভাবেও বলা যায়, বাহ্যিক শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা থেকে নফসের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়।
আবার আল্লাহ বলেন, " তোমরা কি তাদের ভয় করো? অথচ ভয় করার বেশি হকদার হলো আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তোমাদের হাতে আল্লাহ ওদেরকে শাস্তি দেবেন, ওদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, ওদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন এবং বিশ্বাসীদের হৃদয় প্রশান্ত করবেন। এবং তাদের অন্তর থেকে রাগ দূর করবেন।" সূরা আত-তাওবা (৯:১৩-১৫)
আর যেহেতু আল্লাহ যোদ্ধার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দিবেন, সেহেতু সে তার নফসকে রাজত্ব করবে এটাই যুক্তির দাবি। সবশেষে, ৩য় পয়েন্টে ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রাহ:-এর মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা বইয়ের উপসংহার এবং তাওহীদ আল আ'মালি বইয়ের প্রথম কিছু পৃষ্ঠা পড়লেই দলিল প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমি সেখান থেকে একটি দলিল উল্লেখ করছি,
"পূর্বযুগীয় আলিমগণ যখনই কোন প্রশ্ন উত্তর দানে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতেন তখন তারা বলতেন, “যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদদের প্রশ্ন করো। কারণ তারা আল্লাহর সবচাইতে নিকটে আছে”।
ইভলো অত:পর লিখছেন যে,
"
আমরা তাদের প্রধান গ্রন্থ থেকে পড়ছি, ' সুতরাং যারা আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন বিক্রয় করে তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করুক এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, অতঃপর সে নিহত হোক অথবা বিজয়ী হোক, অচিরেই আমি তাকে মহা প্রতিফল দান করব। (4:74).
এর আধ্যাত্মিক প্রস্তাবনাগুলো (metaphysical premise) নিম্নরূপ বলা যায়:' যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর '(2:190);' যেখানেই তাদের পাও সেখানেই তাদের হত্যা কর'(২: 191);' অকাজেই তোমরা সাহস-হারা হয়ে যেও না আর সন্ধির আবেদন করে বসো না'(47:35);' এই দুনিয়ার জীবন নিছক একটি খেলা'(47:36);' যে কৃপণতা করে, সে কৃপণতা করে কেবল নিজের আত্মার সাথে। ' (47: 38).
এই শেষ নীতির সমর্থনে আরও আয়াত আছে: 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের হয়েছে কী যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধর। তোমরা কি আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ কর?"(9: 38); "বল, ‘তোমরা আমাদের জন্য যে জিনিসের অপেক্ষা করছ তা দু’টো ভালোর একটি ছাড়া আর কিছুই না (শাহাদাত কিংবা বিজয়)” (9:52).
এই আয়াতগুলিও লক্ষণীয়: 'তোমাদের প্রতি যুদ্ধ লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয় কিন্তু তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর এবং সম্ভবতঃ কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।' (2:216), এবং এছাড়াও, "যখন কোন সূরাহ অবতীর্ণ করা হয় যে, ‘আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর আর তাঁর রসূলের সঙ্গে থেকে জিহাদ কর’- তখন শক্তি-সামর্থ্য সম্পন্ন লোকেরা তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে আর বলে, ‘আমাদেরকে রেহাই দিন, যারা (ঘরে) বসে থাকে আমরা তাদের সঙ্গেই থাকব।’তারা পিছনে (ঘরে বসে) থাকা স্ত্রীলোকদের সাথে থাকাকেই পছন্দ করে, তাদের হৃদয়কে সীল করে দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু রসূল আর তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের মাল দিয়ে এবং জান দিয়ে জিহাদ করে। যাবতীয় কল্যাণ তো তাদেরই জন্য। সফলকাম তো তারাই।(9: 86-88).
অতএব আমরা এখানে এক ধরণের আমোর ফাতি (amor fati-love of fate, তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টি) ধারণা পেলাম, যা একটি রহস্যময় পদ্ধতি যার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে অনুভব করা, উদ্ভাসিত করা এবং বীরত্বের সঙ্গে সমাধান করা হয়; যখন ‘সঠিক নিয়ত’ (right intention) উপস্থিত থাকে, যখন সমস্ত অলসতা ও ভয় দূর হয়, এবং নিজের ও অন্যদের জীবনের, সুখ‑দুঃখের সীমানা অতিক্রম করে, একটি আধ্যাত্মিক ভাগ্য ও চূড়ান্ত অস্তিত্বের তৃষ্ণা দ্বারা চালিত হয়, তখন এমন এক শক্তি জন্মলাভ করে যা সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে না। তখন ট্রাজেডিক এবং বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু তুচ্ছ হয়ে যায় যা ধর্মীয় পরিভাষায় নিম্নলিখিত শব্দগুলিতে প্রকাশ করা যেতে পারেঃ 'যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, তিনি তাদের কর্মকে বিফলে যেতে দেবেন না. তিনি তাদের পথ দেখাবেন এবং তাদের অবস্থা আরও উন্নত করবেন এবং তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করবেন' (47: 4-6)...ইসলামী বিশ্বাসে প্রায়ই এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে ‘পবিত্র যুদ্ধ’‑এ শহীদ যোদ্ধা প্রকৃতপক্ষে মৃত নয়, বাস্তবতার মত-ই জীবিত, রূপক অর্থে না এবং যা জীবিতদের শক্তি ও ভাগ্যের প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো অতিপ্রাকৃত অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে না। এই প্রসঙ্গে আজ প্রবেশ করা সম্ভব নয়; এটি এক ধরনের গোপন জগত, যার জন্য এমন রেফারেন্সের সমর্থন প্রয়োজন যা এই প্রবন্ধের জন্য অনুপযুক্ত হবে।...(উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
এই শেষ নীতির সমর্থনে আরও আয়াত আছে: 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের হয়েছে কী যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধর। তোমরা কি আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ কর?"(9: 38); "বল, ‘তোমরা আমাদের জন্য যে জিনিসের অপেক্ষা করছ তা দু’টো ভালোর একটি ছাড়া আর কিছুই না (শাহাদাত কিংবা বিজয়)” (9:52).
এই আয়াতগুলিও লক্ষণীয়: 'তোমাদের প্রতি যুদ্ধ লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয় কিন্তু তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর এবং সম্ভবতঃ কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।' (2:216), এবং এছাড়াও, "যখন কোন সূরাহ অবতীর্ণ করা হয় যে, ‘আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর আর তাঁর রসূলের সঙ্গে থেকে জিহাদ কর’- তখন শক্তি-সামর্থ্য সম্পন্ন লোকেরা তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে আর বলে, ‘আমাদেরকে রেহাই দিন, যারা (ঘরে) বসে থাকে আমরা তাদের সঙ্গেই থাকব।’তারা পিছনে (ঘরে বসে) থাকা স্ত্রীলোকদের সাথে থাকাকেই পছন্দ করে, তাদের হৃদয়কে সীল করে দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু রসূল আর তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের মাল দিয়ে এবং জান দিয়ে জিহাদ করে। যাবতীয় কল্যাণ তো তাদেরই জন্য। সফলকাম তো তারাই।(9: 86-88).
অতএব আমরা এখানে এক ধরণের আমোর ফাতি (amor fati-love of fate, তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টি) ধারণা পেলাম, যা একটি রহস্যময় পদ্ধতি যার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে অনুভব করা, উদ্ভাসিত করা এবং বীরত্বের সঙ্গে সমাধান করা হয়; যখন ‘সঠিক নিয়ত’ (right intention) উপস্থিত থাকে, যখন সমস্ত অলসতা ও ভয় দূর হয়, এবং নিজের ও অন্যদের জীবনের, সুখ‑দুঃখের সীমানা অতিক্রম করে, একটি আধ্যাত্মিক ভাগ্য ও চূড়ান্ত অস্তিত্বের তৃষ্ণা দ্বারা চালিত হয়, তখন এমন এক শক্তি জন্মলাভ করে যা সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে না। তখন ট্রাজেডিক এবং বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু তুচ্ছ হয়ে যায় যা ধর্মীয় পরিভাষায় নিম্নলিখিত শব্দগুলিতে প্রকাশ করা যেতে পারেঃ 'যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, তিনি তাদের কর্মকে বিফলে যেতে দেবেন না. তিনি তাদের পথ দেখাবেন এবং তাদের অবস্থা আরও উন্নত করবেন এবং তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করবেন' (47: 4-6)...ইসলামী বিশ্বাসে প্রায়ই এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে ‘পবিত্র যুদ্ধ’‑এ শহীদ যোদ্ধা প্রকৃতপক্ষে মৃত নয়, বাস্তবতার মত-ই জীবিত, রূপক অর্থে না এবং যা জীবিতদের শক্তি ও ভাগ্যের প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো অতিপ্রাকৃত অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে না। এই প্রসঙ্গে আজ প্রবেশ করা সম্ভব নয়; এটি এক ধরনের গোপন জগত, যার জন্য এমন রেফারেন্সের সমর্থন প্রয়োজন যা এই প্রবন্ধের জন্য অনুপযুক্ত হবে।...(উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
মেটাফিজিক্যাল প্রিমাইস (Metaphysical Premise) মানে হলো এমন কিছু মৌলিক বিশ্বাস বা ধারণা, যা দুনিয়ার বাস্তবতার প্রকৃতি এবং অস্তিত্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে।
ইসলাম কোন ঘটনাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করে?
১. দ্বৈত অস্তিত্ব (Dualism of Existence)
এখানে বাস্তবতাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: পার্থিব জীবন (Worldly Life) এবং পরকাল (Next World)।
মূল ধারণা: এই দুনিয়াটি স্থায়ী নয়, বরং এটি একটি সাময়িক স্টেশন। আসল এবং চিরস্থায়ী বাস্তবতা হলো পরকাল। তাই এখানে যা কিছু হারানো হয়, তা পরকালের তুলনায় নগণ্য।
২. বাস্তবতার নশ্বরতা বা মায়া (Transience of Material Reality)
কুরআনে বলা হয়েছে, দুনিয়ার জীবন কেবল একটি খেলা এবং আমোদ-প্রমোদ।
মূল ধারণা: আমাদের চারপাশে আমরা যা দেখি (টাকা, ক্ষমতা, শরীর, জীবন), তা প্রকৃত সত্য নয়। এটি একটি মায়া বা ইলিউশন (Illusion)। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে জীবনটি একটি 'খেলা', তখন মৃত্যু তার কাছে ভয়ের কিছু থাকে না, কারণ সে মনে করে সে কেবল একটি সাময়িক খেলা থেকে বেরিয়ে আসল বাস্তবতায় প্রবেশ করছে।
৩. ডিভাইন টেলিলজি বা ঐশ্বরিক উদ্দেশ্য (Divine Teleology)
এখানে জীবনকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে, যাকে বলা হয়েছে "Way of Allah" (আল্লাহর পথ)।
মূল ধারণা: মানুষের অস্তিত্ব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে একটি উচ্চতর উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা আছে। জীবনের সার্থকতা জাগতিক সুখের মধ্যে নয়, বরং সেই সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করার মধ্যে।
৪. নৈতিক ধারাবাহিকতা এবং পুরস্কার (Moral Continuity & Reward)
কুরআনে বলা হয়েছে, লড়াইয়ে জয়ী হওয়া বা নিহত হওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই "বিরাট পুরস্কার" দেওয়া হবে।
মূল ধারণা: এই পৃথিবীর কাজের ফলাফল কেবল এই পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে করা ত্যাগের প্রতিদান পরকালে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, মৃত্যু মানে অস্তিত্বের শেষ নয়, বরং পুরস্কার পাওয়ার একটি মাধ্যম।
আরও সহজভাবে বললে, এখানে ইভোলা ৩টি মূল মেটাফিজিক্যাল স্তম্ভ উল্লেখ করেছেন:
১. মূল্যবোধের পরিবর্তন (Shift of Value): সাধারণত মানুষ মনে করে জীবন বাঁচানো বা সম্পদ অর্জন করা সবচেয়ে মূল্যবান। কিন্তু কুরআন বলে— "মৃত্যু এখানে পরাজয় নয়, বরং পুরস্কার পাওয়ার একটি দরজা।" অর্থাৎ, জীবনের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া হয়েছে।
২. বাস্তবতার স্তর (Levels of Reality): এখানে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে আমরা এখন যে স্তরে আছি (পার্থিব জগত), তা আসল বাস্তবতা নয়। আসল বাস্তবতা হলো পরকাল। যখন আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনি একটি স্বপ্নের ভেতরে আছেন, তখন আপনি স্বপ্ন ভাঙতে (মৃত্যু বরণ করতে) ভয় পান না, বরং জেগে ওঠার জন্য উদগ্রীব থাকেন।
৩. কার্যকরণ সম্পর্ক (Cause and Effect): সাধারণ দুনিয়ায় যুদ্ধের ফলাফল হলো জয় বা পরাজয়। কিন্তু এখানে মেটাফিজিক্যাল নিয়মটি ভিন্ন—এখানে ফলাফলটি দুনিয়ায় নয়, বরং পরকালে নির্ধারিত হয়। তাই দুনিয়ার জয়-পরাজয় এখানে অর্থহীন হয়ে পড়ে।
তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টির সুফল নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করলাম না। মুজাহিদের জন্য তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ নজির দেখানো জরুরি, নতুবা জেল জীবনে টিকে থাকা যায় না।
অধ্যায় ৫ ও ৬
অধ্যায় ৫ 'যুদ্ধের অধিবিদ্যা' শিরোনামে হিন্দু ধর্মে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার আগে ইভোলা লিখেছেন, For too long we have permitted an artificial antithesis between East and West: artificial because, as Mussolini has already pointed out, it opposes to the East the modern and materialistic West, which, in fact, has little in common with the older, truer and greater Western civilisation. The modern West is just as opposed to the ancient West as it is to the East.
অর্থাৎ, অনেক দীর্ঘকাল ধরে আমরা পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে একটি কৃত্রিম বিরোধিতার মেনে নিয়েছি: কৃত্রিম একারণে যে, যেমনটা মুসোলিনি ইতিমধ্যে যেমন উল্লেখ করেছেন, প্রাচ্য আধুনিক এবং বস্তুবাদী পশ্চিমের বিরোধিতা করে, যদিও আধুনিক পশ্চিমের সাথে পুরানো, সত্যের সাথে সামান্য মিল রয়েছে এবং বৃহত্তর পশ্চিমা সভ্যতার মিল নেই. আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা প্রাচ্যের মতোই প্রাচীন পশ্চিমের বিপরীত.
কেন্দ্রীয় শিক্ষা
দ্বৈত যুদ্ধ
- বাহ্যিক যুদ্ধ: শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘর্ষ
- অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ: আবেগ, লালসা এবং মায়ার বিরুদ্ধে আত্মিক সংগ্রাম
নিষ্কাম কর্ম (শুদ্ধ কর্ম)
যোদ্ধাকে অবশ্যই জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি নিয়ে চিন্তা না করে কর্তব্য পালন করতে হবে। সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা পবিত্রতার চিহ্ন।
আধ্যাত্মিক ভিত্তি
দেহ ও আত্মার পার্থক্য
- দেহ নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী – এর ধ্বংস কোনো পাপ নয়
- আত্মা চিরন্তন ও অবিনাশী – এটি শরীরের মৃত্যুতে বিনষ্ট হয় না
ঐশ্বরিক শক্তির যন্ত্র
যোদ্ধা যখন সব ব্যক্তিগত ইচ্ছা ত্যাগ করে, তখন সে ঈশ্বরের শক্তির নিরাসক্ত হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
"পবিত্র যুদ্ধ" এর বৈশিষ্ট্য
✓ অনিবার্যতা: সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয়
✓ সত্যিকারের নিরপেক্ষতা: ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ মুছে ফেলা
✓ সার্বজনীনতা: যোদ্ধার আত্ম-স্বার্থ ছাড়িয়ে যাওয়া
✓ সাম্রাজ্যস্থাপন: একটি উচ্চতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা
এই সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াত আগের অধ্যায়ে দেয়া আছে। তাই পুনরাবৃত্তি করলাম না।
ইভোলা দাবি করেছেন যে, পবিত্র যুদ্ধের ধারণা সকল মহান সভ্যতায় উপস্থিত; আধুনিক শান্তিবাদ ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি হল একটি সাম্প্রতিক উদ্ভাবন।
তবে হিন্দুধর্ম নিয়ে ইভোলা সামান্যই জানতো। যেহেতু মহাকাব্যগুলো বাদে আর কোন বই জার্মান ভাষায় পাওয়া যাবার কথা না।
উপাসনালয় ধ্বংস
যেমনঃ হিন্দুধর্ম অনুযায়ী অন্য ধর্মের উপাসনালয় মন্দিরে রূপান্তর করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন,
“To any man who knows anything about Indian history, that very statement proves that the whole thing was a fraud, because the temple of Jagannath is an old Buddhistic temple. We took this and others over and re-Hinduised them. We shall have to do many things like that yet.” Complete-Works / Volume 3 / Lectures from Colombo to Almora / THE SAGES OF INDIA http://www.swamivivekanandaquotes.or...-buddhism.html
"যে কেউ ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানেন, উক্ত বিবৃতি প্রমাণ করে যে পুরো জিনিস-ই একটি জালিয়াতি ছিল, কারণ জগন্নাথের মন্দির একটি পুরানো বৌদ্ধ মন্দির. আমরা এটা সহ অন্যগুলো দখল করেছি এবং তাদের পুনরায় হিন্দু মন্দির বানিয়েছি. আমাদের এখনও এরকম অনেক কিছু করতে হবে."
“The plunder of temples was carried out by kings irrespective of their religion. Temples were repositories of wealth. An ideological fig leaf was taken from religion to justify the desecration. Temples were plundered by the Marathas in Tipu’s Sultante. The Shirangapatanam temple was destroyed by the Maratha armies and was repaired by Tipu Sultan. Attacking the temple was also a way of Humiliting the other kings… Temples were also looted by ing Harsha of kashmir in the 11th century. A mention of this is found in Kalhan’s book Rajtarangini, which syas that he appointed a special officer to uproot the golden idols from the temples. This offiver was designated as devotpatan naya’s (officer who uproots the Gods). Parmar Kings (Shubharvarnman a.d 1193-1210) destroyed Jain temples in Cambay and Dabhoi in addition to plundering temples in his own kingdom.” Communal Politics: Fact versus Myth, p.52, By Ram Puniyani
এটা তারা করত ২টি কারণে: যিম্মিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সুলতান ক্ষতিপূরণ দিত, এজাতীয় কাজ সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি করত এবং সম্ভবত অ-হিন্দু রাজার ভূমিতে বসবাস করায় সেসব মন্দির লুট করা তারা ন্যায়সঙ্গত মনে করত। পদ্ম পুরাণে VII.14.1–10 বলা আছে যে, ম্লেচ্ছ দেশে বিষ্ণু পূজা নিষেধ । অন্যত্র বলা আছে, শ্রাদ্ধ করাও নিষেধ। (Sankha Samhita 15.4; Vishnu Smriti 84.1–4)
নারী-শিশু হত্যা
অন্যদিকে যজুর্বেদে (17:38-39) শত্রু পরিবারের নারী শিশু হত্যার ইচ্ছাপ্রকাশ করা হয়েছে- May the commander of the army, who, with surpassing vigour pierces in the battles the families of the enemies...https://archive.org/details/yajurved.../n191/mode/1up
অথর্ববেদে (১১.২.২১) অ-হিন্দু শিশুদের হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, O strong god (ugra), slay the offspring of the blasphemers! https://sacred-texts.com/hin/sbe42/av182.htm
দেবতাদের অহেতুক হত্যাযজ্ঞ
কৃষ্ণ এক ধোপার কাছে কাপড় চেয়েছিল। ধোপা কাপড় না দিয়ে কটূ কথা শুনিয়ে দিলে সে তাকে হত্যা করে। ইভোলার উদ্ধৃতি দেয়া শ্রীমদ ভগম্ভতম ১০.৪১.৩৭ থেকে- As the washerman thus spoke brazenly, the son of Devaki became angry, and then merely with His fingertips He separated the man’s head from his body. https://vedabase.io/en/library/sb/10/41/
এক শূদ্র কিছু আমল-ইবাদাত করত বলে রাম তাকে হত্যা করেছিল। রামায়ণ উত্তর কান্ড ৭, অধ্যায় ৭৫-৭৬
O Rama, I wish to attain the Celestial Region. Know that I am a Shudra and my name is Shambuka.” As he was yet speaking, Raghava, drawing his brilliant and stainless sword from its scabbard, cut off his head. The Shudra being slain, all the Gods and their leaders with Agni’s followers, cried out, ”Well done! Well done!” https://www.wisdomlib.org/hinduism/b...doc424850.html
বীরত্বের প্রশ্ন
কৃষ্ণ সহ অন্যান্য দেবতারা ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এক ষাড় দানবের শিং এর গুতা খেয়ে ভাসুদেব হরি, শংকর ও ব্রহ্মা ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
Vâsudeva, thus pierced in his breast with the horns, became confounded and fled away as best as he could till he reached his own abode, Vaikuntha. Seeing Hari thus fleeing away, S’ankara, too, thought him invulnerable and fled to his Kailâs’a mountain with fear. Brahmâ, too, fled to his own abode with terror; দেবী ভগভতম 5.7.4-11. https://sacred-texts.com/hin/db/bk05ch07.htm
সাহাবীদের যুগে দুই পক্ষের যোদ্ধারা দ্বন্দ্ব যুদ্ধ বা ডুয়েলের আয়োজন করত; এমন এক ডুয়েল চলছিল বালি ও হনুমানের। কিন্তু রাম পিছন থেকে তীর মেরে বালি-র দফা রফা করে দেয়। (বাল্মিকি রামায়ণ, কিষ্কিন্ধ কান্ড অধ্যায় ১৬)
নারীর মোহ
অন্যদিকে বিষ্ণু নারীর রূপ নিয়ে শত্রুদের মোহগ্রস্ত করেছিল। (অগ্নি পুরাণ ৩.১১-১৫)
- https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.279469/page/n40/mode/1up
আরও অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু এতে রচনা দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে। এই বিষয়গুলো ভ্রূ কুঞ্চিত করতে-ই পারে। এটাই স্বাভাবিক ।
যাইহোক, কেউ যদি এমন অভিযোগ মুজাহিদদের ব্যাপারে আনতে চান, কমান্ডার শামিল বাসায়েভ রচিত 'একজন মুজাহিদের বই' পড়ার পরামর্শ থাকবে।
অধ্যায় ৬ এর শিরোনাম সেনাবাহিনীর ন্যায় দৃষ্টিভঙ্গি।
নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও 'পবিত্র যুদ্ধ'
লেখকের মতে, প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোতে (যেমন: ওরফিজম বা রোমান সংস্কৃতি) কোন আধ্যাত্মিক বাস্তবতাকে বোঝাতে প্রায়ই যুদ্ধের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা যদি ইসলামের দিকে তাকাই, মাক্কী জীবনে মুজাহিদদের নৈতিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সাহাবীদের পরবর্তীতে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত শব্দগুলো রূহানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়া শুরু হয়। এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য একটা কারণ এটাও হতে পারে যে, দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক সূফী সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন। মানে, তাযকিয়া-কে নফসের জিহাদ, চিল্লা বা গাশতের আমলকে আল্লাহর রাস্তা বা ফী সাবীলিল্লাহ, নফসকে দমনের চেষ্টাকে মুজাহাদা, দুনিয়ার জীবনকে গুরবা-র ন্যায় যাপনের পরামর্শ, শয়তানের ব্যাপারে সদা জাগ্রত ব্যক্তিকে মুরাবিত ইত্যাদি বলা। এই সাদৃশ্য ইঙ্গিত দেয় যে, সালাফদের সাথে জিহাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায়, তারা প্রাত্যহিক জীবনে জিহাদের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতেন। আজকের দিনেও চরমোনাই 'মুজাহিদ কমিটি' বানিয়েছে। একটু অতীতে গেলে সূফী শাহ জালাল রাহ:-এর উদাহরণ টানা যায়, যিনি আধ্যাত্মিকতার সাথে জিহাদকে একীভূত করেছিলেন। আবার বিপরীত ঘটনাও বিরল নয়। যেমনঃ তালিবুল ইলম থেকে তালিবান শব্দের উদ্ভব হওয়া।
তবে আমাদের আলোচনা ভাষা গবেষণা নয়, বরং জিহাদ কিভাবে মানুষকে সাধারণ সামাজিক প্রথা, মধ্যবিত্ত মানসিকতা এবং অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত করে এক ধরণের দৃঢ় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা 'পুরুষোচিত' (manliness) সাহসিকতার দিকে নিয়ে যায় তা ঘিরে আবর্তিত হবে।
জীবনকে একটি সামরিক বা মিলিটারি মিশন হিসেবে দেখা
ওসমান হাদী বলেছিলেন, "আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ । মুমিনের জীবন মানেই লড়াই, সংগ্রাম" । আপনি যদি কোন হুযুরকে প্রশ্ন করেন, "হুযুর, ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে উত্তম খেলা কোনটি?" তিনি বলবেন যে, দৌড়, সাতাড়, তীর নিক্ষেপ, শুটিং ইত্যাদি। বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর দেয়ার ব্যাপারে আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত,
এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ভ্রমণ করার অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয় আমার উম্মতের জন্য ভ্রমণ হচ্ছে মহান আল্লাহর পথে জিহাদ।”
[সহীহ] - [এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।]
[সহীহ] - [এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।]
দৃঢ়তা ও আনুগত্য: জীবনের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপ করা হয় প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা, দ্বিধাহীনভাবে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং জীবনের চেয়েও শক্তিশালী আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে।
দরসুল হাদিসের এই পর্বটি ভিপিএন দিয়ে পড়তে পারেন-
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...E0%A6%B8/13429
মানসিক প্রভাব ও ফলাফল
জীবনকে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে ব্যক্তির মধ্যে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো আসে:
- সক্রিয়তা ও স্বাধীনতা: সে জীবনকে কেবল দুঃখের জায়গা বা অর্থহীন ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে দেখে না, বরং নিজের অস্তিত্বের সাথে একে মিলিয়ে নেয়।
- বাস্তবতাকে তুচ্ছ করা: এই পৃথিবী যে তার চূড়ান্ত ঠিকানা নয়—এই উপলব্ধি তাকে মৃত্যু এবং জাগতিক কষ্টগুলোকে ছোট করে দেখতে সাহায্য করে।
- স্থির শক্তি: এটি কোনো mystical escapism বা আধ্যাত্মিক পলায়নবাদ নয়, বরং বাস্তবতাকে মোকাবিলা করার জন্য এক ধরণের শান্ত শক্তি এবং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।