Announcement

Collapse
No announcement yet.

দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৩ | এই বই প্রসঙ্গে

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৩ | এই বই প্রসঙ্গে

    এই বই প্রসঙ্গে

    আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি ও তাওফিকে এই গ্রন্থটি বিপুল জ্ঞানভাণ্ডার ও উপাদানে সমৃদ্ধ। এর কিছু অংশ ইতিহাসের ধারাবাহিক বর্ণনা, যার পরতে পরতে রয়েছে বিনোদন ও শিক্ষা। আবার এর কিছু অংশ সেই ইতিহাস ও তার গতিপথের রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, যা পাঠকদের চিন্তা ও উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করবে। কিছু অধ্যায় সাজানো হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক ভাবনার আলোকে, যা গভীর জীবনদর্শন ও শিক্ষা প্রদান করে। বইটিতে গত কয়েক দশকের 'ইসলামী জাগরণ' (সাহওয়া) এর পথচলা এবং জিহাদি অভিজ্ঞতার গঠনমূলক সমালোচনা স্থান পেয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে তারবিয়াহ (প্রশিক্ষণ), ফিকহি বিধান, শরয়ী পাঠ এবং আদর্শিক ও মৌলিক দিকনির্দেশনা।


    বইটিতে আধ্যাত্মিক উন্নতির পাথেয়, আখলাক (চরিত্র) ও হৃদস্পর্শী আলোচনার পাশাপাশি জিহাদের গুরুত্ব ও এর প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত শরয়ী দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জিহাদের ময়দানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার নির্যাস—তা সে সামরিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা নিরাপত্তা বিষয়ক যাই হোক না কেন।

    ১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক চতুর্থাংশ শতাব্দী জুড়ে আমি ইসলামী জাগরণ ও জিহাদি আন্দোলনের যে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথচলা প্রত্যক্ষ করেছি, এটি মূলত তারই অভিজ্ঞতার সারাংশ। এই দীর্ঘ সময়ে আমি মাঠপর্যায়ে বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহিত্যিক, সামরিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ময়দানে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি এবং একাধিক উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আল্লাহর কাছে আমি এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার কবুলিয়ত কামনা করি।

    ১৯৯০ সালে কুয়েত যুদ্ধের সময় আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য দখল এবং 'নতুন বিশ্বব্যবস্থা' (New World Order) ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে এই বইয়ের চিন্তাগুলো বিকশিত ও পরিপক্ক হয়েছে। এর প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছিল তালেবান শাসনামলে কাবুলে (১৯৯৭-২০০১)।(1) আর এর চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়েছে গত তিনটি চরম সংকটময় বছরে (২০০১-২০০৪), যখন আমরা আমেরিকা ও তাদের মুরতাদ সহযোগীদের তাড়া খেয়ে এক গোপন আস্তানা থেকে অন্য আস্তানায় যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়িয়েছি। অবশেষে আজ এটি এই পাণ্ডুলিপি আকারে আপনাদের হাতে পৌঁছাল। সকল প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র মহান আল্লাহর।

    বইটির বিষয়বস্তুর এই বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতার কারণে আমি আশা করি—ভিন্ন ভিন্ন রুচির পাঠক, বিভিন্ন মতাদর্শের ইসলামী দাওয়াতি কাজের অগ্রপথিক, নানা ইসলামী দল ও সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ এবং বিশেষ করে জিহাদি জাগরণের যুবক ও আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য এটি একটি জ্ঞান ও তথ্যের সমৃদ্ধ দস্তরখান হবে। যেখান থেকে প্রত্যেকেই যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী পাথেয় সংগ্রহ করতে পারবেন।

    তবে এই বই থেকে পাঠক যে উপকার বা আনন্দই খুঁজে পান না কেন—যদিও আমি এর সওয়াব এবং আমার ভাইদের কাছে অগোচরে (গায়েবি) দোয়া প্রত্যাশা করি—তা এই বিশাল গ্রন্থটি রচনার মূল ও প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল না। আমি এই বইটিকে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে গণ্য করি। এটি সেই লেখনী ও শব্দের আমানতের সারসংক্ষেপ, যা আমি মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই আদায় করে যেতে চেয়েছি; আর তাঁর কাছেই আমি ক্ষমা ও মার্জনা ভিক্ষা করি।

    এই বইটির মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘কর্ম ও জিহাদের দাওয়াত’-এর ভিত্তি স্থাপন করা, যাকে আমি নাম দিয়েছি: “দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ তথা বিশ্বব্যাপী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন” (Global Islamic Resistance Call)।

    মূলত যারা আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ আদায়ের জন্য এবং আমাদের শত্রু—আক্রমণকারী কাফির ও তাদের মিত্র মুরতাদ-মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনের পথ খুঁজছেন, এটি তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই লেখা হয়েছে।

    এই বইয়ের দাওয়াত বা আহ্বানে যারা আশ্বস্ত হবেন, তারা চাইলে আমাদের সাথে সরাসরি দেখা না করেই এতে যুক্ত হতে পারেন। এই বইয়ের পরতে পরতে এমন সব নির্দেশনা রয়েছে যা অনুসরণ করে একজন ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন। আজকের পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা যোগাযোগের যে নেটওয়ার্ক ও মাধ্যম সহজ করে দিয়েছেন, তাতে আমাদের একে অপরের সাথে সশরীরে দেখা হওয়া বা সরাসরি যোগাযোগের আর কোনো অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা নেই। সংকল্প ও সদিচ্ছা থাকলে এখন খুব সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির উপকরণ সরবরাহ করা সম্ভব।

    দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ পাঠক পত্রিকা, টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে শুধু বিনোদন বা সাধারণ জ্ঞান অর্জনের জন্য সময় দেন। কিন্তু এই বইটি পাঠের উদ্দেশ্য কেবল বিনোদন বা সাধারণ সংস্কৃতি চর্চা নয়। আমি আশা করি, পাঠকরা আল্লাহর পথে জিহাদের এক গম্ভীর ডাক শোনার দায়িত্বানুভূতি নিয়ে এই বইটি হাতে নেবেন।

    আল্লাহর সামনে, উম্মাহর সামনে এবং গত কয়েক দশকে শাহাদাত বরণকারী হাজার হাজার শহীদের প্রজন্মের সামনে এক বিশাল দায়বদ্ধতা ও গুরুত্বের সাথে এটি পাঠ করা উচিত। তারা রক্ত দিয়েছিলেন যাতে এই দ্বীন বেঁচে থাকে, যাতে তাওহীদের পতাকা—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’—পতপত করে উড়তে থাকে; যেন আল্লাহর বাণীই সমুন্নত হয় এবং কাফিরদের আস্ফালন সর্বত্র ও সর্বকালে ভুলুণ্ঠিত হয়।

    আর আপনি বলুন: তোমরা আমল করো, অচিরেই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও। আর অচিরেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে, অতঃপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে।”(সূরা আত-তাওবাহ: ১০৫)
    আল্লাহ ছাড়া আর কোনো বিজয়ী নেই। আল্লাহু আকবার, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।

    লেখক

    (1) কাবুল আফগানিস্তানের পূর্ব-মধ্য অংশে, কাবুল নদীর তীরে অবস্থিত। এটি আফগানিস্তান ও কাবুল প্রদেশের রাজধানী, শহরটি কাবুল নদীর তীরে সমুদ্রতল থেকে ১৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।


  • #2
    প্রিয় ভাই সম্ভব হলে পুরো বইটি বাংলায় পিডিএফ আকারে দিলে উপকৃত হতাম।

    Comment

    Working...
    X