Announcement

Collapse
No announcement yet.

অহংকার না করা | সম্পাদনা পর্ব : ৬ | বই : আফগান রণাঙ্গনে

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • অহংকার না করা | সম্পাদনা পর্ব : ৬ | বই : আফগান রণাঙ্গনে

    অহংকার না করা

    মহান রাব্বুল আলামীনের দৃষ্টি ও সাহায্য লাভের জন্য আরেকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের দাবীদার তা হল, নিজেদের সৈন্য সংখ্যা, যুদ্ধোপকরণ কিংবা যুদ্ধ কৌশলে পারদর্শিতার ব্যাপারে নূন্যতম অহংকার করা যাবেনা, বরং সফলতার জন্য এগুলোর স্থলে আল্লাহর সাহায্যকে প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ প্রসঙ্গে হুনাইনের যুদ্ধের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যেতে পারে, যেখানে কাফিরদের তুলনায় মুসলমানরা সংখ্যায় বেশী ছিলো। যা দেখে কোন কোন মুসলমান ভাবছিলো, সংখ্যাধিক্যের জোরে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে সফলতা লাভ করবে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই মুসলমানদের সামনে পরাজয়ের চিহ্ন ফুটে উঠলো। যদি তৎক্ষণাৎ রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসাধারণ ধৈর্য ও অবিচলতার পরিচয় না দিতেন এবং আল্লাহর সাহায্য সহায়তা না আসতো তাহলে মুসলমানদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী ছিলো। কুরআনে কারীমে সে প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে,


    لَقَدْ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ فِى مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ‌ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ‌ۙ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْــًٔا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ ٱلْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ

    “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, অথচ তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি। আর যমীন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে। সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ২৬

    ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ‌ۚ وَذَٲلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَـٰفِرِينَ
    অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল ও ঈমানদারদের মনে নিজের পক্ষ থেকে দান করলেন (তাদের অবিচল করে দিলেন) এবং তাদের মদদে সৈন্য প্রেরণ করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাচ্ছিলে না, আর কাফিরদের শাস্তি প্রদান করলেন, নিঃসন্দেহে কাফিরদের জন্য এমন প্রতিদানই রয়েছে”। সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ২৭

    জিহাদে আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হল, মুসলিম বাহিনী কাফিরদের সাজসজ্জার স্থলে এমন সাজসজ্জা বেছে নেবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পছন্দনীয়। সূরা আনফালে ইরশাদ হয়েছে,

    وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ خَرَجُواْ مِن دِيَـٰرِهِم بَطَرًا وَرِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۚ وَٱللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيط

    আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের ঘর থেকে অহঙ্কার ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বের হয়েছে এবং আল্লাহর রাস্তায় বাধা প্রদান করে, আর তারা যা করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন। সূরা আল-আনফাল আয়াত: ৪৭

  • #2
    ★অহংকার পতনের মূল ★
    শয়তান শয়তান হয়েছে অহংকারের কারণে।


    আল আ'রাফ, আয়াতঃ ১২

    قَالَ مَا مَنَعَکَ اَلَّا تَسۡجُدَ اِذۡ اَمَرۡتُکَ ؕ قَالَ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡہُ ۚ خَلَقۡتَنِیۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَہٗ مِنۡ طِیۡنٍ

    অর্থঃ
    অর্থঃ আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।

    ---------------------

    তাফসীর (মুফতী তাকী উসমানী) (Bangla)

    ৬. এ হল ইবলীসের যুক্তি। এ যুক্তির অন্তর্নিহিত অসংগতির কথা বাদ দিলেও আল্লাহ তা‘আলার আদেশের বিপরীতে যুক্তির পেছনে পড়াটাই একটা চরম ধৃষ্টতা, যে কারণে তাকে ধিকৃত ও বিতাড়িত হতে হয়েছে। এর শিক্ষা হল, আল্লাহ তা‘আলার হুকুম বিনাবাক্যে শিরোধার্য। দীন যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আদেশ-নিষেধের সমষ্টি, তাই দীনী কোন বিধানের বিপরীতে নিজ যুক্তি ও অভিমত দাঁড় করালে তা হবে চরম গর্হিত কাজ এবং এরূপ ব্যক্তি ইবলীসের পদাঙ্কানুসারী বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে হেফাজত করুনআমীন। -অনুবাদক​

    Comment


    • #3
      মুহতারাম, আমরা অনেক সময় দায়িত্ব পেয়ে অহংকার করতে থাকি, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

      Comment

      Working...
      X