যিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪ ঈসায়ী সংস্করণ সম্পর্কে বিশেষ তাম্বীহ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন সবার ওপর।
আমি এই বিশেষ তাম্বীহটি লিখছি এখন যিলকদ ১৪২৫ হিজরি মোতাবেক ডিসেম্বর ২০০৪ ঈসায়ী মাসে।
আমি কতিপয় ভাইকে এই বইটি এবং গত তিন বছরের কঠিন সময়ে আমার লেখা অন্যান্য বইগুলো প্রকাশের দায়িত্ব ও অনুমতি প্রদান করেছি। সেই সাথে আল্লাহর ইচ্ছায় ও সাহায্যে ভবিষ্যতে আমার পক্ষ থেকে যে সকল বিবৃতি বা অন্য কিছু ইস্যু করা হবে, সেগুলো প্রচারেরও অনুমতি দিয়েছি।
এই বইটির মূল উপাদানগুলো শুরুতে কিছু ক্যাসেট ও ভিডিওতে রেকর্ড করা ছিল এবং কয়েকজন ভাইয়ের কাছে সংরক্ষিত ছিল। সেগুলোকে একটি বইয়ের রূপ দেওয়া আমার কাছে একটি স্বপ্নের মতো ছিল। আফগানিস্তানে থাকাকালীন বারবার সংকল্প করা সত্ত্বেও 'ইসলামী ইমারাত'-এর সাথে জিহাদ ও প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি তা সম্পন্ন করতে পারিনি। আল্লাহর কাছে আমি এই কাজের একনিষ্ঠতা ও কবুলিয়ত কামনা করি।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আমাদের যে অবস্থা দাঁড়াল তা সবার জানা—আমাদের মধ্যে যারা মৃত্যু বা বন্দিত্ব থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা হয় অবরুদ্ধ হলেন নতুবা হন্যে হয়ে খোঁজা (Wanted) হতে থাকলেন। সেই সময় আমার প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল এই বইটি সম্পন্ন করা, যাকে আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, আমার অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও বিশ্বাসের নির্যাস বলে মনে করি। এখানে আমি সংক্ষেপে তুলে ধরেছি যে, জিহাদের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের কী করা উচিত এবং আল্লাহর সাহায্যে কীভাবে একে পতন, বিলুপ্তি বা বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করা যায়। এটি সেই আমানতের সারসংক্ষেপ, যা নতুন জিহাদি প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে আমি আমার কাঁধের ওপর এক বিশাল দায়িত্ব বলে মনে করি। কারণ, আমাদের জাতির সন্তানদের মধ্য থেকে যারা ইহুদি-ক্রুসেডার এবং তাদের মিত্র মুরতাদ-মুনাফিকদের হাতে নিপতিত এই মহা বিপদ মোকাবেলার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা হলো এই নতুন প্রজন্ম।
যদিও আমরা—যাদেরকে একসময় 'আফগান আরব মুজাহিদ' বলা হতো, পরে আমাদের ওপর 'আল-কায়েদা' নাম চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং সবশেষে আমাদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হলো—অত্যন্ত কঠিন ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং এখনও যাচ্ছি, যার বিস্তারিত বর্ণনার স্থান এটি নয়। অবরোধ ও ফেরারি জীবনের এই ভয়াবহতা ও দুর্দশা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর তারাই জানে যারা আল্লাহর অনুগ্রহে এই যুগে নিজেদের দ্বীন নিয়ে হিজরত ও আত্মগোপনের এই নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছে। আল্লাহর কসম! এটি এমন এক গৌরব যা বিক্রয় করতে আমরা রাজি নই এবং এই চুক্তি থেকে আমরা ফিরে আসতে চাই না, ইনশাআল্লাহ।
আমি বলবো, তা সত্ত্বেও, গৃহবন্দী দশা এবং চলাফেরার সীমাবদ্ধতার ফলে যে অবসর পেয়েছি, আমি তার সদ্ব্যবহার করেছি। আমি এই বইটি লেখার কাজে নিজেকে নিমগ্ন করি এবং ২০০২ সালের শুরু থেকে দিন-রাত এর পেছনে শ্রম দেই। অর্থাৎ আজ থেকে তিন বছর আগে (রমজান ১৪২৩ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০২) থেকে (জিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪) পর্যন্ত।
যদিও আমি বিভিন্ন জায়গায় এবং নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেছি, তবুও আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যে তিনি আমাকে এটি সম্পন্ন করার হিম্মত দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ইখলাস (নিষ্ঠা) ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং কবুলিয়তের মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা এবং এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা যা আমাকে এই বইটি প্রকাশে বাধা দিতে পারে—এই কারণে আমি এটি এখনই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যদিও আমি এতে কাঙ্ক্ষিত সমস্ত সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করতে পারিনি। এই সংস্করণে কিছু ত্রুটি রয়ে যাওয়ার জন্য আমি দুঃখিত, তবে আমি বিশ্বাস করি যে এর প্রধান অধ্যায় ও মৌলিক ধারণাগুলো এবং কলম ও কথার জিহাদের ক্ষেত্রে আমি যেটিকে আমার আমানত মনে করি, তা পর্যাপ্ত ও পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আমি এখানে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করব যেগুলোকে আমি এই সংস্করণের ঘাটতি বা ত্রুটি বলে মনে করি এবং যা আমি কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলাম। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে (১৪২৬ হিজরি / ২০০৫ সংস্করণ) আমি তা সংশোধন করতে পারব, যা ইনশাআল্লাহ খুব বেশি দেরি হবে না।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন সবার ওপর।
আমি এই বিশেষ তাম্বীহটি লিখছি এখন যিলকদ ১৪২৫ হিজরি মোতাবেক ডিসেম্বর ২০০৪ ঈসায়ী মাসে।
আমি কতিপয় ভাইকে এই বইটি এবং গত তিন বছরের কঠিন সময়ে আমার লেখা অন্যান্য বইগুলো প্রকাশের দায়িত্ব ও অনুমতি প্রদান করেছি। সেই সাথে আল্লাহর ইচ্ছায় ও সাহায্যে ভবিষ্যতে আমার পক্ষ থেকে যে সকল বিবৃতি বা অন্য কিছু ইস্যু করা হবে, সেগুলো প্রচারেরও অনুমতি দিয়েছি।
এই বইটির মূল উপাদানগুলো শুরুতে কিছু ক্যাসেট ও ভিডিওতে রেকর্ড করা ছিল এবং কয়েকজন ভাইয়ের কাছে সংরক্ষিত ছিল। সেগুলোকে একটি বইয়ের রূপ দেওয়া আমার কাছে একটি স্বপ্নের মতো ছিল। আফগানিস্তানে থাকাকালীন বারবার সংকল্প করা সত্ত্বেও 'ইসলামী ইমারাত'-এর সাথে জিহাদ ও প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি তা সম্পন্ন করতে পারিনি। আল্লাহর কাছে আমি এই কাজের একনিষ্ঠতা ও কবুলিয়ত কামনা করি।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আমাদের যে অবস্থা দাঁড়াল তা সবার জানা—আমাদের মধ্যে যারা মৃত্যু বা বন্দিত্ব থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা হয় অবরুদ্ধ হলেন নতুবা হন্যে হয়ে খোঁজা (Wanted) হতে থাকলেন। সেই সময় আমার প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল এই বইটি সম্পন্ন করা, যাকে আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, আমার অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও বিশ্বাসের নির্যাস বলে মনে করি। এখানে আমি সংক্ষেপে তুলে ধরেছি যে, জিহাদের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের কী করা উচিত এবং আল্লাহর সাহায্যে কীভাবে একে পতন, বিলুপ্তি বা বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করা যায়। এটি সেই আমানতের সারসংক্ষেপ, যা নতুন জিহাদি প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে আমি আমার কাঁধের ওপর এক বিশাল দায়িত্ব বলে মনে করি। কারণ, আমাদের জাতির সন্তানদের মধ্য থেকে যারা ইহুদি-ক্রুসেডার এবং তাদের মিত্র মুরতাদ-মুনাফিকদের হাতে নিপতিত এই মহা বিপদ মোকাবেলার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা হলো এই নতুন প্রজন্ম।
যদিও আমরা—যাদেরকে একসময় 'আফগান আরব মুজাহিদ' বলা হতো, পরে আমাদের ওপর 'আল-কায়েদা' নাম চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং সবশেষে আমাদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হলো—অত্যন্ত কঠিন ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং এখনও যাচ্ছি, যার বিস্তারিত বর্ণনার স্থান এটি নয়। অবরোধ ও ফেরারি জীবনের এই ভয়াবহতা ও দুর্দশা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর তারাই জানে যারা আল্লাহর অনুগ্রহে এই যুগে নিজেদের দ্বীন নিয়ে হিজরত ও আত্মগোপনের এই নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছে। আল্লাহর কসম! এটি এমন এক গৌরব যা বিক্রয় করতে আমরা রাজি নই এবং এই চুক্তি থেকে আমরা ফিরে আসতে চাই না, ইনশাআল্লাহ।
আমি বলবো, তা সত্ত্বেও, গৃহবন্দী দশা এবং চলাফেরার সীমাবদ্ধতার ফলে যে অবসর পেয়েছি, আমি তার সদ্ব্যবহার করেছি। আমি এই বইটি লেখার কাজে নিজেকে নিমগ্ন করি এবং ২০০২ সালের শুরু থেকে দিন-রাত এর পেছনে শ্রম দেই। অর্থাৎ আজ থেকে তিন বছর আগে (রমজান ১৪২৩ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০২) থেকে (জিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪) পর্যন্ত।
যদিও আমি বিভিন্ন জায়গায় এবং নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেছি, তবুও আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যে তিনি আমাকে এটি সম্পন্ন করার হিম্মত দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ইখলাস (নিষ্ঠা) ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং কবুলিয়তের মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা এবং এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা যা আমাকে এই বইটি প্রকাশে বাধা দিতে পারে—এই কারণে আমি এটি এখনই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যদিও আমি এতে কাঙ্ক্ষিত সমস্ত সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করতে পারিনি। এই সংস্করণে কিছু ত্রুটি রয়ে যাওয়ার জন্য আমি দুঃখিত, তবে আমি বিশ্বাস করি যে এর প্রধান অধ্যায় ও মৌলিক ধারণাগুলো এবং কলম ও কথার জিহাদের ক্ষেত্রে আমি যেটিকে আমার আমানত মনে করি, তা পর্যাপ্ত ও পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আমি এখানে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করব যেগুলোকে আমি এই সংস্করণের ঘাটতি বা ত্রুটি বলে মনে করি এবং যা আমি কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলাম। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে (১৪২৬ হিজরি / ২০০৫ সংস্করণ) আমি তা সংশোধন করতে পারব, যা ইনশাআল্লাহ খুব বেশি দেরি হবে না।