Announcement

Collapse
No announcement yet.

দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৫ | যিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪ ঈসায়ী সংস্করণ সম্পর্কে বিশেষ তাম্বীহ (অবশিষ্টাংশ)

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৫ | যিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪ ঈসায়ী সংস্করণ সম্পর্কে বিশেষ তাম্বীহ (অবশিষ্টাংশ)

    এই বইটি দ্রুত প্রকাশের সিদ্ধান্তের পেছনে আমার দৃঢ় প্রত্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সম্প্রতি আমার নজরে আসা একটি বিষয়। আর তা হলো, ২০ নভেম্বর ২০০৪ তারিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (কলিন পাওয়েল) যা ঘোষণা করেছে—তাঁর অপরাধী সরকার আমার মতো এক নগণ্য ব্যক্তিকে ধরার জন্য তথ্য দিতে কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে!! প্রকৃতপক্ষে আমি জানি না কেন আমি এই 'অপরাধমূলক বদান্যতার' যোগ্য হলাম!! আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এর অর্থ যেন হয় আমি এমন এক অবস্থানে আছি যা কাফেরদের ক্রুদ্ধ করে, এবং আমি আশা করি এর বিনিময়ে তিনি আমার জন্য একটি নেক আমল লিখে দেবেন। যখন নেককারদের স্তরে পৌঁছাতে আমার হিম্মত ব্যর্থ হয়েছে এবং শহীদদের বেছে নেওয়ার পর আমি অবশিষ্টাংশ হিসেবে রয়ে গেছি। তখন আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে তাঁর রহমতের মাধ্যমে আমি যেন তাঁদের সঙ্গ লাভ করতে পারি। তিনি পরম ধৈর্যশীল ও দয়ালু, আর তাঁর কাছে পাওয়ার আশা করা আমাদের অধিকার।

    তাই আমি আশঙ্কা করছি যে—আল্লাহ না করুন—এমন কোনো তকদির যেন আগে না চলে আসে যা আমাকে এই বই প্রকাশ ও আমানত আদায়ে বাধা দেয়। ফলে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করার অত্যধিক আগ্রহের কারণে উম্মাহর কাছে এর বার্তা পৌঁছানোর সুযোগটি যেন আমি না হারাই। যেমনটি বলা হয়—'যা পুরোটা পাওয়া সম্ভব নয়, তার সবটুকু ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।' আর এই সংস্করণে আমি যে বিষয়গুলোকে ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা মনে করি, অথবা এর উপস্থাপনায় যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি, তার মধ্যে প্রধান হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:

    ১. কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি, এবং সম্ভবত কিছু বানান ও ব্যাকরণগত ভুল। আমি আশা করি কুরআন ও হাদিসের পাঠ্যে এ ধরনের কোনো ভুল হয়নি, কারণ আমি সেগুলো দ্রুততার সাথে যাচাই করেছি। একইভাবে বিরামচিহ্ন ও কমা ব্যবহারের বিন্যাস। যারা এই বইটির (১৪২৫ হিজরি/২০০৪ সংস্করণ) কপি পাবেন, তাদের মধ্যে যারা যোগ্যতাসম্পন্ন, তাদের আমি অনুমতি দিচ্ছি যে তারা যেন প্রকাশের আগে নিজেদের কপিতে এই ভুলগুলো সংশোধন করে নেন।

    ২. বইটি প্রকাশের আগে কিছু চিন্তাধারাকে চূড়ান্তভাবে ভাববার বা যথাযথ রূপ দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া।

    ৩. শেষ অধ্যায়ে উল্লেখিত মহাযুদ্ধ এবং ফেতনা সম্পর্কিত হাদিসগুলোর ওপর মন্তব্য করতে না পারা। এ বিষয়ে আমার কাছে অনেক তথ্য ও চিন্তা ছিল যা আমি পাঠ্যের ফাঁকে ফাঁকে লিখে রাখতে চেয়েছিলাম।

    ৪. আচরণগত শিক্ষা, নৈতিকতা এবং ইবাদত সংক্রান্ত অধ্যায়ে আমি যেসব প্রমাণ ও পাঠ্য সংগ্রহ করে উদ্ধৃত করেছি, সেগুলোর ওপর কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে না পারা।

    ৫. নবম অধ্যায়ে 'সতর্কতাসমূহ' বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করে শুধুমাত্র উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

    ৬. 'সন্দেহের খণ্ডন' অনুচ্ছেদটি বাদ দেওয়া, যা জিহাদ ও মুজাহিদদের শত্রুরা—বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী আলেম, দরবারী আলেম এবং পেন্টাগনের ফকিহরা—ছড়িয়ে থাকে। আমি এ ধরনের ১৫টি অসার সংশয় একত্রিত করেছি, যা তাদের সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর পুঁজি। ইনশাআল্লাহ, আমি এগুলোর জন্য একটি পৃথক পরিশিষ্ট বই প্রকাশ করব।

    ৭. ইন্টারনেটে উপলব্ধ এমন অনেক তথ্য-প্রমাণ বইটিতে যুক্ত করতে না পারা, যা বইটির বিভিন্ন অধ্যায়কে আরও শক্তিশালী করত।

    ৮. 'প্রতিরোধের আহ্বানের ভূমিকা' (رسالة المدخل إلى دعوة المقاومة) নামক বার্তাটি লিখতে না পারা, যা বইটির মূল চিন্তাধারা এবং 'বিশ্বব্যাপী ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন' (Global Islamic Resistance Call)-এর সংক্ষিপ্ত সারমর্ম তুলে ধরত। ইনশাআল্লাহ, আমি এই আন্দোলনের সূচনা ও ভিত্তি স্থাপন করতে চাই।

    ৯. আমার প্রায় প্রতিটি লেখায় একটি অভ্যাস ছিল যে, আমি যা লিখি তা যোগ্য এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের দেখাই এবং তাদের সাথে পরামর্শ করি; কিন্তু এবার তা সম্ভব হয়নি। কারণ আমার ভাইদের মধ্যে যাদের আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতাম, তাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন অথবা বন্দী হয়েছেন। আর বাকিরা আত্মগোপনে আছেন যাদের সাথে যোগাযোগ করা অসম্ভব। আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে এই বইটি প্রকাশের আগে যেন আমার ভাই ও বন্ধু, আমাদের জিহাদের প্রতীক, উম্মাহর সূর্য শাইখ মুজাহিদ ওসামা বিন লাদেন (হাফিজাহুল্লাহ) এটি দেখতেন। আল্লাহ উম্মাহকে তাঁর নিরাপত্তার মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং শত্রুদের তাঁর ওপর জয়ী হতে না দিন। একইভাবে আমার ভাই ও বন্ধু, আমার শায়খ, অনুকরণীয় মুজাহিদ, মিশরের রত্ন ডক্টর আইমান আল-জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ)। আল্লাহ উম্মাহকে তাঁর হায়াতের মাধ্যমে উপকৃত করুন। আরও আকাঙ্ক্ষা ছিল আমার ভাই ও বন্ধু, অনুকরণীয় মুজাহিদ, লিবিয়ার পুণ্যবানদের অবশিষ্টাংশ শাইখ আবু আল-লাইথ আল-লিব্বি (হাফিজাহুল্লাহ) এবং আমার দীর্ঘ পথচলার সাথী, ধৈর্যশীল মুজাহিদ শাইখ আবু খালিদ আল-সুরি (হাফিজাহুল্লাহ) যদি এটি দেখতেন। আমি এখন খুব অল্পসংখ্যক মানুষকেই চিনি যারা তাদের সমতুল্য।

    উনারা এবং অবশিষ্ট হাতেগোনা কয়েকজনই ছিলেন সেই যোগ্য ব্যক্তি যাদের মন্তব্য আমি বইটি প্রকাশের আগে প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দুনিয়ায় আমাদের বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগের পথ রুদ্ধ হওয়া তাতে বাধা দিয়েছে। আমি মনে করছি যে এটি প্রকাশের সময় হয়ে গেছে এবং আমি আশঙ্কা করছি দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে—আল্লাহ না করুন। আমি তাঁর কাছে সব কল্যাণের প্রার্থনা করি।

    তাই আমার এই বইয়ে যেসব চিন্তা ও মূলনীতি এসেছে, তার দায়ভার একান্তই আমার এবং এটি আমার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে। যদিও আমি বিশ্বাস করি যে এর সিংহভাগ এবং বিশাল বড় একটি অংশ—আল্লাহ ভালো জানেন—সাধারণ মুজাহিদদের মাঝে একটি সাধারণ বা অভিন্ন চিন্তাধারা গঠন করে, যেমনটা আমি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানি। আমি আল্লাহর অনুগ্রহে তাদেরই একজন। আমি আশা করি বইটি আল্লাহর সন্তুষ্টির পর তাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সন্তুষ্টি লাভ করবে।

    ১০. এবং পরিশেষে, আল্লাহ এই বইটিকে যে মানে পৌঁছানোর তাওফীক দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী এটিকে শৈল্পিক ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় আমি দুঃখিত। যারা আমাদের ওপর জুলুম করেছে, তাদের বিচারের জন্য আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
    যেমনটি আমি বলেছি, আমি এর সকল ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার জন্য ক্ষমা চাইছি। প্রতিটি পদস্খলন ও ভুলের জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই দিকে ফিরে আসছি। কলমের অসতর্কতা কিংবা চিন্তা ও ভাবনার বিচ্যুতিতে যদি এমন কিছু লেখা হয়ে থাকে যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'য়ালা এবং তাঁর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অসন্তুষ্ট করে, তবে আমি আগেভাগেই তা থেকে ফিরে আসছি এবং নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করছি। আমার সান্ত্বনা এই যে, আমি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি। তবে ত্রুটি থাকা মানুষের মজ্জাগত ও স্বভাবজাত বিষয়। আর আমার আশা কেবল সেই পরম ক্ষমাশীল ও দয়াময় আল্লাহর ক্ষমার ওপর।

    আমি এই লেখাগুলো পাঠকারী প্রত্যেক মুসলিমের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন আমার জন্য অগোচরে (গায়িবানা) দোয়া করেন; তারা যেন আল্লাহর কাছে আমার দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন, কাজের শুভ পরিণাম এবং উত্তম সমাপ্তির (হুসনে খাতিমা) জন্য প্রার্থনা করেন। আরও দোয়া করবেন যেন আমি হকের ওপর অবিচল থাকতে পারি। আল্লাহ যেন আমার জন্য তলোয়ার ও কলমের জিহাদের মর্যাদা একত্রিত করে দেন, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করেন এবং আমার ভুলগুলো ক্ষমা করেন। আর আমি যেন তাঁর পথে শহীদ হিসেবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি—পিছু হটে নয় বরং সম্মুখপানে অগ্রসরমান অবস্থায়। আমি যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তাঁর সাক্ষাৎ পাই, যাদের সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

    ويَضحَكُ إليهم ربُّك، وإذا ضَحِك ربُّك إلى عبدٍ في الدُّنيا، فلا حسابَ عليه.
    الراوي: سعيد بن جبير • شعيب الأرنؤوط، تخريج زاد المعاد (٣/٨٤) • إسناده صحيح


    (“তারা এমন লোক যাদের দেখে তোমার রব হাসেন। তোমার রব যখন কোনো বান্দার প্রতি হাসেন, তখন তার আর কোনো হিসাব থাকে না।”)

    যদি আমরা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, তবে আমরা যা কিছু কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি তা কতই না তুচ্ছ ও সহজ! আর তাঁর দয়া ও ক্ষমা তো প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয় মনোনীত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
    আপনার রবের রহমত ও ক্ষমার মুখাপেক্ষী:
    (আবু মুসআব আল-সুরি)
    জিলকদ ১৪২৫ হিজরি / ডিসেম্বর ২০০৪



    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 15 hours ago.
Working...
X