আত্–তিবয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- প্রথম পর্ব
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- প্রথম পর্ব
অনুবাদকের কথা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার জন্য কারণ তিনিই আমাদের এই বইটি অনুবাদের সুযোগ দিয়েছেন এবং অনুবাদটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন। তাঁর সাহায্য ব্যতীত এই কাজ সম্পন্ন করা ছিল অসম্ভব।
শুরুতেই যে কথাগুলি বলতে চাই তা হলো; এক. বইটি অনুবাদের সময় কোন আরবী শব্দের যথার্থ বাংলা সমার্থক না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে আরবী শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে। দুই. কুরআনের আয়াতের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, এটি আল্লাহর বাণী, কোন ভাষাতেই একে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। আমরা শুধু এর অর্থ অনুবাদ করতে সক্ষম। এই অনুবাদের জন্য আমরা মূলত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আল কুরআনুল কারীমের বঙ্গানুবাদ ব্যবহার করেছি। তিন. হাদীসের ক্ষেত্রেও সরাসরি আরবী ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী অটুট রাখা সম্ভব নয়। সুতরাং পাঠকদের মনে রাখতে হবে যে, হাদীসের অনুবাদ হাদীস নয়, এটি শুধুমাত্র হাদীসের অর্থ। এক্ষেত্রেও আমরা অধিকাংশ হাদীস ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদকৃত সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম থেকে ব্যবহার করেছি, যেসব ক্ষেত্রে অনুবাদকৃত হাদীস পাওয়া সম্ভব হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি হাদীসের অর্থের সাথে সঙ্গতি রাখতে। তাই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নিকট আমাদের দু’আ তিনি যেন আমাদের আন্তরিকতা কবুল করেন এবং আমাদের ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করেন, তিনি ছাড়া আমাদের আর কোন ক্ষমাকারী নেই ।
লেখকের এই বইটি লেখার উদ্দেশ্য ছিল, আল্লাহ্ তা’আলার একটি হুকুম পালন করা, “এবং মু’মিনদেরকে (জিহাদের জন্য) উদ্বুদ্ধ করা”। আল্লাহ্ তার প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং তাকে হিফাজত করুন। লেখকের তুলনায় আমাদের প্রচেষ্টা তো নগণ্য, তারপরও আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আয়াত আমাদের প্রেরণা দেয়,
مَا كَانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ وَلا يَرْغَبُوا بِأَنْفُسِهِمْ عَنْ نَفْسِهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلا نَصَبٌ وَلا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللَّهَ لا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَوَلا يُنْفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلا كَبِيرَةً وَلا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“…এটা এজন্য যে আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তিএবং ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফিরদের ক্রোধেরউদ্রেক করে এবং শত্রুদের নিকট থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়- তারপ্রত্যেকটির বিনিময়ে তাদের জন্য লিখিত হয় নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। আর তারা অল্পবিস্তর যা কিছু ব্যয় করে, যত প্রান্তর তারা অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লেখা হয়, যেন আল্লাহ্ তাদের সৎকর্মসমূহের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।”[1]
ইয়া রাব্বাল ‘আলামীন! আপনি আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করুন, যা আপনারই সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে; আমাদের নিয়্যতকে বিশুদ্ধ করুন এবং আমাদেরকে মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে গাফুরুর রাহীম! এই অনুবাদ করতে গিয়ে আমরা যে গাফিলতি ও সময় ক্ষেপণ করেছি তার জন্য আমাদের ক্ষমা করুন এবং যে সকল ভুল ভ্রান্তি আমাদের গাফিলতিতে এবং শয়তানের প্ররোচনায় হয়েছে, সেগুলো ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নাই। আমীন।
প্রথম অধ্যায়ঃ সৃষ্টির উদ্দেশ্য
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জ্বীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি কেবলমাত্র এজন্য যে, যেন তারা আমারই ইবাদত করে।”[2]
আল্লাহর রাসূলগণ যে দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন তারই বহিঃপ্রকাশ হলো ইবাদত। এই দুনিয়ার বুকে এমন কোন জাতি নেই যাদের কাছে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা রাসূল পাঠাননি। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই কোন না কোন রাসূল প্রেরণ করেছি, এ নির্দেশ প্রচারের জন্য যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে দূরে থাক…”[3]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আরও বলেনঃ
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا
“…আর এমন কোন উম্মত ছিল না যাদের মধ্যে কোন সতর্ককারী আসেনি।”[4]
এর দ্বারা আল্লাহ্, সুবহানাহু ওয়া তা’আলা, তাঁর হুজ্জাহ (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন, আদম (আঃ) থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ
“সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে রাসূলদের আমি এজন্য প্রেরণ করেছি যাতে রাসূলদের আগমনের পর মানুষের কোন ওজরআপত্তি না থাকে। আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, হিকমাত সম্পন্ন।”[5]
নাবীগণকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের সমসাময়িক বংশসমূহের মধ্য থেকেই আবির্ভূত করেছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের অনুসারীগণ এই কার্যক্রম চালিয়ে যান। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِنَا
“আর আপনার রব জনপদসমূহ ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত না তিনি তার কেন্দ্রস্থলে রাসূল প্রেরণ করেন, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন।”[6]
সুতরাং রাসূলগণের মৃত্যুর পর তাদের অনুসারীগণ এই দাওয়াত অব্যাহত রাখেন যাতে সৃষ্টিকুল আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার হুজ্জাহ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। আর এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা যারা উপস্থিত আছো তারা পৌঁছে দাও (এই বাণী) তাদের কাছে যারা (এখানে) অনুপস্থিত”। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “আমার তরফ থেকে যদি একটি আয়াতও হয় পৌঁছে দাও”। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “আলেমগণ নাবীদের উত্তরাধিকারী”। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ “আমার উম্মতের একটি দল (তা’ইফাহ) নিরন্তর আল্লাহর হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে”। উল্লেখিত সকল হাদীসই সহীহ।
ইবাদতের হুকুম হলো শারীয়াহ ভিত্তিক। অর্থাৎ নাবীদের জবান দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা এসব হুকুম প্রণয়ন করেছেন। আর এই শারীয়াহ গ্রহণ করা না করার সিদ্ধান্ত মানুষের। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার শারীয়াহ, যা তাঁর রাসূলগণের জবান দ্বারা বিবৃত, সকল সৃষ্টই মানবে এমনটি আবশ্যক নয়। কেউ চাইলে শারীয়াহ মানবে আর না চাইলে মানবে না।