Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫৪ || জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা ।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ - দ্বিতীয় পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫৪ || জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা ।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ - দ্বিতীয় পর্ব


    আত্–তিবয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
    জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
    ।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
    [ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
    –।।থেকে- দ্বিতীয় পর্ব


    দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ আল্লাহর সৃষ্টি দুই ভাগে বিভক্ত – মু’মিন ও কাফির

    আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ

    وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ


    তোমার রব ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে। তবে তারা নয়, যাদেরকে তোমার রব দয়া করেন এবং তিনি তাদেরকে এজন্যই সৃষ্টি করেছেন।”[7]

    ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন; আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানুষকে এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের মাঝে ধর্ম ও বিশ্বাসের মতভেদ থাকবে।

    তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ

    إِنَّ الَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ وَلَوْ جَاءَتْهُمْ كُلُّ آَيَةٍ


    নিশ্চয়ই যাদের ব্যাপারে তোমার রবের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না, যদিও তাদের কাছে প্রত্যেকটি নিদর্শন আসে…”[8]

    এরপরই তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেছেনঃ

    وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لامَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ


    তোমার রব ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সকলে অবশ্যই ঈমান আনতো; তবে কি তুমি মু’মিন হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে?”[9]

    সুতরাং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ইচ্ছায় তাঁর সৃষ্টিসমূহ দু’টি ভাগে বিভক্ত: মু’মিন এবং কাফির। এটি তাঁর বিশেষ ইচ্ছা; এ বিষয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই।

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ


    তাঁর ব্যাপার শুধু এই, তিনি যখন কোন কিছু ইচ্ছা করেন, তিনি সেটাকে বলেনঃ ‘হও’, ফলে সেটা হয়ে যায়।”[10]

    তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

    وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا

    “…আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত।”[11]


    সুতরাং আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টি মু’মিন আর কাফির এই দু’টি ভাগে বিভক্ত। যেমন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَمِنْكُمْ مُؤْمِنٌ


    তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ হয় কাফের এবং তোমাদের মধ্যে কেউ হয় মু’মিন।”[12]

    তবে প্রাথমিক অবস্থায়, আদম (আঃ) এর সময় থেকে, সম্পূর্ণ মানবজাতি মু’মিন ছিল। পরবর্তীতে তার বংশধরদের মাঝে শিরকের আবির্ভাব ঘটে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জানিয়েছেনঃ

    وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا

    মানুষ ছিল একই উম্মত, পরে তারা মতভেদ সৃষ্টি করে।”[13]


    ইবনে কাসীর থেকে বর্ণিত, “ইবনে আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, আদম এবং নূহ (আঃ) এর মধ্যবর্তী সময়ে ১০টি প্রজন্ম ছিল যারা সকলেই ছিল ইসলামের উপর। এরপর মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং মূর্তি, মধ্যস্থতাকারী (মাধ্যম) এবং দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। যার প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর আয়াত, তাঁর ব্যাখ্যা, তাঁর প্রমাণ ও অকাট্য দলীলসহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেনঃ

    إِذْ أَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوَى وَالرَّكْبُ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَوْ تَوَاعَدْتُمْ لاخْتَلَفْتُمْ فِي الْمِيعَادِ وَلَكِنْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ


    “…যাতে যারা ধ্বংস হবে তারা যেনসত্যাসত্য স্পষ্ট প্রকাশের পর ধ্বংস হয় এবং যারা জীবিত থাকবে তারা যেনসত্যাসত্য প্রকাশের পর জীবিত থাকে।”[14]

    আমার বক্তব্য: আদম (আঃ)-এর বংশধরগণ যখন কুফরিতে লিপ্ত হয়েছে তখন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। একথা তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ

    كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ


    সমস্ত মানুষ ছিল একই উম্মত।অতঃপর আল্লাহ্ নাবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেন।মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করত তাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য তিনিতাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেন।”[15]

    আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্পষ্ট দলীল প্রমাণসহ রাসূলগণকে প্রেরণ করার পরও মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ মু’মিন ও কাফির এ বিভক্ত হয়েছে এবং উভয় দলের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ

    تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ …… وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُمْ مَنْ آَمَنَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ


    এই রাসূলগণ, তাদেরমধ্যে কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি ….. আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদেরপরবর্তীরা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ সমাগত হওয়ার পরেও পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু তাদেরমধ্যে মতভেদ ঘটল। ফলে তাদের মধ্যে কতক ঈমান আনল এবং কতক কুফরি করল। আল্লাহ্ইচ্ছা করলে তারা পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হত না; কিন্তু আল্লাহ্ তাই করেন যা তাঁর ইচ্ছা।”[16]

    এমন কোন নাবী ছিলেন না যাদের কেউ অস্বীকার করেনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), কিয়ামতের দিনে এমনও কিছু নাবীর উপস্থিতির কথা বলেছেন, “এবং একজন নাবী আসবে যার সাথে (উম্মাত) কেউ থাকবে না”।

    আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এমনই কিছু দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য বর্ণনা করেছেনঃ

    وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ


    আমি অবশ্যই সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই আদেশসহ, ‘তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদত কর,’ কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।”[17]

    সুতরাং যখনই তিনি তাদেরকে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকলেন তখনই তারা দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে গেল এবং তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হলো। এটি অব্যাহত থাকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা (নবুয়্যতের) সীলমোহর এঁটে দেয়া পর্যন্ত। তিনি আসার পর তাকে কেন্দ্র করে মানুষ মু’মিন ও কাফির এ বিভক্ত হয়, হাদীসে রয়েছে, “এবং মুহাম্মাদ হলো মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিকারী।” এই বিভক্তিই কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত বিরাজ করবে। যদিও আল্লাহর ইচ্ছাতেই মানুষ মু’মিন ও কাফির এ বিভক্ত হয় এবং এটিই ঘটবে; আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রতিটি সৃষ্টি তার কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে যা সে স্বয়ং করেছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ

    وَمَا تُجْزَوْنَ إِلا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ

    এবং তোমরা যা কর তারই প্রতিফল পাবে।”[18]


    আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্ কারো প্রতি অবিচার করেন না। তিনি, সুবহানাহু ওয়া তা’আলা, বলেনঃ

    إِنَّ اللَّهَ لا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَكِنَّ النَّاسَ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

    নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মানুষের প্রতি কোন যুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজেদের প্রতি যুলুম করে থাকে।”[19]


    হাদীস কুদসীতে পাওয়া যায়ঃ আল্লাহ্ বলেনঃহে আমার বান্দাগণ! আমি যুলুমকে আমার জন্য হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও এটি হারাম করেছি; সুতরাং তোমরা যুলুম কর না।” [20]




    ​আরও পড়ুন

    প্রথম পর্ব
    Last edited by tahsin muhammad; 1 day ago.

  • #2
    মানুষের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সত্যের আহ্বান কখনোই বিরোধিতামুক্ত ছিল না। নবী-রাসূলদের দাওয়াতের পথেও ঈমান ও কুফরের বিভাজন এবং সত্য-মিথ্যার সংঘাত অব্যাহত ছিল। তাই আজও সত্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা এবং বাতিলের সঙ্গে আপস না করা একজন মুমিনের মৌলিক দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদেরকে হকের ওপর অটল রাখুন এবং কুফর ও শিরক থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

    Comment

    Working...
    X