Announcement

Collapse
No announcement yet.

দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৮ | প্রতিরোধের অক্ষসমূহ - ১

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দাওয়াতুল মুকাওয়ামাতিল ইসলামিয়্যাতিল আলামিয়্যাহ থেকে অনুবাদ | পর্ব: ৮ | প্রতিরোধের অক্ষসমূহ - ১

    প্রতিরোধের অক্ষসমূহ

    আমি মনে করি—আর এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা কোনো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেই গোপন নয়—শত্রু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আল্লাহর পথে সংগ্রামরত প্রতিরোধী অভিজাত শ্রেণির সংখ্যা গোটা উম্মাহর মধ্যে ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনকভাবে খুবই কম এবং সীমিত।
    আমার মনে হয় না যে শত্রুদের আক্রমণের তীব্রতাই এর মূল কারণ । বরং বর্তমানে উম্মাহর মধ্যে যে দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা এবং নিজেদের ভেতর থেকেই উপনিবেশবাদ ও পরাজয়কে গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সেটাই এর মূল কারণ।
    এর প্রমাণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের খবরগুলোই যথেষ্ট। কারণ সকাল-সন্ধ্যা সংবাদগুলো এমন সব ঘটনা নিয়ে আসে, যা মানুষের হৃদয়ে দুঃখ ও বেদনা সৃষ্টি করে, সংকল্পকে দুর্বল করে দেয় এবং উদ্যমী মনকে হতাশা ও দুর্বলতার দিকে ঠেলে দেয়।
    আমার বিশ্বাস, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের (যার লক্ষণগুলো ইতোমধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে) মোকাবিলা করতে হলে এমন একটি সর্বাঙ্গীণ পরিকল্পনা দরকার, যার বিভিন্ন দিক থাকবে এবং যার মাধ্যমে উম্মাহর মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা ও ভিত্তি গড়ে তোলার মতো মানুষের পরিসর বৃদ্ধি করা যাবে।

    অস্ত্র ধারণ করা, আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং শত্রুদের মোকাবিলা করা—এসব শেষ পর্যন্ত এমন একটি সামগ্রিক পরিবেশের ফল, যেখানে সচেতনতা ও আবেগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে হবে এবং যেখানে যুদ্ধসংক্রান্ত আকীদাগত ধারণাগুলো সুদৃঢ় ও স্পষ্ট হতে হবে। যাতে তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে, যাকে ‘জিহাদি বিপ্লবী পরিবেশ’ বলা যেতে পারে—যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধের পদ্ধতিগুলো তৈরি করে।

    আমি মনে করি বিষয়টি এতটাই ব্যাপক যে বর্তমানে সক্রিয় মুজাহিদ অভিজাতদের একার কাঁধে তা চাপানো যায় না। বিশেষ করে এই কারণে যে, ১৯৯০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে—আরব ও ইসলামী দেশগুলোর শাসকগোষ্ঠী এবং পশ্চিমা মিত্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সহযোগিতায়—যে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়, তার ফলে তারা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। নতুন বিশ্বব্যবস্থা ঘোষণার পর এই অভিযান ক্রমে তীব্রতর হয়ে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলীর পর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে; তখন এটি প্রকৃত অর্থেই এক ভয়াবহ বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নেয়, যা আজও বিশ্বের সর্বত্র চলছে।

    এই আক্রমণের ফলে—সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে—আমেরিকা বিশ্বজুড়ে জিহাদের বহু নেতা, সদস্য ও গোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও নিঃশেষ করেছে; পাশাপাশি জিহাদকে সমর্থনকারী ইসলামী জাগরণের বহু স্তর ও শ্রেণিকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

    আমি মনে করি, উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সৎ ও দায়িত্বশীল শক্তির মধ্য থেকে বিশ্বাসী, সচেতন ও শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণির লোকদের এখন তিনটি ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা প্রয়োজন।​

    পর্ব: ৭ পড়ুন -








Working...
X