Announcement

Collapse
No announcement yet.

একজন শায়েখ এর সাথে ইত্তেকাফ অতিবাহিত দিন

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • একজন শায়েখ এর সাথে ইত্তেকাফ অতিবাহিত দিন

    অতিবাহিত ১ম দিন



    শায়েখঃ- سبحان الله الحمد لله ولا اله الا الله الله اكبر لا حول ولا قوه الا بالله اللهم اغفر لي وارحمني وحديني وعافني ارزقني.... اللهم صل وسلم على نبينا محمد اللهم صل وسلم على نبينا محمد.
    প্রিয় ভাই, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের দ্বীনের কাজে নি য়োজিত রেখেছেন। অল্প-স্বল্প কিছু কাজ করার তাওফীক দান করেছেন।

    কুরআনুল কারিমে মহান রব্বুল ইজ্জাহ যেমন করে সমস্ত বিষয়ে আমাদের বুঝাতে চেয়েছিলেন ঠিক সেই ভাবে আমাদের সকলের বুঝতে পারা খুবই কঠিন, এই কুরআন প্রিয়, হাবিব মুহাম্মদ মুস্তাফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যখন নাযিল হয়েছে তখন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরে জ্বর কাফুনি শুরু হয়ে যেতো।
    রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাথা দিয়ে মুরিয়ে দেওয়া হতো।
    এই কুরআন যদি কোনো পাহাড়ের উপর নাযিল হতো তাহলে সেই পাহাড় নিচু হয়ে যেতো, মহান রব্বুল ইজ্জাহ আমাদের সবাইকে রাসূল যেভাবে কুরআন বুঝেছেন সেভাবে কুরআন বুঝার তৌফিক দান করুক।


    শায়েখঃ- কেয়ামত, আখেরাত, পুলসিরাত, কবর, জাহান্নাম, এই বিষয়ে কুরআন আমাদের যেভাবে বুঝাতে চেয়েছিল আমরা ঠিক সেইভাবে এটাকে আকড়ে নিতে পারি নি, আমরা এটি গতানুগতিক একাডেমিক পড়াশোনার মতো করেই পড়ি, বা বুঝার চেষ্টা করি, শত আফসোস দুর্ভোগ আমাদের কুরআন এই শব্দ গুলো কত ভয়াবহতার সাথে আমাদের বুঝাতে চেয়েছিল।

    একটু বুঝুন আজকে চিন্তা করুন আজকে কেয়ামত কি জিনিস?

    কেয়ামত যখন ঘটবে তখন পৃথিবীর অবস্থান এবং সমস্ত মানবজাতির অবস্থা কি হবে এই বিষয়ে কুরআন হাদিসে অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।

    (১) কেয়ামতঃ-

    [৮০:৩৩] আবাসা
    فَإِذا جاءَتِ الصّاخَّةُ
    অতঃপর যখন বিকট আওয়াজ* আসবে, কিয়ামত দিবসের আওয়ায।

    [৮০:৩৪] আবাসা
    يَومَ يَفِرُّ المَرءُ مِن أَخيهِ
    সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,

    [৮০:৩৫] আবাসা
    وَأُمِّهِ وَأَبيهِ
    তার মা ও তার বাবা থেকে,

    [৮০:৩৬] আবাসা
    وَصاحِبَتِهِ وَبَنيهِ
    তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে।

    [৮০:৩৭] আবাসা
    لِكُلِّ امرِئٍ مِنهُم يَومَئِذٍ شَأنٌ يُغنيهِ
    সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই একটি গুরুতর অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।


    প্রিয় ভাইরা,
    এই আয়াত গুলো আপনি আমি এর আগেও পড়েছি বা শুনেছি কিন্তু কখনো এই আয়াত গুলো বারবার পড়া হয়নি চিন্তা করা হয়নি এই আয়াতের গভীরতা নিয়ে, এই আয়াত গুলো বারবার আমাদের অন্তরের নূর অনুভব করাতে চাচ্ছে,

    একটু চিন্তা করুন দুনিয়ায় এমন অনেক ঘটনা আছে আমরা শুনেছি দেখেছি,
    বাসায় আগুন লেগেছে মা রুমে তা ছোট সন্তান রেখে আসতে পারে নি নিজে আগুনে পুড়ে গিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়েছে, অথবা এমন অনেক শুনেছি সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মা মারা গিয়েছে, বাবা মারা গিয়েছে।
    ভাই, বোন, বন্ধু, কতই না মহব্বত এর সম্পর্ক দুনিয়ায় একে অপরের জন্য জীবন দিতে পারে,
    এবার একটু চিন্তা করুন এত ভালোবাসা, এ মায়া, মহাব্বাত, সবকিছু এই একদিনে এই ভয়াবহ সময় হাড়িয়ে যাবে, মা তার সন্তান রেখে পালিয়ে যাবে, গর্ভধারণী মা তার বাচ্চা প্রসব করে দিবে, হায় আফসোস কতই না ভয়ংকর সেই দিন, কতই না কঠিন সেই দিন, সন্তান তার মাথা পিতা রেখে পালিয়ে যাবে একটু ভাবুন সেই সময় যখন সবাই দিক বেদিক পলায়ন করবে, হায় কতই না ভয়াবহ সময়, মা তার গর্ভধারণ কৃত বাচ্চা সময় আসার আগেই প্রসব করবে, যে মায়ের জন্য, যে স্ত্রী, সন্তানদের জন্য দুনিয়ায় কতই না কষ্ট করি আমরা কতই না কুরবানী করি, ত্যাগ করি হায় সেদিন কোথায় হাড়িয়ে যাবে আমাদের এই সকল ভালোবাসা, এত মায়া, মহাব্বাত, আমি অপারগ লিখার ভাষায় এতটুকু বুঝিয়ে বলতে অক্ষম, মহান রব্বুল আলামীন যেভাবে আমাদের এই ভয়াবহ সময়ের কথা বলেছেন সেভাবে আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি, এই কঠিন মূহুর্তে যখন
    মহান রব বলবেনঃ
    لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ۖ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ
    লিমানিল মুলকুল ইয়াওম? লিল্লাহিল ওয়াহিদিল কাহ্হার।
    আজ রাজত্ব কার? একক, পরাক্রমশালী আল্লাহর।
    مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ
    মা সালাকাকুম ফি সাকার।
    কি কারণে তোমরা জাহান্নামে এলে?
    أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ
    আলাম ইয়াতিকুম রুসুলুম মিনকুম।
    তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকেই রাসূল আসেনি?

    সূরা কিয়ামাহ (০২)
    وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ

    ওয়া লা উকসিমু বিন্‌ নাফসিল লাওয়ামাহ
    “আর আমি শপথ করছি সেই নফসের, যে নিজেকে তিরস্কার করে।”
    এখানে "নফসে লাওয়ামাহ" বলতে এমন অন্তরকে বোঝানো হয়েছে—
    যে মানুষ ভুল করলে নিজেকে দোষ দেয়, গুনাহ করলে অনুতপ্ত হয়, ভালো কাজ কম হলে আফসোস করে।
    অর্থাৎ:মুমিনের অন্তর ভুলের পর শান্ত থাকে না, সে নিজের হিসাব নিজে নেয়
    পাপের পর অনুশোচনা করে, নেক আমল কম হলে কষ্ট পায়
    এই নফসই কিয়ামতের সত্যতার একটি দলিল— কারণ মানুষের ভিতরে এমন এক বিবেক রাখা হয়েছে, যা তাকে বলে: একদিন হিসাব হবেই।

    ইমাম ইবনে তাইমিয়ার রাহিঃ এর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের অন্তরে এই আত্মসমালোচনার শক্তি থাকা আল্লাহর বড় নিদর্শন, কারণ এই নফস মানুষকে হিসাব-নিকাশ, তওবা ও সংশোধনের দিকে ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, মুমিনের নফস সবসময় নিজেকে জিজ্ঞেস করে: কেন করলাম? কী উদ্দেশ্যে করলাম? আর আরও ভালো করা যেত কি না?


    প্রিয় ভাইরা আমার,
    আমরা কুরআনুল কারিমের প্রতিটি ভয়াবহতার অর্থ গুলো যখন জীবনে উপলব্ধি করতে সক্ষম হতে পারব তখন আমাদের নফস আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এটা সব সময় স্বরন রাখুন নফ্স নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ভয়, মহান রব এবং আমাদের প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ মুস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় আমাদের যেভাবে জাহান্নামের ভয়, কবরের ভয় উপলব্ধি করিয়েছিলেন ঠিক সেইভাবে উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুক।




    নিজেকে উপলব্ধি করানোর জন্য উপরে লেকচারটা শুনতে পারি আমরা,

    আমি আপনাদের অপারগ ভাই


    বিঃদ্রঃ শায়েখের আলোচনার সাথে নিজের আত্ন ফিকির উল্লেখ্য করা হয়েছে, ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!!​
    Last edited by Rakibul Hassan; 1 day ago.
Working...
X