Announcement

Collapse
No announcement yet.

ইহুদি সন্ত্রাসী কর্তৃক ১৯৪৮ সালে সংঘটিত দেইর ইয়াসিনের ভয়াবহ গণহত্যা; এর দায়ও কি হামাসের ঘাড়ে চাপাবেন?

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ইহুদি সন্ত্রাসী কর্তৃক ১৯৪৮ সালে সংঘটিত দেইর ইয়াসিনের ভয়াবহ গণহত্যা; এর দায়ও কি হামাসের ঘাড়ে চাপাবেন?

    ইসরায়েলি সন্ত্রাসীরা গাজাবাসীর উপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহতম গণহত্যা চালাচ্ছে। নির্যাতনের এমন কোনো পদ্ধতি নেই যা তারা মুসলমানদের উপর প্রয়োগ করছে না। পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি নাপাক ইহুদিদেরকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আর মুসলিম দেশগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

    গাজার এই চরম সংকটকালীন মুহূর্তে স্থানীয় বিপ্লবী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে অভিশপ্ত ইহুদিদেরকে প্রতিহত করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী শাহাদাতের নযরানা পেশ করেছেন।

    কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় কিছু বেকুব মুসলিম নাকি এই গণহত্যার জন্য হামাসকেই দোষারোপ করছে। আর তাদের পালে হাওয়া দিচ্ছে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা মুসলিম নামধারী কিছু মুনাফিক শায়েখ ও স্কলার। তাদের দাবি— হামাস ইহুদিদের তৈরি এবং তাদের দালাল। হামাসের কারণেই ইহুদিরা গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। হামাসকে দিয়েই ইহুদিরা সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অজুহাত তৈরি করেছে। অথচ এসব মাথামোটা শায়েখরা বেমালুম ভুলে গেছে, এই গণহত্যা প্রতিহত করার জন্যই হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

    হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হওয়ার পর। আর তাদের সামরিক কার্যক্রম শুরু হয় প্রায় ১৯৯৩ সালে।

    হামাসের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই সন্ত্রাসী ইহুদিরা ফিলিস্তিনে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রসিদ্ধতম ছিল ১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিলের দেইর ইয়াসিন গণহত্যা।

    কেমন ছিল এর ভয়াবহতা?

    দেইর ইয়াসিন ছিল তেল আবিব ও আল কুদসের মধ্যবর্তী ছোট্ট একটি বস্তি। সেখানে চারশো আরব পরিবার বসবাস করত। ৯ এপ্রিল ভোরে ইয়াহুদী সন্ত্রাসী দল ইরগুন ও স্টার্নগ্যাং এর চারশ সন্ত্রাসী বসতিটি ঘিরে ফেলে হামলা শুরু করে। তবে নিরস্ত্র গ্রামবাসী তখন প্রবল বিক্রমে তাদেরকে প্রতিহত করে। সন্ধ্যার সময় নিকটের একটি ইয়াহুদি সেনা ছাউনি থেকে সামরিক সহায়তা আসলে শুরু হয় নির্বিচারে মর্টারশেল বর্ষণ। তা সত্ত্বেও বসতিটি দখল করতে নাপাক ইহুদিদের পূর্ণ দুই দিন লেগে যায়।

    বসতিটি দখল করার পরই সেখানে নেমে আসে কিয়ামতের বিভীষিকা। যুবকদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। বৃদ্ধদেরকে প্রথমে চুলদাড়ি কামিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরানো হয়। এরপর শত শত ইহুদির উল্লাসধ্বনির মধ্যে তাদেরকেও হত্যা করা হয়। রেহাই পায় নি ছোট্ট শিশুরাও। তাদেরকে আল-কুদসের নগরপ্রাচীরের উপর থেকে ফেলে খুন করা হয়।

    দেইর ইয়াসিন গণহত্যার (১৯৪৮) পর থেকে হামাস প্রতিষ্ঠার (১৯৮৭) আগ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ আরো যেসব গণহত্যা চালায়:

    ১. তান্তুরা গণহত্যা (মে ১৯৪৮) – ২০০-৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত।

    ২. লিডা ও রামলা গণহত্যা (জুলাই ১৯৪৮) – শত শত মানুষ হত্যা, ৭০,০০০ উচ্ছেদ।

    ৩. দওয়াইমা গণহত্যা (অক্টোবর ১৯৪৮) – ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৪. কাফর কাসেম গণহত্যা (২৯ অক্টোবর ১৯৫৬) – ৪৮ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৫. খান ইউনুস গণহত্যা (৩ নভেম্বর ১৯৫৬) – ২৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৬. রাফাহ গণহত্যা (১২ নভেম্বর ১৯৫৬) – ১১১ ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৭. ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের গণহত্যা – পশ্চিম তীর, গাজা, পূর্ব জেরুজালেম দখল, হাজারো ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৮. কানাআ গণহত্যা (১৯৭৮) – ১০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত।

    ৯. সাবরা ও শাতিলা গণহত্যা (১৬-১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮২) – ৩,৫০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী নিহত।

    এখন ঐ সমস্ত বেকুব মুসলিম ও তথাকথিত শায়েখদের কাছ থেকে আমরা জানতে চাই— এই গণহত্যাগুলোর জন্যও কি হামাস দায়ী? হামাসের তো তখন জন্মই হয় নি, তাহলে কোন অজুহাতে ইসরাইলি হানাদাররা এই হত্যাযজ্ঞগুলো ঘটালো?

    আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি, একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে সংগঠিত ক্রুসেডের সময়ও অধিকাংশ আরব ভূখন্ডের মুসলিম নামধারী মুনাফিক শাসক এবং তাদের পা-চাটা দরবারি আলেমরা ইমামুদ্দিন জিনকি, নুরুদ্দিন মাহমুদ, নাজিমুদ্দিন আইয়ুব, সালাহুদ্দিন আইয়ুবিসহ অন্যান্য মহান মুজাহিদদেরকে ক্রুসেডারদের দালাল ও ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত করতো। তাদের বিরুদ্ধে হাজারো অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাতো। কিন্তু সর্বশেষে আল্লাহ তাআলা এসব মহান মুজাহিদগণকেই বিজয় দিয়েছেন। আর মুনাফিকদেরকে করেছেন লাঞ্ছিত ও অপদস্ত।

    ইনশাআল্লাহ, অচিরেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ হামাসের মুজাহিদগণকেও বিজয় দিয়ে সম্মানিত করবেন। ইসরাইল ও আমেরিকা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সেইসাথে মুসলিম নামধারী মুনাফিক শাসক ও যায়োনিস্ট শায়েখরাও তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবে।





    ২৭ রামাদ্বান, ১৪৪৬ হি.
    ২৮ মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ


  • #2
    ইনশাআল্লাহ, অচিরেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ হামাসের মুজাহিদগণকেও বিজয় দিয়ে সম্মানিত করবেন। ইসরাইল ও আমেরিকা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সেইসাথে মুসলিম নামধারী মুনাফিক শাসক ও যায়োনিস্ট শায়েখরাও তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবে।​
    ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ্‌ তাআলা কবুল করুন, আমীন
    আল্লাহ্‌ তাআলা আপনার ইলম ও হায়াতে বারাকাহ দান করুন, আমীন
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে

    Comment

    Working...
    X