হারিয়ে যায়নি তবে ব্যস্ততায় পড়ে গিয়েছিলাম। খুঁজতে চেষ্টা করেছি এই এঘটনার আদ্যোপান্ত জানিনা কতটুকু সফল। এখন আবার চলবে ইনশাআল্লাহ। দোয়ার দরখাস্ত আল্লাহ তায়ালা যেন উত্তম ভাবে বিষয়টি শেষ করার তাওফীক দান করেন। আমীন।
এই ন্যারেটিভ কেন সঠিক নয়।
মূল বিষয়বস্তু বোঝার জন্য আমাদের একটু পিছনে ফিরে পাকিস্তানের কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।
সরকার পক্ষীয় ন্যারেটিভ
====================
====================
- এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করে আগানো উচিত হবে না।তা হলো পাকিস্তান নাপাক সরকারের পক্ষীয় ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। প্রথমে ন্যারেটিভ জেনে নেই তারপর আমরা তা কেন মিথ্যা জানবো ইনশাআল্লাহ।
ন্যারেটিভ এমন ছিল যে, মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী রহঃ এর সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউর হকের সঙ্গে গভীর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। সেজন্য মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী রহঃ ১৯৮০ সালের দিকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অনেক মসজিদ নির্মাণ করতে থাকেন। তবে তথাকথিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বুদ্ধিজীবীরা বলেছে যে, মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী রহঃ এর নির্মিত মসজিদসমূহের অধিকাংশ ছিল সরকারি জায়গায় এবং দখল করে নির্মিত।
(মিথ্যা ন্যারেটিভারদের দাবি অনুযায়ী) যেই সম্পর্ক ও প্রভাব জেনারেল জিয়াউর হক ও মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী রহঃ এর মৃত্যুর পরও বজায় ছিল।যার কারণে মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী সাহেবের দুই সন্তান পাকিস্তান সরকারের সরকারি জায়গা দখল করে মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করে। তখন ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ বলছিল যে, ইসলামাবাদে ১২৭ টি মাদ্রাসা রয়েছে যার মধ্যে ৭৭ রেজিস্ট্রেশনকৃত,৩১ টি রেজিস্ট্রেশনকৃত নয় , এছাড়া বাকিগুলো unauthorized (অননুমোদিত বা অবৈধ)। CDI এর কর্তৃপক্ষও নাকি উনাদের ঐ জমি থেকে উনাদের প্রভাবের কারণে দূর করতে পারছিলেন না কিন্তু মাঝে মাঝে বিভিন্ন নোটিশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
এমনকি CDI কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয় যেখানে বলা হয়েছে যে, ইসলামাবাদে ৮৪ টি মসজিদ এমন রয়েছে যা নিয়ম কানুন না মেনে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এবং CDI কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঐসব মাদ্রাসা মসজিদের ব্যবস্থাপক ও মুহতামিম গনের নামে নোটিশ জারি করা হয় যে, এসকল মসজিদ এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ধ্বংস করা হবে।আর সেই মাদ্রাসা মসজিদের লিস্টের মধ্যে জামিয়া সাইয়েদা হাফসা রাঃ এর নামও ছিল।আর জামিয়া সাইয়েদা হাফসা রাঃ এর পরিচালনায় ছিলেন মূলত লাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং তেনাদের তত্ত্বাবধানেই জামিয়া ফরিদিয়্যাহ চলতো। মোটকথা এই সব গুলো প্রতিষ্ঠান লাল মসজিদ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত হতো।- যেই লাল মসজিদের দায়িত্বে পূর্বে ছিলেন মাওঃ আবদুল্লাহ গাজী রহঃ এবং তেনার মৃত্যুর পর দায়িত্বে আসেন উনার দুই ছেলে মাওঃ আব্দুল আজিজ এবং মাওঃ গাজী আব্দুর রশীদ।তো যখন লাল মসজিদ অবৈধভাবে দখল করে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা মসজিদের ধ্বংস করতে যায় তখন এই দুই ভাই ফুঁসে উঠে এবং এখান থেকেই নাকি প্রশাসনের সাথে তাদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এই ন্যারেটিভ কেন সঠিক নয়।
মূল বিষয়বস্তু বোঝার জন্য আমাদের একটু পিছনে ফিরে পাকিস্তানের কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।
- সরকারি জায়গায় মসজিদ বানানো প্রসঙ্গে মুফতী আযম মুফতী ওয়ালি হাসান টুংকি রহঃ এর সময়ে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল যা সেসময়ের সর্বাধিক আলোচিত বিষয় সমূহের একটি ছিল। সরকারি জায়গায় বানানো মসজিদে আদায়কৃত নামাজ সহিহ হবে কি না? ইবাদত সহিহ হওয়ার প্রশ্ন এজন্যই উঠেছিল যে,সরকারি জায়গায় বানানো মসজিদকে শরয়ী মসজিদ বলা যাবে কিনা। এই মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হচ্ছে কারণ এর সাথে আমাদের আলোচ্য বিষয় লাল মসজিদ সংক্রান্ত অনেক কিছুই জানার ও বোঝার আছে।
পূর্বের ইতিহাস তুলে ধরার পূর্বে গুরুত্বপূর্ন দুটি কথা জেনে নেই:
- বর্তমানে শাইখুল ইসলাম খ্যাত মুফতী তাকী উসমানি দাঃ বাঃ ফেডারেল কোর্টের বিচারক ছিলেন:১৯৮১-১৯৮২ পর্যন্ত।১৯৮২-২০০২ পর্যন্ত ছিলেন পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের শরয়ী আপিল বিভাগের বিচারক।উনাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক।
- মুফতী আযম মুফতী ওয়ালি হাসান টুংকি রহঃ এর ইন্তেকাল হয়:৩/২ /১৯৯৫ ইং তারিখে।
জনতার জায়গায় কেন নয় মসজিদ
=========================
=========================
প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সময়ে সরকারি মসজিদের জায়গা নিয়ে একটি সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ইস্যুটি ছিল, সরকারি খাস জমিতে তৈরি হওয়া মসজিদে কি নামায আদায় সহীহ হবে? অথবা নতুন খাস জমিতে কি জনগন প্রয়োজন সাপেক্ষে মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে?
- সরকার পক্ষের কিছু আলেম এই মাসআলা হাইকোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেখানে সিদ্ধান্ত আসে যে,খাস জমিতে নামায আদায় সহীহ হবে না। এমনকি যারা এতদিন নামায পড়েছে তাদের নামায ও সহীহ হবে না! অর্থাৎ মসজিদ সংশ্লিষ্ট কোন ইবাদতই সঠিকভাবে আদায় হয়নি। যেমন: ই'তেকাফ, বয়স্কদের শিক্ষা ইত্যাদি। দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, কিছু বাঙালি মুহাজির আলেম ও এই কমিশনে ছিলেন,যারা সরকারের পক্ষে এই উদ্ভট মাসআলায় দস্তখত করেছিলেন। তাদের নাম এই মূহুর্তে আর নিতে চাচ্ছি না।
- এরপর সারাদেশের সব পত্রিকা মাধ্যমে যেমন: দৈনিক জং,ডন, ইত্যাদি থেকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। সরকারি আলিমরাও ফলাও করে এটি প্রচার করতে শুরু করেন।এক পর্যায়ে ইসতেফতা চেয়ে নিউটাউনের দারুল ইফতায় একটি প্রশ্ন আসে। সেখানে বিস্তারিত আকারে এই বিষয়টি উল্লেখ করে ইনসাফভিত্তিক সমাধান প্রত্যাশা করা হয়।
মুফতি ওয়ালি হাসান টুংকি সাহেব এই ইস্যুতে খুবই মর্মাহত হন। উনি এই ফতোয়া নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনার সময় কেঁদে ফেলেন। বলতে থাকেন: লোকদের কী হলো তারা আল্লাহর ঘরকেও নিজেদের বদ নিয়ত থেকে রেহাই দিচ্ছে না! আল বাইয়্যিনাতে (বিননুরি টাউন মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত একটি মাসিক পত্রিকা) হযরত এই বিষয়ে তার সংক্ষিপ্তভাবে তার অবস্থান উল্লেখ করেন।
- মাসআলাটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কঠোর ছিল। কিছু কথা আমার মনে পড়ে। উনি লিখেছিলেন: সারাদেশে মুসলিম জনগণের জন্য মসজিদ তৈরি করে দেওয়া সরকারের উপর ওয়াজিব ছিল। তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর জনগণ নিজ দায়িত্বে সরকারি কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। জনগণের দ্বীনি প্রয়োজনে এবং যা একটি ফরজ প্রয়োজন, তা আদায়ে কোন অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না।তাই এপর্যন্ত যত মসজিদ তৈরি করা হয়েছে সবকটিতেই নামাজ আদায় সহিহ হবে। সরকারের উচিত দেশের সকল পাড়া মহল্লায় একটি করে মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া।তানাহলে জনগণ নিজ দায়িত্বে তাদের ফরজ দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
এই আলোচনায় এতটুকু পরিস্কার যে,সরকারি জায়গায় মসজিদ বানানোর জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই এবং সরকারি জায়গায় বানানো মসজিদে নামাজ শুদ্ধ হবে। এখানে ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ সরকারি জায়গায় নির্মাণ করা মসজিদ শরয়ী মসজিদ বলে গণ্য হবে। মোটকথা সরকারি জায়গায় বানানো মসজিদ শরয়ী মসজিদ। ইসলামী ফিকহের ছাত্রদের জানা কথা যে, কোন জায়গা যদি শরয়ী মসজিদ হয়ে যায় তবে সেটি কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
- এক্ষেত্রে তাওহীদবাদি ভাইদের মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, এখানে তো মুফতী ওয়ালি হাসান টুংকি রহঃ এর ফতোয়া এসেছে। ফতোয়া আসলো কিন্তু মানবরচিত আইন তো আর ফতোয়া দিয়ে চলে না? আর পাকিস্তানের সংবিধান ও যেহেতু মানবরচিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত তাই সেখানে ফতোয়া মানার তো প্রশ্নই ওঠে না?