Announcement

Collapse
No announcement yet.

লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-৮

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-৮

    ন্যারেটিভ সঠিক না হওয়ার কারণগুলো

    কারনগুলো বলার আগে পূর্বের কিছু গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট পুনরায় স্বরণ করে নিচ্ছি:
    1. *মুফতী তাকী সাহেব দাঃবাঃ তখন (গনতান্ত্রিক)শরীয়াহ আদালতে দায়িত্ব পালন করতেন।
    2. *মুফতী আযম রহঃ ৩/২/১৯৯৫ ইং তারিখে ইন্তেকাল করেন।
    3. *সরকারি জায়গায় বানানো মসজিদ শরয়ী মসজিদ।আর যখন কোন জায়গা শরয়ী মসজিদ হয়ে যায় তবে সেটি কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
    4. *মুফতী আযম রহঃ এর এই ফতোয়ার সাথে পাকিস্তানের অধিকাংশ মাদ্রাসাও একমত ছিলেন অল্প কিছু মাদ্রাসা বাদে।(পরবর্তীতে মুফতী তাকী সাহেব ও মুফতী আযম রহঃ এর মত গ্রহন করেছেন।(আত্মজীবনীর টিকা হতে :১৫২পৃষ্ঠা)
    5. *পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র নয়।
    6. *মুফতী আযম সাহেব রহঃ এর ফতোয়াটি রায়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের মানবরচিত সংবিধানের আইনের স্বীকৃতিও লাভ করেছিল।

    এখন ন্যারেটিভের মিথ্যা হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ করছি:
    • উপরোক্ত আলোচনায় প্রমানিত এই ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৯৫ সালের পূর্বের।উক্ত ফতোয়ায় পরবর্তীতে মুফতী তাকী সাহেব হাফিজাহুল্লাহর এই মত গ্রহনের পর বলা চলে প্রায় সকলে একমত যে সরকারি জায়গায় বানানো‌ মসজিদ শরয়ী মসজিদ এবং এই ফতোয়া পাকিস্তানের স্বীকৃত আইনের অন্তর্ভুক্ত।বিধায় ইসলামি নীতি অনুযায়ি তা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে গন্য হবে।তদুপরি পাকিস্তান কোন ইসলামি রাষ্ট্রও নয়।
    *এমন একটি ঐতিহাসিক ঘটনার পর কেন এটা বলা হবে যে,এই মসজিদ মাদ্রাসাগুলো অবৈধ।
    • *আর কেন অভিযোগ করা হবে যে,তাদের প্রভাবের কারণে মসজিদ মাদ্রাসাকে ধ্বংস করত পারেনি।বরং পারেনি তো সকল ওলামাগনের ফতোয়ায় ঐক্যবদ্ধতার কারণে।
    *ইসলামি সরকার নয় তাহলে আবার শরয়ী ও আইনিভাবে স্বীকৃত মসজিদ মাদ্রাসাগুলোর ব্যাপারে সেখানে রেজিস্ট্রশনকৃত অরেজিস্ট্রশনকৃত আর অবৈধ কথা কেন আসবে।
    • * cdi পক্ষ হতে কেন নোটিশ প্রদান করা হবে।
    অতএব একথা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে,এই ন্যারেটিভ কোনভাবে সঠিক না হওয়ার পরও শুধুমাত্র চক্রান্তের অংশ হিসেবে ন্যারেটিভ তৈরি করে জনগনের সামনে লাল মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ভিকটিম বানানো হয়েছে।যা আমাদের দেশের লেডি ফেরাউন হাসু আপার জঙ্গি ন্যারেটিভের মতোই।


    চিলড্রেন লাইব্রেরি কেন দখল করতে হয়েছিল?

    "সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি মুড়ি রোডে অবস্থিত মসজিদে আমীর হামজাকে এই কথা বলে শহীদ করে দেওয়া হয় যে, রাস্তা সম্প্রসারনের কাজে তা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।
    (রক্তাক্ত লাল মসজিদ পৃষ্ঠা নং:৭)
    • "ইসলামাবাদে যখন মসজিদে আমীর হামজাকে শহীদ করা হয় তখন তা ছিল তাগুতি সরকারের হাতে ধ্বংস হওয়া সপ্তম মসজিদ এনিয়ে তাওহীদি জনতা ও আলেম উলামাদের আন্দোলনকে সরকার দু পয়সার মূল্য দেয়নি।যার ফলশ্রুতিতে ইসলাম প্রিয় এলাকাবাসী বিশেষ করে জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা চরমভাবে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে এবং প্রতিশোধস্বরূপ তারা ২১ জানুয়ারী সকালে জামিয়া হাফসা ও লাল মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গভর্নমেন্ট চিলড্রেন লাইব্রেরি দখলে নিয়ে নেয়। এভাবে তারা সরকারকে এবার্তা দেয় যে, তাঁরা যেন অমানবিক পন্থায় মসজিদ ধ্বংস করা থেকে নিবৃত্ত হয়।
    (রক্তাক্ত লাল মসজিদ পৃষ্ঠা নং ২০)

    কীভাবে কারা লাইব্রেরি দখল করেছিল
    • মসজিদ সমূহ যা কাবাতুল্লাহর অংশ এবং যা আল্লাহ তায়ালার আজমতের চিন্থ উহাকে শহীদ করার ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায়। ইসলামাবাদে একের পর এক ৭টি মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হয়। প্রতিটি মসজিদের শাহাদাত আমাদের অন্তরসমূহের উপর এক গভীর ক্ষত ও চিন্থ এটে দিয়ে যাচ্ছিল। আমরা দেখতে থাকলাম যে, মসজিদ সমূহের শাহাদাতের পর কিছুদিন তো পত্রিকা সমূহে, প্রেস কনফারেন্স, বিভিন্ন রেজুলেশন বা প্রস্তাবনা, বৈঠক এবং পরামর্শ সমূহ মিছিল বের হয় (ইত্যাদি)। কিন্তু আস্তে আস্তে মসজিদ সমূহের খবর সমূহ পত্রিকার পাতা সমূহ থেকে হারিয়ে যায় আর লোকেরা সবকিছু ভুলে নিজেদের কাজ সমূহ এবং ভোগ বিলাসে লিপ্ত হয়ে যায়।এই অবস্থার উপর আমরা ভিতরে ভিতরে ব্যথিত হচ্ছিলাম। চিন্তা করছিলাম যে, এই বেদ্বীন, নির্লজ্জ এবং অশ্লীলতার ভয়াবহতার সামনে বাঁধা দেওয়ার কোন রাস্তা তো হওয়া উচিত।
    ঐ বছরের শুরুতে এই হলো যে, প্রথমে তো আমাদের জামিয়া সাইয়েদা হাফসা (রাঃ) ক্রমাগত নোটিশ পেতে থাকল, অতঃপর ৮০ থেকে অধিক মসজিদ সমূহের একটি লিস্ট যেগুলো আল ইয়াজু বিল্লাহ (আল্লাহর পানাহ) শহীদ করে দেওয়া হবে।
    • মসজিদ এবং মাদ্রাসাসমূহকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে স্থীর করতে লাগলো, এবং আল্লাহর ঘর একজন জালেম নির্দেশদাতা ব্যক্তি অর্থাৎ পারভেজ মোশাররফের মনো বাসনা এবং হঠকারিতার বলি হতে লাগলো।৮০ এর অধিক মসজিদ সমূহের শাহাদাতের নাপাক উদ্দেশ্য আমাদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি শ্রদ্ধেয় পিতা মাওলানা আব্দুল্লাহ্ শহীদ রহঃ এর শাহাদাতের মতো মহা দুর্ঘটনার সময় ও মাওলানা এই অবস্থার সম্মুখীন ছিলেন না যে অবস্থা মসজিদে আমীর হামজা শহীদ হওয়ার পর মাওলানার উপর পতিত হয়েছিল। আমিও আব্বাজান রহঃ কে চোখের সামনে শহীদ হতে দেখেছিলাম। আমার সামনে আমার আব্বাজান মাওলানা আব্দুল্লাহ্ শহীদ রহঃ গুলিসমূহের দ্বারা চালনি করে দেওয়া হয়েছিল। আপনি অনুমান করুন যে, একজন মহিলা এক মেয়ে হওয়ার পর মাওলানা আব্দুল্লাহ্ শহীদ রহঃ এর মতো দয়ালু এবং মেহেরবান আব্বাজানের শাহাদাত আমার মন মস্তিষ্কের উপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু ঐসময় তো একথার আনন্দ ও শান্তনাও ছিল যে, আব্বাজানের শাহাদাতের মর্যাদা এবং সম্মান মিলেছে। কিন্তু মসজিদে আমীর হামজা শহীদ হওয়ার খবর আমাকে যে পরিমাণ দুঃখ দিয়েছে। মসজিদে আমীর হামজার বিক্ষিপ্ত ইটগুলো দেখে আমি যে পরিমাণ কেঁদেছি আব্বাজানের শাহাদাতেও হয়তো এপরিমাণ কাঁদিনি।
    ইসলামের নামে অস্তিত্বে আসা সম্মানিত দেশের মধ্যে দ্বীনি পরিমাণ এবং রেওয়াতমূহের যেরকম ভাবে জানাযা বের করা হচ্ছিল মসজিদে আমীর হামজার শাহাদাত ছিল উহার শেষ সীমানা। আমাদের অন্তরসমূহের উপর মসজিদে আমীর হামজার মতো ছয়টি কেয়ামত অতিবাহিত হয়েছিল। আমরা এই অপেক্ষায় ছিলাম যে, কোন তো ইবনে কাসেম জাগ্রত হবে যা কাবাতুল্লাহর মেয়েদের রক্ষা করার ফরজিয়্যাত আঞ্জাম দিবে। আমাদের এই কথার উপর পেরেশানি ও আফসোস হচ্ছিল যে, ভারতের বাবরি মসজিদের শাহাদাতের তো সারাবিশ্ব প্রতিবাদী হয়ে যায় কিন্তু ইসলামাবাদের মসজিদে ইবনে আব্বাস (রাঃ) সহ অন্যান্য মসজিদ সমূহের শাহাদাত উহার ধ্বংস স্তূপের নিচে দাফন হওয়া কুরআন মাজিদের নুসখা সমূহ মুসলমানদের ঈমানী আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করতে ব্যর্থ কেন?
    • যেদিন মসজিদে আমীর হামজাকে শহীদ করা হয় সেদিন আমি দুঃখ কষ্টের এক আশ্চর্যজনক অবস্থার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। আমার সারারাত ঘুম আসেনি। মাওলানা সাহেবের অবস্থা তো এমন ছিল যে, আমার তার উপর ভয় এসে গেল।সে ঐ রাতের শেষ প্রহরে মুসল্লায় হেঁচকি দিয়ে দিয়ে কাঁদতে ছিলেন। এটা ১/১/২৮ হিজরী অনুযায়ী ২১/১/০৭ ইং এর সকাল ছিল। আমি যখনই মাদ্রাসাই পৌঁছলাম তখন কিছু ছাত্রী আমার দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে আমার কাছে এসে বলতে লাগলো যে,আলিমিয়া (m.a) এবং আলিয়া (b.a) শ্রেণীর কিছু সিনিয়র ছাত্রীরা কিছু শিক্ষিকাদের সাথে মিলে নিজেদের রাগ গোস্বার বহিঃপ্রকাশ প্রতিবাদ স্বরূপ প্রতিরোধ করার জন্য মাদ্রাসার পাশের লাইব্রেরীকে প্রতিবাদের সময় দখল করে নেয়। এই অবস্থা আমার জন্য বড় পেরেশানি মূলক ছিল। আমি তৎক্ষণাৎ ঐ ছাত্রীদের নিকট পৌঁছলাম। যখন আমি তাদেরকে মাদ্রাসায় ফিরে আসার জন্য বললাম তখন তারা কান্না করতে লাগলো। পীড়াপীড়ি করে বলতে লাগলো:" আপা জান, এখন আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে আপনি গুনাহগার এবং অপারগ করিয়েন না। যদি আজও আমরা আল্লাহর ঘরের শাহাদাতের জন্য প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ না করি তাহলে আমাদের কলিজা ব্যাথার কঠিনতার কারণে ফেটে যাবে"।
    আমার হয়রান হয়ে গেলাম,এই ছাত্রীরা সাধারণ অবস্থায় আমার সামনে কথা পর্যন্ত বলতো না তারা আজ অন্তরের প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। তাদের কথা দ্বীনি,শরঈ, এবং আকলের বিবেচনায় যৌক্তিক ছিল। আমি ছয় পাঁচ (তথা দোদুল্যমান অবস্থা) এর মধ্যে পড়ে গেলাম। মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে তেনাকে অবস্থা সম্পর্কে অবগত করলাম এবং ছাত্রীদের অবস্থান তেনার কাছে বর্ননা করলে তিনি বললেন:" আমি আজ রাতে ইস্তেখারা করছিলাম, কিন্তু আমার কিছু বুঝে আসছিল না যে, মসজিদসমূহের শাহাদাতের এই ধারাবাহিকতা কীভাবে বন্ধ করা যায়। এখন এই বাচ্চারা যখন এই পদক্ষেপ নিয়েই ফেলেছে তাহলে হয়তো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইহার মধ্যে কোন কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে। আমি গাজী ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে তোমাকে জানাচ্ছি। মাওলানা সাহেব গাজী সাহেবের সাথে পরামর্শের জন্য চলে গেলেন। এরমধ্যে এই খবর প্রচার হয়ে গেল। সম্ভবত গাজী সাহেব মাসআলাটি বুঝা বুঝানোর মাধ্যমে হল/ সমাধান করার নিয়তে নিজেই ইন্তেজামিয়া(ব্যবস্থাপক/প্রশাসন) দের জানিয়ে দিয়েছেন।
    • অল্প সময়ের মধ্যে জেলার ব্যবস্থাপক অফিসাররা এবং রাওয়ালপিন্ডি ইসলামাবাদের ওলামায়ে কেরামগন আগমন করলেন এবং এমন মনে হল যেন কোন ভূমিকম্প এসেছে। আমাদের বাচ্চারা ওলামায়ে কেরাম এবং জেলার ব্যবস্থাপকদের কাছে পরিস্কার ভাবে নিজেদের দাবিসমূহ স্পষ্ট করে দিলেন, এবং অন্যান্য দাবিগুলোর সাথে এই দাবির উপর জোর দেয়া হলো যে,"যতক্ষণ পর্যন্ত শহীদ মসজিদ সমূহের নব নির্মাণ না করে দেওয়া হবে এবং যে মসজিদ সমূহকে শহীদ করে দেওয়ার লিস্ট তৈরি করা হয়েছে উহাকে প্রত্যাহার না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনভাবেই নিজেদের প্রতিবাদ শেষ করতে প্রস্তুত নই।"
    ছাত্রীদের এই দাবি সম্পূর্ণ শরঈ আইনি এবং সঠিক ছিল। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গ দেয়ার ফয়সালা করে নেই যে, ঠিক আছে এই বাচ্চারা তো নিজেদের উপকার ও প্রয়োজনের কথা বলছে না। আর না তাঁরা সড়কে/রাস্তায় বের হয়েছে বরং একটি সংরক্ষিত চার দেয়ালের মাঝে বসে জায়েজ এবং আইনি দাবি পেশ করেছে এজন্য তাদের তত্ত্বাবধান করা উচিত।
    • কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বাচ্চাদের এই জায়েজ এবং আইনি দাবি মেনে নেয়ার বিপরীতে প্রোপাগান্ডার আগুন জ্বালানো হলো।ধমকি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে কাজ নিতে শুরু করলো।গুলির ভাষায় কথা বলার ভয় শুনাতে লাগলো।৭ টি মসজিদ শহীদ করে সাতবার রেড অফ আল্লাহ তথা আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করার উপর যাদের সামান্য প্রভাব পড়েনি রেড অফ গনর্মেন্টের রেড লাগিয়ে দিল।৭ মসজিদ যা পবিত্রতার মারকাজ ছিল উহাকে শহীদ করা হলো কিন্তু এতটুকু প্রতিবাদের আওয়াজ উঁচু হয়নি যতটুকু লাইব্রেরী ইস্যুর উপর উঁচু হয়েছে।এক ছোট লাইব্রেরী যার কোন পবিত্রতা অর্জিত ছিল না এবং উহার কোন ক্ষতিও পৌঁছানো হয়ে ছিল না।উহাতে ছাত্রীদের প্রতিবাদ হওয়ায় আসমান মাথায় উঠানো হলো। ধর্মমন্ত্রী এজাজুল হক যার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত আমরা এটা মনে করতাম যে, তিনি মাদ্রাসা মসজিদের কল্যাণকামি এবং দ্বীনি মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে মুখলেছ সে আশ্চর্যজনক ধরনের মুনাফেকি পদ্ধতির কাজ শুরু করলো, এবং আমাদেরকে ট্রিপল ওয়ান(১১১) ব্রিগেডের আক্রমণের হুমকি দেয়া হলো।এই সমস্ত বিষয় আমি ব্যাথা চিন্তা এবং রাগ বৃদ্ধি করে দিল। অতঃপর এজাজুল হক অত্যন্ত চতুরতা ও চক্রান্তমূলক চাল চাললো, তাৎক্ষণিক করাচী গিয়ে আমাদের আকাবির ওলামায়ে কেরাম যাদের কে আমরা আমাদের মাথার তাজ এবং মাথার ছায়া মনে করতাম তাদের এই মাসআলায় প্রবেশ করিয়ে তাদের অসম্মানি এবং বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। এজাজুল হককে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যে, আকাবির ওলামায়ে কেরামের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ, জ্বলে উঠা/ক্রোধ, এবং টেনশনের পরিবেশকে খতম করে দেওয়া।
    সুতরাং এজাজুল হক ক্রেডিট নেয়া এবং নিজের মন্ত্রীত্ব বাঁচানোর জন্য এই মিশনে তৎপর হয়ে গেল। মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং আল্লামা গাজী শহীদ ওলামায়ে কেরামের কাছে অত্যন্ত আদবের সাথে দরখাস্ত পেশ করলেন যে, উনারা যেন তাৎক্ষণিক এই মুআয়ামালায় না জরান। কেননা হুকুমত তেনাদের সম্মান নষ্ট করা এবং আমাদের একা করে দেওয়ার দোধারী তরবারি দ্বারা কাজ নিচ্ছিল এবং ওলামায়ে কেরামগন কে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবের বয়ানগুলোর রেকর্ড বিদ্যমান রয়েছে যে, আমরা ঐ দিন থেকে এটা বলা শুরু করি যে,হুকুমতের সাথে আলোচনা করা শুধুমাত্র একটা ঢং ছাড়া আর কিছু নয়।...........(হাম পর কিয়া গুজরে:৯-১২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত)



    ​চলবে ইনশাআল্লাহ.......
Working...
X