লাইব্রেরি দখল পরবর্তী ঘটনা
"ইসলামাবাদের সাত শহীদ মসজিদ পুনঃনির্মানের দাবি:
ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবি নির্ভর আলোচনা মাওলানা আব্দুল আজিজ দীর্ঘকাল ধরেই করে আসছিলেন। কিন্তু এই আন্দোলন তখন দ্রোহের তপ্ত লাভার মতো বিস্ফোরিত হয় যখন ইসলামাবাদে একের পর এক সাতটি মসজিদ শহীদ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি মুড়ি রোডে অবস্থিত মসজিদে আমীর হামজাকে এই কথা বলে শহীদ করে দেওয়া হয় যে, রাস্তা সম্প্রসারনের কাজে তা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।সে সময় জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা সর্বসাধারণ মুসলমানদের থেকে বিশেষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন দেখতে না পেয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার মাঝে অবস্থিত সরকারি লাইব্রেরি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেয়।এই দখলকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে বেশ উচ্চবাচ্য হয়। অবশেষে যখন ইসলামাবাদের সহকারী কমিশনার ফেরাসাত আলী জামিয়া হাফসায় গোল টেবিল বৈঠকের জন্য আসে তখন ছাত্রীরা পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্যে নিম্ন লিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করে
শরীয়ত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহন
মাওঃ আব্দুল আজিজ সাহেব এর অর্ধাঙ্গিনী,উম্মুশ শুহাদা,উম্মে হাসসান শহীদ রহঃ, জামিয়া সাইয়েদা হাফসার ইততেমামের দায়িত্বশীল মুহতারামা আসমা বলেন:
পরিশেষে আমরা কুরআন সুন্নাহর আলোকে এই সমাধানে পৌঁছাই যে, এই সমস্ত মাসআলা সমূহের ভিত্তি ও মূল তো এটাই যে, ইসলামের নাম ও কালিমার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই রাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামী নেজাম বাস্তবায়নের জন্য মেহনত, প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এটা ঐ চেষ্টা প্রচেষ্টা যা বিগত ৬০ বছর থেকে ওলামায়ে কেরাম এবং দ্বীনদরদি ব্যক্তিবর্গগন করে আসতেছিলেন। এটা সেই প্রচেষ্টা ও মেহনত ছিল যে, যেটা করতে করতে আব্বাজান রহঃ নিজের জানের নজরানা পেশ করেছিলেন। এবং যেই ইসলামী নেজামের আওয়াজ উঠাতে উঠাতে মাওঃ আব্দুল আজিজ সাহেবের দাড়ি সাদা হয়ে গিয়েছে।লাল মসজিদ থেকে ইসলাম নেজাম বাস্তবায়নের আওয়াজ উঠতে লাগলো।
(হাম পর কিয়া গুজরে, পৃষ্ঠা নং:১৩)
শরীয়ত প্রতিষ্ঠার প্রায়োগিক রূপ
দুর্বার আন্দোলন, যুগোপযুগী সাহসী কিছু সিদ্ধান্ত
ছাত্র ছাত্রীদের দুর্বার আন্দোলন
(এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন "রক্তাক্ত লাল মসজিদ" বইয়ের ১৩-১৪ নং পৃষ্ঠায়)
আন্দোলনের ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল আজিজের দৃষ্টিভঙ্গি
২৪এ ফ্রেব্রয়ারি ২০০৭ এ অনুষ্ঠিত এক উপস্থিত আলিম উলামা ও ছাত্রদের সম্বোধন করে মাওলানা আব্দুল আজিজ বলেন:
চলবে ইনশাআল্লাহ......
"ইসলামাবাদের সাত শহীদ মসজিদ পুনঃনির্মানের দাবি:
ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবি নির্ভর আলোচনা মাওলানা আব্দুল আজিজ দীর্ঘকাল ধরেই করে আসছিলেন। কিন্তু এই আন্দোলন তখন দ্রোহের তপ্ত লাভার মতো বিস্ফোরিত হয় যখন ইসলামাবাদে একের পর এক সাতটি মসজিদ শহীদ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি মুড়ি রোডে অবস্থিত মসজিদে আমীর হামজাকে এই কথা বলে শহীদ করে দেওয়া হয় যে, রাস্তা সম্প্রসারনের কাজে তা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।সে সময় জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা সর্বসাধারণ মুসলমানদের থেকে বিশেষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন দেখতে না পেয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার মাঝে অবস্থিত সরকারি লাইব্রেরি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেয়।এই দখলকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে বেশ উচ্চবাচ্য হয়। অবশেষে যখন ইসলামাবাদের সহকারী কমিশনার ফেরাসাত আলী জামিয়া হাফসায় গোল টেবিল বৈঠকের জন্য আসে তখন ছাত্রীরা পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্যে নিম্ন লিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করে
- *পাকিস্তান সরকার মসজিদে আমীর হামজা সহ বিগত কয়েক বছরে শহীদ করে দেওয়া সবগুলো মসজিদ অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে পুনঃনির্মাণ করে দেবে। বাকি ১০ টি মসজিদের ধ্বংসের নোটিশ ফিরিয়ে নেবে। এছাড়াও অতিরিক্ত আরো ৮০টি মসজিদের যে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে তা-ও স্থগিত করা হবে। সর্বোপরি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এই মারাত্মক অপরাধের কারণে আল্লাহর কাছে এবং পুরো দেশবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হবে।
- *নারী অধিকারের প্রস্তাবিত বিলে অন্তর্ভুক্ত সকল শরিয়া বিরোধী ধারা উপধারা পুরোপুরিভাবে মিটিয়ে ফেলা হবে।
- *জিহাদের মতো পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামের বিধানের ব্যাপারে সরকারের ছত্রছায়ায় যত ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে,তা বন্ধ করা হবে।
- *পাকিস্তান ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।তাই অনতিবিলম্বে দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা জারি করা হবে এবং সবক্ষেত্রে শরীয়া আইন বাস্তবায়ন করা হবে।
(রক্তাক্ত লাল মসজিদ পৃষ্ঠা নং:৭-৮)
শরীয়ত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহন
মাওঃ আব্দুল আজিজ সাহেব এর অর্ধাঙ্গিনী,উম্মুশ শুহাদা,উম্মে হাসসান শহীদ রহঃ, জামিয়া সাইয়েদা হাফসার ইততেমামের দায়িত্বশীল মুহতারামা আসমা বলেন:
পরিশেষে আমরা কুরআন সুন্নাহর আলোকে এই সমাধানে পৌঁছাই যে, এই সমস্ত মাসআলা সমূহের ভিত্তি ও মূল তো এটাই যে, ইসলামের নাম ও কালিমার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই রাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামী নেজাম বাস্তবায়নের জন্য মেহনত, প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এটা ঐ চেষ্টা প্রচেষ্টা যা বিগত ৬০ বছর থেকে ওলামায়ে কেরাম এবং দ্বীনদরদি ব্যক্তিবর্গগন করে আসতেছিলেন। এটা সেই প্রচেষ্টা ও মেহনত ছিল যে, যেটা করতে করতে আব্বাজান রহঃ নিজের জানের নজরানা পেশ করেছিলেন। এবং যেই ইসলামী নেজামের আওয়াজ উঠাতে উঠাতে মাওঃ আব্দুল আজিজ সাহেবের দাড়ি সাদা হয়ে গিয়েছে।লাল মসজিদ থেকে ইসলাম নেজাম বাস্তবায়নের আওয়াজ উঠতে লাগলো।
(হাম পর কিয়া গুজরে, পৃষ্ঠা নং:১৩)
শরীয়ত প্রতিষ্ঠার প্রায়োগিক রূপ
মাওলানা আব্দুল আজিজ সে সময় শরীয়ত প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে ক্ষ্যান্ত ছিলেন না। বরং আপামর জনসাধারণের জন্য শরীয়ত প্রতিষ্ঠার প্রায়োগিক রূপ ও তুলে ধরেন।যা অতি সংক্ষেপে মূল আলোচনা মাওলানা আলী হাসান উসামা সাহেব এভাবে বলেছেন যে,
"শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার প্রায়োগিক রূপ
মাওলানা আব্দুল আজিজ লাল মসজিদের মিম্বার থেকে সকল ভয় ও বাঁধা উপেক্ষা করে দীর্ঘকাল যাবত তাগুতি শাসনব্যবস্থার বিপক্ষে এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আওয়াজ উচ্চকিত করে এসেছেন। তিনি তার আন্দোলনকে কেবল শহীদ মসজিদ পুনঃনির্মানের দাবিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং সেটাকে সামনে রেখে পূর্নাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠার দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এক্ষেত্রে নিজের সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করেছেন। মাওলানা আব্দুল আজিজ ইসলাম প্রতিষ্ঠার একটি প্রায়োগিক রূপও জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। যার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো নিম্নরূপ:
- *ইসলাম প্রতিষ্ঠা: সারাদেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
- *শরয়ী আইন কানুন: সকল আদালতে শরয়ী আইন কানুন কার্যকর করা হবে। বিচারকদের স্ব স্ব পদে আসীন রেখে নতুন করে "বিচারক কোর্স" করানো হবে এবং তাদের সাথে ভালো মুফতিদের নিয়োগ দেয়া হবে।
- *জুলুমের কর প্রত্যাহার: আমাদের দেশে বিভিন্ন রকম কর প্রদানের জন্য জনগণকে বাধ্য করা হয়। অনতিবিলম্বে এসব কর প্রত্যাহার করা আবশ্যক। সরকার যদি ভাবে যে,কর কমিয়ে আনাম কারণে তারা আর্থিক লোকসানের শিকার হবে তাহলে শাসকমন্ডলীর কর্তব্য হবে তাদের দৈনন্দিন জীবনধারাকে আরো সাদামাটা বানিয়ে আনা এবং অনাবশ্যক ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় খরচের খাতগুলো বন্ধ করে দেয়া
- ইসলামি দন্ড বিধি কার্যকর করা: দেশে চুরি, ডাকাতি,খুন এবং লুন্ঠনের ঘটনা সর্বোচ্চ মাত্রা ছুঁয়েছে।এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধ করার জন্য অনতিবিলম্বে শরয়ী দন্ডবিধি কার্যকর করা হবে।
- সুদ দূরীকরণ: আমাদের দেশের শরয়ী আদালত ইতিমধ্যে এ রায় দিয়েছে যে,দেশ থেকে সুদিব্যবস্থাকে দূর করতে হবে,এ রায়কে কার্যত মেনে নিয়ে দেশের সবগুলো ব্যাংক থেকে অনতিবিলম্বে সুদের নাম গন্ধও মুছে ফেলা হবে।
এছাড়াও তাতে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম সংযুক্ত ছিল। যেমন: মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ,গৃহহীন মানুষের আবাসের ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের জন্য শরীয়া নির্দেশিত নৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন, কারাবন্দীদের ব্যাপারে প্রস্তাব,অনৈসলামিক কার্যকলাপ রোধ, শিক্ষা উন্নয়ন, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সংশোধন, সুন্নাহর পুনর্জীবন বিভাগ প্রতিষ্ঠা,ফিকহি বোর্ড প্রতিষ্ঠা, প্রধান সড়কগুলোর পাশে সাধারণ বিশ্রামাগার নির্মাণ,মাইকের অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, জামাতের সাথে নামাজের বাধ্যবাধকতা, এবং স্টুডেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।
(রক্তাক্ত লাল মসজিদ পৃষ্ঠা নং:৯-১০)দুর্বার আন্দোলন, যুগোপযুগী সাহসী কিছু সিদ্ধান্ত
ছাত্র ছাত্রীদের দুর্বার আন্দোলন
লাল মসজিদ থেকে হওয়া এই আন্দোলনকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাওলানা আব্দুল আজিজ, আল্লামা গাজী আব্দুর রশীদ সহ আন্দোলনের শুরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা বিদগ্ধ আলিমগন এবং ছাত্র ছাত্রীরা সকলে মিলে অসাধারণ উদ্দ্যোগ নেয় এবং উল্লেখযোগ্য আদর্শিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।এই পদক্ষেপগুলো জনসাধারণকে মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করার ক্ষেত্রেও নিদারুণ ভূমিকা পালন রাখে। এব্যাপারে লাল মসজিদের ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের রচনাবলী ও অন্যান্য নথিপত্র সামনে রাখলে পুরো আন্দোলনের যে বিস্তারিত রূপরেখা সামনে আসে তা নিম্নরূপ:
- *লাল মসজিদ আন্দোলনের একটা নিয়মতান্ত্রিক শুরা কমিটি ছিল যাতে বিদগ্ধ আলিম ও বিজ্ঞ মুফতিরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের সত্যায়ন পাওয়ার পরই তা কার্যে পরিণত করা হতো।
- *লাল মসজিদের অভ্যন্তরে একটি ফতোয়া বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ছিল। যেকোনো শরয়ী সমস্যার সমাধান এবং জিজ্ঞাসার জবাব সেখান থেকে দেয়া হতো।
- *মানুষকে দ্বীনি মাসায়েল শিক্ষা দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র একটি বিভাগ ছিল।
- *সেখানে আলাদা বিচারবিভাগও ছিল, যেখান থেকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মানুষের বিবাদ ও মতানৈক্য পূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করা হতো।
- *আল ক্বাসিম ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক জনকল্যাণমূলক সংস্থা ছিল।যারা দুস্থ গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতো। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে তারা কয়েক কোটি ব্যয় করে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।
- *প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের স্বৈরতন্ত্রের অন্যতম প্রকাশ এ-ও ছিল যে, ইসলামের বিপ্লবী সৈনিকদের নিভৃতে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উঠিয়ে আনা হতো। এরপর তাদেরকে পুরোপুরি গুম করে ফেলা হতো। তাদের উপর নারকীয় তাণ্ডব লীলা চালানোর জন্য কিছু জিন্দানখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। সেগুলোতে রেখে তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হতো, বাইরের পৃথিবী ঘুনাক্ষরেও জানতে পারতো না এমানুষ গুলো কোথায় হারিয়ে গেছে এবং কোন অবস্থায় তাদের একেকটা দিন কাটছে।তারা আদৌ জীবিত আছে নাকি মরে গেছে। এধরনের নিখোঁজ মানুষের খোঁজ বের করার জন্য লাল মসজিদের পক্ষ থেকে ডিফেন্স কাউন্সিল অব হিউম্যান রাইটস নামক একটি সুবিন্যস্ত সংগঠনের গোড়াপত্তন করা হয় এবং তাদের আইনি সহযোগিতা প্রদানের জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় অসংখ্য নিখোঁজ মুজাহিদদের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তারা নিরাপদে নিজেদের ঘরে ফিরে আসে।
- *ইসলামি বিপ্লবের পথ সুগম করার জন্য তারা বইপত্র প্রকাশ করতো।
- *বিপ্লবীদের অধীনে স্বতন্ত্র ওয়েবসাইটও বানানো হয়েছিল।
- *এফ এমন রেডিওর যাত্রাও শুরু করা হয়েছিল। যার দ্বারা আন্দোলন সম্পর্কিত সংবাদ প্রচার করা হতো।
এই সবগুলো বিষয়ই এমন ছিল যা মুসলিম জনসাধারণকে মসজিদ ও মাদ্রাসা মুখি করতে ভালোরকম ভূমিকা রেখেছে।এর পাশাপাশি মাওলানা আব্দুল আজিজ ছাত্র আন্দোলনের প্রায়োগিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন।এই রূপরেখার ব্যাপারে কারো মতভিন্নতা থাকতে পারে তবে একথা নির্দ্বিধ স্বীকার্য যে, সকল দ্বীনি প্রচেষ্টা ও আন্দোলনকারীদের জন্য এতে রয়েছে উত্তম নির্দেশনা।
(রক্তাক্ত লাল মসজিদ: ১১-১২ নং পৃষ্ঠা)(এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন "রক্তাক্ত লাল মসজিদ" বইয়ের ১৩-১৪ নং পৃষ্ঠায়)
আন্দোলনের ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল আজিজের দৃষ্টিভঙ্গি
মাওলানা আব্দুল আজিজ কেন এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন? মিটিং মিছিল ও সমাবেশ মানববন্ধনের প্রচলিত সীমাবদ্ধ পরিসর ডিঙিয়ে অগ্রসরমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে কোন জিনিস তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল? আন্দোলনের সূচনালগ্নে একদিন জুমার আলোচনায় তিনি এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন তিনি বলেছিলেন:
"আজ আমাদেরকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।এই ভয়াবহতার কারণ হলো আমাদের ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যার প্রতিষ্ঠার জন্য ছয় লাখ মুসলমান নিজেদের বুকের তপ্ত খুন উৎসর্গ করেছিল,লাখো মুসলিম নারীর সম্ভ্রমহানি হয়েছিল কেবলই এই প্রত্যাশায় যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আজ দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর অতিক্রান্ত হয়েগেছে। কিন্তু অদ্যাবধি এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।দিনকেদিন সমস্যা শুধু বেড়েই চলেছে। নিত্যনতুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এসকল সমস্যা সমাধানের জন্য কনফারেন্স এবং রেজুলেশনর পন্থাই বেছে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘকাল পর্যন্ত এধারনাই লালন করা হয়েছে যে,এ সকল সমস্যার সমাধান এসব রেজুলেশনের মাধ্যমেই সম্ভাবিত হবে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবত এবাস্তবতা সুস্পষ্টভাবে সকলের সামনে প্রতিভাত হয়েছে যে,এসব কনফারেন্স সমস্যার সমাধানে কোন ভূমিকাই রাখতে পারে না এবং এসব রেজুলেশনেরও কোন কার্যকারিতা নেই। এসকল প্রচেষ্টা অবশ্যই আপন জায়গায় সঠিক এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সুদূঢ় প্রত্যাশা এই যে, তিনি এর বিনিময়ে যথাযোগ্য প্রতিদান দান করবেন। কিন্তু এব্যাপারটি একেবারেই সুস্পষ্ট যে, এসকল পদক্ষেপের দ্বারা উল্লেখ করার মতো কোনো প্রভাব পড়েনি।যে সকল আলিম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছেন,তারা সেখানে নিজেদের আওয়াজ উচ্চকিত করেছেন। কিন্তু তারও কোন প্রভাব সৃষ্টি হয়নি। বরং প্রতিদিন নিত্যনতুন সমস্যার দুয়ারই শুধু খুলেছে। ২৪এ ফ্রেব্রয়ারি ২০০৭ এ অনুষ্ঠিত এক উপস্থিত আলিম উলামা ও ছাত্রদের সম্বোধন করে মাওলানা আব্দুল আজিজ বলেন:
- আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করার আমরা আজ করিনি, বরং বিগত বছরের পর বছর এদাবি জারি রয়েছে। শ্রদ্ধেয় আব্বাজান রহঃ এর শাহাদাতের প্রেক্ষিতেও সেদিন আমি এই আওয়াজ তুলেছিলাম যে, আমি কোন একক ব্যক্তিকে আব্বাজানের ঘাতক মনে করিনা। বরং প্রকৃত ঘাতক তো সেই সাম্রাজ্যবাদী শাসনব্যবস্থা, আল্লাহর আইনের মোকাবেলায় যা এখানে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।এই জন্য যদি আমার লড়াই হয় তাহলে সেটি শাসনব্যবস্থার সাথেই আমার লড়াই হবে।আজ যেসকল সুরিদয় এই অভিযোগ আরোপ করছে যে, আমরা এজেন্সিগুলোর রিমোর্টে পরিচালিত হচ্ছি তাঁরা আমার পূর্বের বক্তৃতাগুলো শুনে নিন।এসব বক্তৃতাই সাক্ষ্য দেবে যে, সাম্রাজ্যবাদী শাসনব্যবস্থার বিপক্ষে আমি সে সময় থেকেই কথা বলে আসছি। আফগানিস্তানের উপর যখন হামলা হলো তখনও আমি একথাগুলোই বলেছি।ইরাকের উপর যখন আক্রমণ করা হলো তখনো আমি সুউচ্চ কন্ঠে একই আওয়াজ বুলন্দ করেছি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ওয়াজিরিস্তানে হামলা করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল এবং তালেবান আল কায়েদা সহ অন্য সব মুজাহিদরা বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল তখনো আমি একই কথা বলে এসেছি।"
এসকল বক্তব্য পড়লে এবং মাওলানার পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের জন্য প্রণীত রূপরেখা সামনে রাখলে এফলাফলে পৌঁছতে বেগ পেতে হয় না যে, তিনি আমাদের উপর জোরপূর্বক আপতিত কুফরী শাসনব্যবস্থার কেবল শাখাগত সংশোধনের আহ্বায়ক ছিলেন না, বরং তিনি প্রচলিত এই ব্যবস্থার মূলোৎপাটনের পক্ষপাতী ছিলেন। মাওলানার এই অবস্থানকে অনেক উল্লেখযোগ্য আলিমও সমর্থন করেছেন এবং তারা তাকে সাহায্য করার অঙ্গীকারও দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বইপত্রে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণকারি যেসব আলিমের নাম উল্লেখিত হয়েছে তাদের মধ্যে মুনাজিরে আযম মাওলানা সরফরাজ খান সফদর,শাইখুল মাশায়িখ মাওলানা সায়্যিদ মাহমুদ চন্দলবাবাজি, মাওলানা ডঃ শের আলী শাহ,শাইখুল হাদীস মাওলানা নুরুল হুদা করাচি, হযরত মাওলানা আব্দুল করিম কলাচওয়ি, মাওলানা পীর আব্দুর রহিম নকশবন্দি, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম হক্কানী, মাওলানা সাইফুল্লাহ হক্কানী,শাইখুল হাদীস মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ ফরিদ সহ আরো অনেক বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বিদগ্ধ আলিমের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এসকল আল্লাহ ওয়ালা হক্কানী আলিমগনের কীর্তি হলো তারা জিহাদি আন্দোলন গুলোকে নিজেদের নিন্দা ও সমালোচনার লক্ষবস্তুত বানাননি বরং উল্টো সেগুলোর তত্ত্বাবধান করে মুজাহিদদের সাহস সঞ্চার করেছেন এবং আল্লাহর পথের সৈনিকদের জন্য সর্বদা দুয়া অব্যাহত রেখেছেন।
(রক্তাক্ত লাল মসজিদ:১৫-১৭ নং পৃষ্ঠা)চলবে ইনশাআল্লাহ......
Comment