আন্টি শামীমের ঘটনার ইতিবৃত্ত
লাল মসজিদের নিকটে আন্টি শামীম নামে একজন পতিতা নারী ১০ বছর যাবত দেহ ব্যবসার কাজ করে আসছিল। (রক্তাক্ত লাল মসজিদ, পৃষ্ঠা নং:২১)
- "অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতার আবর্জনা নিঃশেষ করার লড়াইয়ের সময়ে ইসলামাবাদে অবস্থিত সেক্টর g/6 এর বাসিন্দাগন এসে সেক্টর g/6 এ অবস্থিত অশ্লীলতার এক আড্ডাখানার ব্যাপারে নিজেদের অসহায়ত্ব ও দুর্দশার ব্যাপারে অবগত করলো এবং বর্ননা করলো যে, " এই আড্ডা জামানার বদনাম এক নায়িকা (নায়িকা শব্দের অর্থ হচ্ছে:বেশ্যাদের সর্দার) চালাচ্ছে।এর কারণে আমাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে গেছে। আমাদের ছেলে মেয়েরা পথভ্রষ্টতার কঠিন ভয়ে দোদুল্যমান। কিন্তু প্রশাসন তার ও গভীরতার কারণে ঐ নায়িকার উপর হাত উঠাতে নারাজ। আপনি উহার কোন বন্দোবস্ত করুন।"
- "আমাদের শিক্ষিকাগন একবার তাকে সংশোধনের জন্য তার আস্তানায় দাওয়াত দেওয়ার জন্য তার আস্তানায় গেলেন। তাকে বুঝালেন আল্লাহ তায়ালার ভয় ও আখেরাতের ফিকিরের দরস দিলেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসলেন না।"(হাম পর কিয়া গুজরে, পৃষ্ঠা নং:১৭)
জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা আন্টি শামীমের কাছে গিয়ে তাকে উদাত্ত আহ্বান জানায়,সে যেন এসব জঘন্য কাজকর্ম ছেড়ে সুপথে ফিরে আসে। কিন্তু তাদের মার্জিত আহ্বানের জবাবে সেই পতিতা নারী তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদেরকে অপমান করে সেখান থেকে বের করে দেয়। ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে সেসময় মাদ্রাসা ফিরে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন জানা যায় যে, সেই নারী এলাকাবাসীকে ভীষণ রকম জালাচ্ছে তখন পরবর্তী দিন ২৭ মার্চ ২০০৭ তারিখে পুনরায় ছাত্রীরা তার ঘরে গিয়ে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে এবং এই দ্বিতীয় বার ছাত্রীরা গেলেন এবং চূড়ান্তভাবে তাকে এই খারাপ ধান্দা ছেড়ে দিতে বললেন।তাকে এই কুকর্ম অনতিবিলম্বে পরিত্যাগ করার জন্য আদেশ করে। এবার সেই দেহপসারিনি নারী শুধু গালিগালাজেই সীমাবদ্ধ থাকল না; বরং তখন সে অগ্রগামী হয়ে ছাত্রীদের উপর ছুরি হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।তার ক্রমাগত আঘাতে একজন ছাত্রী মারাত্মক আহত হল। বাধ্য হয়ে অন্যান্য ছাত্রীরা আন্টি শামীমকে গ্রেফতার করে । তখন জামিয়া হাফসার
- " ছাত্রীরা তাকে এই ভেবে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে যে, মাদ্রাসার পরিবেশে হয়তো তার সংশোধন হয়ে যাবে এবং g/6 এর বাসিন্দারা তার খারাবতা থেকে মুক্তি পাবে।ঐ নায়িকা কয়েক দিন আমাদের মাদ্রাসায় থাকল। আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে তার সাথে ভালো করে বিশেষভাবে নম্রতার ব্যবহার করলাম।তার আরামের বিশেষ খেয়াল রাখলাম। কেননা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল তার সংশোধন। তিনি একদিন বললেন যে, আমি নিজের ঘৃনার কাজ থেকে তাওবা করতে চাই। আমরা বললাম অনেক ভালো। এরপর তিনি মিডিয়ার সামনে তাওবা করার ঘোষণা দেন তখন আমরা তাকে ছেড়ে দেই। আন্টি শামীমের মোকাবেলার কার্যক্রম আমাদের প্রতিবাদের একটি ধরন ছিল যা সফল হয়। যদি এই কার্যক্রম না করা হতো তাহলে সম্ভব ছিল যে, আমাদের দাবি সমূহ প্রশাসনের লোকদের কাছে তোতার বুলি প্রমাণিত হতো। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ এই এক ঘটনার পর প্রশাসনের লোকেরাই নিজে থেকে অশ্লীলতার অগনিত কেন্দ্র মাওঃ গাজি আব্দুর রশীদ গাজি শহীদ রহঃ এর চিন্থিত করে দেওয়ার কারণে বন্ধ করে দিয়েছিল এবং আন্টি শামীমের মতো অগনিত ব্যক্তিরা নিজ থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে।"(হাম পর কিয়া গুজরে, পৃষ্ঠা নং:১৭-১৮)
আন্টি শামীম ঘটনা পরবর্তী অবস্থা
- "এরপর আমরা নিজেদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা জারি রাখি শরীয়ত বাস্তবায়ন এবং অশ্লীলতা বন্ধের রেফারেন্সে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে নিজেদের অবস্থান পেশ করতে থাকি । কিন্তু বিভিন্ন ছলনা ও কৌশলে আমাদের সংকীর্ণ করতে লাগলো এমনকি তো লাল মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত শত শত উলামা তলাবাদেরকে গ্রেফতার করা হলো। কিন্তু কোন গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এতটুকু প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে আমাদের শিক্ষিকা ও বাচ্চাদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া এতো কঠিন একটা মুয়ামালা ছিল যে,ঐসময় আত্মমর্যাদা বোধের তাকাজা/ চাহিদা এই ছিল যে,এই ঘটনার ক্ষেত্রে কঠিন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হোক। সুতরাং শিক্ষিকাদের ছাড়ানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের জিম্মি বানিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেরাই সাক্ষী দেক যে, তাদের সাথে কেমন সদাচারণ প্রকাশ করা হয়েছে। এবং যখন আমাদের বাচ্চাদের মুক্তি লাভ হয়েছে তখন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাহরিকে তলাবা ওয়া তলিবাত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলতে থাকে। আমাদের চেষ্টা এটা ছিল যে, ইসলামের নামে অর্জিত হওয়া আল্লাহ প্রদত্ত রাষ্ট্রে পবিত্র করনের কাজ চালু থাকুক। আমরা বারবার প্রশাসনের লোকদের সাথে যোগাযোগ করেছি যে, অশ্লীলতার কেন্দ্রসমূহ বন্ধ করে দেয়া হোক। কিন্তু প্রশাসনের সর্বদা উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।"
শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
১০ রবিউল আউয়াল মোতাবেক ৩০ মার্চ লাল মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব তার আলোচনায় সরকারকে এক সপ্তাহের সুযোগ দিয়ে বলেন:
- "আপনারা এই এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবেন। অন্যথায় আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য শরীয়া প্রতিষ্ঠা কনফারেন্সে আমরা নিজেরাই শরয়ী আইনকানুন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে দেব।"
সেদিন মাওলানা ডঃ শের আলী শাহ সাহেবও লাল মসজিদে বক্তৃতা করেছিলেন এবং তিনি তার বক্তৃতায় মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এরপর পরবর্তী জুমার দিন অর্থাৎ ১৭ রবিউল আউয়াল মোতাবেক ০৬ এপ্রিল ২০০৭ (এখানে মূল বইয়ে ১৬ এপ্রিল লেখা আছে। তবে খুব সম্ভব এটি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এবং ইলেকট্রনিক কোন ত্রুটির কারণে হয়তো হয়েছে। কারণ ১০ রবিউল আউয়াল ৩০ মার্চ হলে পরের সপ্তাহে ১৭ রবিউল আউয়াল ০৬ এপ্রিল। সন্দেহাতীতভাবে তারিখ এটাই হবে) তারিখে লাল মসজিদে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা কনফারেন্সে হয়। সেখানে মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বলেন:
- আজ থেকে লাল মসজিদ, জামিয়া হাফসা, এবং দখলকৃত লাইব্রেরী অভ্যন্তরে শরীয়াহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।আর আল্লাহ চাইলে এর পরিধি বৃদ্ধি হতে থাকবে।
- "জমিন আল্লাহর।এ জন্য এর উপর একমাত্র আল্লাহর আইনই চলবে।যেসব লোক এখানে আল্লাহর আইনের খেলাফ শাসন প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে, তারা আল্লাহর রাজত্বের মধ্যে নিজেদের বাতিল রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। আমরা ঘোষণা করছি আল্লাহর জমিনে একমাত্র আল্লাহর শাসনই চলবে এবং তারই রাজত্ব থাকবে।"
- "আপনারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র ছাত্রীদের এই আন্দোলনে সঙ্গ দিন এবং নবীনদের তত্ত্বাবধান করার নিমিত্তে অগ্রসর হোন।"
এই প্রতিষ্ঠিত শরীয়াহ আদালত থেকে অনেককে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করা হয়েছে। অনেক গুম হওয়া ব্যক্তিদের
- "এটক শহরে ৮ বছরের এক শিশুকে কিছু লোক অপহরণ করে নিয়ে জিম্মি করে রেখেছিল। শিশুর বাবা লাল মসজিদের শরয়ী আদালতে তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য বিচার প্রার্থী হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকের ফয়সালাক্রমে পাঁচজন ছাত্রের একটি ক্ষুদ্র দল গিয়ে অপহরণ কারীদের সাথে কথা বার্তা বলে শিশুটিকে ছুটিয়ে আনে। এরপর সেই শিশুকে জামিয়া হাফসার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চলবে ইনশাআল্লাহ......