একটি ফতোয়া অতঃপর
==================
মুফতীী আজম মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী রহঃ বলেন:
উপরোক্ত ঘটনার আমরা সেই সূত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পেয়ে গেছি। সেটা এভাবে যে,সেই সূত্রটি হচ্ছে: পাকিস্তান সরকার ইসলামী সরকার।কারণ ইসলামী সরকার না হলে কেউ বিদ্রোহী কীভাবে হয়? আর এই বিদ্রোহীকেই শরয়ী পরিভাষায়:বাগী বলা হয়।আর এই সূত্রের কারণে ৭১ এর তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বাঙালি ছাত্রদের সাথে উপরোক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
চলবে ইনশাআল্লাহ....
==================
- ৭১ সালের তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বাঙালি ছাত্রদের সাথে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল যে, সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেই সূত্র ধরে ঘটেছিল সেসময়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সেই একই সূত্রের আলোকে ঘটে গেছে আরো অনেক ঘটনা। আজ এতকাল পরেও ঐ সূত্র ধরেই ঘটে চলেছে আরো নানা ঘটনা।
- ১. প্রতিটি ক্ষেত্রে একই সূত্র।
- ২. প্রতিবারই সেই সূত্রের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
- ৩.যেই অধিকাংশের কথা আমরা বারবার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করি।সেই অধিকাংশ আলেমদের বিপরীতে প্রতিবার এই সূত্রের বরাতে মতামত দেয়া হয়েছে।
- ৪.একই প্রতিষ্ঠান, একই পরিবার এবং সরকারের পক্ষাবলম্বন।
সামনের আলোচনা গুলোতে উপরোক্ত পয়েন্ট গুলো বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এবার তাহলে দেরি না করে সেই সূত্র ও সূত্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জেনে নেয়া যাক ইনশাআল্লাহ।
মূল ঘটনা- ৭১ এর তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বাঙালি ছাত্রদের সাথে কিছু প্রতিষ্ঠান কঠোরতা অবলম্বন করেছিল।
মুফতীী আজম মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী রহঃ বলেন:
- "এই সময়ে পাকিস্তানে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে বাঙালি ছাত্রদের সাথে কঠোরতা দেখানো হয়েছিল। এর মধ্যে দারুল উলুম করাচি অন্যতম।তখনো হযরত মুফতী শফি বেঁচে ছিলেন।আমার সরাসরি জানা তথ্য থেকে আমি আপনাদের বলবো। অন্যকোন জায়গা থেকে আমি বর্ননা উল্লেখ করবো না।দারুল উলুমে কিছু ছাত্র ভাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।তারা অবসরে হয়তো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতেন। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অবহেলা, জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায় নীতি, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায় আসতে না দেওয়ার অসহিষ্ণু প্রবনতা এসব নিয়ে পড়াশোনার ফাঁকে হয়তো তাঁরা গল্প করতেন। কোনভাবে এই খবর মাদ্রাসা কমিটির কানে চলে যায়।আগেই বলেছি ততদিনে পাকিস্তানি আমজনতা ও শিক্ষিত সমাজ সবাই বাঙালি জনতাকে ভুল বুঝে বসেছিলেন।অন্ধ আক্রোশে ফেটে পড়ছিলেন সবাই। মাদ্রাসা কমিটিও এই অনুভূতির বাইরে ছিলেন না।
তারাও ছাত্রভাইদের এই বিষয়গুলো ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে গাদ্দারি ভেবে বসেন। দফায় দফায় মিটিং হয়ে সবশেষে তাদের বিদায় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়,যা ছিল খুবই দুঃখজনক ছিল।বিশেষত ইসলামী ভাবধারার প্রতিষ্ঠান থেকে হুট করে এমন সিদ্ধান্ত কখনোই কাম্য ছিল না। সম্ভবত সকল ছাত্রভাইকেই তারা রাষ্ট্র বিরোধী চিন্তা ভাবনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ এনে বিদায় করে দেন।সময়টি কত কঠিন ছিল, একবার চিন্তা করুন। দেশে যুদ্ধ চলছে। এদিকে বছরের মাঝামাঝিতে প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায়। আবার পুরো পাকিস্তানি জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছেন। বাঙালি মাত্র নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতসব পরিস্থিতির মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে গেলে মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, ভাবতে পারছেন!
- আমি তখন নিউটাউনে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছি।এই দুঃখজনক খবরটি হঠাৎই একদিন কানে এলো। এরপর শুনলাম আরো একটি বিমর্ষ হওয়ার মতো সংবাদ।বানুরি হযরতকেও নাকি মুফতী শফি সাহেবের পক্ষ থেকে একজন সিনিয়র শিক্ষক ফোনকল দিয়েছিলেন। তিনি বানুরি সাহেবকেও নিউটাউনের সকল বাঙালি ছাত্রভাইকে বিদায় করে দিতে অনুরোধ করেছেন! কি সাংঘাতিক ভয়ানক সংবাদ! আমি তো শুনে পায়ের নিচের মাটির কাঁপন অনুভব করছিলাম।কত ত্যাগ,কত কষ্ট সয়ে এখানে আসে আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা।হুট করে বিদায় হয়ে গেলে তারা কোথায় যাবে? নিজেকে নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম কিছুটা। সবাই অপেক্ষায় ছিল সেদিন।বানুরি সাহেব কি সিদ্ধান্ত দেন তার উপর নির্ভর করছে তাদের সবার ভবিষ্যৎ।
- অবশেষে বানুরি সাহেব তেনার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী সাহসী সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন: আমার এখানে আপনারা যারা দূর থেকে এসেছেন,এই বিপদের দিনে আমি কাউকে হতাশ করবো না। আমি জানি মাতৃভূমিকে আপনারা ভালবাসেন, মাতৃভাষায় কথা বলতে পছন্দ করেন। এটা তো একটা ফিতরাত।এই চাওয়াগুলো নিয়ে আমি আপনাদের কখনোই দোষারোপ করতে পারিনা।আর ইসলামী আইনে বিদ্রোহের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে এই পাকিস্তান ইসলামের জন্য ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী আইনও সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।করার চেষ্টাও করেনি একের পর এক ক্ষমতা বদল করে যাওয়া সরকারগুলো।ফলে আক্ষরিক ও প্রায়োগিক অর্থে পাকিস্তান ইসলামী রাষ্ট্র বলার সময় মনে হয় এখনো আসেনি।তাই ইসলামী আইনের পরিভাষায় পাকিস্তানি শাসক ও রাষ্ট্রের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আলোচনাকে আমি বিদ্রোহ হিসেবে গ্রহণ করবো না। কখনোই না।....
- অর্থাৎ এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম মুফতী সাহেব তৎকালীন পাকিস্তানের বিরোধিতাকে শরয়ী বিদ্রোহ মনে করতেন।যার কারণে দারুল উলুম থেকে ছাত্র ভাইদের বিদায় করা হয়েছিল।আর আল্লামা বানুরি এই বিরোধীতাকে রাজনৈতিক মনে করতেন।ফলে দুজনের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হয়েছিল। এখানে বলে রাখি, পাকিস্তানের অন্যান্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানও কোন ছাত্র ভাইকে বিদায় করেনি।সবাই আল্লামা অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
(আত্মজীবনী:১৪৩)
উপরোক্ত ঘটনার আমরা সেই সূত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পেয়ে গেছি। সেটা এভাবে যে,সেই সূত্রটি হচ্ছে: পাকিস্তান সরকার ইসলামী সরকার।কারণ ইসলামী সরকার না হলে কেউ বিদ্রোহী কীভাবে হয়? আর এই বিদ্রোহীকেই শরয়ী পরিভাষায়:বাগী বলা হয়।আর এই সূত্রের কারণে ৭১ এর তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বাঙালি ছাত্রদের সাথে উপরোক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় ঘটনা:
জনতার জায়গায় মসজিদ প্রসঙ্গ(শিরোনাম)
- এই ঘটনা সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা উল্লেখ করা হয়েছে।তাই শুধু পয়েন্টগুলো উল্লেখ করছি
- ১.এখানেও একই সূত্র পাকিস্তান ইসলামী রাষ্ট্র মুফতী তাকি সাহেব মনে করেন।
- ২. এবারও সেই সূত্রের কারণে সরকারের পক্ষ অবলম্বন করার ও দারুল উলুম করাচির নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
- ৩.যেই অধিকাংশের কথা আমরা বারবার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করি।সেই অধিকাংশ আলেমদের বিপরীতে এবারও এই সূত্রের বরাতে মতামত দেয়া হয়েছে।
- ৪.একই প্রতিষ্ঠান,একই পরিবার এবং এখানেও সেই সরকারের পক্ষাবলম্বন।
চলবে ইনশাআল্লাহ....