২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭৯। সকাল হতে না হতেই সারা বিশ্বে ছড়িলে পড়ল একটি খবর। আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছে। সেই যে অশান্ত হলো বিশ্ব, এরপর আর কখনো শান্তির দেখা মেলেনি। জুময়ার খুতবায় উচ্চকিত হলো প্রতিবাদের তীব্র ধ্বনি। মুসলিমবিশ্বজুড়ে কত সেমিনার, কনফারেন্স আর সমাবেশ-মহাসমাবেশের আয়োজন হলো। পত্রিকা, ম্যাগাজিন আর সংবাদমাধ্যমে কত লেখালিখি হলো। সবাই একযোগে আফগান জিহাদের কথা বলতে শুরু করল। দিকে দিকে ধ্বনিত হতে লাগল ‘হাইয়া আলাল জিহাদ’ (এসো জিহাদের দিকে) আর ‘ইয়া খাইলাল্লাহ, ইরকাবি’ (হে আল্লাহর সৈনিক অশ্বারোহণ করো)-এর প্রতিধ্বনি।
শায়খ উসামা রহ.-ও আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সংবাদ জানতে পারলেন। এর কিছুদিন পর ১৯৭৯ সালের শেষদিকেই পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর সাথে তিনি যোগাযোগ করেন এবং একটি অনুসন্ধানী সফরে পাকিস্তান আসেন। লাহোরে গিয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমীরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার কাছে শায়খ রহ. বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান প্রদান করে তা মুজাহিদ নেতৃবৃন্দের কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। জামায়াতে ইসলামীর আমীর শায়খকে ওয়াদা দেন, তিনি অবশ্যই মুজাহিদদের কাছে তাঁর সাহায্য পৌঁছিয়ে দেবেন।
গুলবুদ্দিন হেকমতইয়ার, সাইয়াফ, রব্বানী প্রমুখ ব্যক্তিরাই তখন আফগান জিহাদের প্রসিদ্ধ নেতা। শায়খ উসামা রহ.-এর কাছে এ নামগুলো অপরিচিত ছিল না। কারণ, তাদের অনেকেই হজের মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন সময় শায়খের পিতার মেহমানখানায় আসা-যাওয়া করতেন। শায়খ উসামা রহ. তার এই সফরের বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখতে চাচ্ছিলেন। কেননা, তখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধের ব্যাপারে সৌদি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না।
শায়খ রহ. বলেন—
‘তাহদীস বিন নি’মাহ (আল্লাহ তাআলার নেয়ামত বর্ণনা করা) এবং মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য বলছি, আমার ওপর আল্লাহ তাআলার বড় একটি অনুগ্রহ হলো, ১৩৯৯ হিজরীতে যখন শুনতে পাই, মুসলমানদের ভূমি আফগানে সোভিয়েত রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছে। আফগানে থাকা আমার মুসলিম ভাইদের সাহায্য করার জন্য তখনই পাকিস্তানে যাই। এরপর পাকিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত করতে থাকি, একপর্যায়ে আল্লাহ তাআলা আমাকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করার সৌভাগ্য দান করেন।’ (মা’সাদাতুল আনসার: ইসাম দারায)
Comment