এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি বিন লাদেন কোম্পানির দায়িত্বে থাকা তাঁর ভাইদের থেকে সহায়তা নেন। তারা খনন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ট্রাক, বুলডোজার ও জেনারেটর পাঠিয়ে ব্যাপক সাহায্য করেন। এ ব্যাপারে শায়খ উসামা রহ. বলেন—
‘আফগান-সফর থেকে ফেরার পর সেখানকার মুজাহিদদের জন্য সুরঙ্গ ও রাস্তার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমি আরও নিশ্চিত হই। সেখানে রাস্তাঘাট নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে, সেগুলোও সংকীর্ণ। বিমানহামলা থেকে দূরে পাহাড়ে নিরাপদ অস্ত্রের গুদাম, আহতদের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশ্রামাগার তৈরির জন্য সুড়ঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করার সাথে সাথেই কিছু মানুষের বাধার সম্মুখীন হই। তারা সাধারণ কোনো মানুষ ছিলেন না, সবাই জিহাদ ও ইসলামকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তারপরও তারা বাধা দিয়েছিলেন। কারণ, মুসলিমরা আমেরিকা ও রুশ কাফেরদের প্রোপাগান্ডায় প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত ছিল। তারা মনে করত, কাফেররা খুবই শক্তিশালী, তাদের পরাজিত করা সম্ভব না, তাদের অনেক অস্ত্রশস্ত্র আছে, গোয়েন্দা বাহিনী আছে ইত্যাদি। এগুলোর অধিকাংশই ছিল অতিরঞ্জিত ধারণা। এই প্রোপাগাণ্ডায় যদি আমি প্রভাবিত হয়ে যেতাম, তাহলে আমার পক্ষেও কিছু করা সম্ভব হতো না।
তাই প্রথমে আমাকে বলা হলো, “তুমি এতসব ভারী সরঞ্জাম সৌদি থেকে বের করবে কীভাবে? এরপর বলা হলো, “এগুলো পাকিস্তানে প্রবেশ করাবে কীভাবে?” তারপরে বলা হলো, “তুমি যেখানে কাজ করবে (জাজি), সেখানে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা মুজাহিদদের সহযোগিতা করতে চায় না। তারা শত্রুর কাছে গোপনে তথ্য পাচার করে। তুমি তো কোনো সাধারণ সাইকেল নিয়ে যাচ্ছ না। এই একেকটি যন্ত্রই তো ট্যাঙ্কের মতো বিশাল। বিশাল বিশাল এই যন্ত্র নিয়ে ঢোকার সাথে সাথে দেখবে বিমান এসে সেটা উড়িয়ে দেবে।” আমি বললাম, “আল্লাহর কসম! যদি সত্যিই এমন হয়, তবু আল্লাহ তাআলার সামনে তো বলতে পারব, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।” কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে সবকিছু খুব সহজেই হয়ে গিয়েছিল। সৌদি থেকে সরঞ্জামগুলো বের করে আফগানিস্তানে প্রবেশ করানো এবং এখানে [জাজি] পৌঁছানো পর্যন্ত সবকিছু আল্লাহ তাআলাই সহজ করে দিয়েছেন। আমরা মুজাহিদদের নামে সৌদি রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে এগুলো প্রবেশ করিয়েছিলাম।’
অবশেষে শায়খ রহ. সশরীরে কাজ শুরু করেন। রাস্তা, বাঙ্কার ও গুহা তৈরির কাজ শুরু হয়। ১৯৮৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি কিছু ভাইকে এ কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাছাই করেন। তাঁরা জাজি’র একটি জায়গায় নিজেদের ঘাঁটি গড়ে তোলেন। এর নাম দেওয়া হয় ‘আল-আরীন’ [সিংহের গুহা]। এভাবেই এই গল্পের সূচনা হয়।