দৈনিক "ইসলাম" এর প্রতিবেদন
লাহোরের দৈনিক পত্রিকা "ইসলাম" এর মধ্যে বিষয়বস্তু লেখা হয় "লাল মসজিদের ভিতরের প্রতি মুহূর্তের ঘটনা" এই বিষয়বস্তুর মধ্যে লেখা হয়
- "২ জুলাই সোমবার দিন ২০০৭ মোতাবেক ১৬ই জুমাদাস সানি ১৪২৮ হিজরী এর তৃতীয় প্রহরে যখন চারটা বাজে মসজিদের ভিতরে অবস্থিত দারুল ইফতায় মসজিদের আহবাবদের বৈঠক চলছিলো। মাহফিলের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করছিল গাজী আব্দুর রশিদের আওয়াজ ওই নীরবতাকে ভেঙে দিল সে বলতেছিল হুকুমতের অন্তর্ভুক্ত কিছু গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে এবং জানা গেছে যে আজ রাতে লাল মসজিদে অবরোধ করা হবে। আল্লামা গাজী আব্দুর রশিদ এতোটুকু বলে চুপ হয়ে গেলেন এরপরে কয়েক মিনিটের জন্য মজলিসের উপর নীরবতা ছেয়ে গেল। অতঃপর এক দিক থেকে গম্ভীরভাবে আওয়াজ আসল এই সংবাদ কি পাক্কা। (উত্তরে বলা হলো) বিলকুল পাক্কা।
গাজীর জবাবের পর মজলিসে আবার নিরবতা ছেয়ে গেল। কিছু সময় পর একই সাথে কয়েকজনের আওয়াজ হল, আমরা মসজিদ ও মাদ্রাসা সমূহের মর্যাদা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত বাস্তবায়নের কথা বলছি। নিজেদের রাষ্ট্রের লোকদের সাথে লড়াই করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এই পরিমাণ কথার পরে আওয়াজ সমূহ থেমে গেল তখন আল্লামা গাজী শহিদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন আমরা লড়াই কিভাবে প্রতিহত করব? কার সাথে কথা বলবো? হুকুমাতের অন্তর্ভুক্ত আমাদের আহবাবরা এক্ষেত্রে অসহায়।
- বড় আলেমগন প্রথমেই আমাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন তাদের সাথে কথা বলে কি ফায়দা?। যদি এই লোকেরা আমাদের এই সত্য দাবির সাথে প্রথম দিন থেকেই সাথে থাকতেন তাহলে তো এই সুযোগই আসতো না। পরিপূর্ণ না হোক আমাদের দাবির কিছু না কিছু তো কার্যকর অবশ্যই হতো। তবে হ্যাঁ আমি তো আমিরের আনুগত্য ছাড়া কোন কিছু অধিকার রাখিনা। এখন মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব যেভাবে বলেন।
অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল এবং কিছু সিনিয়র আহবাব মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবের কাছে গেলেন এবং সমস্ত অবস্থা বয়ান করলেন। মাওলানা বললেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হুকুমতের প্রধান এত নিষ্ঠুর দিলের অধিকারী না, কেননা বন্দী হয়ত অবশ্যই করা হবে কিন্তু কোন মারামারি হবে না, আপনারা এত চিন্তান্বিত হয়েন না। আমরা নিজেদের দেশেই রয়েছি এবং আল্লাহর দ্বীনের উঁচু মর্যাদার জন্য কথা বলছি। আমাদের লাহজা/ভাষা কঠোর তাই তাদের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু অবশ্যই হবে। কিন্তু আমার সিকিউরিটি ফোর্সের অপারেশনের মতো জালেমানা পদ্ধতির কাজে বিশ্বাস নেই (অর্থাৎ: সিকিউরিটি ফোর্স আক্রমণ করবে এটা বিশ্বাস হচ্ছে না) এই মাহফিলও বরখাস্ত হয়ে গেল।
এশার নামাজের পর জিকির আজকারের মজলিস গভীর রাত পর্যন্ত জারি ছিল। মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী আরামগাহের সাথে সম্পৃক্ত একটা কামরার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
- আল্লামা গাজীর মোবাইল টেলিফোন বেজে উঠলো। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ এর পরে গাজী চুপ হয়ে শুনতে লাগলেন অতঃপর মোবাইল ফোন বন্ধ করে না আব্দুল আজিজ কে বলতে লাগলেন রেঞ্জার্স এবং পুলিশদের বিশাল দল নিজ নিজ জায়গা থেকে রওনা হয়ে গেছে। পাক বাহিনীর ওর্ডারও গতকাল সকালে তলব করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তোপ কামানও মসজিদে চতুরপাশে মোতায়েন করা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে চতুর্দিকে সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটা জানার পর মাওলানা আব্দুল আজিজের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি সমস্ত সিনিয়রদেরকে জমা করার হেদায়েত দিলেন। অতঃপর ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী প্রস্তুত করার জন্য কমিটি বানিয়ে দিলেন। সিদ্ধান্ত করা হলো বিনা উস্কানিতে কোন কিছু করা হবে না। গুলি চালানো হবেনা, পাথরও নিক্ষেপ করা হবে না। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি মসজিদ মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই বাঁধা দেওয়া হবে। অপর একটি কমিটি তৈরি করা হলো যার দায়িত্ব গাজী আব্দুর রশিদ শহিদ রহমতুল্লাহ আলাইকে দেওয়া হল যাতে করে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে এবং জাইয়্যেদ ওলামাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পারেন। সিকিউরিটি ফোর্স এর অবরোধকে খতম করার জন্য তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি ব্যবহার করার দরখাস্ত করেন। যাতে করে প্রচার মাধ্যম গুলোকেও তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দেয়। আল্লামা গাজী কে সভা থেকে রুখছত দেওয়া হলো। এরপর সিনিয়র আহবাবরা যে কোন অপারেশনের ক্ষেত্রে আত্মরক্ষামূলক কার্যপ্রণালী চূড়ান্ত করলেন।
জিম্মাদারী সঁপে দেওয়া হল এবং সভা শেষ হলো এরপর মাওলানা আব্দুল আজিজ মাদ্রাসা এবং মসজিদের কোণে কোণে ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে শুরু করলেন। তাদের থেকে মতামতও নিলেন। কিন্তু সবার অবস্থান একই ছিল যে আমরা আমাদের দাবি থেকে পিছু হটবো না। এখনো এই অবস্থার ধারাবাহিকতা চালু ছিল যে, বাহিনীর গাড়িগুলোর আওয়াজ শোনা যাচ্ছিলো। অতঃপর খুব জোরেসোরে আওয়াজগুলো উঁচু হচ্ছিল। একসাথী জানালো যে অবরোধের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
- মাওলানা আব্দুল আজিজ মসজিদের হলে চলে গেলেন যেখানে 3000 থেকে বেশি লোক উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলেন এবং সকলকে চুপচাপ বসে থাকার নির্দেশ দিলেন। কিছুক্ষণ পর ফজরের আযান শুরু হয়ে গেল, ফজরের নামাজের পর কিছু লোক মসজিদের বাহিরে বের হয়, তাদের কেউ বাধা দেয়নি। মাওলানা আব্দুল আজিজ কিছু সময়ের জন্য আরাম করতে চলে গেলেন। সাড়ে দশটা বাজলে কেউ জাগালো।
মাওলানা অজু করে মসজিদে চলে আসলেন, আহাববরা তার অপেক্ষায় ছিল। মশওয়ারার আমল শুরু হল। এ সময় আল্লামা গাজী এসে বললেন যে মিডিয়াওয়ালারা রাত থেকে বিদ্যমান আছে এবং এ সময় বিশেষ বড় সংখ্যক পত্রিকা এবং ক্যামেরাও বাহিরে বিদ্যমান রয়েছে। আধাঘন্টা মাশওয়ারার পরে ফয়সালা হল যে এই মুহূর্তে দুর্বলতা প্রকাশ করা যাবে না।
- ছাত্রছাত্রীরা ফয়সালা করল যে মসজিদের সামনে নিরপেক্ষভাবে অগ্রসর হবে। আধা ঘন্টার বেশি সময় পরে ছাত্রছাত্রীরা সুশৃংখলভাবে বাইরে বের হওয়া শুরু করে, তাকবীরের নারা লাগায়। এক হাজারের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের বাহিরে এসেছিল। হঠাৎ বিভিন্ন দিক থেকে পাথর নিক্ষেপ করা শুরু হলো। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গেল। সর্বদিকে হইহুল্লোড় ছড়িয়ে পড়ল পাথর নিক্ষেপ করাটা প্রতিমুহূর্তে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছিল। জমিনের উপর পড়ে যাওয়া আঘাতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কে উঠানো অসম্ভব হয়ে গেল। মসজিদের ভিতরে হইতে বাহির হনেওয়ালা শিক্ষার্থীরা এবং পাথর থেকে বাঁচার জন্য ভেতরের দিকে অভিমুখী ছাত্রদের মাঝে আশ্চর্য ধরনের হলুস্থুল তৈরি হয়ে গেল। পাথরের জবাব পাথরের বিনিময়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন রাস্তা বাকি রইল না। দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীরা নিজেদেরকে সতর্ক করে রেখেছিল, তারা সকলে রাগে ফুসে উঠলো।
এখন তাদের কোন নেতৃত্ব ছিল না প্রত্যেক প্রত্যেকটা তালিবে এলেম ছাত্রছাত্রী নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পাথর নিক্ষেপের মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেল। রেঞ্জার্সের সন্ত্রাসীদের উপর পাথর নিক্ষেপ করার কারণে তাদের কাতার গুলো ভেঙ্গে গেল, তাদের মধ্যে হৈচৈ পড়ে গেল। দিগ্বিক পাথর নিক্ষেপ এর কারণে সাংবাদিকরা বাঁচতে পারলো না। লাঠি বহনকারী ছাত্রদের তাকবীরের কারণে পরিবেশের অবস্থা ভীতি সঞ্চারিত হলো। রেঞ্জার্স এর সন্ত্রাসীরা অবস্থান পিছনে নিতে বাধ্য হয়ে গেল। ছাত্র-ছাত্রীদের জুতাগুলো মসজিদের চতুর্দিক ছড়িয়ে পড়লো। এ অবস্থায় লাল মসজিদ এবং জামিয়া হাফসা এর সিনিয়র ওস্তাদগণ অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মসজিদের লাউড স্পিকারের দ্বারা হেদায়েত জারি করার ফয়সালা করলো।
- মাত্রই লাউড স্পিকারের বাটন অন করা হয়েছিল, হঠাৎই গুলি চলার আওয়াজে অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল। একের পর এক এবং অতঃপর অগণিত রাইফেলস এবং পিস্তলসমূহ গর্জে উঠতে লাগলো। কয়েকজন ছাত্র জমিনের উপর পড়ে গেল, জমিনে রক্ত বইতে লাগলো। উভয় দিকের নিয়ন্ত্রণ বন্ধন ভেঙ্গে গেল। ফায়ারিং এর আদান-প্রদান কয়েক মিনিট পর্যন্ত চলতে থাকল। মসজিদের ব্যবস্থাপক গন ছাত্র-ছাত্রীদের কে ফিরিয়ে মসজিদের ভিতরে নেওয়ার ধারাবাহিকতা শুরু করলেন এবং খুব তাড়াতাড়ি লাল মসজিদের দরওয়াজা বন্ধ হয়ে গেল। জানা গেল যে অতিরিক্ত সৈন্য মসজিদের বাইরে পৌঁছে গেছে। মেগাফোন (হ্যান্ড মাইক ধরনের কোন কিছু যার দ্বারা আওয়াজ জোরে শোনা যায়) তা দ্বারা এলান করতে লাগলো মসজিদের সমস্ত লোক বাহিরে বের হয়ে আসো এবং নিজেকে সিকিউরিটি কোর্সের কাছে সমর্পণ কর, তা নাহলে মসজিদের উপরে আক্রমণ করা হবে।
মসজিদের আশেপাশের এলাকায় সেক্টর জি সিক্স কারফিউ জারি করার এলান করা হয়। সময় খুব দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছিল এক দুটি ফায়ারিং এর আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। মসজিদের ভেতর হতেও ফায়ারিং এর প্রতি উত্তর দেওয়া হচ্ছিল। মসজিদের কারেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হলো। ছাত্রদের এই পরিমাণ জাজবা বিরাজমান ছিল যে, তারা নিজেদেরকে আত্মৎস্বোর্গমূলক (অর্থাৎ ইসতেশহাদি/শহীদি) হামলার জন্য নিজেদেরকে পেশ করল। কিন্তু সিনিয়র আহবাবরা বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদেরকে বাধা দিলেন। ওই রাত সকলে সীমাহীন কষ্টের সাথে অতিক্রম করলেন, কেউ না ঘুমালেন, না কিছু খেলেন। ভিতরে অবস্থিত কয়েকজন সাথীর মোবাইল ফোন বাঁচতে লাগলো, কেউ পিতার সাথে কথা বলতেছে, তো কেউ মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। সকলের ভাষা একই ছিল, চিন্তা করিও না, এখন বেশি কিছু হবে না, সকাল হতে হতে সমস্ত অবস্থা সঠিক হয়ে যাবে।
- সকালের দিকে সিকিউরিটি ফোর্স এর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হলো যারা সন্তুষ্ট চিত্তে বাহিরে বের হয়ে আসবে তাদের গ্রেফতার করা হবে না। ছাত্রীদেরকে পুরা সম্মানের সাথে ঘরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। যে ছাত্রীদের কোন ওয়ারিস বিদ্যমান নেই তাদেরকে সম্মানের সাথে উপযুক্ত জায়গায় অবস্থান করানো হবে। কয়েকজন ওলামাদের ফোন আসলো। মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজীর মোবাইল ফোন বাঁজতে লাগলো। তারা সকলকে অবস্থার বিষয় জানাতে লাগলেন। সকলকে বলতেছিলেন অবস্থা আমরা খারাপ করিনি, কিন্তু আমরা এই লড়াইয়ে কোন বেগুনাহ এবং নিজেদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় সম্মানিত ছাত্র ছাত্রীদের কোন ক্ষতি পৌঁছাতে দেবো না। লম্বা সময় মশওয়ারার পরে মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং তাঁর আহলিয়া (আসমা) আল্লামা গাজী আব্দুর রশিদের পরামর্শের ভিত্তিতে ওই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাহিরে বের হওয়ার ফয়সালা করলেন। যারা ঘরে যাইতে চাচ্ছিলেন অথবা যাদের পিতা-মাতা তাদের বাচ্চাদেরকে বাহিরে পাঠানোর জন্য বারবার তাগিদ দিচ্ছিলেন।
১১০০ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী এবং কিছু শিক্ষিকা এবং ওস্তাদগণকে শুনিয়ে বুঝিয়ে ঘরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হলো, বাকিরা বাইরে যেতে অস্বীকার করে দিলেন। এই মুহূর্তটা অনেক জজবাতি এবং কান্না বিজড়িত ছিল বাহিরে জানে ওয়ালি ছাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছিল। কেউ কেউ আন্তরিকভাবে বাহিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল না, কিন্তু আমিরের হুকুম ছিল যে অবশ্যই যাও। এই কাজে দ্বিতীয় দিন পূর্ণ হল।
রাতের অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাহির থেকে গুলি চলতে লাগলো। মসজিদ এবং মাদ্রাসার ভিতরে অবস্থিত লোকেদের বিশ্বাস হয়ে গেল যে, এখন অবস্থা নরম হওয়ার নয়। প্রাণের শত্রুরা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত করেই ফেলেছে, এখন না হয় ইসপার না হয় উসপার (অর্থাৎ হয় এদিক না হয় ওদিক) এর ফয়সালা করতে হবে।
- শুরাই মজলিস অনুষ্ঠিত হলো আল্লামা গাজী কে কোথাও দৃষ্টিতে আসছিল না। তাকে তালাশ করতে একসাথি রওনা হয়ে গেল। অনেক তালাশ করার পর আল্লামা গাজিকে এক কোণে কিছু সাথীদের সাথে দৃষ্টিতে আসলো। ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ফোনে কারো সাথে অবস্থা এখনো সামলিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করতেছিলেন। ফোন বন্ধ হতেই দ্বিতীয়বার বেঁজে উঠত, এবার মিডিয়ার কোন কারো সাথে কথা হচ্ছে তো উহা থেকে ফারেগ হয়ে অন্য কারো সাথে ফোন আসতে লাগল। ধারাবাহিক কথাবার্তার কারণে আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজীর চেহারা লাল এবং আওয়াজ বসে গিয়েছিল। তিনি কিছু সময়ের জন্য ফোন বন্ধ করে শূরার মাহফিলে এসে বসে গেলেন। লম্বা সময় মশওয়ারার পরে সকলের ঐক্যমতে ফায়সালা করা হলো যে, যেহেতু হুকুমতের নিয়ত ঠিক নয়, এজন্য নিজেদেরকে সমর্পণ করার অপশন সামনে চিন্তা করা হবে না।
সিকিউরিটি ফোর্সের ফায়ারিং এর দ্বারা শহীদ হওয়া মৃতদের বাহিরে পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আল্লামা গাজীকে জিম্মাদারী দেওয়া হল। হাতিয়ার বহনকারী সাথীদেরকে একজন কমান্ডারের অধীনে কাতার বন্দি করানো হলো। মসজিদ এবং মাদ্রাসার সমস্ত কোনায় স্বতন্ত্র পাহারার ব্যবস্থা করা হলো ছাত্র এবং ছাত্রীদের পাঁচটি ভিন্ন জায়গায় গ্রুপ আকারে অবস্থান করানো হবে।
চলবে ইনশাআল্লাহ......