Announcement

Collapse
No announcement yet.

লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-২০

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-২০


    ("দৈনিক "ইসলাম" এর প্রতিবেদন" এর অবশিষ্ট অংশ)


    ....মাওলানা আব্দুল আজিজ এর অবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে তাকে আরামের পরামর্শ দেওয়া হলো। একবার পুনরায় সকলে ঐক্যমতভাবে মাওলানা আব্দুল আজিজ কে আমির হওয়ার ব্যাপারে স্বীকার করলো। ছাত্র এবং ছাত্রীদেরকে দ্বিতীয়বার হেদায়েত করা হলো যে স্বেচ্ছায় চায় সেজন্য অবশ্যই চলে যায়। ভিতরে অবস্থান করার লোকদের সংখ্যা যত কম হবে অবস্থা ততই ভালো থাকবে। কিন্তু কেউই বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো না। বলা হলো যে খাদ্য এবং পানির অবস্থা সন্তুষ্ট পর্যায়ের নয় অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা রোজা রাখার নিয়ত করল এবং এই ক্ষুধার্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জিম্মাদারী পালনে লিপ্ত হয়ে গেল।
    • রাতের জানি না কোন প্রহর ছিল হঠাৎ অনেক বড় ধামাকা হল একদিকে চিল্লানোর আওয়াজ উঁচু হল পাহারায় নিযুক্ত কিছু সাথী ওইদিকে রওনা হয়ে গেল। জানা গেল যে, একটা মটরের গোলা অথবা আরও বড় গোলা ফায়ারিং করা হয়েছিল যেটা বিল্ডিংয়ের একটা দেওয়ালকে ভেঙে দিয়েছে এবং ভিতরে অবস্থিত চারশের বেশি শিক্ষার্থী উহার নিশানায় পড়ে গেছে ৬ জন এর বেশি সাথী জায়গায় শহীদ এবং তিন ডজনের বেশি সাথী গুরুতর আহত হয়। আহতদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা হয়, কতক গুরুতর আহত আহত ব্যক্তি ভাঙ্গা দেওয়ালের নিকটে তড়পাচ্ছিল হঠাৎ গুলির আওয়াজ বৃদ্ধি পেল এবং আরো কিছু সাথী শাহাদাতের মর্যাদা অর্জন করলো।
    এখনো এই অবস্থা থেকে পুরোপুরি বিরত হয়নি দুটি আরো ধামাকা হল। যথেষ্ট সময় পরে জানা গেল যে, জামিয়া হাফসার পিছনের দেওয়াল গুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এরাতও অধিকাংশ লোকজন জেগে থেকে এবং জখমিরা কাতরাতে কাতরাতে কাটিয়ে দিল। আযানের পরে রাতের সমস্ত ঘটনার উপরে চিন্তা ফিকির করা হলো নতুন হেকমতে আমলির সিদ্ধান্ত করা হলো।
    • মৃত্যুর সিলসিলা বন্ধের জন্য রেঞ্জার্সের ফায়ারের প্রতিক্রিয়া মূলক জবাব দেওয়ার ফয়সালা করা হলো। দিনভর বিরতি দিয়ে দিয়ে ফায়ারিং এবং গোলাবর্ষনের সিলসিলা জারি থাকলো মসজিদের ভিতর থেকেো প্রতিক্রিয়া মূলক উত্তর দেওয়া জারি ছিল। খাদ্য এবং পানির মজুদ কম হওয়ার কারণে আরো একবার ছাত্রছাত্রীদেরকে বাহিরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হলো কয়েক ডজন ছাত্র-ছাত্রীকে উদ্বুদ্ধ করে বাহিরে পাঠানো হলো। কেউ কেউ বলল যে আজ মাসআলা হল না হয় তাহলে আমরা কালকে চলে যাব। দিন পূর্ণ হল রাতের সময় হেকমতে আমল অনুযায়ী উদ্বুদ্ধ হওয়া ছাত্রীদেরকে বাহিরে বের করার সিলসিলা শুরু হল।
    এই সময় মাওলানা আব্দুল আজিজকে বোরকা পরিহিত সাথী এসে কানে কিছু বলল যার পরে তিনি নিজের আহলিয়া এবং কিছু সিনিয়র সাথীদের সাথে পরামর্শ করলেন কতক অস্বীকার করল এবং কতক স্বীকারোক্তি জানালেন মাথা হেলিয়ে। আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী নিয়ম অনুযায়ী টেলিফোনে লিপ্ত ছিলেন তাকেও বিষয়টি বলা হলো তিনি নিষেধ করলেন। এরপরে আল্লামা গাজী অন্য কোন দিকে চলে গেলেন আধা ঘন্টা পরে এরকম খবর মিলল যা সকলের শ্বাস বন্ধ করে দিবে এক মুহূর্তের জন্য লাল মসজিদ এবং জামিয়ার হাফসায় মৃত্যুর মতো নীরবতা ছেয়ে গেল।
    • মাওলানা আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করার সংবাদ মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছিল। সে একটি বোরকা পরিহিতভাবে বাহিরে বের হয়েছে সেভাবে গ্রেফতার হন। আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী আফসোসের সাথে শুধু এতটুকু বললেন যে, আমার জানা ছিল যে এরকমই হবে। যেই লোকেরা তাকে ফোন করেছিল তারা সঙ্গদানের মত ছিল না। এই অবস্থায় সকলে নিরাশ হয়ে গেল আল্লামা গাজী এক কোনায় অবস্থিত আম্মাজানের বিছানার পাশে গিয়ে বসে গেলেন কিছু সময়ের মধ্যে সিনিয়র আহবাবরা ওখানে পৌঁছে গেলেন বললেন এখন আপনি আমাদের আমির সকলে এক মতে নিজেদের ফয়সালা করে নিলেন। আল্লামা অস্বীকার করলেন। সকলের চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ পরে মাওলানা আব্দুল আজিজের আহলিয়া উম্মে হাসান এসে বললেন, এখন আপনি ছাড়া কেউ আমাদের আমির নয়। সকলের জীবন গুলোর উপর আল্লাহর পরে এখন আপনি স্বাধীনতা রাখেন। করুন কি করতে হবে? হাতিয়ার নিক্ষেপের মধ্যে ওই লাঞ্ছনায় আমাদের ভাগ্যে জুটবে যেটা মাওলানা আবদুল আজিজ এর সাথে হয়েছে। এখন কথা জীবনের নয় বরং ইজ্জত এবং দ্বীনী গাইরতের। যদি আজ আমাদের পদস্খলন হয়ে যায় তাহলে হয়তো পাকিস্তানে দ্বীনের কথা বলাটাই অপরাধ বলে স্বীকৃত হবে।
    আল্লামা কিছু সময়ের জন্য একাকিত্বের দরখাস্ত করলেন। সকলে চলে গেল আল্লামা নফলের নিয়ত করলেন এবং রবের দরবারে দাঁড়িয়ে গেলেন। বাহিরে সকলে অপেক্ষায় ছিল আল্লামা আব্দুল রশিদ বাহিরে আসলেন এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলেন তিনি বললেন যে আপনাদের সকলের ফয়সালা আমি কবুল করলাম, আল্লাহ তাআলা আমাদের বিজয়ী করবেন। ইবাদতের সাথে সাথে আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী এমন একজন কমান্ডারও ছিলেন যিনি যুদ্ধের ময়দানে সক্রিয় ছিলেন, টেলিফোনে লাগাতার যোগাযোগ করছিলেন, প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধমূলক হেকমতে আমলি, আহতদের দেখ ভালের সাথে সাথে উদ্যমতা বৃদ্ধির স্তরও চলমান ছিল।
    • দ্বিতীয় রাত ও অতিক্রম হয়ে গেল। ফায়ারিং এবং গোলাবর্ষণের ধারাবাহিকতা খুব কঠোরভাবে চলছিল মৃতদের সংখ্যা প্রতিমুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছিল কয়েকজন আহত উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত ছিল। সিকিউরিটি ফোর্স এর পক্ষ থেকে ধ্বংস দেওয়াল গুলোর মধ্য দিয়ে ভিতরে আসার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া হলো। লাল মসজিদ এবং জামিয়া হাফসার দেওয়ালগুলো চালনি হয়ে গিয়েছিল। আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজীর হেকমতে আমালি উদ্যমতা পুনরায় বৃদ্ধি করে দিল উঁচু করে দিলো। প্রত্যেকের নিজের সফলতার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।
    তৃতীয় রাত অন্ধকার বিস্তার হয়ে যাওয়ার পর গর্জন বৃদ্ধি পেল। গোলাবর্ষণের কারণে মাদ্রাসা এবং মসজিদের কয়েকটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেল পানি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ৫০ জনের অধিক মৃতদের দেহগুলো এখন কঠিন গরমের কারণে খারাপ হতে লাগলো। বারবার যোগাযোগ করার পরেও মৃতদেরকে বাহিরে বের করার অনুমতি পাওয়া গেল না। কিছু এরকম সাথী যাদেরকে বারবার দরখাস্ত করার পরেও বাহিরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যায়নি তারা জানি না কি হলো রাতে হঠাৎই কোন প্রহরে কোন জানানো ছাড়াই দেওয়ালের উপর দিয়ে লাফিয়ে বাহিরে চলে গেল। পরে জানতে পারি যে, তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    • ভিতরে অবস্থানরত ১৫০০ থেকে অধিক লোকেরা অধিকাংশ রোজা রেখেছিল সেহরি অথবা ইফতারের কোন সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা ছিলনা প্রত্যেকে নিজের জরুরত নিজে পুরা করতেছিল। নামাজে বিরতি দিয়ে দিয়ে কয়েক স্তরে আদায় করা জারি ছিল। হুকুমতের পক্ষ থেকে মসজিদের উপর পাহারাদারের জন্য অবস্থান করা হেলিকপ্টার থেকে ফায়ারিং এর নিশানা বানানো অতি সহজ ছিল। কিন্তু কমান্ডারের হুকুম ছিল যতক্ষণ পর্যন্ত হেলিকপ্টার থেকে কোন ফায়ারিং না করা হবে অথবা কোন বিষাক্ত গ্যাস ছোরা না হবে, উহার উপর ফায়ারিং করা হবে না বরং হাওয়াই ফায়ারিং করা হবে। ওই সময় ভিতরে অবস্থিত ব্যক্তিদের রায়ও পরিবর্তন হচ্ছিল। কতক সাথিরা পরামর্শ দিলেন যে হুকুমতের সাথে কথাবার্তা বলা হোক যে, তারা সমস্ত অবরুদ্ধ ব্যক্তিদেরকে কোন কথাবার্তা ছাড়া বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিবেন এই অবস্থায় আমরা লোকেরা নিজেদের সমস্ত অস্ত্র এবং মসজিদ মাদ্রাসার ছাড়াও চিলড্রেন লাইব্রেরি কব্জা হুকুমতের কাছে সোপর্দ করে দিব। কতক সাথীগণ শুধু শাহাদাতকে নিজেদের উদ্দেশ্য বানালেন এবং অবরোধ খতম করা ছাড়া অতিরিক্ত কোন কথা না বলার মতামত দিলেন।
    এদিকে পান করার পানি খুব কম হওয়ার কারণ অবস্থা উলটপালট হয়ে গেল সাথীরা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত পিপাসিত ছিলেন, পানির ফোটা পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল না। আমাদের জন্য ওদের সামান্যই পানি বিদ্যমান ছিল। আল্লাহর কারিশমা এমন ছিল যে মেঘ গর্জন করতে শুরু করল। অতঃপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হল। পিপাসার দরুন এক ছাত্র গুলির পরোয়ানা করে মসজিদের খোলা ছাদে চলে গেলেন অতঃপর নিজের শরীরে পরা ফটোগুলোকে জামার সাহায্যে চুষে পিপাসা মিটানোর চেষ্টা করতেছিলেন।



    আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী রাষ্ট্রীয় পক্ষের সাথে কথাবার্তার খোঁজখবর পাচ্ছিলেন। তিনি এই কথার উপর উদ্বুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে, হাতিয়ার ফেলে দিবে এবং হুকুমত তাদেরকে ব্যাপক হাতিয়ার নিক্ষেপকারীদের সাথে সামান্য ভিন্ন আন্দাজে ডিল করবে। সমস্ত অস্ত্রগুলোকে জমা করা হবে, মসজিদ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে বাহিরে বের করা হবে। এ ব্যাপারে সিকিউরিটি ফোর্স পরিপূর্ণ সাহায্য করবেন। আল্লামা সমস্ত সাথীদেরকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিলেন তখন সকলে চুপ হয়ে গেল শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই সহায়ক দৃষ্টিতে আল্লামা রায়কে স্বাগত জানাচ্ছিল।
    • হঠাৎ একজন সিনিয়র কমান্ডার এই রায়কে রোধ করে কোন সুরতে হাতিয়ার সমর্পণ না করার ঘোষণা করেন। উম্মে হাসানে এই রায়কে শক্তিশালী করেন শরীয়ত অথবা শাহাদাতের তাকবীর উঁচু হতে লাগে। আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী বুঝানোর যত চেষ্টা করেন বিপরীত আওয়াজ তত উঁচু হতে থাকে। সিনিয়র কমান্ডার মাহফিল থেকে উঠে বাইরে চলে যান। তার সাথে কয়েকজন সশস্ত্র সাথিও বাইরে চলে যান অতঃপর উম্মে হাসান বন্দুক উঠান এবং বাইরে চলে যান। এই প্রথমবার এমন ছিল যখন উম্মে হাসান বন্দুক উঠিয়েছিলেন। আল্লামা আব্দুর রশিদকে রায় পরিবর্তন করতে হয়। পুরোনো অবস্থান অনুযায়ী তিনি পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন যে, আমরা হাতিয়ার ছাড়বো না আমাদের সংরক্ষিত রাস্তা দিয়ে দেওয়া হোক।


    চতুর্থ দিন অতিক্রম হয়ে যায় রাতের দৃশ্য অতিবাহিত তিন রাতের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল না। ফয়সালা হলো যে,সমস্ত মৃতদেরকে আমানতস্বরূপ মসজিদের বারান্দায় দাফন করা হবে। এই রেফারেন্সে সিকিউরিটি ফোর্সেকে জানানো হয় এবং শনিবার দিন সকালে দাফনের কার্যক্রম পরিপূর্ণ করা হয়।
    • মসজিদ এবং মাদ্রাসার কিছু অংশে অবস্থিত সশস্ত্র ব্যক্তিদের অধিকাংশ কে ছাত্রছাত্রীরা কেউ জানতো না। অপারেশন শুরু হওয়ার কয়েকদিন পূর্বে মসজিদে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিদেরকে শুধুমাত্র মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব জানতেন। ওই সকল লোকদের কাছে আসল কন্ট্রোল ছিল। আল্লামা গাজী আব্দুর রশিদের ওই বিষয় যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় উহার উপর আমল করার অনুমতি নেই। সকল ব্যক্তিদের মতামত ছিল শুধু এতটুকু যে তাদের নিরাপদ রাস্তা মিলে যাক। কোন দ্বিতীয় অপশন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদে অবস্থানরত কিছু শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল যে আমাদের এই অবস্থায় শুধু একটা কথা মেনে নেওয়া হোক সেটা হচ্ছে যে হুকুমত রাষ্ট্রের মধ্যে শরীয়ত বাস্তবায়নে ঘোষণা করবে। শুধু এরকম হয় তাহলে আমাদের সকল হাতিয়ার ফেলে দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত ফয়সালা এটাই ছিল যে, হাতিয়ার নামিয়ে রাখার ক্ষেত্রে চিন্তা করা হবে না। ভিতরে অবস্থানরত কাউকে আর এখন বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আল্লামা আব্দুর রশিদ গাজী নিজের শেষ ওসিয়ত লিখে মিডিয়াকে জানিয়ে দেন এবং শনিবার দিন সকালে ফজরের নামাজের পর সকলে দোয়া করেন যে, তাদের শাহাদাতের জযবাকে যেন আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। (দৈনিক ইসলাম, ৮ই জুলাই ২০০৭) (লাল মসজিদ অপারেশন সাইলেন্স:১৩-২০ পৃষ্ঠা)


    চলবে ইনশাআল্লাহ.......
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 11 hours ago.
Working...
X