Announcement

Collapse
No announcement yet.

লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-২২

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • লাল মসজিদ, রক্তাক্ত এক ভয়াবহ অতীত-২২

    লাল মসজিদের ঘটনার সারাংশ

    লাল মসজিদ অপারেশন সম্পর্কে উস্তাদ আহমদ ফারুক রহঃ এর জীবনীতে আলোচনা এসেছে যেটা খুব সংক্ষেপে অল্প কথায় পূর্ণ ঘটনার সারাংশ বলা যেতে পারে তাই এই শিরোনামে তfঁর লেখাটি তুলে ধরছি।

    "(উস্তাদ আহমদ ফারুকের জীবনী থেকে))

    দুঃখের বছর ২০০৭ সাল লাল মসজিদ জামিয়া হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহার ট্রাজেডি (শিরোনাম)
    • ২০০৭ সাল গোটা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য বিশেষভাবে পাকিস্তানের মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত বেদনা ও দুঃখের একটি বছর ছিল। এই বছর ইসলামী ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হয়। জুলুম অত্যাচার ও দাম্ভিকতায় ডুবে থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে লাল মসজিদ নামের প্রসিদ্ধ কেন্দ্রীয় মসজিদে এবং বালিকাদের জামিয়া সাইয়েদা হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহার উপর আগ্নেয়াস্ত্র সহ হামলা চালায়। মসজিদ ও মাদ্রাসাকে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।এক হাজারের অধিক ছাত্র ছাত্রীদের শহীদ করে দেয়া হয়। আহতদের সংখ্যাও এরচে কম নয়। গ্রেফতারের সংখ্যা তো কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়।
    লাল মসজিদের এই মর্মান্তিক শাহাদাতের কারণ ছিল, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নাহী আনিল মুনকারের আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা। রাজধানী ইসলামাবাদের বাজারগুলোতে মসজিদ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা সিডি সেন্টারগুলোতে তাবলীগের জন্য যেতেন এবং অশ্লীল ফিল্মের দোকানদারকে এই ব্যবসা ছেড়ে কোন হালাল রিজিকের পন্থা অনুসরণের নসিহত করতেন। তাদের তাবলীগের কারণে কিছু দোকানদার তওবা করে এবং নিজেদের ইচ্ছায় অশ্লীল ফিল্মের সিডি গুলো পুড়িয়ে দেয়। লাল মসজিদ থেকে একটু দূরে এক নারী নির্লজ্জ আড্ডাখানা খুলে বসে ছিল। মসজিদের ছাত্ররা তাকে ধরে একাজ থেকে তওবা করতে উৎসাহিত করে। তখন ঐ নারী তওবা করার ঘোষণা দেয়। একইভাবে ইসলামাবাদের কিছু এলাকায় চায়না মেসেজ সেন্টার নামে অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা চলতো। সেগুলো বন্ধ করার জন্য লাল মসজিদের ছাত্ররা পদক্ষেপ নেয়। নিরস্ত্রভাবে শুধু নসীহতের উপর জোর দিয়ে এসমস্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়।


    অতঃপর পাকিস্তানি তাগুতি শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বিশেষ নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় রাওয়ালপিন্ডি ইসলামাবাদের শতাধিক মসজিদকে স্বস্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে চায়,তখন লাল মসজিদের ছাত্র ছাত্রীরা বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে। যখন তারা মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্ত বাতিল পাশাপাশি শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানায়। কিন্তু এই সব কিছু নিরস্ত্রভাবে শুধু তাবলীগি পন্থা হিসেবে করা হয়।
    • কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে আমর বিল মারূফের কাজ জারি হওয়া এবং শরীয়ত প্রতিষ্ঠার দাবি ঘোষিত হওয়াটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ছিল না। দম্ভ অহংকারে ডুবে থাকা সেনাবাহিনীর প্রধান সর্বপ্রকার আলোচনা বন্ধ করে হুঁশিয়ারি দেয় 'সারেন্ডার হয়ে যাও নয়তো মারা যাবে' হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী নিজেদের নেতা শহীদে ইসলাম মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী রহমাতুল্লাহ আলাইহির নেতৃত্বে শেষ সময় পর্যন্ত মসজিদ ও মাদ্রাসায় নিজেদের অবস্থার উপর অটল থাকে। তারা একে একে জীবন উৎসর্গ করতে থাকে এবং কুরআনে পাকের মুসহাফ তাদের রক্তে রঞ্জিত হতে থাকে। সেনাবাহিনী এক সপ্তাহ যাবত কুখ্যাত অপারেশন করে সকলকে শেষ করে দেয়। অপারেশনের নাম রাখা হয় সাইলেন্স বা নীরব অপারেশন। বাস্তবেই লাল মসজিদ ধ্বংস হয়ে মসজিদের মিম্বার নীরব হয়ে যায় এবং জামিয়া হাফসা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু জ্বলন্ত কয়লা থেকে এক নতুন আন্দোলনের জন্ম হয়।
    শরীয়ত অথবা শাহাদাত স্লোগান রীতিমতো জিহাদের রূপ ধারণ করে। সাধারণভাবে পাকিস্তানের মুসলমানদের সামনে এবং বিশেষভাবে মুজাহিদীনের সামনে পরিস্কার হয়ে যায় যে, পাকিস্তানি সরকার ও সেনাবাহিনী কাফেরদের ইচ্ছা আকাংখা বাস্তবায়নের সৈনিক মাত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কখনোই এমন সরল প্রচেষ্টা মেনে নেবে না যার দ্বারা প্রিয় মাতৃভূমিতে ইসলামের সার্বজনীন শাসন ব্যবস্থা কার্যকর করা যায়। ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন প্রচেষ্টা ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এই নিকৃষ্ট বৃক্ষের শিকড় উপড়ে ফেলা না হবে।


    অপরদিকে গোত্রীয় অঞ্চলের আত্মমর্যাদাশীল যেসমস্ত মুসলিম যেকোনো কঠিন অবস্থায় উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য প্রতিরক্ষাকারী নিরাপত্তা প্রাচীরের ভূমিকা পালন করে, তাঁরাও বেদনাদায়ক এই ঘটনায় পানিহীন মাছের মত ছটফট করতে থাকে এবং অত্যাচারি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নিষ্পাপ প্রাণের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রহর গুনতে থাকে।
    • সেসময় সকলের রায় এবিষয়ে কেন্দ্রীভূত হয় যে, ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতিরক্ষার জন্য এবং দ্বীন ধর্ম, ইজ্জত সম্মান ও অর্থ সম্পদ সুরক্ষার জন্য এখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রীতিমতো রনাঙ্গনে অবতরণের সময় এসেছে।
    অপরদিকে পাকিস্তানি সাধারণ মুসলিমদের মাঝেও সেনাবাহিনীর ব্যাপারে ঘৃণা ও বিদ্বেষ তৈরি হয়। তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অথবা ইসলামের নয় বরং এরা আমেরিকা ও ইহুদী সেনাবাহিনীর একটা সহায়ক দল। এমনকি স্বয়ং ক্রুসেডার ও ইহুদীরাও এমন হিংস্রতা ও পাশবিকতা দেখাতে পারে না যেমনটা এই সেনাবাহিনী পারে। সেসময় সেনাবাহিনীর প্রতি জনসাধারণের সমবেদনা ও সহমর্মিতা শেষ হয়ে যায় এবং পাক ফৌজের বিরূদ্ধে বিক্ষুব্ধ মনোভাব দিন দিন বৃদ্ধি পায়।
    মুহসিনে উম্মাহ শায়েখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক পাকিস্তান জিহাদের ঘোষণা

    • এমন পরিস্থিতিতে গোত্রীয় অঞ্চলের আত্মমর্যাদাশীল মুজাহিদীনের সঙ্গে সঙ্গে কায়েদে জিহাদ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ তাঁর ঐতিহাসিক বিবৃতিতে পারভেজ মোশাররফ এবং তার আর্মির বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা করেন। শায়েখ রহিমাহুল্লাহ ঘোষণা করে বলেন যে, লাল মসজিদের এই ট্রাজেডির পর আমেরিকার পাশাপাশি আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিত্র পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধেও জিহাদে অবতরণের সময় এসেছে। তিনি বলেন:
    পারভেজ তার সরকার, তার সেনাবাহিনী এবং তাদের সহায়ক সকল সংস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে জিহাদ ও সশস্ত্র লড়াইয়ে জন্য উঠে দাঁড়ানো পাকিস্তানের মুসলিমদের উপর ওয়াজিব।

    (লাল মসজিদের ঘটনার পর শায়েখ উসামা রহিমাহুল্লাহর বয়ান)

    শায়েখ রহিমাহুল্লাহ বলেন:
    • আমরা অর্থাৎ আল কায়েদার সাথিরা আল্লাহকে সাক্ষী বানিয়ে বলছি, আমরা মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী রহমাতুল্লাহ আলাইহি এবং তাঁর সাথিদের খুনের বদলা নেবো পারভেজ এবং তার সহযোগীদের কাছ থেকে। আমরা ঐসমস্ত পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেবো, জালিম গোষ্ঠী যা প্রবাহিত করেছে। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ইসলামী বীর বাহাদুরদের ঐ রক্তধারা, যা ওয়াজিরিস্তানে বইয়ে দেয়া হয়েছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে হোক বা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে"
    (লাল মসজিদের ঘটনার পর শায়েখ উসামা রহিমাহুল্লাহর বয়ান)
    • যাইহোক লাল মসজিদের ঘটনা হক বাতিলের মাঝে পার্থক্য করে দেয়। লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার শুহাদায়ে কেরাম সত্যর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং নিপীড়িত ছিলেন এবং এবিষয়ে সকলেই একমত হয়ে যায়। অপরদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং নৃশংস ও জুলুম অত্যাচারকারি এবিষয়েও কারো কোন মত পার্থক্য থাকে না। এই ঘটনায় পাকিস্তানের মুসলিমদের চক্ষু অশ্রুসিক্ত ছিল। তাদের হৃদয় অস্থির হয়ে ছিল যে, কেমন করে এই ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদেরকে শাস্তি দেয়া যায়। সেকারণে লাল মসজিদ ট্রাজেডির কয়েক সপ্তাহ পরেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও সিকিউরিটি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ভানা থেকে নিয়ে বাজুর এজেন্সি এবং পুনরায় মালাকান্দ ডিভিশন পর্যন্ত সিকিউরিটি ফোর্সের কাফেলা ও কেন্দ্রগুলোতে হামলা আরম্ভ হয়। মুজাহিদীন পুনরায় শহরে মনোযোগী হন এবং সেনাবাহিনীর বড় বড় কেন্দ্রগুলোতে হামলা করতে আরম্ভ করেন। গোটা দেশে জিহাদি পরিবেশ তৈরি হয় এবং সেনাবাহিনী ও সিকিউরিটি সংস্থাগুলোর জন্য জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যায়।"
    (উস্তাদ আহমদ ফারুকের জীবনি:১৩৪-১৩৭পৃঃ)
    হতাহতের সংখ্যা
    • হামলার পর লোকদের সামনে সেনাবাহিনীর মুখোশ উন্মোচন এবং আমেরিকা ইসরাইলের কার্যসিদ্ধির সিড়ি ডলার খোর এই বাহিনীর মুখোশ যখন সবার সামনে উন্মোচিত হয় তখন পাকিস্তানে এই আমেরিকা ইসরাইলের দোসরদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেন শাইখ উসামা বিন লাদেন রহঃ। যার আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে এবং উপরোল্লেখিত উস্তাদ আহমদ ফারুক রহঃ এর জীবনীর চুম্বকাংশেও এসেছে।
    তবে সেদিনের সেই আক্রমনে হতাহতের পরিসংখ্যান আজো পরিপূর্ণ সুস্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন লেখার বরাতে অল্প পরিসরে যা জানতে পেরেছি তার মূল কথা হলো:
    • ২০০৭ সাল গোটা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য বিশেষভাবে পাকিস্তানের মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত বেদনা ও দুঃখের একটি বছর ছিল। এই বছর ইসলামী ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হয়। জুলুম অত্যাচার ও দাম্ভিকতায় ডুবে থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে লাল মসজিদ নামের প্রসিদ্ধ কেন্দ্রীয় মসজিদে এবং বালিকাদের জামিয়া সাইয়েদা হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহার উপর আগ্নেয়াস্ত্র সহ হামলা চালায়। মসজিদ ও মাদ্রাসাকে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
    অবশেষে রক্তে লাল হয়েই লাল মসজিদের অপারেশন সমাপ্ত হলো। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত লাল মসজিদ ও সংলগ্ন মাদরাসা গুলি চালিয়েই দখল করলো পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। লাল মসজিদের দ্বিতীয় খতীব মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী, তার মা সহ বহু নারী-পুরুষের প্রাণ এ অভিযানে ঝরে পড়লো।


    ২০০৭ সালের জুলাই মাসে মার্কিন নির্দেশনায় এবং তৎকালীন শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী লাল মসজিদের নিরীহ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কুরআনের হাফেয-হাফেযাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হয় ১০ হাজারেরও বেশি সেনা, ব্যবহৃত হয় ভারী অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংক, হেলিকপ্টার এবং এমনকি বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বোমা— যা মূলত সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত।
    তবে ১০ হাজারের সংখ্যাটা হয়তো আক্রমণ শুরু করার সময় ছিল। সময়ের সাথে সাথে হয়তো বেড়েছ। কারণ গাজী আব্দুল রশীদ রহঃ তাঁর মৃত্যু পূর্ব অসিয়তনামায় সৈন্য সংখ্যা ৩০ হাজারের কথা উল্লেখ করেছেন।
    তিনি বলেন:
    • "সম্ভাবনা আছে এই ছত্রগুলো প্রকাশিত হওয়ার আগেই আমরা যারা লাল মসজিদে অবরুদ্ধ আছি তারা শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করব। প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের সিকিউরিটি ফোর্স এবং দেশীয় সেনা বাহিনী ও সাজোয়াযানের এবং গোলায় ক্ষতবিক্ষত এবং নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রীদের অস্রু সিক্ত লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসা বিজয় করে নিয়েছে।"
    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক হাজারের বেশি নারী-শিক্ষার্থী, ছাত্র, আলেম ও হাফেয শহীদ হন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এই সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। শহীদদের লাশ পর্যন্ত সম্মান পায়নি; সেনারা তাদের দেহ পুড়িয়ে ফেলে যেন জুলুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এমনকি গাজী আঃ রশিদ রহঃ এর বৃদ্ধা মায়ের লাশটি পর্যন্ত গুম করে ফেলা হয়। আহতদের সংখ্যাও এরচে কম নয়। গ্রেফতারের সংখ্যা তো কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়।
    • তবে সবচেয়ে মর্মন্তুদ অধ্যায় হলো প্রায় দুই শতাধিক সংব্রত, পর্দানশীল মুমিনা ছাত্রীকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এসকল ছাত্রীদের মার্কিন বাহিনীর হাতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের বাগরাম, গুয়ান্তানামো ও অন্যান্য গোপন মার্কিন কারাগারে প্রেরণ করা হয়।​




    চলবে ইনশাআল্লাহ.........
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 15 hours ago.
Working...
X