বৃটিশদের থেকে আজাদি দিবস নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও সেলিব্রেশন সামনে আসছে। এসব সেলিব্রেশন দেখলাম কেবল জিন্নাহ কেন্দ্রিক বন্দনা চলছে। এটা ইতিহাসের নির্মম বিকৃতি।
১। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে মুসলিম জাতীয়তাবাদী জিন্নাহদের কোন অবস্থান নেই। এই লড়াইয়ের বিশাল অংশ জুড়ে আছেন সায়্যিদ আহমাদ শহিদ ও শাহ আব্দুল আজিজদের তৈরি তাহরিকের সিলসিলা।
আরো সুস্পষ্ট করে বললে, বৃটিশবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের গর্ভ থেকেও জিন্নাহদের জন্ম হয়নি। জিন্নাহদের জন্ম হয়েছে বৃটিশের দাসত্ববহণকারী স্যার সৈয়দ আহমাদ খানের মর্ডানিজমের গর্ভ থেকে।
২। মুসলিমদের থেকে আলাদা ভূখণ্ড ও শরয়ী ইমারাহ কায়েমের ধারণা জিন্নাহর তৈরি কোন থিউরি ছিল না। বরং জিন্নাহরও আগ থেকে উলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল এটি। এজন্য তারা যখন যেখানে সুযোগ ও তামকিন পেয়েছেন, শরয়ী ইমারাতের ঘোষণা দিয়েছেন।
জিন্নাহ বরং উলামাদের সেই লক্ষ্যের সাথে গাদ্দারি করেছে এবং উলামাদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সামাজিক প্রভাব ও সমর্থনকে ব্যবহার করেছে।
মুসলিম লীগের অধীনে মুসলিমদের আলাদা ভূখণ্ড হওয়ার যেই প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল, সেখানে তাদের মনোযোগ ইসলামি অনুশাসনের প্রতি ছিলনা। বরং হিন্দুদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য মুসলিমদের জন্য আলাদা এক ভূখণ্ডের দাবিদার ছিল। যেই ভূখণ্ড ইউরোপীয় চিন্তাচেতনায় প্রভাবিত ব্যক্তির মাধ্যমে বৃটিশ আদলেই পরিচালিত হবে।
বৃটিশ শাসন থেকে মুক্তি ও ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা তাদের জীবনদর্শনেই ছিল না। রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ইসলামের অবস্থান ও ইসলামি শরীয়ত প্রতিপালনের ফিকরি ও ইলমী ভিত তাদের ছিল না, যেটি শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী রহিমাহুল্লাহর তাহরিকের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
এজন্য বৃটিশ সরকার উলামায়ে কেরামের প্রতি সর্বদা আগ্রাসী ছিল। তারা তাহরিকে জিহাদের সিলসিলায় সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনকে কঠোর হস্তে দমন করে। পাশাপাশি তারা স্যার সৈয়দ আহমাদ খানদের মত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুসলিমদের ভিতর এমন একটি শ্রেণি তৈরি করতে চেষ্টা করে, যারা নামে মুসলিম হবে। কিন্তু চিন্তাচেতনায় হবে পশ্চিমা। যাদের হাতে বৃটিশরা এই ভূখণ্ডের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে যেতে পারবে। মুসলিম লীগের নেতারা ছিল সেই শ্রেণিরই অন্তর্ভূক্ত।
বৃটিশরা যখন উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন এই শ্রেণিটির হাতেই মুসলিমদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব চলে যায়। আজকে আমরা যেই সেকুলার শাসনব্যবস্থা ও সেকুলার নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছি সেটি মূলত এই ধারার সাথেই সম্পৃক্ত।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এর প্রতিটি সেক্টর যাদের নেতৃত্বে ছিল, তাদের প্রায় সকলেই ছিল বিভিন্ন বাতিল চিন্তা ধারণ কারী এবং বৃটিশদের আদর্শিক গোলাম।
তখনকার সময়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বও মুসলিমলীগের হাতে ছিল। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি ও শেখ মুজিবুর রহমান মুসলীম লীগের দলভুক্ত ছিল। মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের যেই মিশন মুসলিম লীগ হাতে নিয়েছিল, সেটি বাস্তবায়নের জন্য শেখ মুজিবের দৌড়ঝাঁপ তার আত্মজীবনিতে ফুটে উঠে। মুসলিম লীগ থেকেই ১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানী সহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। এরপর ১৯৫৫ সালে মুসলিম নাম ফেলে দিয়ে আওয়ামীলীগ নামকরণ করা হয়।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ভাগ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এখানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সেক্টরে হিন্দুত্ববাদী এবং একই সাথে পূর্ব থেকে থাকা ইউরোপীয় চিন্তাচেতনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা লাভ হয়। ফলে প্রধান সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব উল্লেখিত চিন্তাধারারই ভাবশিষ্য হয়ে উঠে। কেউ হিন্দুত্ববাদ দ্বারা প্রভাবিত কট্টোর শাহবাগী সেকুলারিজমের দ্বারা প্রভাবিত, আর কেউ মুসলিম লীগের মত মুসলিম নামধারী সেকুলারিজম দ্বারা প্রভাবিত। যাদের কারো মাঝেই ইউরোপীয় চিন্তাচেতনা থেকে মুক্তি ও ইসলামী শাসন বাস্তবায়নের চেতনার উপস্থিতি পরিলক্ষিত নয়।
মূলত এই মুসলিম লীগই উপমহাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ও স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে। তারাই উলামায়ে কেরামের সমর্থণকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মুসলিম সমাজকে পাশ্চাত্য চিন্তাচেতনার দিকে নিয়ে গেছে বৃটিশদের দালাল হয়ে। তারা উপমহাদেশে সৈয়দ আহমাদ শহীদের তাহরিকে জিহাদের আন্দোলনকে দূর্বল করে স্যার সৈয়দ আহমাদ খানের মর্ডানিজমের ধারাকে শক্তিশালী করেছে। তারপর প্রথমদিকে তাদের ভিতর যেই মুসলিম জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত ছিল, এক পর্যায়ে সেটাও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
১। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে মুসলিম জাতীয়তাবাদী জিন্নাহদের কোন অবস্থান নেই। এই লড়াইয়ের বিশাল অংশ জুড়ে আছেন সায়্যিদ আহমাদ শহিদ ও শাহ আব্দুল আজিজদের তৈরি তাহরিকের সিলসিলা।
আরো সুস্পষ্ট করে বললে, বৃটিশবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের গর্ভ থেকেও জিন্নাহদের জন্ম হয়নি। জিন্নাহদের জন্ম হয়েছে বৃটিশের দাসত্ববহণকারী স্যার সৈয়দ আহমাদ খানের মর্ডানিজমের গর্ভ থেকে।
২। মুসলিমদের থেকে আলাদা ভূখণ্ড ও শরয়ী ইমারাহ কায়েমের ধারণা জিন্নাহর তৈরি কোন থিউরি ছিল না। বরং জিন্নাহরও আগ থেকে উলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল এটি। এজন্য তারা যখন যেখানে সুযোগ ও তামকিন পেয়েছেন, শরয়ী ইমারাতের ঘোষণা দিয়েছেন।
জিন্নাহ বরং উলামাদের সেই লক্ষ্যের সাথে গাদ্দারি করেছে এবং উলামাদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সামাজিক প্রভাব ও সমর্থনকে ব্যবহার করেছে।
মুসলিম লীগের অধীনে মুসলিমদের আলাদা ভূখণ্ড হওয়ার যেই প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল, সেখানে তাদের মনোযোগ ইসলামি অনুশাসনের প্রতি ছিলনা। বরং হিন্দুদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য মুসলিমদের জন্য আলাদা এক ভূখণ্ডের দাবিদার ছিল। যেই ভূখণ্ড ইউরোপীয় চিন্তাচেতনায় প্রভাবিত ব্যক্তির মাধ্যমে বৃটিশ আদলেই পরিচালিত হবে।
বৃটিশ শাসন থেকে মুক্তি ও ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা তাদের জীবনদর্শনেই ছিল না। রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ইসলামের অবস্থান ও ইসলামি শরীয়ত প্রতিপালনের ফিকরি ও ইলমী ভিত তাদের ছিল না, যেটি শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী রহিমাহুল্লাহর তাহরিকের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
এজন্য বৃটিশ সরকার উলামায়ে কেরামের প্রতি সর্বদা আগ্রাসী ছিল। তারা তাহরিকে জিহাদের সিলসিলায় সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনকে কঠোর হস্তে দমন করে। পাশাপাশি তারা স্যার সৈয়দ আহমাদ খানদের মত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুসলিমদের ভিতর এমন একটি শ্রেণি তৈরি করতে চেষ্টা করে, যারা নামে মুসলিম হবে। কিন্তু চিন্তাচেতনায় হবে পশ্চিমা। যাদের হাতে বৃটিশরা এই ভূখণ্ডের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে যেতে পারবে। মুসলিম লীগের নেতারা ছিল সেই শ্রেণিরই অন্তর্ভূক্ত।
বৃটিশরা যখন উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন এই শ্রেণিটির হাতেই মুসলিমদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব চলে যায়। আজকে আমরা যেই সেকুলার শাসনব্যবস্থা ও সেকুলার নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছি সেটি মূলত এই ধারার সাথেই সম্পৃক্ত।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এর প্রতিটি সেক্টর যাদের নেতৃত্বে ছিল, তাদের প্রায় সকলেই ছিল বিভিন্ন বাতিল চিন্তা ধারণ কারী এবং বৃটিশদের আদর্শিক গোলাম।
তখনকার সময়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বও মুসলিমলীগের হাতে ছিল। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি ও শেখ মুজিবুর রহমান মুসলীম লীগের দলভুক্ত ছিল। মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের যেই মিশন মুসলিম লীগ হাতে নিয়েছিল, সেটি বাস্তবায়নের জন্য শেখ মুজিবের দৌড়ঝাঁপ তার আত্মজীবনিতে ফুটে উঠে। মুসলিম লীগ থেকেই ১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানী সহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। এরপর ১৯৫৫ সালে মুসলিম নাম ফেলে দিয়ে আওয়ামীলীগ নামকরণ করা হয়।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ভাগ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এখানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সেক্টরে হিন্দুত্ববাদী এবং একই সাথে পূর্ব থেকে থাকা ইউরোপীয় চিন্তাচেতনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা লাভ হয়। ফলে প্রধান সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব উল্লেখিত চিন্তাধারারই ভাবশিষ্য হয়ে উঠে। কেউ হিন্দুত্ববাদ দ্বারা প্রভাবিত কট্টোর শাহবাগী সেকুলারিজমের দ্বারা প্রভাবিত, আর কেউ মুসলিম লীগের মত মুসলিম নামধারী সেকুলারিজম দ্বারা প্রভাবিত। যাদের কারো মাঝেই ইউরোপীয় চিন্তাচেতনা থেকে মুক্তি ও ইসলামী শাসন বাস্তবায়নের চেতনার উপস্থিতি পরিলক্ষিত নয়।
মূলত এই মুসলিম লীগই উপমহাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ও স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে। তারাই উলামায়ে কেরামের সমর্থণকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মুসলিম সমাজকে পাশ্চাত্য চিন্তাচেতনার দিকে নিয়ে গেছে বৃটিশদের দালাল হয়ে। তারা উপমহাদেশে সৈয়দ আহমাদ শহীদের তাহরিকে জিহাদের আন্দোলনকে দূর্বল করে স্যার সৈয়দ আহমাদ খানের মর্ডানিজমের ধারাকে শক্তিশালী করেছে। তারপর প্রথমদিকে তাদের ভিতর যেই মুসলিম জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত ছিল, এক পর্যায়ে সেটাও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
~~~ফেসবুক থেকে সংগৃহীত~~~