Announcement

Collapse
No announcement yet.

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সমসাময়িক আকাবিরদের সংগ্রাম (চতুর্থ পর্ব)

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সমসাময়িক আকাবিরদের সংগ্রাম (চতুর্থ পর্ব)

    ইসলামের অন্যতম মুবাল্লিগ ও আশেকে রাসূল (স.)
    হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ)

    জন্মঃ ১১৯৩ হিজরী - মৃত্যুঃ ১২৪৬ হিজরী


    হযরত শাহ ওলীউল্লাহ (রহঃ) -এর পরিবারে জন্ম নেয়া এক যুবক তাওহীদ ও সুন্নাতের প্রাচার-প্রসার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিমার অপবিত্রতা- অসারতা বর্ণনা এবং আল্লাহর একত্ববাদের পয়গাম বিশ্ববাসীকে শুনিয়ে যাচ্ছেন। বলে বেড়াচ্ছেন “আমার জীবনের এক মাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর একত্ববাদ এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যথার্থ অনুসরণের মশাল প্রজ্বলিত করা।” এ যুবকের কথায় যাদুর ক্রিয়া আছে। তার কথায় মানুষ যাদুর মত প্রভাবাধিত হচ্ছে। তার বর্ণনায়-বক্তৃতায় সততা ও অকপটতার আভা বিচ্ছুরিত হচ্ছে। তার আহ্বান-ধ্বনিতে মদীনার সুমধুর সুর এবং তার কণ্ঠে বহি-জ্বালা ও মর্ম-পীড়া অনুভূত হচ্ছে। প্রথা প্রচলন-সামাজিকতা, ফ্যাশন ও আধুনিকতার সাথে আপোষহীন এই যুবক পথ হারা জাতিকে বিদআত ও শিরক এর অক্টোপাস থেকে মুক্ত করতে প্রাণ-পণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াজ, উপদেশ দান, তাবলীগ, পথ প্রদর্শন, সত্যের দিকে আহ্বান এবং দিশেহারা জাতির জন্য দু'আ করাই ছিল এই যুবকের এক মাত্র কাজ।

    ইতিহাসের ক্ষণজন্মা এই যুবকই হলেন শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ)। হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) হলেন হযরত শাহ ওলীউল্লাহ (রহঃ) -এর নাতি এবং শাহ আব্দুল গনী (রহঃ) এর সাহেবদাজা। তিনি ছিলেন আম্বিয়ায়ে কেরাম (আঃ)গণের মিশনের যথার্থ অনুসারী। তিনি তার ইতিহাসখ্যাত বিশিষ্ট বুযুর্গ চাচা, হযরত শাহ আব্দুল আযীয (রহঃ) এরও সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন। তার মাধ্যমেই তিনি আধ্যাত্মিক পথে যাত্রা শুরু করেন। হযরত শাহ ওলীউল্লাহ (রহঃ) এর বংশের এই যুবক একেবারে অল্প বয়সেই ইসলামী শিক্ষার পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত কিতাবাদী অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। শৈশব থেকেই হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) এর অন্তরে জিহাদের এক অদম্য স্পৃহা এবং মুখে সর্বদা একত্ববাদের সুমধুর বাণী প্রতিধ্বনিত হত।

    হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) অসংখ্য কিতাবাদী রচনা করেন। যার মধ্যে শুধু একটি কিতাব তথা “তাকবিয়াতুল ঈমান" এর উসীলায় তিন লক্ষ হিন্দু ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধী (রহঃ) এর মত খ্যাতিমান ব্যক্তিও তার সেই কিতাবের উসীলায় ইসলামের পতাকাতলে শামিল হন। তাঁর প্রাথমিক জীবন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের তাবলীগের মাধ্যমে অতিবাহিত হয় । তাঁর সব ক'টি কিতাবই ছিল সে সব সফরের মধ্যে রচিত।

    হযরত শাহ আব্দুল আযীয (রহঃ) মাঝে মাঝেই বলতেন, আমার ভাষণ-বক্তৃতা ও আলোচনা শৈলী যথাযথভাবে আয়ত্ব করেছে ইসমাঈল, রচনা ও সংকলন প্রণালী আয়ত্ব করেছে রশীদ উদ্দীন আহমদ এবং তাকওয়া ও খোদাভীতি আত্মস্থ করেছে ইসহাক। ইলমী জগতে সবে মাত্র অল্প সময় অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি তার স্বনামধন্য চাচা এবং আধ্যাত্মিক গুরু হযরত শাহ আব্দুল আযীয (রহঃ) এর অনুমতিক্রমে হযরত সাইয়্যেদ আহমদ (রহঃ) -এর জিহাদী কাফেলায় শামিল হয়ে যান। এর কিছুদিন পর সংবাদ এল যে, পাঞ্জাবের স্বৈরচারী শাসক রাজা রণজিৎ সিং মুসলমানদের উপর অত্যন্ত নির্দয় ও অন্যায়ভাবে নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে। ইংরেজ শাসকদের ইঙ্গিতে মুসলিম নিধনের এক সুপরিকল্পিত নীল নকশা হাতে নিয়ে সে অগ্রসর হচ্ছে। যত্রতত্র মসজিদগুলোকে অপবিত্র করছে। মসজিদকে ঘোড়ার আস্তাবল বানাচ্ছে। মুসলিম নারীদের শ্লীলতাহানী করছে। তাদের উপর বখাটেদের লেলিয়ে দিচ্ছে। ইসলামের আকীদা বিশ্বাস, সম্যতা-সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচার নিয়ে উপহাস করছে। মুসলমানদেরকে যখন-তখন বিভিন্ন ছোট খাটো অজুহাতে দফায় দফায় নির্যাতন চালাচ্ছে এবং তাদের উপর সীমাহীন কঠোরতা প্রদর্শন করছে।

    মুসলমানদের উপর এসব নির্যাতনের সংবাদ শ্রুতি গোচর হতেই হযরত সাইয়্যেদ আহমদ এবং শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) আর স্থির থাকতে পারলেন না। মুসলমান ভাই-বোনের এই দুর্দশায় নিজেকে স্থির রাখা তাদের জন্য রীতিমত দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল। তাই পরামর্শ ক্রমে হযরত সাইয়্যেদ আহমদ (রহঃ) প্রথমে হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) কে পাঞ্জাবের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। তিনি আকুড়া, শায়দূ, তংগী, টবকগ্রাম, শংকপারীসহ আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জিহাদী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য সফর করেন।

    তিনি সফর শেষে ফিরে এসে সকল অবস্থা হযরত সাইয়্যেদ আহমাদ (রহঃ) -এর নিকট ব্যক্ত করেন এবং পরামর্শের মাধ্যমে জিহাদের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ কতে শুরু করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, রণজিৎ সিং এর অহংকার, গাদ্দারী এবং নির্যাতনের কঠোর জবাব দেয়া হবে । এবং পাঞ্জাবে নির্যাতনের শিকার নিরীহ মুসলমানদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না। ইসলামের দুশমনদের সর্ব প্রকার অত্যাচার- নির্যাতন প্রতিহত করা হবে। এ ব্যাপারে কোন আপোষ কিংবা শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। প্রয়োজনে চরম ত্যাগ ও কুরবানীর জন্যও আমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সৈন্য বাহিনীতে লোক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) ছিলেন হযরত সাইয়্যেদ আহমদ (রহঃ) এর জিহাদী কাফেলা প্রাণ পুরুষ। তিনি বালাকোটের রণাঙ্গণে বদরী মুজাহিদদের অসাধারণ ত্যাগ ও কুরবানীর ইতিহাসকে পুনর্জীবিত করেন। তিনি ইচ্ছে করলে জিহাদের ময়দান থেকে পাঞ্জাবের রাজার দেয়া পুরস্কার নিয়ে ফিরে আসতে পারতেন। কিন্তু তাওহীদের নেশায় মত্ত ও শাহাদাতের জন্য পাগল প্রাণ এই বীরপুরুষ জীবনে শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে শত্রু পক্ষের তলোয়ার এসে তার গর্দানের চামড়া ভেদ করে কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।

    হযরত শাহ ইসমাঈল (রহঃ) এর এক জীবনীকারের মতে হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) -এর শাহাদাতের কিছুক্ষণ পূর্বে এক হিন্দু প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কটাক্ষ করেছিল। তখন তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত মারা যাব না যতক্ষণ না তোকে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করব।” ফলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) এর গলা কেটে গেছে এমতাবস্থায়ও তিনি তলোয়ার হাতে নিয়ে পলায়নরত সেই হিন্দুর পশ্চাদধাবন করেন এবং তরবারীর কোপে তার শির দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। উল্লেখ্য, আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার মুখ থেকে যা বের করেন আল্লাহ তায়ালা তা পূরণের ব্যবস্থা করেন। হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) অনাগত প্রজন্মের জন্য জিহাদের এক বিরাট শিক্ষা উপহার দিয়ে যান। রেখে যান অনুপম আদর্শ। স্মরণ করিয়ে দেন বদর, উহুদসহ সব ক'টি ইসলামী যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামদের (রাযিঃ) রেখে যাওয়া আদর্শ। শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) মুসলমানদের কল্যাণ এবং ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজেই সারাটি জীবন ব্যয় করেছেন। তিনি ইসলামী ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়ে চির ভাস্বর হয়ে আছেন। যুগ যুগ ধরে তিনি হয়ে আছেন মুসলিম মুজাহিদদের প্রেরণার এক মহা উৎস।
    হে আল্লাহর পথের সৈনিক! ধৈর্যধারণ করুন ও হকের উপর অবিচল থাকুন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য।

  • #2
    হযরত শাহ ইসমাঈল (রহঃ) এর এক জীবনীকারের মতে হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) -এর শাহাদাতের কিছুক্ষণ পূর্বে এক হিন্দু প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কটাক্ষ করেছিল। তখন তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত মারা যাব না যতক্ষণ না তোকে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করব।” ফলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) এর গলা কেটে গেছে এমতাবস্থায়ও তিনি তলোয়ার হাতে নিয়ে পলায়নরত সেই হিন্দুর পশ্চাদধাবন করেন এবং তরবারীর কোপে তার শির দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। উল্লেখ্য, আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার মুখ থেকে যা বের করেন আল্লাহ তায়ালা তা পূরণের ব্যবস্থা করেন।
    সুবহানাল্লাহ!!
    আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান বানিয়ে নিন। আমীন

    Comment


    • #3
      Originally posted by আঁধার রাতের মুসাফির View Post

      সুবহানাল্লাহ!!
      আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান বানিয়ে নিন। আমীন
      আমিন। ইয়া রব্বাল আলামীন।
      হে আল্লাহর পথের সৈনিক! ধৈর্যধারণ করুন ও হকের উপর অবিচল থাকুন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য।

      Comment


      • #4
        আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য শিরক-বিদ'আতের
        মূলোৎপাটন এবং হিন্দুত্ববাদী অত্যাচারের চির অবসান।
        শাহাদাত একটা গর্বের বিষয়; যা কেবল ভাগ্যবানদের
        কপালেই জুটে।
        - শাহ ইসমাইল শহীদ (রহঃ)
        হে আল্লাহর পথের সৈনিক! ধৈর্যধারণ করুন ও হকের উপর অবিচল থাকুন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য।

        Comment

        Working...
        X