Announcement

Collapse
No announcement yet.

ছেলেটির স্বপ্ন...

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ছেলেটির স্বপ্ন...

    ছেলেটির স্বপ্ন

    এই কাহিনীর শুরুটা হয়েছিলো ১৯৬০ সালে, ওসামা নামের ছোট্ট একটা ছেলের দেখা একটা স্বপ্নের মাধ্যমে।

    ইয়েমেনি বাবা আর সিরীয় মায়ের সন্তান ওসামার জন্ম সাউদী আরবে- তিনটি ভূখণ্ডই ইসলামের পবিত্র ভূমি। শৈশব ও কৈশোরের পুরোটা সময় জুড়েই ওসামা ছিল একজন ভাল মুসলিম। সে ছিল পিতা-মাতার বাধ্য সন্তান, সমবয়সী অন্যান্য ছেলেদের মতো খেলাধূলা করার চাইতে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করার ব্যাপারেই সে বেশি আগ্রহী ছিল।

    একজন ইসলামের শিক্ষার্থী থেকে বর্ণিতঃ
    "আমি মাদিনা-আল মুনাওয়ারা তে একজন শায়খের বাসায় ছিলাম যিনি মসজিদে নববীতে খুতবা দিতেন। আমরা যখন উনার বাড়িতে পৌঁছালাম তখন কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়ল। শায়েখ দরজা থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে ফেরত এলেন যার বয়স প্রায় ৮০ বছর কিন্তু তার চেহারা ছিল আলোকোজ্জ্বল ও সম্মানীয়।
    বাড়ির কর্তা তাকে স্বাগত জানালেন আর তাঁকে কুরআনের কিছু আয়াতের তাফসীর করতে অনুরোধ করলেন। অতিথি শায়েখ কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে সেগুলোর তাফসীর শোনালেন। আমরা নিঃশব্দে তার কথা শুনছিলাম; আল্লাহর কসম! আমি জীবনে কুরআনের অনেক তাফসীর পড়েছি কিন্তু এই শায়খ ছিলেন জ্ঞানগর্ভ মানুষ। যখন তাঁর কথা বলা শেষ হল, তখন বাড়ির কর্তা তাকে খেতে অনুরোধ জানালেন, কিন্তু তিনি বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখান করলেন, এবং তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে তিনি রোযা রেখেছেন।

    এরপর অতিথি চলে যাওয়ার কথা বললেন, কিন্তু নিমন্ত্রণকর্তা অনড় হয়ে বললেন, “আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের কাছে আরেকবার শায়েখ ওসামা বিন লাদেনের স্বপ্নটা বর্ণনা না করবেন, ততক্ষণ আপনাকে যেতে দেওয়া হবে না।” অতিথি হেসে ফেললেন আর জিজ্ঞেস করলেন, "সেই স্বপ্নের কথা বলছ, যা শায়খ ওসামা বিন লাদেন ৯ বছর বয়সে দেখেছিলেন? "নিমন্ত্রণকর্তা হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলেন। এরপর অতিথি-শায়েখ সেই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেনঃ “আমি ছিলাম ওসামা বিন লাদেনের বাবা মুহাম্মাদ বিন লাদেনের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমি বহুদিন তার কর্মক্ষেত্র, তার কোম্পানিতে গিয়েছি। আবার অনেক দিন কন্সট্রাকশন এর কাজের ব্যাপারে আমি তার বাসায়ও গিয়েছি। আমাদের আলোচনার মাঝে প্রায়ই তার সন্তানদের খেলাধুলার কারণে বিঘ্ন ঘটত। তখন তিনি তাদেরকে বাইরে গিয়ে খেলতে বলতেন। কিন্তু আমি অবাক হয়ে যেতাম এটা দেখে যে তিনি তার একজন পুত্রকে সবসময় তার পাশে বসে থাকতে বলতেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আপনি তাকে আপনার অন্য সন্তানদের সাথে খেলতে পাঠান না কেন? ও কি অসুস্থ? "মুহাম্মাদ বিন লাদেন হাসলেন এবং উত্তর দিলেন, ‘না, আমার এই ছেলের মাঝে বিশেষ কিছু একটা আছে”। আমি ওর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “ওর নাম ওসামা আর ওর বয়স ৯ বছর। আপনাকে আমি কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা অদ্ভুত ঘটনার কথা বলিঃ আমার এই পুত্র ফযরের সালাতের কিছুক্ষণ আগে আমাকে জাগিয়ে তুলে বলল, ''বাবা আমি আপনাকে কিছুক্ষণ আগে আমার দেখা স্বপ্ন সম্পর্কে বলতে চাই। 'আমি ভাবলাম সে হয়তো কোন দুঃস্বপ দেখেছে। আমি ওযু করে নিলাম এবং তাকে আমার সাথে মসজিদে নিয়ে গেলাম। যাওয়ার পথে সে আমাকে জানালো,

    "স্বপ্নে আমি নিজেকে একটা বড় সমতল এলাকায় দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম সাদা ঘোড়ার সওয়ার হয়ে একটা সৈন্যবাহিনী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের সবার মাথায় ছিল কালো পাগড়ী। উজ্জ্বল চোখের একজন সৈন্য আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি ওসামা বিন মুহাম্মাদ বিন লাদেন? "আমি উত্তর দিলাম- ‘হ্যাঁ’। এরপর তিনি আমাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি ওসামা বিন মুহাম্মাদ বিন লাদেন?' আমি আবারও উত্তর দিলাম, ‘হ্যাঁ, আমিই সে। তিনি আবারও আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি ওসামা বিন মুহাম্মাদ বিন লাদেন?” আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম, আমি ওসামা বিন লাদেন। তিনি আমার দিকে একটি পতাকা এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই পতাকাটি আল-কুদসের প্রবেশ পথে ইমাম মাহদী মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহর হাতে তুলে দিও"।
    আমি তার হাত থেকে পতাকাটি নিলাম এবং দেখলাম যে সৈন্যবাহিনীটা আমাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।

    মুহাম্মাদ বিন লাদেন বললেন, "আমি এটা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু ব্যবসার কাজে স্বপ্নের কথা ভুলে গেলাম। পরের দিন সকালেও ওসামা ঠিক ফযরের সালাতের আগে আম তুলল এবং একই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করল। তৃতীয় দিন সকালেও একই ঘটনা ঘটল। এবার পুত্রের জন্য আমার দুশ্চিন্তা হতে শুরু করলো। আমি তাকে একজন ইসলামীজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি যিনি স্বপ্ন ব্যাখ্যা করতে পারেন, তার কাছে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ওসামাকে একজন ইসলামীজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেলাম এবং তাকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বললাম।

    তিনি অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, "এই কি আপনার সেই সন্তান যে স্বপ্নটা দেখেছে?” আমি বললাম,'হ্যাঁ'। তিনি কিছুক্ষণ ওসামার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। আমি আরও চিন্তিত হয়ে পড়লাম। তিনি আমাকে প্রবোধ দিলেন এবং বললেন, ‘আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব। আমি নিশ্চিত আপনি সততার সাথে সেগুলোর উত্তর দিবেন।” তিনি ওসামাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'বাবা, ঘোড়সওয়ার সৈন্যটি তোমাকে যে পতাকা দিয়েছিল তোমার কি সেটার কথা মনে আছে?' ওসামা উত্তর দিল, 'হ্যাঁ' আমার মনে আছে।’

    তিনি ওসামাকে জিজ্ঞেস করলেন, “পতাকাটি কেমন ছিল তুমি কি তা বর্ণনা করতে পারবে?” ওসামা বলল, “ওটা দেখতে সৌদি আরবের পতাকার মতই ছিল, কিন্তু সবুজ নয় বরং কালো রঙের। আর ওটার উপরে সাদা রং দিয়ে কিছু একটা লিখা ছিল।'
    এরপর তিনি ওসামাকে পরের প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি কখনো নিজেকে যুদ্ধরত অবস্থায় দেখেছ?” ওসামা উত্তর দিল, 'আমি প্রায়শই এমন স্বপ্ন দেখি।' এরপর তিনি ওসামাকে ঘর থেকে বাইরে যেতে বললেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতে বললেন।

    এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার পূর্বপুরুষ কোথা থেকে এসেছে"? 'আমি উত্তর দিলাম, ‘ইয়েমেনের হাদরামাউত থেকে।' এরপর তিনি আমাকে আমার গোত্র সম্পর্কে আরও কিছু বলতে বললেন। আমি তাকে জানালাম যে, আমরা শাওয়াহ গোত্রের সাথে সম্পর্কিত যা কিনা ইয়েমেনের একটি কাহতানী গোত্র।

    এরপর তিনি উচ্চস্বরে তাকবীর দিলেন এবং ওসামাকে কাছে ডেকে কাঁদতে কাঁদতে তাকে চুম্বন করলেন। তিনি আরও বললেন যে শেষ দিবসের লক্ষণগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করেছে! '‘ও মুহাম্মাদ বিন লাদেন, আপনার এই পুত্র ইমাম মাহদীর জন্য এবং ইসলামকে রক্ষা করার জন্য একটি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করবে। সে খোরাসানে (আফগানিস্তান) হিজরত করবে। ও ওসামা! যে ব্যক্তি তোমার পাশে থেকে জিহাদ করবে সে সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি তোমাকে ত্যাগ করবে এবং তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সে সর্বনাশগ্রস্ত ও হতাশ হবে"।
    প্রকৃত তাওহীদের অনুসারীরা অপরিচিতদের মধ্যেও অপরিচিত

    ​​​​
    - শাইখ আহমাদ মুসা জিব্রিল হাফিজাহুল্লাহ
    -

  • #2
    জাযাকাল্লাহ ❤️

    Comment


    • #3
      আল্লাহ্‌ তায়ালা শাইখের মার্যাদা বৃদ্ধি করুন। আর আমাদেরকে খিলাফাহ ফিরিয়ে দিন । আমীন

      Comment

      Working...
      X