অবলোকন প্রতিক্রিয়া
শাহাদাতের ১৪ বছর পরও আল-কায়েদা যোদ্ধার লাশ অক্ষত
-মুনশি আব্দুর রহমান
শাহাদাতের ১৪ বছর পরও আল-কায়েদা যোদ্ধার লাশ অক্ষত
-মুনশি আব্দুর রহমান


শহীদ আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ) আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশের শুষ্ক মাটির নিচে ১৪ বছর ধরে শায়িত ছিলেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের এক প্রচণ্ড সম্মুখযুদ্ধে শাহাদাতের পর তাকে সমাহিত করা হয়েছিল। ১৪ বছর পর তাকে পুনরায় দিনের আলোতে আনা হলো, মনে হলো তিনি যেন মাত্র কিছুক্ষণ আগেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। এই ঘটনা কোনো রূপকথা নয়, বরং আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে ইমারতে ইসলামিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পের সময় উন্মোচিত হওয়া এক অলৌকিক সত্য। শহীদ আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর লাশ অক্ষত পাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি অলৌকিক নিদর্শনই নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ের অনেক অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ বজ্রকঠিন চপেটাঘাত।
শহীদের কারামাত- অলৌকিক একটি নিদর্শন:
আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন মুজাহিদ, যিনি নিজের যৌবনের বসন্ত কাটিয়েছেন কাশ্মীর থেকে খোরাসানের রণাঙ্গনে। ২০১২ সালে লোগরের 'চারখ' এলাকায় মার্কিন ক্রুসেডার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর যখন ইমারতে ইসলামিয়ার তত্ত্বাবধানে সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনে তাঁর কবর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন উপস্থিত জনতা ও আলেমসমাজ এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হন।
মাটির নিচে ১৪টি বছর কেটে গেলেও তাঁর পবিত্র দেহ পচেনি, গলে যায়নি, এমনকি কাফনের কাপড়েও মলিনতার ছাপ লাগেনি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমস্ত যুক্তিকে হার মানিয়ে এই 'কারামত' প্রমাণ করে যে, আল্লাহর রাস্তায় যারা জীবন দেন, মাটি তাদের গ্রাস করতে পারে না। এটি পবিত্র কুরআনের সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন—
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ
"আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না।" (সুরা বাকারা আয়াত নম্বর: ১৫৪)
আল-কায়েদা ও তালেবানের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন সম্পর্কে মিথ্যাচারের জবাব:
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন বিশ্বজুড়ে একদল সুবিধাবাদী ও সমালোচক গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত দাবি করে আসছে যে, ইমারতে ইসলামিয়া (তালেবান) এবং আল-কায়েদার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, অথবা তাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই ঘটনা সেই দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথমত, আহমেদ কাশ্মীরি ছিলেন আল-কায়েদার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন জানবাজ মুজাহিদ, যিনি পাকিস্তান থেকে হিজরত করে আফগানিস্তানে এসে তালেবানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। যদি সম্পর্ক নাই থাকত, তবে আল-কায়েদার একজন যোদ্ধা আফগানিস্তানের মাটিতে এমন সম্মানের সাথে সমাহিত হতেন না।
দ্বিতীয়ত, ১৪ বছর পর আজ যখন ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ক্ষমতায়, তখন তারা এই আল-কায়েদা যোদ্ধার কবরকে অবজ্ঞা করেনি। বরং রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের কাজের সময় পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদা ও সম্মানের সাথে, আলেম-উলামার উপস্থিতিতে তাঁর দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, মুহাজির (আল-কায়েদা) ও আনসারদের (তালেবান) এই বন্ধন কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের নয়, বরং এটি রক্তের ও ঈমানের বন্ধন—যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।
হকের পথে কারা, তাঁদের সম্পর্কে একটি আসমানি ফয়সালা:
যাদেরকে পশ্চিমা মিডিয়া ও তাদের দোসররা 'সন্ত্রাসী' বা 'পথভ্রষ্ট' হিসেবে চিত্রিত করতে চায়, তাদের লাশের এই অবস্থা কেন? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কি কোনো বাতিল বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তির লাশকে ১৪ বছর ধরে এমন সযত্নে রক্ষা করবেন?
আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই অক্ষত দেহ প্রমাণ করে যে, আল-কায়েদা যেই মানহাজ বা আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা আল্লাহর নিকট কবুলকৃত। তিনি কাশ্মীর থেকে ওয়াজিরিস্তান, এবং সেখান থেকে লোগর পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন কেবল আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে। নিজের জমানো টাকায় স্নাইপার কিনে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ এবং ১৪ বছর পর অক্ষত দেহ এটাই জানান দেয় যে, এই দলটি 'হক'-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ, আল্লাহর সাহায্য ও কারামত কেবল তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্যই নির্ধারিত।
আহমদ কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই ঘটনা সেই সব সমালোচকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব, যারা মুজাহিদদের অবদানকে অস্বীকার করতে চায়। তারা টিভি টকশো আর সোস্যাল মিডিয়ায় বসে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে, আর ওদিকে আফগানিস্তানের পবিত্র মাটি ১৪ বছর ধরে পরম মমতায় বুকে আগলে রেখেছে আল-কায়েদার সন্তানকে।
মাটির নিচ থেকে উঠে আসা এই নীরব সাক্ষী আজ চিৎকার করে বলছে—সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসারিত। শহীদরা মরে না, আর হকের কাফেলা কখনো পথ হারায় না।
*****
মূল ভিডিওটি দেখতে ভিজিট করুন- https://archive.ph/mav8E
মূল ভিডিওটি দেখতে ভিজিট করুন- https://archive.ph/mav8E
Comment