Announcement

Collapse
No announcement yet.

কীভাবে আমেরিকা আল-কায়েদার হাতে বন্দি ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনকে ‘মুক্ত’ করেছিল? || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • কীভাবে আমেরিকা আল-কায়েদার হাতে বন্দি ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনকে ‘মুক্ত’ করেছিল? || মুনশি আব্দুর রহমান

    কীভাবে আমেরিকা আল-কায়েদার হাতে বন্দি ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনকে ‘মুক্ত’ করেছিল?

    -মুনশি আব্দুর রহমান




    মার্কিন ইহুদি ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইন (Warren Weinstein) ছিলেন ৭২ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তি। শিক্ষাগত জীবনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর কাজ করেছেন। কর্মজীবনে তিনি কলেজ অধ্যাপক থেকে শুরু করে পশ্চিম আফ্রিকায় পিস কোর (Peace Corps)-এর পরিচালক এবং ইউএসএআইডি (USAID), আইএফসি (IFC) ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য মার্কিন সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে জে. ই. অস্টিন নামক একটি মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়ে তিনি পাকিস্তানে আসেন।


    কীভাবে বন্দি হলেন?

    ২০১১ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তানের লাহোর শহর থেকে আল-কায়েদা তাঁকে বন্দি করে । তিনি মূলত সত্তরের দশক থেকেই মার্কিন সহায়তার আড়ালে তিনি মূলত গুপ্তচরবৃত্তি ও আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের কাজে যুক্ত ছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, তিনি ইউএসএআইডি-এর অধীনে ফাটা (FATA) প্রকল্পে কাজ করতেন এবং করাচির ব্যস্ত বন্দরগুলো থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত ন্যাটো (NATO) বাহিনীর সামরিক রসদ সরবরাহের পথ সুগম করার দায়িত্বে ছিলেন । আল-কায়েদা মূলত মার্কিন সরকারের ওপর প্রবল মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের কারাবন্দি সদস্যদের মুক্ত করার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবেই তাঁকে বন্দি করেছিল।


    আল-কায়েদা আমেরিকার কাছে কী চেয়েছিল?

    ওয়ারেনকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে আল-কায়েদার আমীর শাইখ আয়মান আয-যাওয়াহিরি মার্কিন প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো ছিল:
    • প্রথমত, মিশর ও গাজার ওপর আরোপিত অমানবিক অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
    • দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং গাজায় আমেরিকা ও তার মিত্রদের নির্বিচার বোমা হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
    • তৃতীয়ত, গুয়ান্তানামো বে-সহ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল গোপন কারাগার চিরতরে বন্ধ করে সেখানকার কারাবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
    • চতুর্থত, ড. আাফিয়া সিদ্দিকী, রামজি ইউসুফ, শায়খ ওমর আবদুর রহমান এবং শায়খ উসামা বিন লাদেনের পরিবারের সদস্যদের সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তাঁদের ওপর আরোপিত সকল মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।

    এর পাশাপাশি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মাধ্যমেই পাকিস্তানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি নিজেদের মুজাহিদদের মুক্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও আল-কায়েদার ছিল।


    ওয়ারেন আমেরিকা ও ইসরাইলের কাছে কী চেয়েছিলেন?

    বন্দিদশায় ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইন প্রিয় পরিবার—বিশেষ করে স্ত্রী এলেইন এবং তাঁর সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির কাছে সরাসরি আকুতি জানান, যেন তাঁরা দ্রুত আল-কায়েদার দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাঁকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। নিজের ভগ্নস্বাস্থ্য, হৃদরোগ ও হাঁপানির কষ্ট নিয়ে তিনি চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে মার্কিন সরকারের সেবা করার পরও নিজেকে এক 'পরিত্যক্ত' ও ' বিস্মৃত' মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করা তাঁর জন্য ছিল ভয়াবহ কষ্টের। তিনি আমেরিকান গণমাধ্যম বা 'ফোর্থ এস্টেট', সাধারণ নাগরিক এবং নিজের পরিবারের প্রতি আকুল আবেদন জানান, যেন তাঁরা তাঁর মুক্তির লক্ষ্যে সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। চরম অসহায়ত্ব নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তাঁর দাবিগুলো মেনে না নিলে এই বন্দিদশাতেই তাঁকে নিঃসঙ্গ মৃত্যুবরণ করতে হবে।


    আমেরিকা কেন তাঁকে মুক্ত করেনি?

    মার্কিন প্রশাসন ওয়ারেনকে মুক্ত করার জন্য কোনো আন্তরিক বা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি । আল-কায়েদার সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিল, ওয়ারেনের মুক্তির বিষয়ে মার্কিন সরকার তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ স্থাপন করেনি; বরং তারা চেয়েছিল বন্দিদশাতেই এই প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হোক, যাতে করে এই অস্বস্তিকর সংকটের স্বাভাবিক অবসান ঘটে। ওয়ারেন নিজেও নিজের ভিডিও বার্তায় এই নিদারুণ অবহেলার কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজে একজন পরিবার-অন্তপ্রাণ মানুষ হয়েও তাঁর জীবনের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং এক নির্লিপ্ত অবহেলায় তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।



    কীভাবে তিনি মুসলমান হলেন?

    বন্দিজীবনে মুজাহিদদের অকৃত্রিম মানবিক আচরণ ওয়ারেনের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয় । আল-কায়েদার আমীর শায়খ আয়মান আয-যাওয়াহিরির নির্দেশে তাঁকে নিছক একজন বন্দি নয়, বরং 'অতিথি' হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁর বয়স ও ভগ্নস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মুজাহিদরা নিজেদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে ফেলেও তাঁর জন্য বিশেষ পশ্চিমা খাবার, মিনারেল ওয়াটার এবং হার্ট ও হাঁপানির জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিয়মিত সরবরাহ করতেন। বিভিন্ন সময়ে কথোপকথনের ফাঁকে মুজাহিদরা পশ্চিমা সমাজের ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় এবং মুসলিম বন্দিদের ওপর মার্কিন বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের (যেমন নারীদের ধর্ষণ বা বিবস্ত্র করা) চিত্র তুলে ধরতেন এবং এর বিপরীতে নিজেদের মানবিক আচরণের সুস্পষ্ট পার্থক্য তাঁকে বুঝিয়ে বলতেন। এসব আলোচনায় ওয়ারেন ধীরে ধীরে প্রভাবিত হন। তিনি নিবিষ্ট মনে ইংরেজি অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন পড়তে শুরু করেন এবং ইয়ারফোনে শায়খ আনোয়ার আল-আওলাকির ইসলামিক বক্তব্যগুলো শুনতে থাকেন। অবশেষে জাহান্নামের শাস্তির ভয়ে ভীত হয়ে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি নিজেই পাহারারত এক মুজাহিদকে ডেকে ইসলাম গ্রহণের ঐকান্তিক ইচ্ছা প্রকাশ করেন । ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রাখেন "ইসহাক বিন সিডনি"। মুজাহিদরা তাঁকে ভালোবেসে 'চাচা ইসহাক' বলে ডাকতেন। এরপর থেকে তিনি পরম নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায় ও রোজা রাখার পাশাপাশি আরবি ভাষা শেখায় মনোনিবেশ করেন।


    কীভাবে তিনি শহীদ হলেন?

    ইসলাম গ্রহণের পর চাচা ইসহাক মুজাহিদদের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও শান্তিময় পরিবেশে ইসলামি জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলা ও মার্কিন ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে রক্ষা করতে মুজাহিদরা তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ তাঁকে 'ওয়াচা দারা' নামক একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন আরেক ইতালীয় নওমুসলিম জিওভানি লো পোর্তো (যাঁর ইসলামি নাম রাখা হয়েছিল মুহাম্মাদ ইতালীয়) এবং উস্তাদ আহমদ ফারুকসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় মুজাহিদ নেতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের এক ভয়াল রাতে সেই বাড়িটির ওপর আকস্মিকভাবে মার্কিন ড্রোনের ভয়াবহ হামলা হয় । তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে (বিশেষ করে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'কাউন্টার-টেররিজম প্লাস' অভিযানের আওতায়) চালানো সেই নির্মম হামলায় ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইন, ইতালীয় বন্দি এবং উস্তাদ আহমদ ফারুকসহ বেশ কয়েকজন মুজাহিদ ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরণ করেন। এভাবেই, জীবনের মূল্যবান ত্রিশটি বছর যে রাষ্ট্রের সেবায় তিনি উৎসর্গ করেছিলেন, চরম পরিহাসের বিষয় হলো- সেই নিজের দেশের সরকারের ছোড়া মিসাইলের আঘাতেই এক প্রবীণ নওমুসলিমের জীবনের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটে।


    এক রাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতি এবং মানব-দরদের বিচিত্র মাপকাঠি

    সম্প্রতি ইরানের এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ এর দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি টেনেছে। পাইলটের কাছে থাকা সিগন্যাল বিকনের সাহায্যে আমেরিকানরা তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে সক্ষম হয়, যা ইরানিদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। ফলে ইরানিরা তাকে খুঁজে পাওয়ার আগেই আমেরিকানরা তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। এই উদ্ধারযজ্ঞ নির্বিঘ্ন করতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেয় যে, পাইলটকে ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে; এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানি বাহিনী যেন বিভ্রান্ত হয়ে তাদের অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করে দেয়।

    তবে এই সাফল্য বিনা মূল্যে আসেনি; এর জন্য আমেরিকাকে আক্ষরিক অর্থেই বিশাল মূল্য চোকাতে হয়েছে। প্রথম ক্রুকে উদ্ধার করতে গিয়েই মার্কিন বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও একটি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর কাছাকাছি সময়ে আরও দুটি বিমান ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এরপর দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের এই চূড়ান্ত অভিযানে অংশ নেয় প্রায় এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং শতাধিক স্পেশাল ফোর্স। কিন্তু উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় ইরানি গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দিলে মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি ও বোমা বর্ষণ করে। এই সংঘাতে আমেরিকার দুটি সি-১৩০ (C-130) উদ্ধারকারী বিমান আটকে পড়ে। মার্কিন বর্ণনায় এটাকে 'আটকা পড়া' বলা হলেও, ইরানিদের দাবি হচ্ছে সেগুলোকে আসলে ভূপাতিত করা হয়েছিল। ওই দুটি বিমান উদ্ধারের জন্য আমেরিকা আরও তিনটি বিমান পাঠায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে জীবিত ও আহত ক্রুদের নিয়ে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে যাওয়ার আগে নিজেদের ফেলে যাওয়া বিমান দুটি তারা নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়ে যায়, যাতে সেগুলো কোনোভাবেই ইরানিদের হস্তগত না হয়। এত বিপুল কাঠখড় পুড়িয়ে এবং অভাবনীয় ক্ষতি স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত নিজেদের একজন সেনাকে উদ্ধার করাটা সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের এক বড় সাফল্যই বটে।

    কিন্তু এই উদ্ধার অভিযানের ঠিক পাশেই যখন ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনের মর্মান্তিক পরিণতির চিত্রটি আমরা স্থাপন করি, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির এক চরম দ্বিমুখিতা ও অমানবিকতার নগ্ন রূপ উন্মোচিত হয়। একজন সামরিক পাইলটকে বাঁচাতে যে রাষ্ট্র তার শত শত এলিট ফোর্স, ডজন ডজন যুদ্ধবিমান এবং কোটি কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম নির্দ্বিধায় বাজি রাখতে পারে, সেই একই রাষ্ট্র নিজের একজন ৭২ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিকের বেলায় চূড়ান্ত নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করে। ওয়ারেন কোনো সশস্ত্র সৈনিক ছিলেন না, ছিলেন একজন বেসামরিক কর্মকর্তা, যিনি জীবনের ৩০টি অমূল্য বছর নিজ দেশের স্বার্থেই বিলিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ তাঁকে মুক্ত করার জন্য সামান্য আলোচনা বা কূটনৈতিক সদিচ্ছাটুকুও আমেরিকা দেখায়নি; বরং উল্টো নিজেদের ছোড়া ড্রোনের আঘাতেই তাঁর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

    আমেরিকার এই দ্বিচারিতা আজ আমাদের সামনে কিছু তীক্ষ্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়:

    প্রথমত, একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি কেবল তার গায়ে জড়ানো সামরিক উর্দির ওপর নির্ভর করে? একজন সৈনিক না হলে কি রাষ্ট্রের চোখে তার সাধারণ নাগরিকের জীবনের কোনো মানবিক উপযোগিতা থাকে না?
    দ্বিতীয়ত, যে রাষ্ট্র একজন পাইলটকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য দেশের নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর অনায়াসে বোমাবর্ষণ করতে পারে, সেই রাষ্ট্রই আবার বন্দি বিনিময়ের মতো একটি রক্তপাতহীন পথ এড়িয়ে ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনকে কেন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল? এটি কি স্রেফ পরাশক্তির অহংকার, নাকি বেসামরিক জীবনের প্রতি তাদের কাঠামোগত অবজ্ঞা?
    তৃতীয়ত, সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রযন্ত্র কি তবে কেবল তাদেরই আপন ভাবে, যারা তাদের হয়ে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে? মেধা, শ্রম ও কূটনীতির মাধ্যমে যারা আজীবন রাষ্ট্রের সেবা করে যায়, সংকটের মুহূর্তে তারা কি শুধুই 'পরিত্যক্ত' ও 'বাতিলযোগ্য' কোনো দাবার ঘুঁটি?

    একদিকে আমরা দেখতে পেলাম শহীদ চাচা ইসহাক ওরফে ওয়ারেন ওয়াইনস্টাইনের ভস্মীভূত দেহাবশেষ, আবার অপরদিকে দেখা যাচ্ছে ইরানের পাহাড়ে মার্কিন পাইলট উদ্ধারের বিজয়োল্লাস। এই দুইয়ের মাঝেই তো লুকিয়ে আছে আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি আর রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুরতম পরিহাস।
    *****


    সংশ্লিষ্ট লিংকসমূহঃ

    ১- message from Warren Weinstein to the US president "Obama" US secretary of State "John Kerry" Medil, US public and his family - https://archive.org/details/Warren-US

    ২- A Message from the Prisoner Warren Weinstein to Jewish Pressure Groups in America- https://archive.org/details/jwich-saheb2

    ৩- A Message from the Prisoner Warren Weinstein to His President- https://archive.org/details/resalah_obama

    ৪- A Message from the Prisoner Warren Weinstein to the Zionist Netanyahu- https://archive.org/details/saheb_message

    ৫- اسلام کا مسافر! : وارن وائن سٹائن سے شہید اسحاق بن سیڈنی تک - https://matboatedawat.com/?p=4797

    ৬- امریکیوں نے ‘یہودی’ وارن وائنسٹائن اور ‘دہریے’ لوپورو کو نہیں مارا - https://matboatedawat.com/?p=1561

    ৭- A Message from Qa`eda al - Jihad for the Family of the Prisoner, Warren Weinstein - https://archive.org/details/AlQaaaeada/Warren1/
    ​​
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 6 hours ago.
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    আল্লাহ তা’আলা চাচা ইসহাকের শাহাদাতকে কবুল করুন, আমীন।

    Comment

    Working...
    X