Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাকিস্তানী আনসারদের ঈমানদীপ্ত ঘটনা || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাকিস্তানী আনসারদের ঈমানদীপ্ত ঘটনা || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ


    ২০০৭ এর শুরুর দিকে অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে যায়। প্রতিটি মুহূর্তে ভয় হত যে, এখনই হয়ত পলায়ন কিংবা আত্মগোপন করতে হবে। আনসাররাও ভয়ে ছিলেন, বরং মুহাজিরদের তুলনায় তাঁদেরই ভয় বেশি ছিল। কারণ তাঁদের বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, জমি-জামা সব কিছুই ঝুঁকিতে ছিল। মুজাহিদীনের সাথে কারো সম্পর্কের ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কাছে রিপোর্ট যাওয়া মাত্রই তারা ঐ আনসারের সব কিছু ধ্বংস করে ফেলত। সর্বদা আমরা এই ভয়ে থাকতাম যে, এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে কখন যেন আনসারগণ আমাদেরকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

    একদিন সে এলাকায় সৈন্যদের টহল দেয়ার (ঘুরাঘুরির) খবর ছড়িয়ে পড়ল। আমরা আনসারদের এলাকার যে ঘরটাতে থাকতাম, সে ঘরের একেবারেই নিকটেই মুজাহিদদের একটি ক্যাম্প (কেন্দ্র) ছিল। এই ক্যাম্পটার উপর অতর্কিত হামলার আশঙ্কা ছিল। এসময় হঠাৎ করে ‘আদে’ আমার নিকট আসলেন। আমি ঐ সময় একজন মুহাজির বোনের সাথে ছিলাম। এদিকে আমার স্বামী মার্কাজে (মুজাহিদীনের ক্যাম্পে) আক্রমণের আশঙ্কার কথা শুনেই আমাকে একথা বলে মুজাহিদীনের সাথে চলে গেলেন যে, এসময়ে সাথিদের হেফাযত ও সংখ্যা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার সেখানে থাকা আবশ্যক।

    ‘আদের’ (বাড়ির বয়স্ক মহিলা) এ সময়ে আসাতে আমার মনে প্রথমে এ কথাই আসল যে, এখন অবশ্যই তিনি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলবেন। কিন্তু না বরং তিনি বললেন যে, “বিপদ অনেক বেশি। তোমরা আমাদের সাথে আমাদের ঘরের অন্দর মহলে আমাদের থাকার রুমে চলে আস।” আমরা নারীরা হা করে তাকিয়ে রইলাম তাঁর দিকে। যখন বিপদ মাথার উপর এসে গেছে তখনও তাঁরা নিজেদের পরিবর্তে আমাদের হেফাযতের চিন্তা করছেন!

    শুধু কি তাই? তারা আমাদেরকে ঘর থেকে বের করার পরিবর্তে নিজেদের ঘরের অন্দর মহলের রুমে আসার জন্য বলছেন। এ অবস্থাকে সেই অনুভব করতে পারবে, যে এমন ভীতিকর নাজুক পরিস্থিতি অতিক্রম করেছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে যখন তাঁর সন্তানাদি, ঘর-বাড়ি, ধন-সম্পদ সব কিছুই দুশমনের চোখের সামনে, তখন শুধুই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য কাউকে আশ্রয় দেয়া অনেক শক্তিশালী ঈমানের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। আমীন।​


  • #2
    এমন ঈমানদীপ্ত আনসারদের ত্যাগ ও ভালোবাসা সত্যিই হৃদয়কে নাড়া দেয়। নিজেদের সবকিছু ঝুঁকিতে রেখেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুহাজিরদের আশ্রয় দেওয়া ছিল ঈমান, ইখলাস ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।​ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁদেরকে তাঁর শান অনুযায়ী উত্তম জাযা দান করুন,আমীন।

    Comment

    Working...
    X