
এরই মধ্যে লাল মসজিদের লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমরা সবসময় রেডিওতে কান লাগিয়ে রাখতাম। আর অন্তর ও জবান দোয়ায় ব্যস্ত থাকতো। যেদিন মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী রহিমাহুল্লাহ-এর আম্মার শাহাদাতের খবর পাই, সেদিন যেন আমাদের সকলের অন্তর ফেটে যাচ্ছিল। তারপর মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী ও অন্যান্য ছাত্রীর শাহাদাতের খবর আমাদের উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার মতো মনে হচ্ছিল। আমরা সকলে আল্লাহ তাআলার দরবারে বার বার এ দোয়া করছিলাম- হে আল্লাহ! আমরা এ জুলুম থেকে মুক্ত। (এই জুলুমে আমাদের কোনো হাত নেই)।
ঐ দিনগুলিতে তিনি প্রায়ই বলতেন “যেদিন আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই প্রশ্ন করবেন যে, যখন তোমাদের দেশে তোমাদেরই ভাই-বোনদেরকে শুধু এই কারণে হত্যা করা হয়েছিল যে, তাঁরা বলেছিল আমাদের রব আল্লাহ! ঐসময়ে তাঁদের সাহায্যের খুব প্রয়োজন ছিল। তখন তোমরা তাঁদের জন্য ও আল্লাহর দ্বীনের জন্য কি করেছিলে? তখন আমরা কী উত্তর দিব?”
ঐ বছরই কিছু কারণে আমাদের পাকিস্তান যেতে হয়েছিল। এতদিনে আমরা টুপিওয়ালা বোরকা পড়ে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি এবং এটাই এখন আরামদায়ক মনে হয়। অধিকাংশ মুহাজির মহিলার অনুভূতি এমনি ছিল। আর বাস্তব কথা হলো এই ধরনের বোরকা দ্বারাই আসল পর্দা রক্ষা হয়। কারণ এতে বয়স, আকৃতি কিছুই বুঝার উপায় নেই। আর ভাইজানের ভাষায় ‘এই বোরখা দেখতে এতই বে-মানান ও আকর্ষণহীন যে এর দিকে একবার তাকালে পরে আর তাকাতে মন চায় না।’ মূলত এটাই ছিল বোরকার আসল উদ্দেশ্য।
যাই হোক, পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকায় যেহেতু টুপিওয়ালা বোরকার প্রচলন নেই, তাই আমরা এক আনসারের ঘরে রাত্রি যাপন করি। পরের দিন যখন আমরা পরবর্তী মনযিলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম, তখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানকার প্রচলিত বোরকা তথা কোর্ট ও স্কার্ফ পড়ে নিলাম। এই বোরকায় হাত-পা আবৃত ছিল, কিন্তু চোখ সামান্য দেখা যাচ্ছিলো।
বাইরে বের হতেই তিনি (স্বামী) তাড়াতাড়ি কাছে এসে বললেন, “তুমি এটা কী পরেছো?” আমি তো হয়রান হয়ে গেলাম! তিনি বলতে লাগলেন, এই আকর্ষণীয় বোরকায় দেহ ঢাকলেও তা মানুষের দৃষ্টি আরো বেশি আকর্ষণকারী- যা দ্বারা বোরকার মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে আমি আর কখনও এই ধরনের বোরকাকে নিজের জন্য আরামদায়ক মনে করে পরিনি।
Comment