
মার্কিন আগ্রাসনে শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ শাহাদাতবরণ করার পর ফিলিস্তিনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়াহ রহিমাহুল্লাহ অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। গাজায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি আরব ও মুসলিমদের রক্তপাতের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন নীতির ঘোর সমালোচনা করেন।
অত্যন্ত সশ্রদ্ধচিত্তে তিনি শায়খ উসামাকে একজন ‘মুজাহিদ’ এবং আপন মুসলিম ও আরব ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে হানিয়াহ বলেন, “যেকোনো মুজাহিদ কিংবা আরব ও মুসলিম ভাইয়ের এমন গুপ্তহত্যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে নিজ রহমতের চাদরে আবৃত করে নেন।”
তাঁর এই বিবৃতির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইজতিহাদ কিংবা কর্মপদ্ধতিগত কিছু মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে এটিই প্রমাণিত হয় যে, কৌশলগত ভিন্নতা থাকলেও একজন মুসলিম মুজাহিদের প্রতি তাঁর অগাধ সম্মান ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছিল সম্পূর্ণ অবিচল।
শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ-কে নিয়ে যারা ভিত্তিহীন সমালোচনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত, তাদের জন্য ফিলিস্তিনের বরেণ্য এই নেতার দৃষ্টিভঙ্গি এক বিরাট বার্তা বহন করে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সমালোচকরা কি শায়খ ইসমাইল হানিয়াহ রহিমাহুল্লাহর এই ইনসাফপূর্ণ অভিমত থেকে আদৌ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করবে?
*****
সূত্রঃ
১- হামাস তাস্তানকিরুল ইরহাবাল আমরীকি বি-কাতলিল মুজাহিদ উসামাহ বিন লাদিন- https://archive.ph/q3dHo
২- ইসমাঈল হানিয়্যাহ ইয়াতারাহহামু ‘আলা উসামাহ ইবন লাদিন- https://archive.ph/Q7KYJ
Comment