
হামাসের অন্যতম শীর্ষনেতা ও ফিলিস্তিনি আইনসভার (পার্লামেন্ট) নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইসমাইল আল-আশকার শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহর শাহাদাতকে অত্যন্ত গভীরভাবে মূল্যায়ন করেছেন। পশ্চিমা বিশ্ব যখন তাঁকে কেবলই একজন ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অপরাধী প্রমাণ করার অপচেষ্টায় মত্ত, ঠিক তখনই ফিলিস্তিনের এই বরেণ্য নেতা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁর প্রতি সম্মান ও ইনসাফপূর্ণ এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। আল-আশকার তাঁর বক্তব্যে এই হত্যাকাণ্ডকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। নিচে তাঁর অভিমতের চুম্বকাংশ উদ্ধৃত করা হলো:
“আমরা উসামা বিন লাদেনকে একজন দুনিয়াত্যাগী (যাহিদ) মানুষ ও মুজাহিদ হিসেবেই বিবেচনা করি। শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় কষ্টকর জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। রাশিয়ান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর আফগান ভাইদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা হলো ইসলাম ও মুসলিমদের প্রকাশ্য শত্রু; যারা মুসলিম উম্মাহ, তাদের জাতিসত্তা এবং সহায়-সম্পদকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
হামাস এবং শায়খ উসামার কর্মপদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত সততার সঙ্গে তুলে ধরে আল-আশকার বলেন:
“হামাস কিছু বিষয়ে বিন লাদেনের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমতও রাখে। বিশেষত আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ফিকহি (আইনগত) মাসআলায় হামাস আল-কায়েদার কর্মপদ্ধতির সাথে সহমত নয়।”
কিন্তু কৌশলগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলিম ভাই ও মুজাহিদ হিসেবে শায়খ উসামার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন:
“আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর সুপ্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করেন।”
ফিলিস্তিনের এই শীর্ষনেতার বলিষ্ঠ ও বিস্তারিত অভিমত থেকে বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহর বিলাসবহুল জীবন ত্যাগের মানসিকতা ও অদম্য জিহাদি চেতনাকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করতেন। আদর্শিক ও কৌশলগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একজন মুজাহিদের প্রতি এমন ইনসাফপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের সমালোচকদের জন্য এক বিরাট শিক্ষণীয় বিষয়।
একইসঙ্গে এটি যেন শাইখ উসামা রহিমাহুল্লার আকাশচুম্বী জিহাদী ব্যক্তিত্ব, পাহাড়সম ইখলাস এবং আল্লাহর দরবারে কবুলিয়্যতেরও একটি আলামত। তাঁকে শুধু তাঁর অনুসারীরাই না, বরং ভিন্নমত ও পথের অধিকাংশ মুসলিম-মুজাহিদ-বিপ্লবী-উলামাও হৃদয় দিয়ে শ্রদ্ধা করেছেন, ভালোবেসেছেন, তাঁর জন্য রবের দরবারে কেঁদেছেন। কেউ তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করলেও অত্যন্ত আদব ও ভদ্রতার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। একমাত্র ব্যক্তিত্বহীন নিচুশ্রেণীর দুর্ভাগা লোকজন ছাড়া কেউ কখনো তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগার কিংবা বেয়াদবীতে লিপ্ত হয়নি।
*****
সূত্রঃ
১- হামাস তাস্তানকিরুল ইরহাবাল আমরীকি বি-কাতলিল মুজাহিদ উসামাহ বিন লাদিন- https://archive.ph/q3dHo
২- আন্-নায়িবু ‘আন হামাস ইসমাঈল আল-আশকার: “কাতলু বিন লাদিন জারীমাতু দাওলাহ - https://archive.ph/cX7g6
Comment