Announcement

Collapse
No announcement yet.

দারসে রমাদান।। দারস-১৩।। আমলের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।।

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দারসে রমাদান।। দারস-১৩।। আমলের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।।

    দারসে রমাদান।। দারস-১৩।।
    আমলের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া

    মূল: শায়খ খালিদ আল-হুসাইনান (আবু যায়েদ কুয়েতি) রহমাতুল্লাহি আলাইহি
    অনুবাদ: আল-ফিরদাউস টিম
    ==================================================
    =====



    আজ আমরা আমলের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া সম্পর্কে কথা বলব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, (فَاسْتَبِقُواْ الْخَيْرَاتِ) অর্থ: তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা কর।
    আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ভালো কাজে প্রতিযোগী হওয়ার নসীহত করছেন। (অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন)
    (وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ) অর্থ: অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।
    আয়াতে উল্লিখিত অগ্রগামী বলতে কারা উদ্দেশ্য? আলেমগণ বলেন,
    الذين يستبقون إلى الأعمال الصالحة في الدنيا هم الذين يستبقون إلى الجنات في الآخرة.
    “যারা দুনিয়াতে ভালো কাজে অগ্রগামী, তারা-ই আখেরাতে জান্নাতে অগ্রগামী হবে”।

    আমলের ফজীলত দ্বারা তাহাজ্জুদ, নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, সুন্নতে রাতিবা বা ফরজ নামাযের আগে-পরের সুন্নত নামায, আযান, সাদাকা ইত্যাদি আমলসমূহের ফজীলত উদ্দেশ্য। আপনাদের প্রতি আমার নসীহত হচ্ছে, এই আমলগুলোতে আপনাদেরও অংশগ্রহণ করা ও ফাজায়েলে আমল সংক্রান্ত কিতাবাদি পাঠ করা উচিত।
    প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে ফাজায়েলে আমল সংক্রান্ত কিতাবাদি পড়তে বলছি না; মাসে একবার এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা পড়ুন। যেমন: ফাজায়েলে আমল সম্পর্কে সবচে বিশুদ্ধ ও চমৎকার কিতাব হচ্ছে “রিয়াজুস সালিহীন”। এই কিতাবে আমলের ফজীলত, দোয়ার ফজীলত, যিকরের ফজীলত ও উত্তম চরিত্রসহ এমন অনেক অনেক আমলের ফজীলত-সংক্রান্ত আয়াত-হাদীস রয়েছে। “রিয়াজুস সালিহীন”, সহীহ “আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব”, “আল-মাতজারুর রাবিহ” ইত্যাদি কিতাবগুলো ফাজায়েলে আমল সম্পর্কিত। আপনি মাসে একবার, দুই-তিন ঘণ্টা এই কিতাবগুলো থেকে পড়তে পারেন। এতে করে আমলের প্রতি আপনার উৎসাহ-উদ্দীপনার বৃদ্ধি ও স্থিতি ঠিক থাকবে।
    যেমন: আপনি আযানের ফজীলত সম্পর্কিত হাদিস পাঠ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেছেন:
    “أطول الناس أعناقًا يوم القيامة المؤذنون”،
    অর্থ: কেয়ামতের দিন মুয়াযযিনের গর্দান থাকবে সবচে লম্বা। অর্থাৎ, তাদের মর্যাদা থাকবে অনেক উঁচু।

    অন্য হাদিসে এসেছে,
    “يغفر للمؤذن على مد صوته”
    অর্থ: মুয়াযযিনের গুনাহ ওই পরিমাণ মাফ করা হবে যে পরিমাণ তার আযানের আওয়াজ পৌঁছে।


    আপনার আযান গাছপালা, পাথর ইত্যাদি শুনতে পেয়েছে। তারা আপনার আযানের সাক্ষ্য দেবে। তাই সপ্তাহে বা মাসে একবার আযান দেওয়ার চেষ্টা করুন। যেন এই আমলেও আপনার অংশ থাকে।

    যখন আনন্দ-ভ্রমণে বের হয়ে রাস্তায় কোথাও একা বা জামাতে নামায পড়েন, যখন পরিবারের সাথে নামায আদায় করেন, তখন আযান দিন। “যা জেনেছেন তা আমল করুন”-এই মূল্যবান নীতি মেনে চলার চেষ্টা করুন। যখনই কোনও আমলের ফজীলত জানবেন সে মোতাবেক আমল করে জীবনগঠনের চেষ্টা করুন। এক মাসে বা দুই মাসে কিংবা তিন মাসে একবার তা আমলে পরিণত করুন। যেমন, আপনি জানাযার ফজীলত পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ে তার জন্য এক কীরাত। আর যে ব্যক্তি দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত জানাযার সাথে থাকে, তার জন্য দুই কীরাত। এক কীরাত উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ”। জানাযার নামায পড়লে আল্লাহ তাআলা আপনাকে দয়া করে উহুদ পাহাড়সম নেকি দান করবেন। তাই, যেকোনও নেক আমলের ফজীলত অর্জনের জন্য সেই নেক আমলের প্রতি সচেষ্ট হোন। এভাবে আপনার ভান্ডারে অনেক নেক আমল জমা হবে। অনেক নেক আমলে আপনার অংশ থাকবে। আর তা তখনই সম্ভব যখন আপনি ফাজায়েলে আমল-সংক্রান্ত কিতাব পাঠ করবেন।

    দৈনিক, সাপ্তাহিক না পারলে কমপক্ষে মাসে একবার পড়ুন। অসংখ্য-অগণিত আমলের ফজীলত কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আজকের মজলিসে তা গণনা করলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। আজ শুধু এতটুকু ইঙ্গিত করছি যে, একজন মুসলিমের উচিত যথাসাধ্য সকল আমলের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। মাসে একটি আমল ধারাবাহিকভাবে করে সে আমলে অভ্যস্ত হওয়া। যেমন, যিকরের ফজীলত রয়েছে। এই মাসে নিজেকে যিকরের আমলে অভ্যস্ত করুন। কুরআন তিলাওয়াতের ফজীলত আছে। দৈনিক আধাঘণ্টা বা দশ মিনিট কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস করুন। খায়র, বরকত ও নেয়ামত অর্জনের জন্য দৈনিক দশ মিনিট কুরআন তিলাওয়াত করুন। যদি দৈনিক এক পারা পড়তে পারেন তাহলে মাসে এক খতম হয়ে যাবে।

    দৈনিক কর্মতালিকায় প্রত্যেক আমলের লিস্ট করুন। লিস্টের আমলগুলো প্রতিদিন করার চেষ্টা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে আমলগুলোর ফজীলত বর্ণনা করেছেন, এমন প্রত্যেকটি আমলে আমাদের অংশগ্রহণ করা উচিত।
    একটি আমলের ক্ষেত্রে আজ অনেকেই অলসতা করে। তা হলো আগে আগে মসজিদে গমন করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
    لو يَعْلَمُونَ ما في التَّهْجِيرِ لاسْتَبَقُوا إلَيْهِ
    অর্থ: মানুষজন যদি আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ফজীলত জানত তাহলে এর প্রতিযোগিতা করত।
    (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৬১৫, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৪৩৭)

    আপনি আযানের পাঁচ মিনিট আগে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করুন। নিঃসন্দেহে আযানের আগে মসজিদে গমনকারী আযানের পর গমনকারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। হাদিসে প্রথম কাতারের ফজীলতও এসেছে,
    “لو يَعْلَمُونَ ما في الصَّفِّ المُقَدَّمِ لاسْتَهَمُوا”
    অর্থ: যদি তারা প্রথম কাতারের ফজীলত জানত তাহলে এর জন্য তারা লটারী করত। (প্রাগুক্ত)


    আপনি প্রথম কাতারের ফজীলত অর্জনে সচেষ্ট হোন। অনেকের প্রথম কাতারের ফজীলতের প্রতি উৎসাহ নেই। সুবহানাল্লাহ! প্রিয় ভাই, প্রথম কাতারের অনেক ফজীলত। যে ব্যক্তি প্রথম কাতারে নামায আদায়ের প্রতি উদগ্রীব অর্থাৎ, তার ব্যক্তিত্বের সাথে এটি যুক্ত হয়ে যাওয়াতে সে বলে, আমি প্রথম কাতার ছাড়া নামায পড়তে পারব না। এই ব্যক্তির আমলের ফজীলতের প্রতি আগ্রহ আছে।
    আগে আগে মসজিদে গমন, প্রথম কাতারে নামায আদায়, অন্যদের সাহায্য করা, এতীমের দায়িত্ব গ্রহণ করা ইত্যদি সবই ফজীলতের আমল। আপনি সকল আমলের ফজীলত অর্জনে উদগ্রীব হোন।

    আবারও বলছি, আপনি মাসে এক-দুই ঘণ্টা ফজীলত-সংক্রান্ত কিতাব অধ্যয়ন করুন। আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আপনাকে, আমাকে, আমাদের সকলকে সকল আমলের প্রতি উদ্দীপনা দান করবেন। ফজীলতের আমলগুলো জীবনের সাথে সমন্বয়সাধনের তাওফীক দান করবেন। আমলগুলো করে মহাসাফল্য, মহাপ্রতিদান অর্জনের সম্মান ও গৌরব দান করবেন।


    আরও পড়ুন
    ১২ তম দারস --------------------------------------------------------------------------------------১৪ তম দারস
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    আল্লাহ্‌ আমাদের রামাদানের এই উপস্থিত শেষ দশকসহ বাকি সারাজীবন নেক আমলে নিয়োজিত থাকার তৌফিক দিন

    Comment

    Working...
    X