Announcement

Collapse
No announcement yet.

|| এ কোন চক্রে হারিয়ে গেছি আমরা || দ্বিতীয় পর্ব; "চক্রে হারিয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান"

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • || এ কোন চক্রে হারিয়ে গেছি আমরা || দ্বিতীয় পর্ব; "চক্রে হারিয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান"

    গত পর্বে আলোচনা হয়েছিল, আমরা আমাদের শত ইচ্ছা ও উদ্দিপনা সত্তেও দ্বীনের কাজে অগ্রগামী হতে পারছি না, আমাদের আকাঙ্খাগুলো প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যাচ্ছে, আমাদের কুরবানীগুলো ততটা ফলদায়ক হচ্ছে না যতটা হওয়ার কথা ছিল;

    এই বিষয়টি নিয়েই আমাদের পর্যালোচনা চলছিল, আজকের পর্বে আমরা জানার চেষ্টা করব এই সমস্যাগুলো কেন হচ্ছে! কি এমন কারণ যা আমাদের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টাসমূহ সাইলেন্ট কিলারের ন্যায় অতি সংগোপনে ধ্বংস করে দিচ্ছে,
    কেন আমাদের চঞ্চলতা অলসতায় রূপান্তরিত হচ্ছে!


    আসুন একসাথে ভাবনা শুরু করি........!

    কী ভাবতেছেন তো! ,, নিজেকে নিয়ে বা নিজেদের কাছের মানুষদের নিয়ে ভেবে নিলে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি আমরা নিজেরাই ধরে ফেলতে পারব, শুধু প্রয়োজন কিছু সময়ের জন্য নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়া!!
    সূরা তাহরীমে দেখবেন , আমাদের রব কিন্তু বলেছেন, তোমরা নিজেদেরকে বাঁচাও! সূরা বাক্বারায় খুঁজলে পেয়ে যাবেন, তোমরা লোকদের সৎকাজের আদেশ দাও অথচ নিজেদেরকে ভুলে যাও!

    সুতরাং, নিজেকে নিয়ে ভাবনা এটা শরীয়তের মাক্বসাদের বিপরীত নয়, অবশ্য এই ভাবনা হতে হবে শরয়ী মানদণ্ডে , কুরআন ও হাদীসের রোশনী দিয়ে। প্রবৃত্তি ও বস্তুপূজারীদের চশমা চোখে থাকলে সবকিছু ঘোলাটে দেখাবে, ফ্রেশ সাদাও ধূসর দেখা দিবে ।
    অতএব নিজেকে সময় দেয়া এটা অনর্থক কিছুই নয়, বরং বহু অর্থবহ কাজ সম্পাদনের অঙ্কুর।


    যাইহোক, আমরা আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ তালাশে বের হয়েছিলাম, তো ভাইয়েরা! এই বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেকদিন ধরে নিজের উপর ও নিজের পরিচিত ব্যক্তিদের উপর একটা জরীপ চালিয়ে যাচ্ছিলাম, সবার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতেছিলাম সবসময়!
    ফলে যে বিষয়টি আমার বুঝে আসলো তা আপনাদেরকে জানাচ্ছি, আর আপনারাও নতুন কোন কারণ খুঁজে পেলে আমাকে অবহিত করবেন বলে আশা রাখছি,,,

    ১• প্রথম কারণ তো ওইটাই যা এই টপিকের শিরোনামে লিখেছি , তা হলো, আমরা আসলে একটা চক্রে হারিয়ে গেছি , তো আসুন দেখা যাক কি সেই চক্র?

    চক্র স্বাভাবিক বলা হয় চাঁকা আর এর অনেক অর্থের মধ্যে প্রসিদ্ধ অর্থ হলো এমন জিনিস যা চাঁকার মত বারবার ঘুরিফিরে একই জায়গাতে আবর্তিত হতে থাকে।

    আমরাও কী এই চাঁকার মত একই জায়গায় ঘুরছি? অথচ কত বসন্তই যে আমাদের মাতিয়ে দিচ্ছে আর কত শীত ই যে আমাদের কাঁপিয়ে দিচ্ছে! এভাবে আমাদের জীবন সেঁতুর উপর দিয়ে বহু বছরই তো অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে, তবুও আমরা একই জায়গায় স্থীর? লক্ষণ নেই মোদের কোন উন্নতির? আমরা কি অনুভব করি আমাদের কোন অগ্রগতির?

    না আমাদের কোন উন্নতি নেই, কোন কাজেই আমাদের অগ্রগতি নেই , আমরা একই জায়গায় স্থীর আছি, শুধু পিছিয়েই পড়ি তবে আগাতে পারি না,স্বীকার করি বা না করি, আমরা আসলে সেই চক্রের মাঝেই ঘুরে বেড়াচ্ছি, ইয়াজুজ মাজুজের মতন সারাদিন পরিশ্রম করে পরদিন এসে দেখি, গত সকালে যেমন ছিলাম ঠিক তেমনই আছি, এইটা আসলে মূলত আমরা নিজেদেরকে নফস ও শয়তানের হাতে তুলে দিয়েছি, মন যখন যেটা চাচ্ছে সেটাই করে বেড়াচ্ছি, সত্য বুঝেও নিজেকে গাফলতের চাঁদরের নিচে লুকিয়ে রেখেছি, নফসের লাগামটা হাতে নিতে পারছি না! খাহেশাতের মুখে পা দিয়ে তাকে চুপ রাখতে পারি না! বরং মনের মাঝে একটু চাহিদার জাগরণ অনুভব হলেই তা পূরণের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি, বুঝি না যে , দুনিয়া আমার জান্নাত নয় চাহিদা মেটানোর জায়গা পরপারে আর এখানে শক্তহাতে লাগাম ধরে দ্রুত ধাবমান হয়ে সঠিক পথে এগিয়ে চলাই আসল কাজ।



    ২• ধৈর্যের অভাব, সবরের কমতি; আমরা বুঝিনা যে, এপারে কিছুদিন ধৈর্য ধরে নিজেকে রবের বলে দেয়া সীমানার মাঝে আটকে রাখলেই ওপারে বড় কামিয়াবি ও চাহিদার অকল্পনীয় সব বস্তু হাতের নাগালে এসে যাবে, যেখানে থাকবে না কোন অতৃপ্তি থাকবে না কোন হতাশা!
    আচ্ছা, যদি কোন যুবককে বলা হয়, যদি তুমি এখন বিয়ে করতে চাও তাহলে এই কুশ্রী বেশধারী, অসুস্থ, বোকা,পাগলী মেয়েটির সাথে তোমাকে বিয়ে দেয়া হবে,
    আর যদি তুমি একটা মাস অপেক্ষা করো, তাহলে তোমাকে ওই অনিন্দ্য সুন্দরী, বুদ্ধিমতী , দ্বীনদার পরহেজগার উচ্চ বংশের মেয়েটি তোমাকে দেয়া হবে!

    আপনার কি মনে হয়, যুবকটি কোন প্রস্তাব গ্রহণ করবে?
    স্বাভাবিকভাবে সে ভালো কিছু পাওয়ার জন্য একটা মাস অপেক্ষা করতে চাইবে, তো ভাই, আখেরাতের নিয়ামত পাওয়ার জন্য দুনিয়ার এই পুরো সময় তো আপনার রবের হিসেবে এক দিনও না, বরং দিনের কিয়দাংশ!
    وَاِنَّ یَوۡمًا عِنۡدَ رَبِّکَ کَاَلۡفِ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ
    নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালকের কাছে এক দিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান।
    —আল হাজ্জ্ব - ৪৭

    তো বড় প্রাপ্তির জন্য এতটুকু সময় ধৈর্য ধরে থাকা যাবে না হে সম্মানিত বান্দা!
    ভাইরে! সবর এমন একটা গুন যা পশুকেও দেয়া হয়নি, আবার ফেরেশতাদেরও না, হে ইনসান তোমাকে দেয়া হয়েছে,যাতে তুমি এর মাধ্যমে তোমার রবের প্রিয় হতে পারো! তুমি সবর করো একটু দেখে নিও, রব কী রেখেছেন তোমার জন্য !

    ৩। সবকিছুর মূলকথা হলো, নিজেকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে রাখা; যখন আমরা আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন তিনি আমাদেরকে আত্মভোলা করে দেন, তখন আর আমরা খেয়াল রাখি না, কি দায়িত্ব নিয়ে দুনিয়াতে আসলাম! আমার থেকে আমার সৃষ্টিকর্তা কী চাচ্ছেন? আর আমার এই কর্ম আমার সৃষ্টির উদ্দেশ্যের উপরেই আছি না আমি ভুল পথে সময়ক্ষেপণ করছি নাকি উল্টোপথে অজানা গন্তব্যে পা বাড়িয়ে শত্রুর আস্তানায় ঢুকে যাচ্ছি! এ জন্য আমাদের উচিৎ, যখনই গাফেল হয়ে পড়তে লাগব, সাথে সাথেই দয়ালু রবের কথা স্মরণ করে বিন্দুমাত্র গাফলতি না করে রবের সামনে আত্মসমর্পণ করব, ইসলাম মানেই তো রবের সামনে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়া। তাই, আখেরাত প্রাপ্তির আশায় দুনিয়ার বুকে লাথি মেরে বুকটান করে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, রবের ব্যাপারে কারো সাথেই কোন ধরণের কম্প্রোমাইজ চলবে না!
    আল্লাহ তাআলা বলেন:

     ۫ وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ اِذَا نَسِیۡتَ وَقُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا
    আর কখনও ভুলে গেলে নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর এবং বল, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক এমন কোনও বিষয়ের প্রতি আমাকে পথনির্দেশ করবেন, যা এর চেয়েও হিদায়াতের বেশি নিকটবর্তী হবে।
    —আল কাহ্‌ফ - ২৪

    আল্লাহ অন্যত্র বলেন:

    وَاِمَّا یُنۡسِیَنَّکَ الشَّیۡطٰنُ فَلَا تَقۡعُدۡ بَعۡدَ الذِّکۡرٰی مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ
    যদি শয়তান কখনও তোমাকে (এটা) ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিম লোকদের সাথে বসবে না।
    —আল আনআম - ৬৮

    কাজেই, আমরা যখনই মনে পড়বে আল্লাহর কাছে নফস ও শয়তানের থেকে আশ্রয় চেয়ে আল্লাহর কাছেই ফিরে আসব। বিইযনিল্লাহ!

    ৪• অযথা সময় ক্ষেপন، অনর্থক কাজে লেগে থাকা, গুনাহকে হালকা মনে করতে থাকা, ছোট গুনাহ থেকে ধীরে ধীরে বড় গুনাহে জড়িয়ে যাওয়া, আস্তে আস্তে ছোট ছোট গুনাহকে গুনাহই মনে না করা, নিজেকে গুনাহের সামনে অসহায় মনে করা, মাজুর মনে করা, অলীক আশায়, গুনাহে গা ভাসিয়ে দেয়া, ফিরব ফিরব বলে আর ফেরার পথে পা না বাড়ানো! চলতে চলতে থাকা, যতক্ষণ না বড় ধাক্কা লাগে, কেউ কেউ ধাক্কা খেয়ে ফেরে আবার কেউ কিছুদিন গেলে আবার যেই সেই হয়ে যায়।
    বিশেষ করে, এই কাজে সবচেয়ে বেশি সময় যায়, ইউটিউব ,ফেসবুকে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় কন্টেন্ট দেখার নেশায় জড়িয়ে যাওয়া, জ্ঞান মনে করে আবর্জনার স্তুপ দিয়ে নিজের মস্তিষ্ক পূর্ণ করে চলা।
    এটা এমন নেশা যা কত ধারালো তলোয়ার যে ভোতা করে রেখেছে তার কোন ইয়ত্বা নেই , হে প্রিয়! আপনার তলোয়ারের ধার ঠিক আছে তো! রবের দেয়া সবটুকু রবের জন্যই বিলিয়ে দিতে পারছেন কী ?
    একজন মুমিনের আদর্শের সাথে অহেতুক কন্টেন্টে গাঁ ভাসিয়ে দেয়া, অনর্থক কাজে লিপ্ত থাকা কিছুতেই যায় না।
    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
    قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ صَلَاتِہِمۡ خٰشِعُوۡنَ, وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ
    অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু’মিনগণ,যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে, যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।
    —আল মু'মিনূন ১- ৩


    وَالَّذِیۡنَ لَا یَشۡہَدُوۡنَ الزُّوۡرَ ۙ وَاِذَا مَرُّوۡا بِاللَّغۡوِ مَرُّوۡا کِرَامًا
    এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না এবং যখন কোন বেহুদা কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।
    —আল ফুরকান - ৭২



    ৫। নিজের কাজের মুহাসাবা না করা ;
    প্রিয় ভাই! আপনি দুনিয়ার সকলকে নিয়ে ভাবেন, সবার ফিকির আপনার মাথায় নিয়ে নিজেকে পেরেশান করে রেখেছেন, নিঃসন্দেহে এটা মহৎ কাজ,
    তবে আপনার নিজেকে কী আপনি প্রতিদিন সময় দেন, নিজের কথা কি কখনও ভাবেন? আল্লাহ বলেছেন: "قوا أنفسكم؛, নিজেকে বাঁচাও" নিজেকে নিয়ে ফিকির কি আছে আপনার! প্রতি রাতে বালিশে মাথা দিয়ে অথবা নির্জনে কোন সময়ে নিজেকে ১৪৪০ মিনিটের মধ্যে ১০ টা মিনিট নিজেকে নিয়ে ভাবলে কি খুব লস হয়ে যাবে!

    এটা তো উজুব নয় , এটা তো স্বার্থপরতাও নয় শরীয়তে নিষেধও না বরং অন্যান্য কাজ আরও ভালভাবে করার জন্য নিজের ভিতরে জমে থাকা ভুলগুলো শুধরানোর অনন্য উপায়। আমরা যখন ছোট কোনও কাজ শেষ করি তো কাজটি ঠিকমত সম্পন্ন হয়েছে কি না তা দেখার জন্য লম্বা সময় কাজটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি, তাহলে আমাদেরর জীবনের রেলগাড়ী সঠিক লাইনের উপর চলছে কিনা, তা মাঝেমধ্যে চেক দিলে কী বড়ই অবিচার হবে!!



    ৬। মৃত্যুর কথা ভুলে যাওয়া; কুরআন হাদিস দেখলে দেখা যায়, সালাফগণ মৃত্যুকে খুব কাছে দেখতেন, যেকোন সময় মারা যাওয়ার ভয় করতেন, আল্লাহর মানশাও এমন যে, বান্দা যেন সবসময় আমার কাছে আসার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে, একবার মরলে আর কাউকে সেকেন্ড টাইম চান্স দেয়া হবে না, তবুও কেন ভয় হয় না! কেন আমরা কান্না করি না! বড় বুযুর্গরা মৃত্যুর সময় নিজের মন্দপরিণতির আশঙ্কা করতেন, আর আমরা এমন কী হয়ে গেছি যে , আমরা মৃত্যুকে গণনার মধ্যেই ধরি না!
    মুমিন বান্দার গুনাবলি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
    وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّہِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَ ۚ
    আর যারা তাদের প্রতিপালকের শাস্তি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত-
    —আল মাআরিজ - ২৭

    اِنَّا نَخَافُ مِنۡ رَّبِّنَا یَوۡمًا عَبُوۡسًا قَمۡطَرِیۡرًا
    আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ভয় করি, এমন এক দিনের যে দিন চেহারা ভীষণভাবে বিকৃত হয়ে যাবে।
    —আদ দাহ্‌র (আল-ইনসান) - ১০

    হে ভাই শুনুন! ইমাম গাজজলালি রহিমাহুল্লার একটা লেখা থেকে এমন বুঝেছিলাম যে, যারা গুনাহে লিপ্ত থাকে، হঠাৎ মৃত্যু আসলে সে গুনাহের চাহিদার প্রভাবে দুনিয়াকেই বেশী পছন্দ করতে থাকে, দুনিয়া ছাড়তে চায় না, তখন রবের সাক্ষাতও কারো কারো কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে ওই সময়ে, ফলে মন্দ পরিণতির ব্যাপারটা গুনাহগারদের জন্য খুবই আশঙ্কাজনক! বিশেষকরে যারা গোপন গুনাহে লিপ্ত তাদের জন্য আরও মারাত্মক! চূড়ান্ত পর্যায়ের হুমকির মধ্যে সে বসবাস করছে!
    আল্লাহর ভয়ে এখনই তাওবাকারী কেউ কী আছেন!
    ফিরে আসুন আপনার প্রতি খুশি যাবেন! তবে পুলসিরাত পার হওয়ার আগে ভয়মুক্ত হতে পারবেন না।



    ৭। দায়সারা ভাবে ইবাদাত পালন করা; বিশেষত নামাজের মাঝে অবহেলা করা; আমরা যদি ঠিকমতো ধ্যানখেয়ালের সাথে নামাজ আদায় করতে থাকি , তাহলে এই নামাজের সময়ের ফিকিরই আমাকে নামাজের বাহিরে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁধা প্রদান করবে।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ ফরমান:
    اُتۡلُ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ مِنَ الۡکِتٰبِ وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ ؕ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَذِکۡرُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ

    (হে নবী!) ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তা তিলাওয়াত কর ও নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই তো সর্বাপেক্ষা বড় জিনিস। তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ তা জানেন।
    ব্যাখ্যাঃ
    নামায মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার এক অর্থ হতে পারে- নামাযের মধ্যে আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি নামাযীকে মন্দ কাজ হতে ফিরিয়ে রাখে । দুই- নামাযের আকার-আকৃতি ও যিকির চায় যে, যেই নামাযী একমাত্র মহান আল্লাহর সম্মুখে স্বীয় দাসত্ব ও আনুগত্যের স্বীকৃতি প্রদান করল, সে মসজিদের বাইরে এসে যেন তাঁর সাথে ওয়াদা ভঙ্গ এবং অন্যায় না করে । (মুঃ কোঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছঃ) এর কাছে এসে আরয করলেনঃ অমুক ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুত পড়ে এবং প্রাতে চুরি করেন । তিনি বললেন, শীঘ্রই নামায তাকে চুরি হতে ফিরিয়ে রাখবে । (মাঃ কোঃ)
    —আল আনকাবুত - ৪৫

    ৮। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা কমে যাওয়া ঈমান দুর্বল হয়ে পড়া, আমলের প্রতি গুরুত্ব না দেয়া; কারণ বান্দা আল্লাহকে ভালোবাসলে দুনিয়ার পিছনে এভাবে লেগে যেতে পারে না, দুনিয়ার সব ভালোবাসার চেয়ে তিনি উর্ধে, তাঁর জন্য হাজারটা জান কুরবান করলেও তিনি আমাদের প্রতি যেই দয়া করেছেন , উহার বিন্দুমাত্র হক্বও আদায় হবে না, আর সেই রবকে ভুলে আমরা কার পিছুনে ছুটছি! পিপাসায় কাতর হয়ে সুমিষ্ট ঝর্ণাধারার পাশ থেকে উঠে গিয়ে মরিচিকার দিকে দৌড়ালে সেই মুসাফিরকে বাঁচানো কী সম্ভব!

    হে পিপাসিত আত্মা! দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড়া আর কোথাও তোমার তৃষ্ণা নিবারণ হবে না, শুধু বাড়বেই! আর তুমি মরবেই।



    শ্রদ্ধেয় ভাইয়েরা, আজকে ফিকির করে আপাতত এতটুকুই আসলো ، এরকম আরও অনেক কারণই আছে, আপনারাও ফিকির করে আমাদের অগ্রগতি না হওয়ার কোন গুরুত্বপূর্ণ কারণ খুঁজে পেলে অবহিত করবেন বলে আশা করছি, যেন নিজেকে সংশোধন করে রবের পথে চলা সহজ হয়!



    আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করুন, উম্মতের ঈমান আক্বিদা নিয়ে বড় ভয় হয় ইদানীং, আল্লাহ তাআলা যেন এই গুনাহগার বিধ্বস্ত অসহায় উম্মাহ'র উপরে তার অফুরন্ত দয়া ও স্নেহময় ভালোবাসার বৃষ্টি বর্ষণ করেন আমীন! ইয়া আরহামার-রাহিমীন!



    প্রথম পর্বের লিংক:
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%B0%E0%A6%BE

    "আমরা তাওবা করার পূর্বে মরতে চাই না এবং মৃত্যু সামনে আসার পরে তাওবা করতে চাই না'​
    আবু হাযেম রহ

  • #2
    মাশাল্লাহ প্রিয় ভাই, পূর্বের মত আপনার এই পোস্টের লেখাগুলো চমৎকার ছিলো,
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যেনো আপনার মেহনতকে কবুল করেন আমীন।


    গুরাবা হয়ে লড়তে চাই, গুরাবা হয়েই শাহাদাহ চাই

    Comment


    • #3
      ★"নিজের কথা কি কখনও ভাবেন? আল্লাহ বলেছেন: "قوا أنفسكم؛, নিজেকে বাঁচাও" নিজেকে নিয়ে ফিকির কি আছে আপনার! প্রতি রাতে বালিশে মাথা দিয়ে অথবা নির্জনে কোন সময়ে নিজেকে ১৪৪০ মিনিটের মধ্যে ১০ টা মিনিট নিজেকে নিয়ে ভাবলে কি খুব লস হয়ে যাবে!"​★


      আসুন! আজ থেকেই নিজেও জাহান্নাম থেকে বাঁচুন। জাতিকে ও জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চিন্তা ফিকির করুন।
      হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দাও।
      শুহাদাদের অন্তর্ভুক্ত করে।
      Last edited by Rakibul Hassan; 22 hours ago.

      Comment


      • #4
        মাশা আল্লাহ,,, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। যা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ

        Comment

        Working...
        X