Announcement

Collapse
No announcement yet.

সবর ও তাওয়াককুল – মুমিনের শক্তি ও ইমানের সৌন্দর্য

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • সবর ও তাওয়াককুল – মুমিনের শক্তি ও ইমানের সৌন্দর্য

    সবর ও তাওয়াককুল – মুমিনের শক্তি ও ইমানের সৌন্দর্য



    প্রিয় ভাই আমার, মহান রব আপনার প্রতি রহম করুক,
    জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়—কখনো দুঃখে, কখনো কষ্টে, কখনো অভাব-অনটনে।
    এই সময়ে যে বান্দা আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং ধৈর্য ধারণ করে—সেই বান্দাই সফল হয়।
    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    ﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ﴾
    "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।"
    — [সূরা আল-বাকারা ২:১৫৩]
    এটি আল্লাহর এক বিশাল প্রতিশ্রুতি। যে বান্দা বিপদের সময় ধৈর্য ধরে, অভিযোগ না করে, বরং আল্লাহর উপর নির্ভর করে—
    আল্লাহ তাঁর সাথেই থাকেন, সাহায্য করেন, শক্তি দেন।


    --

    ﴿وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ﴾
    "আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও—যারা বিপদাপদে আক্রান্ত হলে বলে: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব।"
    — [সূরা আল-বাকারা ২:১৫৫-১৫৬]

    মুমিন বান্দা যখন কষ্টে পড়ে তখন সে বুঝে—সবকিছু আল্লাহরই মালিকানায়।
    তাই অভিযোগ নয়, বরং সবরই তার প্রতিক্রিয়া হয়।


    ---

    ﴿وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ﴾
    "যে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।"
    — [সূরা আত-তালাক ৬৫:৩]

    তাওয়াককুল মানে হচ্ছে—নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা, তারপর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
    যে এভাবে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা করেন।


    ﴿فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ﴾
    "অতএব তুমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নাও, তখন আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াককুলকারীদের ভালোবাসেন।"
    — [সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯]

    আল্লাহ তাওয়াককুলকারীদের ভালোবাসেন। মানে, যে বান্দা নিজের সবকিছু আল্লাহর হাতে সঁপে দেয়, তার মন শান্ত থাকে; সে ব্যর্থ হলেও হতাশ হয় না, সফল হলেও অহংকারী হয় না।


    ---
    রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    “অদ্ভুত ব্যাপার মুমিনের ব্যাপার! তার সব অবস্থাই কল্যাণকর।
    সে যদি সুখে থাকে, কৃতজ্ঞ হয় – এতে কল্যাণ আছে।
    আর যদি বিপদে পড়ে, ধৈর্য ধরে – তাতেও কল্যাণ আছে।”
    — [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৯৯৯]


    মুমিনের জীবনে কখনো ক্ষতি নেই। সুখে কৃতজ্ঞতা, দুঃখে ধৈর্য—দুটোই তাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়।


    ---
    নবী ﷺ বলেছেন:

    “যদি তোমরা আল্লাহর উপর সত্যিকার তাওয়াককুল কর, তবে তিনি তোমাদেরকে সেইভাবে রিজিক দেবেন, যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন—
    তারা সকালবেলা খালি পেটে বের হয়, সন্ধ্যায় পেটভরে ফিরে আসে।”
    — [তিরমিজি, হাদীস: ২৩৪৪]

    তাওয়াককুল মানে অলসতা নয়।
    পাখিরা বের হয়, চেষ্টা করে—কিন্তু ভরসা রাখে আল্লাহর উপর।


    ---সবর ও তাওয়াককুল একে অপরের পরিপূরক।
    যে ধৈর্যশীল, সে আল্লাহর উপর ভরসা করে।
    আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, সে বিপদে ধৈর্য হারায় না।

    জীবনে যত কষ্টই আসুক, মনে রাখতে হবে —
    “আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন, আল্লাহই যথেষ্ট।”
    ধৈর্য ও তাওয়াককুল মুমিনকে শক্তিশালী করে, দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করে।

    আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
    ﴿إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ﴾
    "নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান অসীম পরিমাণে দেওয়া হবে।"
    — [সূরা আয-যুমার ৩৯:১০]


    ---

    যখন তায়েফের মানুষ তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিল, তখন ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) পাহাড় চাপিয়ে দেওয়ার অনুমতি চাইলেন।
    কিন্তু রাসূল ﷺ বললেন —

    > اللَّهُمَّ اهْدِ قَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
    “হে আল্লাহ! আমার কওমকে হিদায়াত দাও, তারা জানে না।”
    (সহিহ বুখারি)

    দেখুন! যাদের হাতে তিনি রক্তাক্ত হলেন, তাদের জন্যই দোয়া করলেন।
    এটাই ছিল সবরের শ্রেষ্ঠ রূপ।


    ---
    প্রিয় পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুতে রাসূল ﷺ এর কান্না

    যখন তাঁর ছোট ছেলে ইব্রাহিম (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলেন, রাসূল ﷺ তাঁকে বুকে নিয়ে কাঁদলেন।
    সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কাঁদছেন?”

    তিনি বললেন—

    > إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ، وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ، وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا
    “চোখ অশ্রু ঝরায়, হৃদয় দুঃখ পায়, কিন্তু আমরা মুখ দিয়ে এমন কিছু বলি না যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে।”
    (সহিহ বুখারি ১৩০৩)



    — রাসূল ﷺ কাঁদলেন, কিন্তু তাতে অভিযোগ ছিল না; ছিল আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি।


    --- দুঃখ-সুখে রাসূল ﷺ এর অবস্থা

    তিনি কখনো অহংকার করেননি, বরং সর্বদা বিনয়ী ছিলেন।
    যখন কোনো সুখের সংবাদ পেতেন, সেজদায় পড়ে যেতেন —

    (সাহিহ আবু দাউদ ২৭৭৪)



    আর যখন কোনো দুঃখ আসতো, বলতেন —

    > إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
    “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাব।”
    (সূরা আল-বাকারা: ১৫৬)




    --- সাহাবিদের অন্তরের অবস্থা

    রাসূল ﷺ-এর সাহাবিরা তাঁর কাছ থেকে এই সবর ও তাওয়াককুলের শিক্ষা নিয়েছিলেন।
    তাদের হৃদয় ছিল আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসায় ভরা।

    বিলালের (রাঃ) কষ্টে ধৈর্য

    বিলাল (রাঃ)-কে গরম বালির উপর শুয়িয়ে দেওয়া হতো, বুকের উপর পাথর চাপানো হতো।
    তবুও তিনি বলতেন—

    > أَحَدٌ أَحَدٌ
    “তিনি এক, তিনি এক!”
    তাঁর মুখে শুধু আল্লাহর নাম।


    কী অটল ঈমান! কী দৃঢ় অন্তর!


    উহুদের যুদ্ধে সাহাবাদের ত্যাগ

    উহুদের ময়দানে যখন নবী ﷺ আহত, রক্তাক্ত, দাঁত ভেঙে গেছেন, তখন সাহাবারা বলেছিলেন—

    “আমাদের প্রিয় নবীর মুখে আঘাত লেগেছে, অথচ আমরা বেঁচে আছি?”
    তাদের চোখে অশ্রু, অন্তরে আগুনের মতো ব্যথা, কিন্তু জবান ছিল সবরের দোয়ায় ব্যস্ত।

    ---
    উমর (রাঃ) ও আবু বকর (রাঃ)-এর চোখের পানি

    রাসূল ﷺ-এর মৃত্যু সংবাদ শুনে উমর (রাঃ) অবিশ্বাসে কেঁদে ফেলেন, আর আবু বকর (রাঃ) কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন—

    > وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ
    “মুহাম্মাদ তো একজন রসূলই মাত্র, তাঁর আগে অনেক রসূল চলে গেছেন।”
    (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)



    এরপর সবার অন্তর নরম হয়ে গেল, তাঁরা বুঝলেন — নবী চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর দাওয়াত বেঁচে আছে।

    প্রিয় ভাই,
    রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবারা জীবনে কত কষ্ট পেয়েছেন, কত কান্না করেছেন, তবু কখনো হতাশ হননি।
    তারা সব কিছুর পর বলতেন —

    > حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
    “আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি সর্বোত্তম কর্ম-অধিপতি।”
    (সূরা আলে ইমরান: ১৭৩)

    ---
    রাসূল ﷺ-এর জীবন আমাদের শেখায় —
    কষ্টে সবর করতে,
    আনন্দে শুকর করতে,দুঃখে কান্না করতে, কিন্তু অভিযোগ না করতে, আর আল্লাহর ফয়সালায় রাযি থাকতে।

    চোখে পানি ঝরে যাক, কিন্তু হৃদয়ে ইমান দৃঢ় হোক।
    যে হৃদয় রাসূল ﷺ-এর কান্না অনুভব করে, সে হৃদয় কখনো কঠিন থাকে না।

    - https://youtu.be/78XpGYBDTYU

    ​ মুমিনের শক্তি ও ইমানের সৌন্দর্য​
    Last edited by Rakibul Hassan; 20 hours ago.
Working...
X