মানুষের নিজের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকা একটি বড় ভুল, যা অনেক মানুষ করে থাকে। এ বিষয়ে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করেছেন, কারণ এর প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
আবু হুরায়রাহ রাযি. বলেন,
তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের চোখে পতিত সামান্য ময়লাটুকুও দেখতে পায়, কিন্তু নিজ চোখে পতিত খড়কুটাও (বেশি ময়লা) দেখে না। -আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯২
এর অর্থ হলো, মানুষ অন্যের ছোট ভুল সহজেই দেখতে পায় এবং তা নিয়ে কথা বলে, কিন্তু নিজের বড় ও স্পষ্ট ভুলগুলো উপেক্ষা করে। অথচ একজন মানুষের উচিত অন্যদের পাপ নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কারণ কিয়ামতের দিনে তাকে তার নিজের কাজের হিসাবই দিতে হবে।
আল্লামা আস-সান‘আনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
তুমি যদি নিজের দোষ-ত্রুটির দিকে তাকাও, তবে লজ্জা পাবে অন্যের এমন দোষ উল্লেখ করতে, যা তোমার নিজের মধ্যেই আছে। এটি ঐ কথার মতোই—
কবি সুন্দরভাবে বলেছেন,
আর যদি তাদের (অন্যদের) মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারো, তবে তুমি যদি ধৈর্যশীল হও, নিজের দোষের কথাই স্মরণ করো।
এই অর্থে আরও অনেক হাদিস রয়েছে। যেমন, ইবনু আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত,
যে ব্যক্তি মানুষের দোষের দিকে তাকায়, সে নিজের দোষ থেকে অন্ধ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি জান্নাত ও জাহান্নামের চিন্তায় ব্যস্ত থাকে, সে অনর্থক কথা থেকে দূরে থাকে। -ফয়যুল কাদীর: ১/৩৫১ (ইলমিয়্যাহ)
ইবনু আরাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিজেদের দোষ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। তাদের কেউ কেউ নিজের ভাইয়ের চোখে ছোট একটি কণা দেখতে পায়, অথচ নিজের চোখে থাকা বড় কাঠের গুঁড়ি দেখতে পায় না। -ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন: ৩/৬৪ (দারুল মারিফাহ)
ইমাম ইবনু হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
আবু হুরায়রাহ রাযি. বলেন,
عن أبي هريرة قال: يُبصِرُ أحدُكم القَذاةَ في عينِ أخيه وينسى الجِذْعَ في عينِه. -رواه البخاري في الأدب المفرد (592)
তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের চোখে পতিত সামান্য ময়লাটুকুও দেখতে পায়, কিন্তু নিজ চোখে পতিত খড়কুটাও (বেশি ময়লা) দেখে না। -আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯২
এর অর্থ হলো, মানুষ অন্যের ছোট ভুল সহজেই দেখতে পায় এবং তা নিয়ে কথা বলে, কিন্তু নিজের বড় ও স্পষ্ট ভুলগুলো উপেক্ষা করে। অথচ একজন মানুষের উচিত অন্যদের পাপ নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কারণ কিয়ামতের দিনে তাকে তার নিজের কাজের হিসাবই দিতে হবে।
আল্লামা আস-সান‘আনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
তুমি যদি নিজের দোষ-ত্রুটির দিকে তাকাও, তবে লজ্জা পাবে অন্যের এমন দোষ উল্লেখ করতে, যা তোমার নিজের মধ্যেই আছে। এটি ঐ কথার মতোই—
طوبى لمن شغَلَه عَيْبُه عن عيوب الناس
সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি, যার নিজের দোষ তাকে অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে।কবি সুন্দরভাবে বলেছেন,
في عيوب النفس شغلٌ شاغِلٌ *** عن عيوب الناسِ إنْ كنتَ عليمًا
فإذا فهمتَ بشيءٍ فيهمُ *** فاذْكُرَنْ نفسك إن كنتَ حليمًا
নিজের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট কাজ, যদি তুমি জ্ঞানী হও, তবে তা তোমাকে অন্যের দোষ থেকে বিরত রাখবে।আর যদি তাদের (অন্যদের) মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারো, তবে তুমি যদি ধৈর্যশীল হও, নিজের দোষের কথাই স্মরণ করো।
এই অর্থে আরও অনেক হাদিস রয়েছে। যেমন, ইবনু আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত,
إذا أردتَ أن تذكر عيوب الناس، فاذكر عيب نفسك. الأدب المفرد (328)
তুমি যখন মানুষের দোষ উল্লেখ করতে চাও, তখন প্রথমে নিজের দোষ স্মরণ করো। -আত-তানবীর শরহুল জামেউস সগীর: ১/৪০৪ (দারুস সালাম) قال ذو النون: " من نظر في عيوب الناس؛ عمي عن عيوب نفسه؛ ومن اهتم بأمر الجنة؛ والنار؛ شغل عن القيل والقال.
যুননুন মিসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,যে ব্যক্তি মানুষের দোষের দিকে তাকায়, সে নিজের দোষ থেকে অন্ধ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি জান্নাত ও জাহান্নামের চিন্তায় ব্যস্ত থাকে, সে অনর্থক কথা থেকে দূরে থাকে। -ফয়যুল কাদীর: ১/৩৫১ (ইলমিয়্যাহ)
ইবনু আরাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
قال ابن عربي: فلا تداهن نفسك بإخفاء عيبك؛ وإظهار عذرك؛ فيصير عدوك أحظر لك في زجر نفسه بإنكارك من نفسك؛ التي هي أخص بك؛ فهذب نفسك بإنكار عيوبك؛ وانفعها كنفعك لعدوك؛ فإن لم يكن له من نفسه واعظ لم تنفعه المواعظ.
নিজের দোষ লুকিয়ে এবং অজুহাত প্রকাশ করে নিজেকে প্রতারণা করো না। এতে এমন হয় যে, তোমার শত্রু তোমাকে সাবধান করার ক্ষেত্রে তোমার নিজের চেয়েও বেশি উপকারী হয়ে দাঁড়ায়। অথচ তুমি নিজেই নিজের কাছে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। তাই নিজের দোষ অস্বীকার না করে তা সংশোধন করো এবং নিজের উপকার করো, যেমন তুমি তোমার শত্রুর উপকার চাও। কারণ যার নিজের ভিতরে উপদেশদাতা নেই, বাহ্যিক উপদেশ তার কোনো উপকারে আসে না। -ফয়যুল কাদীর: ১/৩৫১ (ইলমিয়্যাহ)ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
اعلم أنَّ الله -عز وجل- إذا أراد بعبد خيرًا بصَّره بعيوب نفسه، فمن كانت بصيرته نافذة لم تَخْفَ عليه عيوبه، فإذا عرف العيوب أمكنه العلاج، ولكن أكثر الخلق جاهلون بعيوب أنفسهم، يرى أحدهم القَذَى في عين أخيه، ولا يرى الجِذْع في عين نفسه
জেনে রাখো, আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তখন তাকে নিজের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করে দেন। যার অন্তর্দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়, তার কাছে নিজের দোষ গোপন থাকে না। আর যখন সে নিজের দোষ চিনতে পারে, তখন তার সংশোধন করাও সম্ভব হয়।কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিজেদের দোষ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। তাদের কেউ কেউ নিজের ভাইয়ের চোখে ছোট একটি কণা দেখতে পায়, অথচ নিজের চোখে থাকা বড় কাঠের গুঁড়ি দেখতে পায় না। -ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন: ৩/৬৪ (দারুল মারিফাহ)
ইমাম ইবনু হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,
الواجب على العاقل لزوم السلامة؛ بترك التجسس عَن عيوب الناس، مع الاشتغال بإصلاح عيوب نفسه؛ فإنَّ مَن اشتغل بعيوبه عَن عيوب غيره أراح بدَنَه، ولم يُتعب قلبه، فكلما اطَّلع على عيبٍ لنفسه هان عَلَيْهِ مَا يرى مثله من أخيه، وإنَّ مَن اشتغل بعيوب الناس عَن عيوب نفسه عَمِي قلبه، وتعِبَ بدنه، وتعذَّر عَلَيْهِ ترك عيوب نفسه، وإنَّ مِن أَعْجَزِ الناس من عاب الناس بما فيهم، وأعْجَز منه من عَابَهم بما فيه، من عاب الناس عَابُوه
একজন বিবেকবান মানুষের জন্য কর্তব্য হলো নিরাপদ পথ অবলম্বন করা—মানুষের দোষ অনুসন্ধান করা থেকে বিরত থাকা এবং নিজের দোষ সংশোধনে ব্যস্ত থাকা। কারণ যে ব্যক্তি নিজের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং অন্যের দোষ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে, সে তার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং হৃদয়কে ক্লান্ত করে না। যখনই সে নিজের কোনো দোষ জানতে পারে, তখন তার ভাইয়ের মধ্যে সেই একই দোষ দেখলেও তা তার কাছে সহজ মনে হয় (অর্থাৎ সে সহনশীল হয়)। আর যে ব্যক্তি নিজের দোষ ছেড়ে অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তার হৃদয় অন্ধ হয়ে যায়, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের দোষ পরিত্যাগ করা তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে অক্ষম সেই ব্যক্তি, যে অন্যদের সেই দোষের জন্য নিন্দা করে যা তাদের মধ্যে আছে; আর তার চেয়েও অধিক অক্ষম সে, যে অন্যদের সেই দোষের জন্য নিন্দা করে যা তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। যে ব্যক্তি মানুষের দোষ ধরে, মানুষও তার দোষ ধরবে। -রওজাতুল উকালা ওয়া নুযহাতুল ফুজালা: ১/১২৫ (ইলমিয়্যাহ) আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্যের দোষ চর্চা থেকে বিরত রাখুন। আমীন