আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না | আবু বাকর আলহিনদী
মুনাফিকরা জিহাদে না যাওয়ার জন্য বিভিন্ন দুর্বল ও অসাড় অজুহাত দেখাত। আর এসব অজুহাত তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতা ও মুনাফিকিকেই প্রকাশ করে দিত। এমনই একটি অজুহাত ছিল জাদ্দ বিন কায়িসের উক্তি: “আমি আশঙ্কা করছি যে রোমক নারীরা আমাকে ফেতনায় ফেলে দেবে।”
ইবনু হিশামের 'সীরাতুন্নাবী'তে এসেছে:
"এই জাদ্দ বিন কায়িসের প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয়েছিল এই আয়াত:
(التوبة:49) {وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي وَلَا تَفْتِنِّي أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ}
{তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, আমাকে (পিছনে থেকে যাওয়ার) অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না। জেনে রেখ, তারা তো ফিতনাতেই পতিত হয়ে আছে এবং জাহান্নাম অবশ্যই কাফিরদের পরিবেষ্টন করে রাখবে} (সূরা আত-তাওবাহ: ৪৯)।
অর্থাৎ, সে যদি বনু আসফারের (রোমকদের) নারীদের দ্বারা ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা করে থাকে—যদিও আসল ব্যাপার তা ছিল না—তবে আল্লাহর রসূল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী না হয়ে পিছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলের জীবনের চেয়ে নিজের জীবনকে বেশি ভালোবাসার মাধ্যমে সে যে ফিতনায় পতিত হয়েছে, তা আরও অনেক বড়।
শিক্ষা :
১. যে সকল আলিমগণ তলিবুল ইলম ভাইদেরকে বলেন যে, তোমরা তো মেয়েদের দিকে তাকানোই বন্ধ করতে পারো না, তোমরা আবার কী জিহাদ করবা? – তাদের এ কথা সঠিক নয়। বরং তাযকিয়া জিহাদ একই সময়ে চলতে থাকবে। তাযকিয়াকে জিহাদের জন্য প্রতিবন্ধক বানানো যাবে না।
২. শারীআতে সেই উযরই গ্রহণযোগ্য যা মানুষের সাধ্যাতীত। তাই মামুর ভাইগণ যখন মাসউল ভাইদের কাছে উযর পেশ করেন, তখন নিজেকে প্রশ্ন করবেন, আমার এ উযর নিফাকীর কারণ হয়ে যাচ্ছে না তো? সাধ্যাতীত না হওয়া সত্ত্বেও উযর পেশ করলাম না তো?
ওয়াখিরু দা'ওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন।
Comment