Announcement

Collapse
No announcement yet.

কুরবানির ঈদ আমাদের থেকেও অনেক কুরবানী চায়

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • কুরবানির ঈদ আমাদের থেকেও অনেক কুরবানী চায়

    কুরবানী এসে গেল, আগামীকাল ঈদের দিন। সকলের মনে কত আশা, কত তামান্না! আপনজনদের সাথে সময় কাটানোর উপভোগ্য এক পরিবেশ। মায়াময় এ সময়, স্নেহময় এ পরিবার। যখন নাকি এই খুশির আয়োজন করেছেন, স্বয়ং রাব্বুল আলামীন। তিনি তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাসী গোলামদেরকে—মুত্তাকী হোক বা ফাসেক, সকলকেই উত্তম আহারের সাথে মেহমানদারী করাবেন। ফলে আমাদের চিত্তে আনন্দ ও প্রফুল্লতার এক সতেজ হাওয়া বইয়ে চলবে ঈদের সময়টাতে।
    এই যে আমরা এত খুশি ও আনন্দিত হই। এর কারণ হলো, আমাদের অন্তরে রয়েছে সকলের প্রতি নিদারুণ ভালবাসা ও খালেছ মহব্বত। এজন্য সবাইকে কাছে পেলে মনের বুলবুলি আন্দোলিত হয়।
    প্রিয় ভাই! হৃদয় গহীনে লুকিয়ে থাকা নিজের প্রতি ও অন্যদের প্রতি আপনার এই ভালোবাসার দোহাই দিয়ে কিছু কথা বলতে চাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। বিতাওফীকিল্লাহি ওয়া আওনিহি!

    শ্রদ্ধাভাজন ভাইগণ! আমরা আমাদের মা-বাবাকে কতটা ভালবাসি ও সম্মান করি! তাদের সামান্য কষ্ট ও পেরেশানিও আমাদের দুঃখিত করে ফেলে, তাদের যদি কোন বড় ধরণের অসুখ হয় তাহলে আমাদের মুখের হাসি মিইয়ে যায়। কেননা, এরচেয়েও বহুগুণ ভালোবাসা দিয়ে তারা আমাদের আগলে রেখেছেন।
    এখন বলি, আমরা কি আমাদের মা-বাবাকে আগুনে পুড়তে থাকা, বিষাক্ত সাপে দংশিত হয়ে কষ্টে গলাফাটানো চিৎকার করতে থাকা অবস্থায় দেখতে চাই? এমনটা সহ্য করতে পারব? বিষয়টা কল্পনাতে আনতে গেলেও তো আমাদের ভয় লাগে।
    তাহলে আমাকে বলুন ভাই, আপনার মা-বাবাকে কি আপনি তাওহীদ ও ঈমানের অপরিহার্য মাসআলাগুলো কী বুঝিয়ে দিয়েছেন স্পষ্টকরে? এই বিষয়ে অজ্ঞতা কি তাদের জন্য কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে বিপদের কারণ হবে না?
    কোন কোন ভাই হয়ত পরিবারের লোকজনের জাহালাত বেশী থাকার কারণে দ্বীনি বিষয়ে তাদেরকে এড়িয়ে চলেন। অথবা ভাবেন, "পরে কোন সময় তাদের নিয়ে ফিকির করব।" কিন্তু ভাই আমার! ভয়ের বিষয় হলো; যখন নাকি আমার-আপনার নিজেদের জীবনেরই নিশ্চয়তা নেই, তখন তাঁরা হায়াত পাবে এবং পরবর্তী কোন সময়ে আপনি তাদেরকে দ্বীন বুঝানোর সুযোগ পাবেন এর কী গ্যারান্টি। হতে পারে, আপনার ফ্যামিলি থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শুধু আপনাকেই ফিতনার এই যুগে পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের সঠিক বুঝ দিয়েছেন, আপনি যদি মারা যান তাহলে তারা তো সেই গতানুগতিক জাহেলিয়াতের পথেই হয়তো থেকে যাবে।
    বিষয়গুলো কি আপনাকে চিন্তাযুক্ত করে?
    আপনার ভাই, আপনার বোন, নিকটাত্মীয় ও আপনার কাছের বন্ধু, যারা আপনাকে বিশ্বাস করে, আপনার কাছে দ্বীনের মাসআলা শিখে, কেউ তো আপনাকে চোখবুঁজে বিশ্বাস করে দ্বীনের পথে দান করার জন্য তাদের মূল্যবান সম্পদ দিয়ে থাকে। যারা ভাবে আপনি তাদেরকে দ্বীনের সব বিষয়েই জানান এবং তাদের সাথে লুকোচুরি করেন না।

    এখন যদি কেয়ামতের দিন আপনার এই প্রাণপ্রিয় মানুষগুলো কঠিন বিপদে পড়ে যায় এবং জানতে পারে, অনেক ফরজ ও দ্বীনের মৌলিক মাসআলা আপনি জানা সত্বেও তাদের বলেননি! ফলে, তাদেরকে আজকে রবের গোস্বা সাথে নিয়ে দোজখে যেতে হচ্ছে। তখন যদি, তারা আপনার পথ আটকিয়ে জিজ্ঞেস করে, "কেন তাদেরকে দ্বীনের মৌলিক কথা বললেন না? কেন তাদেরকে ঈমানের মাসআলা শেখালেন না? আজ কেন তাদেরকে জানতে হচ্ছে; দ্বীনের এত এত বিষয় তারা মান্য করেনি- যে বিষয়গুলো তাদেরই বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তি জানা স্বত্বেও তাদের থেকে দুনিয়াতে গোপন রেখেছিল। 'যদি তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আর্তনাদ করে বলে; কেন তুমি আমাদের একটু বুঝিয়ে বলোনি ? যদি বলতে তাহলে হয়তো আমরা মেনে নিতাম এবং আগুনে পোড়া ও অবর্ণণীয় সব আযাব থেকে রক্ষা পেতাম! এই দূরাবস্থার শিকার হওয়া লাগতো না'!" ঐ সময় কী জওয়াব দিব আমরা??
    কোন কোন ভাই হয়ত বলতে পারেন, —যারা বিশেষ বিশেষ কিছু কাজ করছেনও বাস্তবেই– "আমরা কিছুটা নিরাপত্তা ও ঝুঁকি আসার আশঙ্কা থেকে তাদের এড়িয়ে যাই।" তাদের উদ্দেশ্যে বলবো; হয়ত আপনি শুরুতেই আধুনিক বৈশ্বিক জিহাদের সবকিছু বলতে নিরাপত্তার বিষয় মনে করতে পারেন, তবুও সকলেরই যে এমন হবে তাও না। কিন্তু কমপক্ষে এতটুকু তো আপনার সাধ্যের বাহিরে না যে, তাওহীদের বিশুদ্ধ মাসআলা, ঈমানের শর্ত, ঈমান কিভাবে নষ্ট হয়ে যায়, ঈমান কী ? কুফর কী? আল্লাহ বান্দাদের থেকে কেমন আনুগত্য ও দাসত্ব চান? কিভাবে আল্লাহকে ভালোবাসতে হয়, আল্লাহর রাসূলকে ভালোবাসতে হয়, তাদের বিধিবিধানের সামনে নিজেকে আনুগত্যের স্বীকারোক্তি দিতে হয়!"
    মৌলিক এই মাসআলাগুলোও কি বলতে পারবেন না! সামান্য বিচক্ষণতা ও ফাহমের সাথে বললে সহজেই বুঝানো যাবে ইনশাআল্লাহ যে কাউকে।
    আমাদের অনেকের পরিবারের কোন কোন সদস্য হয়ত নামাজও পড়ে না। কিন্তু দেখা যায়, আমরা পুরো এলাকায় দাওয়াতি কাজ করে বেড়াই, আর ঘরে এসে কিছু বলতে পারি না, বা বললেও দায়সারা ভাব নিয়ে আদেশ দেয়ার মতো বলে থাকি। যেই দরদ বাহিরে অন্য মানুষের সাথে দেখায়,সেই আখলাক ও দরদ ঘরে দেখায় না, যা খুবই দুঃখজনক, এবং কিয়ামতের দিন আমাদের খারাপ পরিনতির দিকে নিয়ে যাবে।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

    وَاَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ ۙ
    তোমার নিকট-আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও। সূরা:—আশ শুআরা' - ২১৪


    হে ভাই! আপনারা মা-বাবা ছোটবেলায় আপনাকে যেভাবে যত্নের সাথে লালন-পালন করেছেন, যেভাবে আপনার জন্য কষ্ট সহ্য করেছেন ও এখনও করছেন। আপনি কি তাদেরকে দ্বীন বুঝানোর ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ কষ্ট সহ্য করেছেন? ওইরকম দরদই কি দাওয়াতের সময় আপনার ভিতরে থাকে? নাকি আপনি দ্বীন মেনে চলার অহংকারে লিপ্ত হয়ে অন্যদের হেয় মনে করছেন?
    প্রিয় ভাই! দাওয়াতের ক্ষেত্রে ভাষার কোমলতা কেমন ছিল আপনার? তারা কি ফিরআউনের চেয়েও খারাপ নাকি আপনি মুসা আলাইহিসালাম এর থেকেও উত্তম? আল্লাহ তো সেখানেও নম্রতার আদেশ করেছেন। দাঈর ভুল বা গাফলতির জন্য যদি অন্যরা আরও দূরে সরে যায় তবে কি এখানে দাঈকে আপনি কোনই দোষ দিবেন না?


    পরিশেষে, সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলছি যে, সম্মানিত ভাই আমার! এই ঈদে যেমন আমরা আল্লাহর জন্য পশু কুরবানি দিয়ে থাকি, তেমনই আমাদের ভিতরেও একটা পশু আছে। এই পশুটাকে কুরবানী করতে না পারলে বাহিরের পশু কুরবানী আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করতে পারবে না। তাই আমাদের মধ্য থেকে যারা কুরবানী করার সামর্থ্য রাখি, তারা আগে ভিতরের পশু কুরবানি করে আল্লাহর দিকে পুরোপুরি ফিরে এসে তারপর ইখলাসের সাথে কুরবানীর পশু জবাই করব ইনশাআল্লাহ। আর যারা আমরা কুরবানী করতে পারছি না তারাও পিছিয়ে না থাকে অন্তত নিজের ভিতরের নফস নামক পশুটার খাহেশাতের গলায় আল্লাহর নামে ছুড়ি চালিয়ে দেই। এতেও আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি অনেক খুশি হবেন ইনশাআল্লাহ, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও খুশিই তো আমাদের মাকসাদ।

    হাদিসে এসেছে; আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দার তওবা করার জন্য ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী আনন্দিত হন, যে তার উট জঙ্গলে হারিয়ে ফেলার পর পুনরায় ফিরে পায়।’’
    অপর বর্ণনায় এসেছে, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার তওবায় যখন সে তওবা করে তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশী খুশী হন, যে তার বাহনের উপর চড়ে কোনো মরুভূমি বা জনহীন প্রান্তর অতিক্রমকালে বাহনটি তার নিকট থেকে পালিয়ে যায়। আর খাদ্য ও পানীয় সব ওর পিঠের উপর থাকে। অতঃপর বহু খোঁজাখুঁজির পর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বাহনটি হঠাৎ তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে যায়। সে তার লাগাম ধরে খুশীর চোটে বলে ওঠে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দাস, আর আমি তোমার প্রভু!’ সীমাহীন খুশীর কারণে সে ভুল করে ফেলে।’’
    [সহীহ] - [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।]



    কাজেই, সকলে নিজেদের অন্তরকে পবিত্র করার ব্যাপারে যত্নবান হই, আল্লাহর কাছে ফিরে আসি, ঈদের রাতও বিশেষ রাত আল্লাহর নিকট, তাই তখনও তাওবা করি সারাজীবনের সকল পাপ থেকে, সামনে জীবনে আর নাফরমানি না করার ব্যাপারে আল্লাহর সাথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই এবং ইবাদাতে লিপ্ত থেকে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনে মনোনিবেশ করি। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দিন করুন। তার দ্বীনের পথে চলা আমাদের জন্য সহজ করে দিন—আমীন, ইয়া আরহামার-রাহিমীন!


    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 5 hours ago.
    "আমরা তাওবা করার পূর্বে মরতে চাই না এবং মৃত্যু সামনে আসার পরে তাওবা করতে চাই না"
    আবু হাযেম রহ.
Working...
X