
স্বভাবগতভাবেই তিনি দুনিয়াত্যাগী ছিলেন। অধিকাংশ সময় এবিষয়ে উলামায়ে কেরামের সাথে আলোচনা করতেন। ভালো খাবারের প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ, কিন্তু সর্বদা তা থেকে বেঁচে থাকতেন। আর আমাকেও সবসময় একথা বলতেন যে, “স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য সময়ে তুমি যে খাবার রান্না কর, আমি আসলে তাই রান্না করবে। অতিরিক্ত আয়োজন করবে না।”
তিনি কোথাও ভালো কিছু খেয়ে আসলে ঘরে এসে তা বলতেন। তখন আমি তাঁকে বলতাম, “আমাকে তো আপনার পছন্দের খাবার তৈরি করতে দেন না।” উত্তরে তিনি বলতেন, “আমি যে খাবারেরই প্রশংসা করব তাই তৈরি করার পিছনে লেগে যাবে? নিজের শক্তি, যোগ্যতা, সময় ও মেধা এর থেকে উত্তম কাজে অর্থাৎ ইলম অর্জনে ব্যয় কর।”
তিনি মেহমানের সেবা-যত্ন সাধ্য অনুযায়ী খুব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতেন। একবার আমাদের ঘরে শায়খ আবু ইয়াহইয়া লিব্বি রহিমাহুল্লাহ এসেছিলেন। তিনি তাঁর সাথে যুহদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করছিলেন। এদিকে আমি মেহমানের জন্য কেক বানিয়ে রেখেছিলাম। তিনি এসে নিয়ে গেলেন। শায়খ লিব্বি রহিমাহুল্লাহ রসিকতা করে বলেছিলেন, فأين الزهد؟ (দুনিয়া ত্যাগ কোথায় গেল?) তিনি হাঁসি দিয়ে বললেন, “এ তো মেহমানের সম্মানার্থে।”
তিনি নিজে কখনো অতিরিক্ত কাপড় রাখতেন না, আমাকেও রাখতে দিতেন না। বিবাহের পর থেকেই কয়েক মাস পরপর আমার সমস্ত সামানপত্রের হিসেব নিতেন এবং অতিরিক্ত জিনিস দান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর তরবিয়তের বরকতে কিছুদিনের মধ্যেই আমার বুঝে এসেছে যে, হিজরত ও জিহাদের ময়দানে যেহেতু সফর খুব বেশি করতে হয়, তাই সামানপত্র যত কম হবে, স্থানান্তর ও বহনকারী মুজাহিদ ভাইদের জন্য ততই সহজ হবে।
Comment