এমনিভাবে এক রমযানে আমরা একজনের বাসায় ছিলাম। পাশেই এক মারকাযে তিনি সাথিদের শরঈ দাওরা করাচ্ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে এশা ও তারাবীহ পড়ে বাসায় আসতেন। একদিন ঐ ঘরের আপা বললেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিয়াজ রসুনের ব্যবহার সম্পর্কে কোনো একটি আদেশ করেছেন। আমি তাঁকে এই ঘটনা উল্লেখ করে বললাম, “আমাদেরও তো এই আদেশ মানা উচিত।”
তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “প্রথমত যে স্বপ্নে দেখেছে তাঁর নিশ্চিত হতে হবে, যাকে সে দেখেছে তিনি আসলেই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি না? নাকি তাঁর ধারণা হয়েছে মাত্র (কারণ শয়তান হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকৃতি ধারণ করতে পারে না, কিন্তু অন্যের আকৃতি ধারণ করে রাসূল দাবি করতে পারে)। যদি সে সত্যিই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে থাকে এবং তিনি কোনো আদেশ নিষেধ করেন, তাহলে ঐ আদেশ-নিষেধ শরীয়তের আলোকে যাচাই করতে হবে।
যদি শরীয়তের ভিতরে থাকে তাহলে আরো গুরুত্ব সহকারে আমল করা শুরু করতে হবে। যেমন: দান-সাদাকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি। আর যদি না থাকে, তাহলে আমল করা যাবে না। কারণ আল্লাহ শরীয়ত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। কারো ব্যক্তিগত স্বপ্নের উপর নির্ভরশীল করে রাখেননি। বরং আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে শরীয়ত ও কুরআন-সুন্নাহকে কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের জন্য পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন। এখন আর শরীয়তে নতুন কিছু বৃদ্ধি পাবে না।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা যেহেতু চলে এলো, তাই প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় উল্লেখ করছি। একবার তিনি বললেন, “আমাদের উস্তাদ বলেছেন- তোমরা পরীক্ষার খাতায়ও (তখন তো সময় সীমাবদ্ধ থাকে) যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে দরূদ শরীফ পূর্ণ লিখবে, সংক্ষেপে লিখবে না (কিছু বিষয় তো এমন আছে যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম বার বার আসে)। পূর্ণ দরূদ শরীফ লিখলে, এর দ্বারা সময়ে অনেক বরকত হবে ইনশাআল্লাহ।