Announcement

Collapse
No announcement yet.

স্ত্রীকে দেওয়া উস্তাদ আহমদ ফারুকের অমূল্য উপদেশ! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • স্ত্রীকে দেওয়া উস্তাদ আহমদ ফারুকের অমূল্য উপদেশ! || শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ


    একদিন আমরা উভয়ে দিনের বেলাই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলাম। কারণ উপরে কোনো কামরা খালি ছিল না। তিনি বললেন, “আমি একটু ঘুমাব। আমি বললাম, “না ঘুমানো যাবে না। আজ আমার সাথে কথা-বার্তা বলবেন।” তিনি আমার কথা শুনলেন। সাধারণত তিনি বেশি কথা বলতেন না। বিবাহের পর প্রথম প্রথম আমি এবিষয়টা নিয়ে অনেক ঝগড়া করতাম।

    আমার অভিযোগ ছিল সাথিদের সাথে এত কথা বলেন অথচ আমার সাথে বলেন না। তিনি বলতেন, “সাথিরা তো কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তুমিও দ্বীন, জিহাদ কিংবা সমসাময়িক কোনো আলোচনা শুরু কর, আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করব। কিন্তু এমনিতেই আমার কথা আসে না।” তারপর থেকে আমাদের কথা-বার্তা জিহাদ ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।

    যাই হোক আন্ডারগ্রাউন্ডে বসে আমি আমার মানসিক পেরেশানীর কথা জানালাম। সংবাদপত্র ইত্যাদিতে যে খবরাখবর পড়েছিলাম তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জানতে চাইলাম। তিনি আমাকে সব কিছু বিস্তারিত বললেন।

    আইএসের ব্যাপারে আমার মন খুব ভারাক্রান্ত ছিল। কিছু মুজাহিদ ভাই তাদের সাথে যোগ দিচ্ছিলো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “একজন মানুষ শত কুরবানী করে আল্লাহর রাস্তায় এসে গোমরাহ হয়ে যাবে? এটা কিভাবে এবং কেন হয়? তিনি বললেন,

    “যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘর থেকে বের হয়, তারপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উপরেই নিজেকে অর্পণ করে, তাঁকে আল্লাহ কখনো গোমরাহ করেন না। কারণ আল্লাহ কারো উপর জুলুম করেন না। কিন্তু মানুষের অন্তরে যদি কোনো ত্রুটি থাকে অথবা যদি তার আমল-আখলাকে শরীয়ত বিরোধী কোনো দোষ থাকে, তাহলে আল্লাহ তাকে সংশোধনের সুযোগ দেন। যারা ভালো তবিয়তের হয় তারা দ্রুত কিংবা সময় সাপেক্ষে সংশোধন হয়ে যায়। আর কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর দেয়া সুযোগকে গ্রহণ করে না। নিজের খারাপ স্বভাবের উপর অটল থাকে। সময়ের সাথে সাথে তার এই খারাপ স্বভাব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত খারাবির তীব্রতা প্রকাশ পায়। এরাই পরবর্তীতে গোমরাহ হয়ে যায়।”

    এধরনের আরো কিছু কথা জিজ্ঞাসা করার পর আমি তাঁকে বললাম, “এতদিন তো আপনি আমাকে আঙ্গুল ধরে ধরে এই রাস্তায় চালিয়েছেন, প্রত্যেকটি বিষয় বুঝিয়েছেন। আপনি যদি শহীদ হয়ে যান, তাহলে আমাকে সকাল-সন্ধ্যায় প্রকাশিত এই ফিতনায় কে রাস্তা দেখাবে?” তিনি বললেন, “আল্লাহ তো আছেন। তিনি সবাইকে হেদায়াত দান করেন। তিনিই রাস্তা দেখাবেন।”

    আমি বললাম, “আল্লাহর সুন্নত হলো দুনিয়াতে মানুষের সংশোধন অন্য কোনো মানুষের মাধ্যমে করেন। (আল্লাহ সমস্ত মাধ্যমের স্রষ্টা, তিনি কোনো মাধ্যমের মুখাপেক্ষী নন)। আল্লাহ আমার সংশোধনের জন্য আপনাকে নির্ধারণ করেছেন।” তিনি বললেন, “অনেক বিষয়ই তো আমি তোমাকে সাথে সাথে রেখে বুঝিয়েছি। আমার কথাগুলো স্মরণ রাখবে। শায়খদের বয়ান শুনতে থাকবে। কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকবে।”

    এরপর সবসময় তিনি যে কথাটা বলেন সেটা আবারও বললেন, “আমার পর আবার বিবাহ করবে, কোনো মুজাহিদের দ্বিতীয়, তৃতীয় নম্বর স্ত্রী হয়ে থাকাকে সহ্য করবে, কিন্তু একা থাকবে না।”

    শেষে আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন “যদি ফিতনা থেকে বাঁচার কোনো উপায় না পাও তাহলে ইয়েমেনে হিজরত করবে। কারণ (হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী) ইয়েমেনে কল্যাণ রয়েছে।” ঐদিন আমাদের আলোচনা এপর্যন্তই সমাপ্ত হয়েছিল।


  • #2
    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বুঝার মানার ও এর উপর আমল করার তাওফিক দাও। আমীন।
    Last edited by Rakibul Hassan; 10 hours ago.

    Comment


    • #3
      আইএসের ব্যাপারে আমার মন খুব ভারাক্রান্ত ছিল। কিছু মুজাহিদ ভাই তাদের সাথে যোগ দিচ্ছিলো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “একজন মানুষ শত কুরবানী করে আল্লাহর রাস্তায় এসে গোমরাহ হয়ে যাবে? এটা কিভাবে এবং কেন হয়? তিনি বললেন,

      “যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘর থেকে বের হয়, তারপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উপরেই নিজেকে অর্পণ করে, তাঁকে আল্লাহ কখনো গোমরাহ করেন না। কারণ আল্লাহ কারো উপর জুলুম করেন না। কিন্তু মানুষের অন্তরে যদি কোনো ত্রুটি থাকে অথবা যদি তার আমল-আখলাকে শরীয়ত বিরোধী কোনো দোষ থাকে, তাহলে আল্লাহ তাকে সংশোধনের সুযোগ দেন। যারা ভালো তবিয়তের হয় তারা দ্রুত কিংবা সময় সাপেক্ষে সংশোধন হয়ে যায়। আর কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর দেয়া সুযোগকে গ্রহণ করে না। নিজের খারাপ স্বভাবের উপর অটল থাকে। সময়ের সাথে সাথে তার এই খারাপ স্বভাব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত খারাবির তীব্রতা প্রকাশ পায়। এরাই পরবর্তীতে গোমরাহ হয়ে যায়।”
      “কথাগুলো তাঁর গভীর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টির পরিচায়ক। মানুষের বাহ্যিক অবস্থার চেয়ে অন্তরের সংশোধনের প্রতি যে গুরুত্ব তিনি দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও শিক্ষণীয়।”​ আল্লাহ তা’আলা তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাক্বাম দান করুন,আমীন।
      “কুরবানি মানুষকে সম্মানিত করে, কিন্তু ইস্তিকামাত তাকে সফল করে। যে নিজের অন্তরকে সংশোধন করতে থাকে, আল্লাহ তাকে পথ দেখান; আর যে নিজের ত্রুটিকে আঁকড়ে ধরে, সেই ত্রুটিই একদিন তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর দ্বীনে হানীফের উপর ইস্তিকামাত দান করুন,আমীন।

      Comment

      Working...
      X