Announcement

Collapse
No announcement yet.

মুজাহিদদের জন্য 'ইখলাস' অর্জনের গুরুত্ব || মূল: শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-মিসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি || অনুবাদ: মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মুজাহিদদের জন্য 'ইখলাস' অর্জনের গুরুত্ব || মূল: শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-মিসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি || অনুবাদ: মুনশি আব্দুর রহমান


    ১- মুজাহিদকে তার নিয়ত সংশোধন করতে এবং এমন সমস্ত অপবিত্রতা দূর করতে চেষ্টা করতে হবে, যা তার জিহাদ ও ইবাদতে মাকাম অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ

    তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। (সূরা বাইয়েনাহ-৫)


    ২- হে মুজাহিদ, মনে রাখবেন- কাজের কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো নিয়ত, যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِنَّما الأعْمَالُ بالنِّيات، وإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِىءٍ ما نَوَى فَمَنْ كانتْ هِجْرَتُه إِلى دُنْيَا يُصِيبُها، أَوْ إِلى امْرَأَةٍ يَنْكِحُها، فَهِجْرَتُه إِلى ما هاجَرَ إِلَيه"البخاري.

    “প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য।” (বুখারী-১, ৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮)


    ৩- নিয়ত শুদ্ধ না হওয়ায় জিহাদের আমল বরবাদ হয়ে যাবে। যেমন হাদিস শরীফে এসেছে-
    وعن أبي موسى رضي الله عنه، قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال:"الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ، فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ العُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ"البخاري/مسلم.


    আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ’ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ কোনটি, কেননা আমাদের কেউ লড়াই করে রাগের বশীভূত হয়ে, আবার কেউ লড়াই করে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য। তিনি তার দিকে মাথা তুলে তাকালেন।

    বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর মাথা তোলার কারণ ছিল যে, সে ছিল দাঁড়ানো। এরপর তিনি বললেনঃ আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার জন্য যে যুদ্ধ করে সেই আল্লাহর রাস্তায়। (বুখারী ১২৫, ১২৩)

    ৪- এছাড়া, সাবধান হও যে, তিনজন ব্যক্তি আছে, যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে:
    - একজন, যে লোক দেখানোর জন্য কুরআন শিখেছে,
    - অন্যজন, যে লোক দেখানোর জন্য আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে,
    - আরেকজন, যে লোক দেখানোর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে।

    আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে যিনি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন, তার কাছে জানতে চাইবেন: "তুমি কিসের জন্য নিহত হলে?"
    সে বলবে: "আমি তোমার রাস্তায় জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছিলাম, তাই আমি যুদ্ধ করেছি যতক্ষণ না নিহত হলাম।"

    আল্লাহ বলবেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ," এবং ফেরেশতাগণ বলবেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ," আল্লাহ বলবেন: "তুমি চেয়েছিলে যে, মানুষ বলুক: এই ব্যক্তি সাহসী, এবং তা বলা হয়ে গেছে,"

    এরপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু -এর হাঁটুতে হাত রেখে বললেন: "হে আবু হুরায়রা, এই তিনজন প্রথম সৃষ্টি, যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে কিয়ামতের দিন। (সহীহ মুসলিম: ১৯০৫, ২৯৮৬; তিরমিযী: ২৩৮১ - হাদিসটি বেশ বড়। এখানে সংক্ষেপে পেশ করা হয়েছে।)

    ৫- আজকের দিনে মুজাহিদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। এটি নেকীকে পুড়িয়ে দেয়। কিছু মুজাহিদ তাদের অধিকাংশ সময় আলোচনা-বিতর্ক ও অপ্রয়োজনীয় বিরোধে ব্যয় করেন, যা গীবত চর্চা, অযথা মতপার্থক্য, অভিযোগ ও বড়দের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং ছোটদের প্রতি কঠোরতা সহ বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আগের দিনে আমাদের কাছে মুজাহিদদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল যে, যদি দেখা যেতো কারও কাছে যোগাযোগের যন্ত্র বা গাড়ি আছে- যদিও তা প্রয়োজনীয় ছিল।

    মুজাহিদ আলেম শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন: "পেশোয়ার শহর নেকীকে ভস্মীভূতকারী'। কেননা সেখানে মুজাহিদদের মধ্যে অনেক গোপন বিতর্ক চলত। তাহলে ভাবুন, শাইখ যদি আজকের মোবাইল ডিভাইস দেখতেন এবং তা মুজাহিদদের কী কী সমস্যায় ফেলেছে, তাছাড়া এটা শত্রুর জন্য মুজাহিদদেরকে সনাক্ত করতে কতটা কার্যকরী এবং টার্গেট করার একটি মাধ্যম- তাহলে কি বলতেন?

    আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইখলাসের সাথে জিহাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন​
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের ভিত্তি হলো ইখলাস বা বিশুদ্ধ নিয়ত। জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রেও সর্বপ্রথম শর্ত হলো বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস। কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ শিক্ষা দেয়—আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা আমল মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধ নিয়ত, সহীহ বুঝ এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

    Comment


    • #3
      এছাড়া, সাবধান হও যে, তিনজন ব্যক্তি আছে, যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে:
      - একজন, যে লোক দেখানোর জন্য কুরআন শিখেছে,
      - অন্যজন, যে লোক দেখানোর জন্য আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে,
      - আরেকজন, যে লোক দেখানোর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে।

      আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে যিনি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন, তার কাছে জানতে চাইবেন: "তুমি কিসের জন্য নিহত হলে?"
      সে বলবে: "আমি তোমার রাস্তায় জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছিলাম, তাই আমি যুদ্ধ করেছি যতক্ষণ না নিহত হলাম।"

      আল্লাহ বলবেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ," এবং ফেরেশতাগণ বলবেন: "তুমি মিথ্যা বলেছ," আল্লাহ বলবেন: "তুমি চেয়েছিলে যে, মানুষ বলুক: এই ব্যক্তি সাহসী, এবং তা বলা হয়ে গেছে,"

      এরপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু -এর হাঁটুতে হাত রেখে বললেন: "হে আবু হুরায়রা, এই তিনজন প্রথম সৃষ্টি, যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে কিয়ামতের দিন। (সহীহ মুসলিম: ১৯০৫, ২৯৮৬; তিরমিযী: ২৩৮১ - হাদিসটি বেশ বড়। এখানে সংক্ষেপে পেশ করা হয়েছে।)


      হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বিশেষ করে আমাকে উক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করিওনা। আমীন।

      Comment

      Working...
      X