জীবনে আমাদের সবারই নানা চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়। এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَـٰنُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًۭا فَمُلَـٰقِيهِ
“হে মানুষ! তোমাকে তোমার রব পর্যন্ত পৌঁছতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে।” (সূরা আল-ইনশিক্বাক: ৬)
পথ যখন কঠিন ও বন্ধুর হয়, তখন আমাদের অন্তরের অবস্থা, আমল, আচরণ—সবকিছুই সবসময় পূর্ণভাবে ঠিক রাখা সহজ নয়। যদি না আল্লাহ কাউকে বিশেষ অনুগ্রহে দৃঢ়তা দান করেন।
তবুও একটি বিষয় আছে, যেখানে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়—তা হলো আল্লাহর সাথে সততা।
আল্লাহর সামনে নিজেকে বিনম্র করা, নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা, এবং কোনো অজুহাত না খোঁজা।
ইবলিসের মতো যুক্তি দাঁড় করানো বা অহংকার করা নয়; বরং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর মতো সরাসরি নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সূরা আল-আ‘রাফ: ২৩)
আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করা যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের সাথেও—যখন কারও হক নষ্ট হয় বা ভুল হয়ে যায়—তখন তা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ ইবলিস শুধু আল্লাহর সামনে অহংকারই করেনি, বরং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি হিংসা ও অহংকারের মাধ্যমেই চিরতরে অভিশপ্ত হয়েছে।
আমরা যেন কখনো কোনো মানুষের সাথে, বিশেষ করে আদম সন্তানের সাথে, অহংকার বা অন্যায় আচরণ করে সেই পথ অনুসরণ না করি—মা‘আযাল্লাহ।
তাই আসল সফলতা হলো—আল্লাহর সামনে এবং মানুষের সামনে, উভয় ক্ষেত্রেই সত্য ও বিনয়ী থাকা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যবাদিতা, বিনয় ও ক্ষমা চাওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন
Comment