ভাল-মন্দ দোষ গুণ নিয়েই আমরা মানুষ। সবার মধ্যেই কিছু ভাল গুণ আছে, আছে কিছু মন্দ গুণও। দুনিয়াতে নবীরা ছাড়া কেউ নিখুঁত নয়, সবার মধ্যেই কিছু না কিছু খুঁত আছে। কারো মধ্যে বেশি আর কারো মধ্যে কম, এই পার্থক্য।
বর্তমানে আমাদের অনেক ভাই কল্পনার রাজ্যে বাস করেন, তারা চান তাদের স্ত্রীরা হবে রোবটের মত, যে নিজেকে ভুলে সদা সর্বদা স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য তৎপর থাকবে, কখনো মনোমালিন্য বা ঝগড়া হবেনা, তাঁর মধ্যে কোন ধরণের মন্দ স্বভাব থাকবেনা ইত্যাদি।
এই ভাইদের কল্পনায় দ্বীনি ভাইরা হবেন এক ভিন্ন রকমের মানুষ, যাদের মধ্যে কোন দোষ ত্রুটি থাকবেনা। তারা হবেন মানবীয় কামনা বাসনার উর্ধ্বে।
এমন আকাশ কুসুম কল্পনার কারণে এই ভাইরা যখন বাস্তবে ভিন্ন কিছু দেখেন হতাশ হন। এই হতাশা অনেক সময় তাদেরকে দ্বীন থেকে পর্যন্ত সরিয়ে দেয়।
-
প্রিয় ভাই! আপনি যার বয়ান শুনে ধৈর্য্যের সবক পেয়েছেন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি অর্জন করেছেন তিনিও কখনো কখনো অনর্থক রেগে যেতে পারেন, শয়তানের ধোঁকায় গুনাহে জড়াতে পারেন। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কখনো এমন কিছু চোখে পড়লে মন্দ ধারণা করা যাবেনা। দেখতে হবে তিনি কি গুনাহে অটল থাকেন বা এর পক্ষে অপব্যাখ্যা দাঁড় করান নাকি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করেন।
এমনিভাবে আমরা যাকে বড় শাইখ মনে করি, অন্যন্য মানুষ বলে বিশ্বাস করি তাঁর মধ্যেও কিছু খুঁত আছে। অনেক সময় দূর থেকে দেখি বলে চোখে পড়েনা, কিন্তু যখন কাছে আসি তখন চোখে পড়ে। এসময় অনেকে অবাক হন, বিস্মিত হন। ভাবতে থাকেন উনার মধ্যেও খুঁত আছে? অথচ মানুষ হিসেবে কিছু খুঁত থাকাটাই তো স্বাভাবিক, এসব মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তবে যদি বড় ধরণের সমস্যা থাকে বা তিনি শরীয়তবিরোধী কোন কাজে লিপ্ত থাকেন তখন অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত।
-
এই সমস্যার সমাধানে ইমাম গাযালী রহিমাহুল্লাহ চমৎকার কথা বলেছেনঃ
تعلَمُ أنَّك لو طلَبْتَ مُنَزَّهًا عن كُلِّ عيبٍ اعتزَلْتَ عن الخَلقِ كافَّةً، ولن تجِدَ مَن تصاحِبُه أصلًا؛ فما من أحَدٍ من النَّاسِ إلَّا وله محاسِنُ ومَساوئُ، فإذا غلبَت المحاسِنُ المساوئَ فهو الغايةُ والمنتهى، فالمُؤمِنُ الكريمُ أبدًا يُحضِرُ في نفسِه محاسِنَ أخيه لينبَعِثَ من قَلبِه التَّوقيرُ والوُدُّ والاحترامُ، وأمَّا المُنافِقُ اللَّئيمُ فإنَّه أبدًا يلاحِظُ المساوئَ والعُيوبَ
তুমি যদি সব ধরনের দোষমুক্ত কোনো মানুষের সন্ধান করো, তবে তুমি সবার থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং তোমার সঙ্গী হিসেবে কাউকে পাবে না। মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ উভয় দিকই থাকে। যার ভালো দিক মন্দ দিকের চেয়ে বেশি, তিনিই প্রকৃত উত্তম। একজন সম্মানিত ঈমানদার ব্যক্তি সবসময় তার ভাইয়ের ভালো দিকগুলো বিবেচনা করে, যাতে তার মনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, একজন হীন মুনাফিক সবসময় দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। -[ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২:১৭৭]
এই কারণে আমরা যদি অন্যের খুঁতগুলোর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি এবং দোষ না দেখে গুণগুলো দেখি তাহলে অন্যরাও আমার ভেতরকার দোষত্রুটিগুলো সহ্য করে নেবে ইনশাআল্লাহ।
ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন-
أدركتُ ناساً بالمدينة لم تكن لهم عيوب فتكلموا في عيوب الناس فأحدث الناس لهم عيوباً، وأدركتُ ناساً بالمدينة كانت لهم عيوب فسكتوا عن عيوب الناس. فسكت الناس عن عيوبهم
আমি মদীনায় এমন কিছু মানুষকে দেখেছি, যাদের কোনো ত্রুটি ও খুঁত ছিল না। কিন্তু যখন তারা অন্যের সমালোচনা করতে শুরু করল, তখন মানুষও তাদের সমালোচনা করতে শুরু করল।
আবার আমি এমন কিছু মানুষকেও দেখেছি, যাদের অনেক ত্রুটি ও খুঁত ছিল। কিন্তু যখন তারা অন্যের দোষ ত্রুটি নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকল, তখন মানুষও তাদের ব্যাপারে নীরব রইল। -[ ইনতিসারুল ফাকিরিস সালিক ১৭৩]
- ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
বর্তমানে আমাদের অনেক ভাই কল্পনার রাজ্যে বাস করেন, তারা চান তাদের স্ত্রীরা হবে রোবটের মত, যে নিজেকে ভুলে সদা সর্বদা স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্য তৎপর থাকবে, কখনো মনোমালিন্য বা ঝগড়া হবেনা, তাঁর মধ্যে কোন ধরণের মন্দ স্বভাব থাকবেনা ইত্যাদি।
এই ভাইদের কল্পনায় দ্বীনি ভাইরা হবেন এক ভিন্ন রকমের মানুষ, যাদের মধ্যে কোন দোষ ত্রুটি থাকবেনা। তারা হবেন মানবীয় কামনা বাসনার উর্ধ্বে।
এমন আকাশ কুসুম কল্পনার কারণে এই ভাইরা যখন বাস্তবে ভিন্ন কিছু দেখেন হতাশ হন। এই হতাশা অনেক সময় তাদেরকে দ্বীন থেকে পর্যন্ত সরিয়ে দেয়।
-
প্রিয় ভাই! আপনি যার বয়ান শুনে ধৈর্য্যের সবক পেয়েছেন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি অর্জন করেছেন তিনিও কখনো কখনো অনর্থক রেগে যেতে পারেন, শয়তানের ধোঁকায় গুনাহে জড়াতে পারেন। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কখনো এমন কিছু চোখে পড়লে মন্দ ধারণা করা যাবেনা। দেখতে হবে তিনি কি গুনাহে অটল থাকেন বা এর পক্ষে অপব্যাখ্যা দাঁড় করান নাকি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করেন।
এমনিভাবে আমরা যাকে বড় শাইখ মনে করি, অন্যন্য মানুষ বলে বিশ্বাস করি তাঁর মধ্যেও কিছু খুঁত আছে। অনেক সময় দূর থেকে দেখি বলে চোখে পড়েনা, কিন্তু যখন কাছে আসি তখন চোখে পড়ে। এসময় অনেকে অবাক হন, বিস্মিত হন। ভাবতে থাকেন উনার মধ্যেও খুঁত আছে? অথচ মানুষ হিসেবে কিছু খুঁত থাকাটাই তো স্বাভাবিক, এসব মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তবে যদি বড় ধরণের সমস্যা থাকে বা তিনি শরীয়তবিরোধী কোন কাজে লিপ্ত থাকেন তখন অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত।
-
এই সমস্যার সমাধানে ইমাম গাযালী রহিমাহুল্লাহ চমৎকার কথা বলেছেনঃ
تعلَمُ أنَّك لو طلَبْتَ مُنَزَّهًا عن كُلِّ عيبٍ اعتزَلْتَ عن الخَلقِ كافَّةً، ولن تجِدَ مَن تصاحِبُه أصلًا؛ فما من أحَدٍ من النَّاسِ إلَّا وله محاسِنُ ومَساوئُ، فإذا غلبَت المحاسِنُ المساوئَ فهو الغايةُ والمنتهى، فالمُؤمِنُ الكريمُ أبدًا يُحضِرُ في نفسِه محاسِنَ أخيه لينبَعِثَ من قَلبِه التَّوقيرُ والوُدُّ والاحترامُ، وأمَّا المُنافِقُ اللَّئيمُ فإنَّه أبدًا يلاحِظُ المساوئَ والعُيوبَ
তুমি যদি সব ধরনের দোষমুক্ত কোনো মানুষের সন্ধান করো, তবে তুমি সবার থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং তোমার সঙ্গী হিসেবে কাউকে পাবে না। মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ উভয় দিকই থাকে। যার ভালো দিক মন্দ দিকের চেয়ে বেশি, তিনিই প্রকৃত উত্তম। একজন সম্মানিত ঈমানদার ব্যক্তি সবসময় তার ভাইয়ের ভালো দিকগুলো বিবেচনা করে, যাতে তার মনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, একজন হীন মুনাফিক সবসময় দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। -[ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২:১৭৭]
এই কারণে আমরা যদি অন্যের খুঁতগুলোর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি এবং দোষ না দেখে গুণগুলো দেখি তাহলে অন্যরাও আমার ভেতরকার দোষত্রুটিগুলো সহ্য করে নেবে ইনশাআল্লাহ।
ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন-
أدركتُ ناساً بالمدينة لم تكن لهم عيوب فتكلموا في عيوب الناس فأحدث الناس لهم عيوباً، وأدركتُ ناساً بالمدينة كانت لهم عيوب فسكتوا عن عيوب الناس. فسكت الناس عن عيوبهم
আমি মদীনায় এমন কিছু মানুষকে দেখেছি, যাদের কোনো ত্রুটি ও খুঁত ছিল না। কিন্তু যখন তারা অন্যের সমালোচনা করতে শুরু করল, তখন মানুষও তাদের সমালোচনা করতে শুরু করল।
আবার আমি এমন কিছু মানুষকেও দেখেছি, যাদের অনেক ত্রুটি ও খুঁত ছিল। কিন্তু যখন তারা অন্যের দোষ ত্রুটি নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকল, তখন মানুষও তাদের ব্যাপারে নীরব রইল। -[ ইনতিসারুল ফাকিরিস সালিক ১৭৩]
- ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
Comment