Announcement

Collapse
No announcement yet.

দ্বীন হলো নসীহত (নিষ্ঠাপ্রকাশ ও কল্যাণকামনা) || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দ্বীন হলো নসীহত (নিষ্ঠাপ্রকাশ ও কল্যাণকামনা) || মুনশি আব্দুর রহমান

    عن تميم الداري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال
    «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «لِلهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ».
    [صحيح مسلم: 55]

    হযরত তামীম আদ-দারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা (নসীহত)।” আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কার জন্য? তিনি বললেন: “আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম শাসক এবং মুসলিম সাধারণ জনগণের জন্য।” (সহীহ মুসলিম : ৫৫)



    অত্র হাদীসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

    নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, দ্বীন হচ্ছে ইখলাস ও সততার উপর প্রতিষ্ঠিত; যাতে আল্লাহ যেভাবে যা কিছু ফরয করেছেন তা কমতি বা প্রতারণা না করে সেভাবেই পরিপূর্ণতার সাথে আদায় করা যায়।

    নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি নসীহত বা নিষ্ঠাপ্রকাশ

    প্রথমত: আল্লাহর জন্য।

    আল্লাহর জন্য নসীহত
    তথা নিষ্ঠাপ্রকাশের ব্যাখ্যা হলো- একমাত্র তাঁরই জন্য আমল করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা, তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং নাম ও সিফাতসমূহের উপরে ঈমান আনা, তাঁর আদেশকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেওয়া।

    দ্বিতীয়ত: তাঁর কিতাব তথা আল-কুরআনের প্রতি নসীহত:

    আর তা হলো: আমরা বিশ্বাস স্থাপন করব যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর সর্বশেষ কিতাব। এটি পূর্ববর্তী সকল শরী‘য়াতকে রহিতকারী। আমরা আল-কুরআনকে সম্মান করব, যথাযথ হক আদায়সহ তিলাওয়াত করব, এর মুহকাম (স্পষ্ট বিধিবিধান সম্বলিত আয়াত) অনুযায়ী আমল করব, এর মুতাশাবিহাতসমূহের (অবোধগম্য) ব্যাপারে সোপর্দ করব, এর বিকৃত ব্যাখ্যাকারীদের অপব্যাখ্যাকে প্রতিহত করব, এর উপদেশসমূহ দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করব, এর ইলম সম্প্রচার করব এবং এর প্রতি মানুষকে দাওয়াত দিব।

    তৃতীয়ত: তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নসীহত:

    আর তা হলো, আমরা বিশ্বাস করব যে, তিনি সর্বশেষ রাসূল, তিনি যা নিয়ে আগমন করেছেন সেগুলোকে অন্তর থেকে স্বীকৃতি দেব, তাঁর আদেশ পালন করব ও নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকব। তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন একমাত্র সে অনুযায়ীই আমরা আল্লাহর ইবাদত করব, তাঁর অধিকারকে বড় মনে করে মর্যাদা দিব, তাঁকে সম্মান করব, তাঁর দাওয়াত সম্প্রসারণ করব, তাঁর শরী‘য়তের প্রচার-প্রসার করব এবং তাঁর থেকে সকল প্রকারের অপবাদ দূর করব।

    চতুর্থত: মুসলিম শাসকদের জন্য নসীহত:

    আর তা হলো, হকের ব্যাপারে তাঁদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করব, ক্ষমতা নিয়ে তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না, আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে তার কথা শুনব এবং মান্য করব।

    পঞ্চমত: মুসলিম সাধারণ জনগণের জন্য নসীহত:

    আর তা হলো: তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করা, তাদেরকে দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়া, তাদের থেকে কষ্টকর জিনিস অপসারণ করা, তাদেরকে ভালোবাসা, সৎকাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করা।

    অত্র হাদীস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা:

    # নসীহত বাস্তবায়ন সকলের জন্য প্রযোজ্য।

    # দ্বীনে নসীহতের মর্যাদা অপরিসীম।

    # দ্বীন (ইসলাম) হলো: বিশ্বাস-স্বীকৃতি, কথা ও কর্মের সমষ্টি।

    # নসীহতের মূল চেতনা হলো— নসীহত প্রাপকের প্রতি আন্তরিক থাকা, তার সঙ্গে কোনো প্রকার ধোঁকা বা প্রতারণা না করা এবং তার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করা।

    # রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষাদানের অন্যতম পদ্ধতি ছিল—প্রথমে বিষয়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করা, এরপর তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা।


    কীভাবে নসীহত করলে তা ফলপ্রসূ হবে?

    নসীহত ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য—ইখলাস ও বিচক্ষণতা। নসীহত প্রদানকারী যদি আন্তরিক (মুখলিস) হন এবং প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে নসীহত করতে সক্ষম হন, তবে আশা করা যায়, সেই নসীহত উপদেশগ্রহীতার জন্য কল্যাণকর হবে, ইনশা আল্লাহ।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই দুটি গুণ যথাযথভাবে অর্জন ও আত্মস্থ করার তাওফিক দান করুন। আমীন


    এ ছাড়াও ফলপ্রসূ নসীহতের জন্য নসীহতকারীকে কিছু সাধারণ নীতি অনুসরণ করা উচিত। যেমন—

    # সর্বাবস্থায় ধৈর্যশীল হওয়া। যাকে নসীহত করা হচ্ছে, সে অবশ্যই তা গ্রহণ করবে—এমন ধারণা করা উচিত নয়। আবার তাৎক্ষণিকভাবে নসীহত গ্রহণ না করলে হতাশও হওয়া উচিত নয়। কেননা, হতে পারে সে আজ গ্রহণ করেনি, কিন্তু ভবিষ্যতে করবে। অনুরূপভাবে একজন গ্রহণ না করলে অন্য কেউ তা গ্রহণ করতে পারে।

    # নসীহতের ক্ষেত্রে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করা। সবসময় কঠোর বা রাগান্বিত ভাষায় কথা বলা উচিত নয়। এতে বিরক্তি ও দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। পক্ষান্তরে কোমলতা মানুষের অন্তরে ভালোবাসা, গ্রহণযোগ্যতা ও নৈকট্য সৃষ্টি করে।

    # সালাফে সালেহীনের জীবন, আমল, সাধনা, ত্যাগ ও মুজাহাদা অধিক পরিমাণে আলোচনা করা। এতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের অনুসরণে আগ্রহী হয়।

    # ভুল-ত্রুটি সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও সতর্কতার পরিচয় দেওয়া। অন্যথায় সংশোধনের পরিবর্তে উল্টো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আল্লাহ আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে দ্বীনদার, কল্যাণকামী এবং নসীহতকারী বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমীন​
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 7 hours ago.
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    চমৎকার উপস্থাপনা মা শা আল্লাহ! জাযাকাল্লাহ মুহতারাম ভাই। আজকাল আমরা অনেক সময় নসীহতকে সমালোচনা, অপমান বা জবাবদিহির ভাষায় সীমাবদ্ধ করে ফেলি; অথচ এই হাদীস শিক্ষা দেয়—নসীহতের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস, কল্যাণকামিতা ও হিকমাহ। যে নসীহত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, অন্তরে আশা জাগায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, সেটিই প্রকৃত নসীহত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন মুখলিস বান্দা বানান, যারা নিজেদের সংশোধনের পাশাপাশি উত্তম চরিত্র, কোমল ভাষা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে অন্যদের কল্যাণের কারণ হতে পারে। আমীন।

    Comment

    Working...
    X