Announcement

Collapse
No announcement yet.

উকবা ইবনে আমের রাদিআল্লাহু আনহু-কে রাসূল ﷺ-এর অমূল্য নসীহত || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উকবা ইবনে আমের রাদিআল্লাহু আনহু-কে রাসূল ﷺ-এর অমূল্য নসীহত || মুনশি আব্দুর রহমান


    عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ

    «صِلْ مَنْ قَطَعَكَ، وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ، وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ»


    অর্থাৎ,

    "যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। যে তোমাকে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দান করবে। আর যে তোমার প্রতি অত্যাচার করে তুমি তাকে ক্ষমা করবে।"

    এরপর তিনি ﷺ আমাকে বললেন—

    «أَمْلِكْ لِسَانَكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ»

    অর্থাৎ,

    "তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখবে, নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য কান্নাকাটি করবে এবং তোমার ঘরই যেন তোমার জন্য যথেষ্ট হয়।"

    এরপর তিনি ﷺ আরও বললেন—

    «أَلَا أُعَلِّمُكَ سُوَرًا مَا أُنْزِلَ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الزَّبُورِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَلَا فِي الْفُرْقَانِ مِثْلُهُنَّ؟ لَا يَأْتِيَنَّ عَلَيْكَ لَيْلَةٌ إِلَّا قَرَأْتَهُنَّ فِيهَا: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ»

    অর্থাৎ,

    "আমি কি তোমাকে এমন কিছু সূরা শিক্ষা দেব না, যার অনুরূপ সূরা তাওরাত, যাবূর, ইঞ্জিল কিংবা কুরআনের অন্য কোথাও অবতীর্ণ হয়নি? তোমার ওপর এমন কোনো রাত যেন না আসে, যাতে তুমি এগুলো তিলাওয়াত না করো।"

    অতঃপর তিনি সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করার নির্দেশ দিলেন।

    উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন,

    "এরপর থেকে এমন কোনো রাত আমার ওপর আসেনি, যেদিন আমি এই সূরাগুলো তিলাওয়াত না করে ঘুমিয়েছি। কারণ, রাসূল ﷺ আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছিলেন।" (মুসনাদে আহমাদ, ২৮/৬৫৪)

    উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা:

    # যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

    # যে বঞ্চিত করে, তার প্রতিও দানশীলতা ও উদারতা প্রদর্শন করা উচিত।

    # প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও সহনশীলতা অবলম্বন করা উত্তম চরিত্রের পরিচয়।

    # জিহ্বাকে সংযত রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।

    # নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা মুমিনের গুণ।

    # ফিতনা-ফাসাদ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা থেকে বাঁচতে ঘরকেও ইবাদতের কেন্দ্র বানানো প্রয়োজন।

    # সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাসের বিশেষ মর্যাদা ও ফযীলত রয়েছে; তাই প্রতিরাতে এগুলো তিলাওয়াত করা উচিত।

    # সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসূল ﷺ-এর নির্দেশকে জীবনের অংশ বানিয়ে নিয়েছিলেন। এটিই ছিল তাঁদের সফলতার রহস্য।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য এ অমূল্য নসীহতের উপর আমল করাকে সহজ করে দিন। আমীন

    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    আমীন।
    জাযাকুমুল্লাহু খাইরান। বা র কাল্লাহ্!

    Comment


    • #3
      কত সংক্ষিপ্ত অথচ কত গভীর নসীহত! যদি আমরা শুধু এই কয়েকটি নির্দেশ—আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, ক্ষমাশীল হওয়া, জিহ্বাকে সংযত রাখা এবং প্রতিরাতে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিলাওয়াত—নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অনেক ফিতনা দূর হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

      Comment


      • #4
        আমীন ।। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আমল করা সহজ করে দিন ।।

        Comment

        Working...
        X